• Home
  • Class 0-12
  • Grammar
    • Bangla Grammar
    • English Grammar
    • Arabic Grammar
  • Computer
    • MS Word
  • Jobs Study
    • BCS
    • Bank
    • Primary
    • Govt. job
    • Nibandhon
    • Medical Admission
    • University Admission
    • Army/Police/BDR/Anchar
  • Jobs
  • News
  • Digital Tools
    • Home
    • Class 0-12
    • Grammar
      • Bangla Grammar
      • English Grammar
      • Arabic Grammar
    • Computer
      • MS Word
    • Jobs Study
      • BCS
      • Bank
      • Primary
      • Govt. job
      • Nibandhon
      • Medical Admission
      • University Admission
      • Army/Police/BDR/Anchar
    • Jobs
    • News
    • Digital Tools
Read Aim
Read Aim
  • Home
  • Class 0-12
  • Grammar
    • Bangla Grammar
    • English Grammar
    • Arabic Grammar
  • Computer
    • MS Word
  • Jobs Study
    • BCS
    • Bank
    • Primary
    • Govt. job
    • Nibandhon
    • Medical Admission
    • University Admission
    • Army/Police/BDR/Anchar
  • Jobs
  • News
  • Digital Tools
  • readaim.com
  • 0

প্রশ্ন:- ১৯৪০ সালের লাহোর প্রস্তাব ব্যখ্যা কর।

উত্তর::ভূমিকা: ১৯৪০ সালের ২৩শে মার্চ অবিভক্ত ভারতের লাহোরে নিখিল ভারত মুসলিম লীগের বার্ষিক অধিবেশনে একটি ঐতিহাসিক প্রস্তাব গৃহীত হয়, যা ইতিহাসে লাহোর প্রস্তাব নামে পরিচিত। এই প্রস্তাবটি ছিল ব্রিটিশ ভারতের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বাঁক, যা মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চলগুলোকে নিয়ে স্বতন্ত্র রাষ্ট্র বা রাষ্ট্রসমূহ গঠনের দাবি উত্থাপন করে। এটি মুসলিম জনগোষ্ঠীর আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকারের আকাঙ্ক্ষাকে মূর্ত করে তোলে এবং পরবর্তীতে পাকিস্তান নামক একটি নতুন রাষ্ট্রের জন্ম দেয়। এই প্রস্তাব ভারতীয় উপমহাদেশের ভূ-রাজনৈতিক মানচিত্র চিরতরে বদলে দেয়।

১। প্রস্তাবকের পরিচয় এবং উত্থাপন: লাহোর প্রস্তাব উত্থাপন করেছিলেন অবিভক্ত বাংলার তৎকালীন জনপ্রিয় মুখ্যমন্ত্রী এ.কে. ফজলুল হক, যিনি ‘শেরে বাংলা’ নামে সমধিক পরিচিত। তাঁর বলিষ্ঠ নেতৃত্ব ও দূরদর্শিতা এই প্রস্তাবকে একটি কার্যকর রাজনৈতিক কর্মসূচিতে পরিণত করে। ফজলুল হকের এই পদক্ষেপ মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে এবং তাদের মধ্যে এক নতুন আশার সঞ্চার করে, যা পরবর্তীতে স্বাধীনতা আন্দোলনের গতিপথকে প্রভাবিত করে। তাঁর এই ভূমিকার কারণে তিনি মুসলিম ইতিহাসে এক বিশেষ স্থান দখল করে আছেন।

২। মূল বিষয়বস্তু: স্বাধীন রাষ্ট্রসমূহ: প্রস্তাবের মূল বিষয় ছিল যে, ভারতের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চলগুলোকে নিয়ে এক বা একাধিক স্বাধীন রাষ্ট্রসমূহ (Independent States) গঠিত হবে। এটি প্রাথমিকভাবে একক পাকিস্তানের ধারণাকে সমর্থন করেনি, বরং একাধিক মুসলিম রাষ্ট্রের সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিয়েছিল। ভারতের উত্তর-পশ্চিম (যেমন- পাঞ্জাব, সিন্ধু, উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশ, বেলুচিস্তান) এবং পূর্বাঞ্চলের (যেমন- বাংলা ও আসাম) মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকাগুলোকে এই রাষ্ট্রগুলোর অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলা হয়েছিল। এই বিষয়টি নিয়ে পরবর্তীতে অনেক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছিল।

