- readaim.com
- 0
উত্তর::ভূমিকা: প্রাচীন রোমান সভ্যতা মানব ইতিহাসের এক স্বর্ণালী অধ্যায়। প্রায় ১২০০ বছরের বেশি সময় ধরে টিকে থাকা এই সভ্যতা শিল্পকলা, স্থাপত্য, আইন, প্রকৌশল, এবং সামরিক শক্তিতে অভূতপূর্ব উন্নতি সাধন করেছিল। টাইবার নদীর তীরে গড়ে ওঠা এই ছোট শহর থেকে ধীরে ধীরে এক বিশাল সাম্রাজ্যে পরিণত হয়, যা ইউরোপ, আফ্রিকা এবং এশিয়ার বিস্তৃত অঞ্চল জুড়ে প্রভাব বিস্তার করেছিল। রোমান সভ্যতার বৈশিষ্ট্যগুলো আজও আধুনিক বিশ্বের অনেক কিছুকে প্রভাবিত করে চলেছে, যা এর গভীরতা ও গুরুত্বকে প্রমাণ করে। তাদের উদ্ভাবনী চিন্তাভাবনা, কঠোর পরিশ্রম, এবং সুসংগঠিত সমাজব্যবস্থা এটিকে ইতিহাসের অন্যতম প্রভাবশালী সভ্যতায় পরিণত করেছিল।
১।সামরিক শক্তি ও সম্প্রসারণবাদ: রোমান সভ্যতার অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল তাদের অপ্রতিরোধ্য সামরিক শক্তি। সুশৃঙ্খল এবং প্রশিক্ষিত রোমান সেনাবাহিনী, যা “লেজিওন” নামে পরিচিত ছিল, তাদের সাম্রাজ্যের বিস্তারে মূল ভূমিকা পালন করেছিল। তারা উন্নত সামরিক কৌশল, যেমন – ফ্যালানক্স গঠন এবং অবরোধ ইঞ্জিন ব্যবহার করত। বিজিত অঞ্চলগুলোতে তারা নিজেদের আইন ও শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করত, যা সাম্রাজ্যের সংহতি রক্ষায় সাহায্য করত। এই সামরিক শক্তির বলেই রোমানরা ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের প্রায় সমস্ত এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছিল। তাদের এই সামরিক সাফল্য শুধুমাত্র অঞ্চল দখল করাই ছিল না, বরং তা অর্থনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক বিনিময়কেও ত্বরান্বিত করেছিল।
২।আইন ও বিচার ব্যবস্থা: রোমানরা আইনের শাসন এবং একটি সুসংগঠিত বিচার ব্যবস্থার প্রবক্তা ছিল। তাদের “দ্বাদশ সারণী আইন” (Twelve Tables) ছিল লিখিত আইনের প্রথম উদাহরণ, যা পরবর্তীতে “জাস্টিনিয়ান কোড” (Corpus Juris Civilis) নামে পরিচিত হয় এবং আধুনিক বিশ্বের অনেক আইনি ব্যবস্থার ভিত্তি স্থাপন করে। রোমান আইনে সবার জন্য সমান অধিকার এবং ন্যায়বিচারের উপর জোর দেওয়া হয়েছিল, যদিও দাসদের ক্ষেত্রে এই নিয়ম প্রযোজ্য ছিল না। তাদের বিচার প্রক্রিয়া ছিল অত্যন্ত সুসংগঠিত, যেখানে বিচারক, আইনজীবী, এবং জুরি বোর্ড ছিল। এই আইনি কাঠামো রোমান সমাজের স্থিতিশীলতা এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল।
