- readaim.com
- 0
উত্তর।।মুখবন্ধ: সুশীল সমাজ হলো একটি দেশের প্রাণশক্তি। এটি সাধারণ মানুষের সম্মিলিত সচেতনতা, ন্যায়বিচার ও উন্নয়নের চালিকাশক্তি। রাষ্ট্র ও সরকারের বাইরে থেকেও সুশীল সমাজ নাগরিকদের অধিকার রক্ষা করে এবং সামাজিক পরিবর্তন আনে। এটি গণতন্ত্রের তৃতীয় স্তম্ভ হিসেবে কাজ করে।
“সুশীল” শব্দের অর্থ ভদ্র, নম্র বা সভ্য। আর “সমাজ” বলতে বোঝায় মানুষের সমষ্টি। সুতরাং, সুশীল সমাজ অর্থ হলো সভ্য ও সংগঠিত নাগরিক সমাজ।
সুশীল সমাজ হলো এমন একটি গোষ্ঠী বা সংগঠন যা স্বেচ্ছাসেবী, অরাজনৈতিক ও অলাভজনকভাবে কাজ করে। এটি মানবাধিকার, পরিবেশ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ইত্যাদি ক্ষেত্রে সক্রিয় ভূমিকা রাখে।
১. হেগেল-এর মতে, “সুশীল সমাজ হলো রাষ্ট্র ও পরিবারের মধ্যবর্তী একটি স্বাধীন ক্ষেত্র যেখানে ব্যক্তি স্বার্থসাধনে সংগঠিত হয়।” (Civil society is the realm of economic relationships as it exists in the modern industrial capitalist society.)
২. অ্যান্টনিও গ্রামসি বলেন, “সুশীল সমাজ হলো সেই মাধ্যম যার মাধ্যমে রাষ্ট্র জনগণের সম্মতি আদায় করে।” (Civil society is the sphere in which the ruling class disseminates its values and dominates cultural life.)
৩. জাতিসংঘ-এর মতে, “সুশীল সমাজ হলো স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, সম্প্রদায় ও প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে গঠিত একটি নেটওয়ার্ক যা রাষ্ট্র ও বাজার থেকে স্বাধীন।” (Civil society refers to the arena of voluntary collective action around shared interests, purposes and values.)
৪. লেস্টার সালামন বলেন, “সুশীল সমাজ হলো অলাভজনক, অরাজনৈতিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাগুলোর সমষ্টি যা সামাজিক উন্নয়নে কাজ করে।” (Civil society is a set of diverse non-governmental institutions that are strong enough to counterbalance the state.)
৫. জার্গেন হাবেরমাস-এর মতে, “সুশীল সমাজ হলো গণতান্ত্রিক আলোচনা ও বিতর্কের একটি পাবলিক স্পেয়ার।” (Civil society is composed of more or less spontaneously created associations, organizations and movements.)
উপরের সংজ্ঞাগুলোর আলোকে আমরা বলতে পারি, সুশীল সমাজ হলো স্বাধীন, স্বেচ্ছাসেবী ও সংগঠিত নাগরিকদের সমন্বয়ে গঠিত এমন একটি শক্তি যা রাষ্ট্র ও ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে থেকে সমাজের কল্যাণে কাজ করে।
উপসংহার: সুশীল সমাজ গণতন্ত্রের রক্ষাকবচ। এটি সরকার ও জনগণের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করে। সুশীল সমাজের শক্তি যত বাড়বে, ততই দেশের উন্নয়ন ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে। এটি একটি জবাবদিহিমূলক ও স্বচ্ছ সমাজ গঠনের চাবিকাঠি।
সুশীল সমাজ হলো রাষ্ট্র ও ব্যক্তিস্বার্থের বাইরে থেকে সমাজসেবায় নিয়োজিত স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোর সমষ্টি।
বিশ্বব্যাংকের ২০২০ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশে ৫০,০০০-এর বেশি এনজিও ও সুশীল সংগঠন সক্রিয়। ১৯৯০-এর দশক থেকে সুশীল সমাজের প্রভাব বাড়ছে, বিশেষত নারী অধিকার ও পরিবেশ সংরক্ষণে। টিআইবি (ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ) এর মতো সংগঠন দুর্নীতি বিরোধী কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ২০২৩ সালের জরিপে দেখা গেছে, ৬৭% বাংলাদেশি সুশীল সমাজের কাজকে ইতিবাচক হিসেবে দেখেন।

