- readaim.com
- 0
উত্তর::উপস্থাপনা:- প্রাচীন গ্রিসের এথেন্সে এমন এক দার্শনিকের আবির্ভাব ঘটেছিল, যিনি কোনো গ্রন্থ রচনা না করেও কেবল তার প্রজ্ঞা, প্রশ্ন এবং জীবন দিয়ে পশ্চিমা দর্শনের ভিত গড়ে দিয়েছিলেন। তিনি আর কেউ নন, মহান দার্শনিক সক্রেটিস। তার জীবন এবং দর্শন আজও মানুষকে সত্য ও ন্যায়ের পথে চলতে অনুপ্রাণিত করে। এই প্রবন্ধে আমরা সক্রেটিসের পরিচয়, তার দর্শন এবং পশ্চিমা চিন্তাধারায় তার বিশাল প্রভাব তুলে ধরব।
সক্রেটিস ছিলেন ক্লাসিক্যাল গ্রিক দর্শনের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা। তার জন্ম আনুমানিক ৪৭০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে এথেন্সের এক সাধারণ পরিবারে। তার বাবা সোফ্রোনিয়াস ছিলেন একজন ভাস্কর এবং মা ফিনারিট ছিলেন একজন ধাত্রী। প্রচলিত শিক্ষা তেমন না পেলেও, তিনি নিরলসভাবে জ্ঞান অন্বেষণে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছিলেন।
সক্রেটিস কোনো নির্দিষ্ট দার্শনিক মতবাদ তৈরি করেননি, বরং এক নতুন ধারার জন্ম দিয়েছিলেন, যা “সক্রেটিক মেথড” বা “সক্রেটিসের পদ্ধতি” নামে পরিচিত। এই পদ্ধতিতে তিনি নিজেকে সবচেয়ে অজ্ঞ ভাবতেন এবং ক্রমাগত প্রশ্নের মাধ্যমে সংলাপকারীর অন্তর্নিহিত জ্ঞান ও সত্য উদ্ঘাটনের চেষ্টা করতেন। তিনি বিশ্বাস করতেন, “জ্ঞানই পুণ্য” (Knowledge is virtue)। তার মতে, মানুষ যখন প্রকৃত জ্ঞান লাভ করে, তখন সে অন্যায় করতে পারে না।
রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠিত দেবতাদের প্রতি অবিশ্বাস এবং যুব সমাজকে বিপথগামী করার অভিযোগে ৭০ বছর বয়সে তাকে হেমলক বিষ পানে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে তিনি এই দণ্ড মাথা পেতে নেন। তার দর্শন ও জীবন সম্পর্কে আমরা জানতে পারি তার সুযোগ্য শিষ্য প্লেটো এবং সৈনিক ও ঐতিহাসিক জেনোফনের লেখনীর মাধ্যমে।
উপসংহার: সক্রেটিস শুধু একজন দার্শনিক ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন আদর্শ শিক্ষক এবং সত্যের পূজারী। তার “নিজেকে জানো” (Know thyself) উক্তিটি আজও মানব সমাজকে আত্ম-অনুসন্ধানে উৎসাহিত করে। তার জীবন উৎসর্গ এবং সত্যের প্রতি অবিচল নিষ্ঠা তাকে পশ্চিমা দর্শনের ইতিহাসে এক অমর ব্যক্তিত্বে পরিণত করেছে। সক্রেটিসের দর্শন ও নৈতিক শিক্ষা আজও আমাদের জীবনে প্রাসঙ্গিক এবং অমূল্য।
বিষয় | বিবরণ |
নাম | সক্রেটিস |
জন্ম | আনুমানিক ৪৭০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ |
জন্মস্থান | অ্যালোপেস, এথেন্স, গ্রিস |
মৃত্যু | ৩৯৯ খ্রিস্টপূর্বাব্দ (৭০ বছর বয়সে) |
মৃত্যুর কারণ | হেমলক বিষ পানে মৃত্যুদণ্ড |
পেশা | দার্শনিক, নীতিবিদ |
বাবা | সোফ্রোনিয়াস (ভাস্কর) |
মা | ফিনারিট (ধাত্রী) |
স্ত্রী | জ্যানথিপি |
মূল দর্শন | সক্রেটিক পদ্ধতি, জ্ঞানই পুণ্য, নিজেকে জানো |
প্রভাব | প্লেটো, অ্যারিস্টটল এবং সমগ্র পশ্চিমা দর্শন |
তথ্যসূত্র | প্লেটোর “ডায়ালগস” এবং জেনোফনের লেখনী |
সক্রেটিসকে প্রায়শই “পশ্চিমা দর্শনের জনক” বলা হয়। তিনি বিশ্বাস করতেন যে, পরীক্ষা না করা জীবন যাপনের যোগ্য নয় (“An unexamined life is not worth living”)। তার বিচার এবং মৃত্যু মত প্রকাশের স্বাধীনতার ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হয়। তিনি কোনো লিখিত কাজ রেখে যাননি।