৩।স্থাপত্য ও প্রকৌশল: রোমানদের স্থাপত্য ও প্রকৌশল জ্ঞান ছিল অসাধারণ। তারা কংক্রিট, খিলান, এবং গম্বুজের ব্যবহার করে বিশাল আকৃতির এবং টেকসই স্থাপনা তৈরি করেছিল। কলোসিয়াম, প্যান্থেওন, এবং রোমান ফোরাম তাদের স্থাপত্য শিল্পের উৎকৃষ্ট উদাহরণ। এছাড়াও, তারা শত শত মাইল দীর্ঘ সড়কপথ, অ্যাকুইডাক্ট (জলনালী) এবং সেতু নির্মাণ করেছিল, যা সাম্রাজ্যের যোগাযোগ এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নে সহায়ক ছিল। এই প্রকৌশলীরা শুধু নির্মাণশৈলীতেই দক্ষ ছিলেন না, বরং তারা জল সরবরাহ এবং পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার মতো জনহিতকর প্রকল্পেও অবদান রেখেছিলেন।
৪।নগর পরিকল্পনা: রোমানরা উন্নত নগর পরিকল্পনার জন্য বিখ্যাত ছিল। তারা নতুন শহরগুলো সুপরিকল্পিতভাবে তৈরি করত, যেখানে রাস্তাঘাট, পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা, পাবলিক ফোরাম, এবং অ্যাম্ফিথিয়েটার থাকত। এই নগরগুলো সাম্রাজ্যের প্রশাসনিক এবং অর্থনৈতিক কেন্দ্র হিসেবে কাজ করত। পম্পেই এবং হারকিউলেনিয়ামের ধ্বংসাবশেষ থেকে রোমান নগরীর জীবনযাত্রার স্পষ্ট চিত্র পাওয়া যায়। তাদের নগর পরিকল্পনা শুধুমাত্র কার্যকরীই ছিল না, বরং এটি সৌন্দর্য এবং বিনোদনের দিকটিও মাথায় রেখে তৈরি করা হয়েছিল, যা নাগরিকদের জীবনযাত্রার মান উন্নত করেছিল।
৫।অর্থনীতি ও বাণিজ্য: রোমান অর্থনীতি ছিল কৃষিভিত্তিক, তবে বাণিজ্যও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করত। তারা সাম্রাজ্য জুড়ে একটি বিস্তৃত বাণিজ্য নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছিল, যা ভূমধ্যসাগরের বিভিন্ন অঞ্চলকে সংযুক্ত করেছিল। খাদ্যশস্য, তেল, মদ, এবং দাস ছিল প্রধান বাণিজ্যিক পণ্য। মুদ্রার প্রচলন এবং ব্যাংকিং ব্যবস্থার উন্নয়ন তাদের অর্থনীতিকে গতিশীল করেছিল। অভ্যন্তরীণ এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য উভয়ই রোমান সাম্রাজ্যের সমৃদ্ধি এবং স্থিতিশীলতায় অবদান রেখেছিল, যা তাদের সংস্কৃতি এবং ধারণাকে দূর-দূরান্ত পর্যন্ত ছড়িয়ে দিতে সাহায্য করেছিল।
৬।শিল্পকলা ও ভাস্কর্য: রোমান শিল্পকলা গ্রিক শিল্পের দ্বারা প্রভাবিত হলেও তাদের নিজস্ব একটি স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য ছিল। তারা বাস্তববাদী প্রতিকৃতি ভাস্কর্য এবং ঐতিহাসিক দৃশ্যের রিলিফ তৈরিতে পারদর্শী ছিল। ফ্রেস্কো এবং মোজাইক শিল্পও রোমানদের মধ্যে জনপ্রিয় ছিল, যা তাদের বাড়িঘর এবং পাবলিক ভবনগুলোতে সজ্জিত থাকত। রোমান শিল্পীরা নিজেদের শিল্পকর্মের মাধ্যমে তাদের সমাজের জীবনযাত্রা, ধর্ম, এবং সামরিক সাফল্য ফুটিয়ে তুলতেন। এই শিল্পকর্মগুলো কেবল সৌন্দর্যবর্ধনের জন্যই ছিল না, বরং তা রোমান সংস্কৃতি ও ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবেও কাজ করে।
