- readaim.com
- 0
প্রশ্ন:- সুশাসনের সমস্যা বলতে কী বুঝ?
Or, সুশাসনের সমস্যা কাকে বলে?
Or, সুশাসনের সমস্যা কী?
Or, সুশাসনের সমস্যার সজ্ঞা দাও।
উত্তর::ভূমিকা: সুশাসন একটি রাষ্ট্রের উন্নয়ন, স্থিতিশীলতা ও জনগণের কল্যাণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক বাধার কারণে অনেক দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা কঠিন হয়ে পড়ে। এসব বাধা ও প্রতিবন্ধকতাকে সুশাসনের সমস্যা বলা হয়।
সুশাসনের পরিচয়:-
সুশাসন হলো এমন একটি শাসনব্যবস্থা, যেখানে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, আইনের শাসন, জনগণের অংশগ্রহণ, ন্যায়বিচার ও দক্ষ প্রশাসন নিশ্চিত করা হয়। যখন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো সঠিকভাবে কাজ করতে ব্যর্থ হয়, দুর্নীতি বৃদ্ধি পায়, আইনের শাসন দুর্বল হয় বা জনগণের অংশগ্রহণ সীমিত হয়ে পড়ে, তখন সুশাসনের সমস্যা সৃষ্টি হয়।
সুশাসনের প্রধান সমস্যাগুলোর মধ্যে রয়েছে— দুর্নীতি, রাজনৈতিক অস্থিরতা, প্রশাসনিক দুর্বলতা, ক্ষমতার অপব্যবহার, জবাবদিহিতার অভাব, আইনের শাসনের দুর্বলতা এবং নাগরিক অধিকার সংরক্ষণে ব্যর্থতা। এসব সমস্যা রাষ্ট্রের উন্নয়ন ও জনগণের আস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
সুশাসনের শাব্দিক অর্থ:-
‘সুশাসন’ শব্দের অর্থ হলো উত্তম, ন্যায়ভিত্তিক ও কার্যকর শাসন ব্যবস্থা। আর ‘সমস্যা’ বলতে বোঝায় কোনো কাজের পথে বাধা বা প্রতিবন্ধকতা। তাই সুশাসনের সমস্যার শাব্দিক অর্থ হলো— উত্তম ও কার্যকর শাসন প্রতিষ্ঠার পথে বিদ্যমান বাধা বা প্রতিবন্ধকতা।
১। বিশ্বব্যাংক (World Bank): বিশ্বব্যাংকের ধারণা অনুযায়ী, সুশাসন হলো এমন একটি প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে একটি দেশের উন্নয়নের জন্য অর্থনৈতিক ও সামাজিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা করা হয়। যখন এই ব্যবস্থাপনায় দুর্বলতা, অদক্ষতা বা জবাবদিহিতার অভাব দেখা দেয়, তখন সুশাসনের সমস্যা তৈরি হয়। (Governance is the process through which a country’s economic and social resources are managed for development; weaknesses in this process create governance problems.)
২। জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (United Nations Development Programme – UNDP): ইউএনডিপির মতে, সুশাসনের ভিত্তি হলো অংশগ্রহণ, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, আইনের শাসন ও কার্যকর প্রতিষ্ঠান। এসব ক্ষেত্রে দুর্বলতা দেখা দিলে সুশাসনের সমস্যা সৃষ্টি হয়। (Good governance is based on participation, transparency, accountability, rule of law, and effective institutions; weaknesses in these areas create governance problems.)
৩। অগাস্ট কোঁৎ (Auguste Comte): অগাস্ট কোঁতের সামাজিক শৃঙ্খলা ও উন্নয়ন সম্পর্কিত ধারণার আলোকে বলা যায়, সমাজের কার্যকর পরিচালনার জন্য সুশৃঙ্খল ও যুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা প্রয়োজন। এর অভাব হলে সামাজিক ও প্রশাসনিক সমস্যা বৃদ্ধি পায়। (A society requires an organized and rational system for effective management; lack of such a system increases social and administrative problems.)
৪। ম্যাক্স ওয়েবার (Max Weber): ম্যাক্স ওয়েবারের আমলাতন্ত্র সম্পর্কিত ধারণা অনুযায়ী, দক্ষ, নিয়মভিত্তিক ও নিরপেক্ষ প্রশাসন সুশাসনের জন্য অপরিহার্য। প্রশাসনে অনিয়ম ও পক্ষপাত সৃষ্টি হলে সুশাসন বাধাগ্রস্ত হয়। (Efficient, rule-based, and impartial administration is essential for good governance; irregularities and bias hinder good governance.)
৫। ডোনাল্ড কেটল (Donald Kettl): ডোনাল্ড কেটলের প্রশাসনিক ধারণার আলোকে বলা যায়, কার্যকর শাসনের জন্য রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা, সমন্বয় ও জবাবদিহিতা প্রয়োজন। এসব ক্ষেত্রে দুর্বলতা থাকলে সুশাসনের সমস্যা দেখা দেয়। (Effective governance requires institutional capacity, coordination, and accountability; weaknesses in these areas create governance challenges.)
৬। হ্যারল্ড জে. লাস্কি (Harold J. Laski): লাস্কির রাজনৈতিক চিন্তার আলোকে বলা যায়, রাষ্ট্রের মূল লক্ষ্য হলো জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করা। যখন রাষ্ট্র জনগণের অধিকার ও প্রয়োজন পূরণে ব্যর্থ হয়, তখন শাসনব্যবস্থায় সমস্যা সৃষ্টি হয়। (The primary goal of the state is to ensure public welfare; failure to protect people’s rights and needs creates problems in governance.)
উপরের ধারণাগুলোর আলোকে বলা যায়, সুশাসনের সমস্যা হলো এমন সব রাজনৈতিক, প্রশাসনিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রতিবন্ধকতা, যা একটি রাষ্ট্রে স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক, ন্যায়ভিত্তিক ও কার্যকর শাসন প্রতিষ্ঠার পথে বাধা সৃষ্টি করে।
উপসংহার: সুশাসনের সমস্যা দূর করা একটি দেশের উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, আইনের শাসন এবং জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে সুশাসন প্রতিষ্ঠার পথ সহজ হয়।