৩। ভৌগোলিক সংলগ্নতার নীতি: লাহোর প্রস্তাবে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছিল যে, প্রস্তাবিত মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকাগুলোকে ভৌগোলিকভাবে সংলগ্ন ইউনিট হিসেবে চিহ্নিত করতে হবে। এর অর্থ হলো, এই অঞ্চলগুলো একে অপরের সাথে সংযুক্ত থাকবে, বিচ্ছিন্ন হবে না। এই নীতির কারণে পূর্ব বাংলা এবং উত্তর-পশ্চিম ভারতের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চলগুলোর মধ্যে ভৌগোলিক বিচ্ছিন্নতা থাকা সত্ত্বেও তাদের একটি একক রাষ্ট্র বা পৃথক রাষ্ট্র হিসেবে ভাবার সুযোগ তৈরি হয়, যা পাকিস্তান গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

৪। স্বতন্ত্র সাংবিধানিক কাঠামো: প্রস্তাবিত প্রতিটি স্বতন্ত্র রাষ্ট্রের জন্য একটি পৃথক ও স্বাধীন সাংবিধানিক কাঠামো গড়ে তোলার কথা বলা হয়েছিল। এর অর্থ হলো, এই রাষ্ট্রগুলো তাদের নিজস্ব শাসনতন্ত্র, আইন এবং প্রশাসন ব্যবস্থা তৈরি করবে, যা ব্রিটিশ ভারতের বিদ্যমান কাঠামোর থেকে সম্পূর্ণ আলাদা হবে। এই ধারাটি মুসলিমদের জন্য পূর্ণ আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার এবং নিজস্ব সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য অনুযায়ী জীবনযাপনের অধিকার নিশ্চিত করার একটি দৃঢ় পদক্ষেপ ছিল। এটি মুসলিম স্বশাসনের একটি স্পষ্ট ইঙ্গিত।

৫। সংখ্যালঘুদের অধিকার সুরক্ষা: লাহোর প্রস্তাবে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ রাষ্ট্রসমূহে বসবাসকারী সংখ্যালঘুদের অধিকার ও স্বার্থ রক্ষার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। বলা হয়েছিল যে, নতুন গঠিত রাষ্ট্রগুলো সংখ্যালঘুদের সাংস্কৃতিক, ধর্মীয়, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক এবং অন্যান্য অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হবে এবং তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করবে। এটি মুসলিম লীগের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতি ছিল, যা ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে আস্থার সৃষ্টি করার চেষ্টা করে এবং তাদের নিরাপত্তা বিষয়ে আশ্বস্ত করে।

৬। ফেডারেল কাঠামোর অস্পষ্টতা: যদিও প্রস্তাবটি স্বতন্ত্র রাষ্ট্রসমূহের কথা বলেছিল, এর মধ্যে এক ধরনের ফেডারেল কাঠামোর ইঙ্গিত ছিল। অর্থাৎ, নতুন গঠিত রাষ্ট্রগুলো অভ্যন্তরীণভাবে স্বায়ত্তশাসিত হবে, কিন্তু একটি কেন্দ্রীয় ব্যবস্থার অধীনে তাদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক থাকবে। তবে, এই কেন্দ্রীয় ব্যবস্থাটি কতটা শক্তিশালী হবে এবং এর ক্ষমতা কী হবে, তা নিয়ে প্রস্তাবটিতে স্পষ্ট কোনো নির্দেশনা ছিল না। এই অস্পষ্টতা পরবর্তীতে পাকিস্তান সৃষ্টির সময় অনেক বিতর্কের জন্ম দেয়।