৭।সাহিত্য ও অলংকারশাস্ত্র: রোমান সাহিত্যে মহাকাব্য, নাটক, ইতিহাস, এবং দর্শন অন্তর্ভুক্ত ছিল। ভার্জিলের “এনেইড”, সিিসেরোর অলংকারশাস্ত্র, এবং লিভির ঐতিহাসিক রচনাগুলো রোমান সাহিত্যের গুরুত্বপূর্ণ অবদান। তারা গ্রিক সাহিত্য থেকে অনুপ্রাণিত হলেও নিজস্ব স্টাইলে রচনা করত। রোমান সাহিত্য ছিল তাদের মূল্যবোধ, নৈতিকতা, এবং রাজনৈতিক চিন্তাভাবনার প্রতিফলন। এই সাহিত্যকর্মগুলো শুধুমাত্র তাদের সময়েই জনপ্রিয় ছিল না, বরং আধুনিক সাহিত্যকেও প্রভাবিত করেছে এবং আজও পঠিত হয়।
৮।সামাজিক স্তরবিন্যাস: রোমান সমাজে স্পষ্ট সামাজিক স্তরবিন্যাস ছিল। প্যাট্রিশিয়ান (অভিজাত), কুইট (সাধারণ নাগরিক), প্লেবিয়ান (কৃষক ও শ্রমিক), এবং দাস এই চারটি প্রধান শ্রেণী ছিল। সামাজিক গতিশীলতা সীমিত হলেও, কিছু কুইট এবং প্লেবিয়ান তাদের যোগ্যতা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে উচ্চ পদে উঠতে পারত। দাসরা সমাজের সর্বনিম্ন স্তরে ছিল এবং তাদের কোন অধিকার ছিল না। এই সামাজিক স্তরবিন্যাস রোমান সমাজের কাঠামো এবং ক্ষমতা বিন্যাসকে প্রভাবিত করত, যা বিভিন্ন শ্রেণির মধ্যে সম্পর্কের উপর গভীর প্রভাব ফেলেছিল।
৯।দাসপ্রথা: রোমান সমাজে দাসপ্রথা ছিল একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। যুদ্ধবন্দী, ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি, এবং ক্রীতদাস হিসেবে কেনা মানুষ দাস হিসেবে ব্যবহৃত হত। তারা কৃষি, খনি, নির্মাণ, এবং গার্হস্থ্য কাজে নিযুক্ত থাকত। দাসদের কোন আইনগত অধিকার ছিল না এবং তাদের মালিকদের সম্পত্তি হিসেবে গণ্য করা হত। দাস বিদ্রোহ, যেমন – স্পার্টাকাসের বিদ্রোহ, রোমান ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ছিল। এই দাসপ্রথা রোমান অর্থনীতিকে সচল রাখতে সাহায্য করলেও, এটি সমাজের এক বড় অংশকে বঞ্চিত ও শোষিত করত।
১০।পরিবার ও নারীর ভূমিকা: রোমান সমাজে পরিবার ছিল সমাজের মূল ভিত্তি। পরিবারের কর্তা ছিল “প্যাটার ফ্যামিলিয়াস”, যার চূড়ান্ত ক্ষমতা ছিল। নারীদের সামাজিক ও আইনি অধিকার সীমিত ছিল, তবে তারা গৃহস্থালীর কাজে এবং সন্তান পালনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করত। ধনী পরিবারের নারীরা শিক্ষা গ্রহণ করতে পারত এবং সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পারত। সময়ের সাথে সাথে নারীদের অধিকার কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছিল, তবে পুরুষদের তুলনায় তাদের ক্ষমতা সবসময়ই সীমিত ছিল।
