- readaim.com
- 0
উত্তর।।উপস্থাপনা: বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও স্মরণীয় নাম। এটি এমন একটি সংগঠন ছিল যা বিভিন্ন সময়ে দেশের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও সামাজিক সংকটে ছাত্রসমাজকে একত্রিত করে শক্তিশালী আন্দোলন গড়ে তুলেছিল। বিশেষ করে সামরিক শাসন ও স্বৈরাচারী সরকারের বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ে এই পরিষদগুলো অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে। ছাত্রদের ঐক্যবদ্ধ শক্তিকে কাজে লাগিয়ে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় এই পরিষদগুলো বারবার সক্রিয় হয়েছে এবং ইতিহাসের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে।
সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ বলতে বোঝায়, যখন দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের ছাত্র সংগঠনগুলো একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্য বা দাবির সমর্থনে ঐক্যবদ্ধ হয়ে একটি যৌথ প্লাটফর্ম তৈরি করে। এই পরিষদগুলো সাধারণত কোনো বিশেষ আন্দোলন বা সংকটের সময় গঠিত হয়, যেখানে ভিন্ন ভিন্ন রাজনৈতিক বিশ্বাস থাকা সত্ত্বেও ছাত্ররা বৃহত্তর জাতীয় স্বার্থে একত্রিত হয়। এর প্রধান উদ্দেশ্য থাকে জনগণের দাবি আদায়ে চাপ সৃষ্টি করা, স্বৈরাচারী সরকারের পতন ঘটানো এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা। ভাষা আন্দোলন, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান এবং নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে এই ধরনের পরিষদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
উপসংহার: সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ইতিহাসে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। এটি প্রমাণ করেছে যে, ছাত্রসমাজ ঐক্যবদ্ধ হলে যেকোনো স্বৈরাচারী বা অগণতান্ত্রিক শক্তির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো সম্ভব। এই পরিষদগুলো শুধু রাজনৈতিক দাবিতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং জনগণের সার্বিক মুক্তির আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করেছে। ভবিষ্যতে যেকোনো জাতীয় সংকটে ছাত্রসমাজের এই ঐক্যবদ্ধতার ঐতিহ্য অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে, যা একটি গণতান্ত্রিক ও জনমুখী রাষ্ট্র গঠনে সহায়ক হবে।
বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের ঐক্যবদ্ধ প্ল্যাটফর্ম।
ভাষা আন্দোলনের সময় ১৯৪৮ সালে গঠিত ‘সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ ছিল সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের পূর্বসূরি, যা বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে কাজ করে। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারিতে ১৪৪ ধারা ভাঙার সিদ্ধান্তে এই পরিষদের ভূমিকা ছিল। ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় ‘কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ’ ১১ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করে, যা আন্দোলনকে বেগবান করে। এই পরিষদের নেতৃত্বেই আইয়ুব খানের পতন হয়। ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনেও ‘সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্য’ গঠিত হয়েছিল, যার ফলস্বরূপ এরশাদ সরকারের পতন হয়। এই পরিষদগুলো বারবার প্রমাণ করেছে যে, ছাত্রসমাজ জাতীয় সংকটে এক ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করে।