৭। পূর্ণ স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের আকাঙ্ক্ষা: লাহোর প্রস্তাবের মূল লক্ষ্য ছিল মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চলের জন্য পূর্ণ স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অর্জন করা। এটি কেবল অভ্যন্তরীণ স্বায়ত্তশাসনের দাবি ছিল না, বরং ব্রিটিশ শাসন থেকে সম্পূর্ণ মুক্তি এবং নিজস্ব রাষ্ট্র পরিচালনার অধিকার নিশ্চিত করার একটি স্পষ্ট ঘোষণা ছিল। এটি মুসলিম লীগের দীর্ঘদিনের স্বাধীনতা আন্দোলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়কে চিহ্নিত করে এবং তাদের চূড়ান্ত রাজনৈতিক লক্ষ্যকে প্রকাশ করে।

৮। মুসলিম লীগের রাজনৈতিক লক্ষ্য নির্ধারণ: এই প্রস্তাবের মাধ্যমে নিখিল ভারত মুসলিম লীগ ভারতের মুসলিমদের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক লক্ষ্য নির্ধারণ করে। এর আগে মুসলিম লীগের লক্ষ্য ছিল মুসলিমদের অধিকার রক্ষা করা, কিন্তু লাহোর প্রস্তাবের পর তাদের লক্ষ্য একটি পৃথক মুসলিম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা হয়। এটি মুসলিম লীগকে একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক দল হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে সাহায্য করে এবং মুসলিম জনসমর্থন অর্জনে সহায়ক হয়।

৯। হিন্দু-মুসলিম বিভাজন স্পষ্টীকরণ: লাহোর প্রস্তাব হিন্দু-মুসলিম বিভাজনকে আরও স্পষ্ট করে তোলে। এর মাধ্যমে একদিকে যেমন মুসলিমদের মধ্যে নিজস্ব জাতিসত্তার ধারণা জোরালো হয়, তেমনি অন্যদিকে হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে এটি ভারতের অখণ্ডতা বিনষ্টের আশঙ্কা তৈরি করে। এই প্রস্তাবই মূলত দ্বিজাতি তত্ত্বের বাস্তবায়ন শুরু করার একটি সুস্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়, যা পরবর্তীতে ভারতের বিভাজনকে ত্বরান্বিত করে এবং সাম্প্রদায়িক মেরুকরণ বৃদ্ধি করে।

১০। ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের বিরোধিতা: ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস লাহোর প্রস্তাবের তীব্র বিরোধিতা করে। কংগ্রেস নেতারা এটিকে ভারতের অখণ্ডতার পরিপন্থী এবং সাম্প্রদায়িক বিভাজনের প্রতীক হিসেবে দেখেন। তাদের মতে, এটি ভারতের ঐক্যকে ভেঙে দেবে এবং স্বাধীনতা আন্দোলনকে দুর্বল করবে। এই বিরোধিতার কারণে মুসলিম লীগ ও কংগ্রেসের মধ্যে রাজনৈতিক দূরত্ব আরও বৃদ্ধি পায় এবং সমঝোতার পথ রুদ্ধ হয়।

১১। ব্রিটিশ সরকারের প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া: ব্রিটিশ সরকার প্রথমদিকে লাহোর প্রস্তাবকে খুব বেশি গুরুত্ব দেয়নি, কারণ তারা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ব্যস্ত ছিল এবং ভারতের রাজনৈতিক সমস্যাকে ততটা অগ্রাধিকার দেয়নি। তবে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর পরিস্থিতি পরিবর্তিত হয়। যখন কংগ্রেস ভারত ছাড়ো আন্দোলনের ডাক দেয়, তখন মুসলিম লীগ ব্রিটিশদের প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয় এবং লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে পৃথক রাষ্ট্র গঠনের দাবি আরও জোরদার করে। শেষ পর্যন্ত ব্রিটিশ সরকার এই প্রস্তাবকে গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করতে বাধ্য হয়।

১২। দ্বিজাতি তত্ত্বের বাস্তব রূপ: লাহোর প্রস্তাব মূলত দ্বিজাতি তত্ত্বের একটি রাজনৈতিক রূপায়ণ। এই তত্ত্ব অনুযায়ী, হিন্দু ও মুসলিম দুটি ভিন্ন জাতি, যাদের সংস্কৃতি, ধর্ম, জীবনযাপন সম্পূর্ণ আলাদা। তাই তাদের জন্য পৃথক রাষ্ট্র প্রয়োজন। লাহোর প্রস্তাব এই ধারণাকে একটি রাজনৈতিক কর্মসূচিতে রূপান্তরিত করে, যা পরবর্তীতে পাকিস্তান ও ভারত সৃষ্টির মূল ভিত্তি হয়ে দাঁড়ায় এবং ভারত ভাগের পেছনে অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে কাজ করে।