১১।ধর্ম ও পৌরাণিক কাহিনী: রোমানরা বহুদেবতাবাদী ছিল এবং তাদের ধর্ম গ্রিক ধর্মের দ্বারা প্রভাবিত ছিল। জুপিটার, জুনো, নেপচুন, এবং মঙ্গলের মতো দেবতারা ছিল তাদের প্রধান দেবতা। তারা বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠান, বলিদান, এবং উৎসবের মাধ্যমে দেবতাদের পূজা করত। পৌরাণিক কাহিনী তাদের সংস্কৃতি এবং সাহিত্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করত। রোমান ধর্মের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল রাষ্ট্রীয় পূজা এবং সম্রাটদের দেবত্ব আরোপের ধারণা।
১২।শিক্ষা: রোমান সমাজে শিক্ষার গুরুত্ব ছিল অপরিসীম। ধনী পরিবারের ছেলেরা ব্যাকরণ, অলংকারশাস্ত্র, এবং দর্শনে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করত। মেয়েরা সাধারণত বাড়িতে শিক্ষা গ্রহণ করত, তবে কিছু ধনী পরিবারের মেয়েরা ব্যক্তিগত শিক্ষকদের কাছেও পড়াশোনা করত। শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য ছিল সুনাগরিক এবং দক্ষ প্রশাসক তৈরি করা। রোমানরা বিশ্বাস করত যে শিক্ষা ব্যক্তিকে সমাজের জন্য উপযোগী করে তোলে এবং তাদের নৈতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশ সাধন করে।
১৩।দর্শন: রোমান দর্শনে গ্রিক দর্শনের প্রভাব ছিল লক্ষণীয়, বিশেষ করে স্টোইকবাদ এবং এপিকিউরিয়ানিজম। সিিসেরো, সেনেকা, এবং মার্কাস অরেলিয়াস ছিলেন রোমান দার্শনিকদের মধ্যে অন্যতম। তারা নৈতিকতা, যুক্তি, এবং প্রকৃতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ জীবনযাপনের উপর জোর দিয়েছিলেন। রোমান দর্শন শুধুমাত্র তাত্ত্বিক আলোচনাই ছিল না, বরং এটি দৈনন্দিন জীবনে প্রয়োগযোগ্য নীতি এবং মূল্যবোধের উপরও আলোকপাত করত, যা নাগরিকদের ব্যক্তিগত ও সামাজিক আচরণকে প্রভাবিত করত।
১৪।পোশাক ও ফ্যাশন: রোমান পোশাক ছিল সহজ এবং কার্যকরী। টোগা ছিল পুরুষদের আনুষ্ঠানিক পোশাক, যা তাদের সামাজিক মর্যাদার প্রতীক ছিল। নারীরা স্টোলা এবং পালা পরিধান করত। জুতা, অলংকার, এবং চুলের স্টাইল ফ্যাশনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল। রোমান পোশাক তাদের সংস্কৃতি, সামাজিক অবস্থা, এবং জলবায়ুর উপর ভিত্তি করে তৈরি হত। পোশাকের মাধ্যমে সামাজিক বিভাজনও ফুটে উঠত, যেখানে বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের পোশাকের ধরন ভিন্ন ছিল।
১৫।খেলাধুলা ও বিনোদন: রোমানরা খেলাধুলা এবং বিনোদন পছন্দ করত। গ্ল্যাডিয়েটরিয়াল যুদ্ধ, সার্কাস রেসিং (রথ দৌড়), এবং থিয়েটার ছিল তাদের প্রধান বিনোদনমূলক কার্যকলাপ। এই অনুষ্ঠানগুলো কলোসিয়াম এবং সার্কাস ম্যাক্সিমাসের মতো বিশাল স্থাপনাগুলোতে অনুষ্ঠিত হত এবং জনসাধারণকে বিনোদন দিত। এই বিনোদনগুলো শুধুমাত্র আনন্দ দেওয়ার জন্যই ছিল না, বরং তা রোমান সামরিক শক্তি এবং শৃঙ্খলাকেও তুলে ধরত।
