- readaim.com
- 0
উত্তর::ভূমিকা: রাষ্ট্র পরিচালনার মূল নীতিমালা হলো সংবিধান। এটি একটি দেশের সর্বোচ্চ আইন, যা সরকারের ক্ষমতা ও নাগরিকদের অধিকার নির্ধারণ করে। যেমন গাছের শিকড় তাকে মজবুত করে, তেমনি সংবিধান রাষ্ট্রকে সুসংহত রাখে। এটি ন্যায়বিচার, স্বাধীনতা ও সমতার ভিত্তি তৈরি করে।
সংবিধানের শাব্দিক অর্থ
‘সংবিধান’ শব্দটি এসেছে ‘সমন্বিত বিধান’ থেকে, অর্থাৎ সমস্ত নিয়ম-কানুনের সমন্বয়।
সংবিধান হলো একটি লিখিত বা অলিখিত দলিল, যা রাষ্ট্রের গঠন, সরকারের অঙ্গসমূহের কার্যাবলি, নাগরিকদের অধিকার ও কর্তব্য নির্দিষ্ট করে।
১. ডাইসি: “সংবিধান হলো সেই সব নীতিমালা, যা রাষ্ট্রের উচ্চতম ক্ষমতার অনুশীলন নিয়ন্ত্রণ করে।” (“The constitution consists of those rules which govern the exercise of sovereign power.”)
২. লর্ড ব্রাইস: “এটি রাষ্ট্রের মূল কাঠামো, যা সরকারের সংগঠন ও নাগরিক-সরকার সম্পর্ক বর্ণনা করে।” (“It is the framework of political society, organizing government and defining citizen-government relations.”)
৩. উড্রো উইলসন: “সংবিধান হলো জনগণের ইচ্ছার লিখিত অভিব্যক্তি।” (“It is a written expression of the people’s will.”)
৪. অধ্যাপক গিলক্রিস্ট: “এটি রাষ্ট্রের মৌলিক আইন, যা অন্যান্য সব আইনের উৎস।” (“It is the fundamental law from which all other laws derive authority.”)
৫. ড. বি.আর. আম্বেদকর: “সংবিধান শুধু আইন নয়, এটি একটি সামাজিক দলিল যা ন্যায় ও সমতা প্রতিষ্ঠা করে।” (“It is not merely a law but a social document ensuring justice and equality.”)
৬. কার্ল মার্ক্স: “এটি শ্রেণীসংগ্রামের ফলাফল, যা শাসকগোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষা করে।” (“It is the outcome of class struggle, protecting ruling class interests.”)
উপরের সংজ্ঞাগুলোর আলোকে বলা যায়, সংবিধান হলো রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন ও নীতিমালা, যা সরকারের গঠন, ক্ষমতা বিভাজন এবং নাগরিকদের অধিকার-কর্তব্য সুস্পষ্টভাবে নির্ধারণ করে।
উপসংহার: সংবিধান একটি দেশের রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক ভিত্তি তৈরি করে। এটি নাগরিকদের নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করে। যেমন বাংলাদেশের সংবিধান (১৯৭২) গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতার মূলনীতি প্রতিষ্ঠা করেছে। সংবিধানই হলো রাষ্ট্রের প্রাণ।
“সংবিধান হলো রাষ্ট্রের মূল আইন ও পরিচালনাদর্শন।”
- বিশ্বের প্রাচীনতম লিখিত সংবিধান হলো মার্কিন সংবিধান (১৭৮৯)।
- ভারতীয় সংবিধান (১৯৫০) বিশ্বের দীর্ঘতম লিখিত সংবিধান, যাতে ৪৪৮টি অনুচ্ছেদ রয়েছে।
- বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়ন হয় ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর এবং কার্যকর হয় ১৬ ডিসেম্বর।
- ২০২৩ সালের জরিপে, ৯৫% বাংলাদেশী সংবিধানে মৌলিক অধিকারের গুরুত্ব স্বীকার করে।
- দক্ষিণ আফ্রিকার সংবিধান (১৯৯৬) আন্তর্জাতিকভাবে সবচেয়ে প্রগতিশীল হিসেবে স্বীকৃত, যা মানবাধিকারকে অগ্রাধিকার দেয়।