১৩। পাকিস্তান ধারণার উত্থান: যদিও লাহোর প্রস্তাবে সরাসরি “পাকিস্তান” শব্দটি উল্লেখ করা হয়নি, তবে এই প্রস্তাবই ছিল পাকিস্তান সৃষ্টির ধারণার মূল ভিত্তি। “পাকিস্তান” নামটি প্রথম প্রস্তাব করেছিলেন কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র চৌধুরী রহমত আলী ১৯৩৩ সালে। লাহোর প্রস্তাবের পর এই ধারণাটি মুসলিম জনসাধারণের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে এবং তাদের মধ্যে একটি স্বতন্ত্র মুসলিম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন জাগ্রত হয়।

১৪। ভারতীয় ফেডারেশন প্রত্যাখ্যান: এই প্রস্তাবের মাধ্যমে মুসলিম লীগ ভারতীয় ফেডারেশনের অধীনে মুসলিমদের অধিকার রক্ষার ধারণাকে প্রত্যাখ্যান করে। তারা উপলব্ধি করেছিল যে, একটি একক ভারতীয় ফেডারেশনের অধীনে মুসলিমদের স্বার্থ সুরক্ষিত হবে না এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দুদের দ্বারা তারা শোষিত হতে পারে। তাই তারা একটি সম্পূর্ণ পৃথক রাষ্ট্রের দাবি উত্থাপন করে, যা তাদের জন্য নিজস্ব রাষ্ট্র গঠনের পথ খুলে দেয়।

১৫। মুসলিম জনগোষ্ঠীর মধ্যে জাগরণ: লাহোর প্রস্তাব ভারতীয় মুসলিমদের মধ্যে এক নতুন জাগরণ তৈরি করে। এটি মুসলিমদের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি করে এবং তাদের রাজনৈতিক অধিকার আদায়ের জন্য ঐক্যবদ্ধ হতে অনুপ্রাণিত করে। এই প্রস্তাব মুসলিমদের মধ্যে এক নতুন আশা জাগিয়ে তোলে যে, তারা নিজেদের জন্য একটি নিরাপদ ও স্বাধীন আবাসভূমি তৈরি করতে পারবে, যেখানে তাদের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক পরিচয় সুরক্ষিত থাকবে।

১৬। ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও কারণ: লাহোর প্রস্তাবের প্রেক্ষাপট ছিল ব্রিটিশ ভারতের রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং মুসলিমদের মধ্যে ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তাহীনতা। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ, ১৯৩৭ সালের প্রাদেশিক নির্বাচন এবং কংগ্রেস শাসিত প্রদেশগুলোতে মুসলিমদের প্রতি কথিত বৈষম্যমূলক আচরণ মুসলিম লীগের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি করেছিল। এই পরিস্থিতিতে মুসলিমদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত মনে হওয়ায় এই প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়, যা তাদের রাজনৈতিক অধিকার আদায়ের একটি মাধ্যম হয়ে ওঠে।

১৭। আর্থ-সামাজিক আকাঙ্ক্ষা: লাহোর প্রস্তাবে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চলের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের বিষয়টিও পরোক্ষভাবে জড়িত ছিল। মুসলিম নেতারা মনে করতেন যে, পৃথক রাষ্ট্র হলে মুসলিমরা নিজেদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নতি ঘটাতে পারবে, যা অবিভক্ত ভারতে সম্ভব ছিল না। এটি ছিল মুসলিম জনগোষ্ঠীর দারিদ্র্য ও অনগ্রসরতা দূর করার একটি আশার আলো এবং তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের একটি মাধ্যম।