১৬।খাদ্য ও পানীয়: রোমানদের প্রধান খাদ্য ছিল রুটি, জলপাই তেল, এবং ওয়াইন। মাংস, মাছ, ফল, এবং সবজিও তাদের খাদ্যের অংশ ছিল। ধনীরা বিভিন্ন ধরনের খাবার খেত এবং ভোজসভায় অংশ নিত। রোমানরা পাবলিক ফাউন্টেন থেকে জল পান করত এবং ওয়াইন ছিল তাদের জনপ্রিয় পানীয়। তাদের খাদ্যাভ্যাস ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের প্রাকৃতিক সম্পদ এবং কৃষি উৎপাদন দ্বারা প্রভাবিত ছিল।
১৭।সড়কপথের বিস্তার: রোমানরা সাম্রাজ্য জুড়ে এক বিশাল এবং উন্নত সড়কপথের নেটওয়ার্ক তৈরি করেছিল। এই সড়কপথগুলো সামরিক চলাচল, বাণিজ্য এবং যোগাযোগে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করত। অ্যাপিয়ান ওয়ে ছিল তাদের অন্যতম বিখ্যাত সড়কপথ। এই সড়কগুলো সাম্রাজ্যের বিভিন্ন অংশকে সংযুক্ত করে প্রশাসনিক দক্ষতা বাড়িয়েছিল এবং সাংস্কৃতিক বিনিময়েও সাহায্য করেছিল।
১৮।মুদ্রা ব্যবস্থা: রোমানদের একটি সুসংগঠিত মুদ্রা ব্যবস্থা ছিল, যা সাম্রাজ্য জুড়ে বাণিজ্য ও অর্থনীতির প্রসারে সহায়ক হয়েছিল। ডেনারিয়াস ছিল তাদের প্রধান মুদ্রা। মুদ্রার গায়ে সম্রাটদের ছবি এবং গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার চিত্র অঙ্কিত থাকত, যা প্রচারের মাধ্যম হিসেবেও কাজ করত। এই মুদ্রা ব্যবস্থা রোমান অর্থনীতিকে স্থিতিশীল এবং গতিশীল রেখেছিল, যা সাম্রাজ্যের সমৃদ্ধিতে অবদান রেখেছিল।
১৯।রোমান ফোরাম: রোমান ফোরাম ছিল প্রাচীন রোমের সামাজিক, রাজনৈতিক, এবং বাণিজ্যিক কেন্দ্র। এটি ছিল অসংখ্য গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবন, মন্দির, এবং বাজারের সমাহার। ফোরামে জনসভা, বিচার, এবং ধর্মীয় অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হত। এটি ছিল রোমানদের দৈনন্দিন জীবনের প্রাণকেন্দ্র, যেখানে নাগরিকরা একত্রিত হয়ে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করত এবং নিজেদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে লালন করত।
২০।কৃষি: রোমান অর্থনীতির মূল ভিত্তি ছিল কৃষি। জলপাই, গম, এবং আঙ্গুর ছিল তাদের প্রধান ফসল। উন্নত কৃষি কৌশল, যেমন – সেচ ব্যবস্থা এবং সার ব্যবহার করে তারা উৎপাদন বৃদ্ধি করত। কৃষি শুধুমাত্র খাদ্য সরবরাহ করত না, বরং গ্রামীণ অর্থনীতি এবং সমাজের একটি বড় অংশকে সমর্থন করত। রোমানরা তাদের কৃষি পদ্ধতির মাধ্যমে কঠিন ভূখণ্ডকেও উৎপাদনশীল জমিতে পরিণত করতে সক্ষম হয়েছিল।
২১।লাতিন ভাষা: লাতিন ভাষা ছিল রোমান সাম্রাজ্যের দাপ্তরিক ভাষা এবং এটি তাদের সংস্কৃতির একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। সাম্রাজ্য জুড়ে এর বিস্তার ঘটেছিল এবং এটি পরবর্তীতে রোমান্স ভাষাগুলোর (যেমন – ইতালীয়, ফরাসি, স্প্যানিশ, পর্তুগিজ, এবং রোমানীয়) ভিত্তি তৈরি করে। আজও লাতিন ভাষা বিজ্ঞান, ধর্ম, এবং আইনি পরিভাষায় ব্যবহৃত হয়, যা এর দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব প্রমাণ করে।