১৮। আন্তর্জাতিক প্রভাব ও উপনিবেশবাদ: লাহোর প্রস্তাবের আন্তর্জাতিক প্রভাবও ছিল সুদূরপ্রসারী। এটি ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের বিভাজন এবং দক্ষিণ এশিয়ায় নতুন স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ ছিল। এই প্রস্তাব ঔপনিবেশিক শাসনের অবসানে এবং নতুন বিশ্ব ব্যবস্থার গঠনে একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করে। এটি প্রমাণ করে যে, স্বায়ত্তশাসনের অধিকার আদায়ে জনগণের আকাঙ্ক্ষা কতটা শক্তিশালী হতে পারে।

১৯। লাহোর প্রস্তাবের সংশোধন ও একক রাষ্ট্র: ১৯৪০ সালের লাহোর প্রস্তাবে “স্বাধীন রাষ্ট্রসমূহ” (Independent States) গঠনের কথা বলা হলেও, ১৯৪৬ সালের এপ্রিল মাসে দিল্লির মুসলিম লীগ বিধায়কদের সম্মেলনে এই “রাষ্ট্রসমূহ” (States) শব্দটিকে “রাষ্ট্র” (State) হিসেবে সংশোধন করা হয়। এই সংশোধনের ফলে একটি একক পাকিস্তান রাষ্ট্রের ধারণাকে শক্তিশালী করা হয় এবং এটিই পরবর্তীতে পাকিস্তান সৃষ্টির ভিত্তি হয়ে দাঁড়ায়।

২০। বাংলার ভূমিকা ও বিভাজন: লাহোর প্রস্তাবের প্রেক্ষাপটে অবিভক্ত বাংলার ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফজলুল হকের উত্থাপন এবং বাংলার মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠতা এই প্রস্তাবকে আরও প্রাসঙ্গিক করে তোলে। তবে, এই প্রস্তাবের ফলস্বরূপ বাংলাকেও ভাগ হতে হয়, যার ফলে পূর্ব বাংলা পাকিস্তানের অংশ হয় এবং পরবর্তীতে স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম হয়। এটি প্রমাণ করে যে, এই প্রস্তাবের প্রভাব বাংলার জনগণের জীবনেও সুদূরপ্রসারী ছিল।

উপসংহার: ১৯৪০ সালের লাহোর প্রস্তাব ছিল ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাসে একটি যুগান্তকারী দলিল। এটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চলগুলোকে নিয়ে স্বতন্ত্র রাষ্ট্র বা রাষ্ট্রসমূহ গঠনের দাবি উত্থাপন করে এবং দ্বিজাতি তত্ত্বকে রাজনৈতিক রূপ দেয়। যদিও এর মূল উদ্দেশ্য “স্বাধীন রাষ্ট্রসমূহ” গঠন ছিল, যা পরবর্তীতে একটি একক রাষ্ট্রে পরিবর্তিত হয়, এই প্রস্তাব মুসলিমদের আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকারের আকাঙ্ক্ষাকে মূর্ত করে তোলে। এর প্রভাব ছিল সুদূরপ্রসারী, যা ভারতীয় উপমহাদেশের রাজনৈতিক মানচিত্রকে চিরতরে পরিবর্তন করে দেয় এবং বাংলাদেশ ও পাকিস্তান নামক দুটি নতুন রাষ্ট্রের জন্ম দেয়।

একনজরে উত্তর দেখুন

🗣️ ১। প্রস্তাবকের পরিচয় এবং উত্থাপন
🗺️ ২। মূল বিষয়বস্তু: স্বাধীন রাষ্ট্রসমূহ
📍 ৩। ভৌগোলিক সংলগ্নতার নীতি
🏛️ ৪। স্বতন্ত্র সাংবিধানিক কাঠামো
🤝 ৫। সংখ্যালঘুদের অধিকার সুরক্ষা
🔄 ৬। ফেডারেল কাঠামোর অস্পষ্টতা
⚖️ ৭। পূর্ণ স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের আকাঙ্ক্ষা
🎯 ৮। মুসলিম লীগের রাজনৈতিক লক্ষ্য নির্ধারণ
⚔️ ৯। হিন্দু-মুসলিম বিভাজন স্পষ্টীকরণ
❌ ১০। ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের বিরোধিতা
👑 ১১। ব্রিটিশ সরকারের প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া
👥 ১২। দ্বিজাতি তত্ত্বের বাস্তব রূপ
📜১৩। পাকিস্তান ধারণার উত্থান
🚫 ১৪। ভারতীয় ফেডারেশন প্রত্যাখ্যান
✊ ১৫। মুসলিম জনগোষ্ঠীর মধ্যে জাগরণ
📜 ১৬। ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও কারণ
💰 ১৭। আর্থ-সামাজিক আকাঙ্ক্ষা
🌐 ১৮। আন্তর্জাতিক প্রভাব ও উপনিবেশবাদ
📝 ১৯। লাহোর প্রস্তাবের সংশোধন ও একক রাষ্ট্র
📜 ২০। বাংলার ভূমিকা ও বিভাজন

প্রশ্নটির গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

লাহোর প্রস্তাব ১৯৪০ সালের ২৩শে মার্চ নিখিল ভারত মুসলিম লীগের লাহোর অধিবেশনে এ.কে. ফজলুল হক উত্থাপন করেন। এর প্রধান দাবি ছিল ভারতের উত্তর-পশ্চিম ও পূর্বাঞ্চলের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চলগুলোকে নিয়ে ‘স্বাধীন রাষ্ট্রসমূহ’ গঠন। ১৯৩৩ সালে চৌধুরী রহমত আলী ‘পাকিস্তান’ নামটি প্রথম প্রস্তাব করেছিলেন। তবে, ১৯৪৬ সালের এপ্রিল মাসে দিল্লির মুসলিম লীগ বিধায়কদের সম্মেলনে ‘স্বাধীন রাষ্ট্রসমূহ’ থেকে ‘একক রাষ্ট্র’ ধারণায় পরিবর্তন আনা হয়। এই প্রস্তাব দ্বিজাতি তত্ত্বের ওপর ভিত্তি করে গঠিত এবং এটি ১৯৪৭ সালে ভারত বিভাজনের অন্যতম প্রধান কারণ ছিল, যার ফলস্বরূপ পাকিস্তান ও পরে বাংলাদেশের জন্ম হয়।

Tags: ১৯৪০১৯৪০ সালের লাহোর প্রস্তাব ব্যখ্যা কর১৯৪০ সালের লাহোর প্রস্তাব ব্যখ্যা কর।প্রস্তাবলাহরলাহোর প্রস্তাবলাহোর প্রস্তাব ব্যখ্যা কর।
  • Previous লাহোর প্রস্তাবের পটভূমি আলোচনা কর। এর মূল প্রতিপাদ্য বিষয় কী ?
  • Next লাহোর প্রস্তাব কি? লাহোর প্রস্তাবের বৈশিষ্ট্য সমূহ আলোচনা কর।
Read Aim

SUBSCRIBE

    JOB CIRCULAR

    • Media/Ads/Event Mngnt (145)
    • Medical/Pharmaceutical (123)
    • NGO/Organization (323)
    • Production/Operation (142)
    • Research/Consultancy (85)
    • Secretary/Receptionist (188)
    • Security/Support Service (99)
    • Others (59)

    LEARNING & EARNING

    • English Article
    • Bearded Dragon
    • Cats
    • Dogs
    • Guinea Pigs
    • Insurance
    • Lawyer
    • Rabbits
    • Earn Money Online
    • Others

    CATEGORIES

    • Computer (12)
    • DEGREE (4)
    • English Article (27)
    • GRAMMAR (138)
    • Health Tips (2)
    • Honours (1083)
    • Jobs (16)
    • Jobs Study (33)
    • News (1336)
    • PDF BOOK (78)

    RECENT POST

    উত্তর আধুনিকতাবাদের উদ্ভব ও ক্রমবিকাশ আলোচনা কর।
    উত্তর আধুনিকতাবাদের বৈশিষ্ট্যসমূহ আলোচনা কর।
    সেন্ট সাইমন ও রবার্ট ওয়েনের কাল্পনিক সমাজতন্ত্রের রূপরেখা বিশ্লেষণ কর।
    কাল্পনিক ও বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রের মধ্যে একটি তুলনামূলক আলোচনা কর।

    2025 All Rights Reserved readaim.com

    • Contact
    • About
    • Privacy
    • Blog
    • READ AIM