উপসংহার:- রোমান সভ্যতা মানব ইতিহাসের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। তাদের সামরিক শক্তি, আইনি কাঠামো, স্থাপত্য শিল্প, এবং প্রকৌশল জ্ঞান আধুনিক বিশ্বের অনেক কিছুকে প্রভাবিত করেছে। প্রায় এক সহস্রাব্দ ধরে টিকে থাকা এই সভ্যতা কেবল নিজেদের সাম্রাজ্যই বিস্তার করেনি, বরং জ্ঞান, বিজ্ঞান, এবং সংস্কৃতির এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছিল। তাদের উদ্ভাবনী মানসিকতা, সুসংগঠিত সমাজ, এবং দৃঢ় প্রত্যয় তাদের সভ্যতার মূল ভিত্তি ছিল। রোমান সাম্রাজ্যের পতন হলেও, এর অর্জনগুলো আজও আমাদের সমাজে প্রাসঙ্গিক এবং শিক্ষণীয় হয়ে রয়েছে।
১. 🛡️ সামরিক শক্তি ও সম্প্রসারণবাদ
২. 🏛️ আইন ও বিচার ব্যবস্থা
৩. 🏗️ স্থাপত্য ও প্রকৌশল
৪. 🏙️ নগর পরিকল্পনা
৫. 💰 অর্থনীতি ও বাণিজ্য
৬. 🎨 শিল্পকলা ও ভাস্কর্য
৭. 📜 সাহিত্য ও অলংকারশাস্ত্র
৮. 👥 সামাজিক স্তরবিন্যাস
৯. ⛓️ দাসপ্রথা
১০. 👨👩👧👦 পরিবার ও নারীর ভূমিকা
১১. 🙏 ধর্ম ও পৌরাণিক কাহিনী
১২. 📚 শিক্ষা
১৩. 🧠 দর্শন
১৪. 👗 পোশাক ও ফ্যাশন
১৫. 🏟️ খেলাধুলা ও বিনোদন
১৬. 🍎 খাদ্য ও পানীয়
১৭. 🛣️ সড়কপথের বিস্তার
১৮. 🪙 মুদ্রা ব্যবস্থা
১৯. 🏛️ রোমান ফোরাম
২০. 🌾 কৃষি
২১. ✍️ লাতিন ভাষা
রোমান সাম্রাজ্য খ্রিস্টপূর্ব ২৭ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং প্রায় ৫০০ বছর টিকে থাকে, যদিও এর পশ্চিমাংশ ৪৭৬ খ্রিস্টাব্দে পতন হয়। ট্রাজানের শাসনামলে (৯৮-১১৭ খ্রিস্টাব্দ) সাম্রাজ্য তার বৃহত্তম বিস্তার লাভ করে। রোমান প্রকৌশলীরা প্রায় ৮০,০০০ কিলোমিটার সড়কপথ নির্মাণ করেছিল, যা সাম্রাজ্যের যোগাযোগ ব্যবস্থা সুসংগঠিত করেছিল। কলোসিয়ামের নির্মাণ কাজ শুরু হয় ৭০ খ্রিস্টাব্দে এবং শেষ হয় ৮০ খ্রিস্টাব্দে, যেখানে ৫০,০০০ দর্শক বসতে পারত। রোমানদের উদ্ভাবিত কংক্রিট আধুনিক সিমেন্টের মতোই শক্তিশালী ছিল এবং এটি অনেক রোমান স্থাপনার দীর্ঘস্থায়ীত্বের কারণ। প্রায় ৩৫০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে রোমানরা একটি উন্নত ক্যালেন্ডার তৈরি করেছিল, যা জুলিয়ান ক্যালেন্ডার নামে পরিচিত এবং পরবর্তীতে গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারের ভিত্তি হয়। পম্পেই শহর ৭৯ খ্রিস্টাব্দে ভিসুভিয়াস আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের ফলে ধ্বংস হয়ে যায়, যা রোমান নগর জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক উৎস।

