• Home
  • Class 0-12
  • Grammar
    • Bangla Grammar
    • English Grammar
    • Arabic Grammar
  • Computer
    • MS Word
  • Jobs Study
    • BCS
    • Bank
    • Primary
    • Govt. job
    • Nibandhon
    • Medical Admission
    • University Admission
    • Army/Police/BDR/Anchar
  • Jobs
  • News
    • Home
    • Class 0-12
    • Grammar
      • Bangla Grammar
      • English Grammar
      • Arabic Grammar
    • Computer
      • MS Word
    • Jobs Study
      • BCS
      • Bank
      • Primary
      • Govt. job
      • Nibandhon
      • Medical Admission
      • University Admission
      • Army/Police/BDR/Anchar
    • Jobs
    • News
  • mdreadaim@gmail.com
  • Read at Home
Login > Register
Read Aim
Read Aim
  • Home
  • Class 0-12
  • Grammar
    • Bangla Grammar
    • English Grammar
    • Arabic Grammar
  • Computer
    • MS Word
  • Jobs Study
    • BCS
    • Bank
    • Primary
    • Govt. job
    • Nibandhon
    • Medical Admission
    • University Admission
    • Army/Police/BDR/Anchar
  • Jobs
  • News
  • readaim.com
  • 0
১৬০১ সালের দারিদ্র আইন কী ১৬০১ সালের দারিদ্র আইনের বৈশিষ্ট্য আলোচনা কর।

প্রশ্ন:- ১৬০১ সালের দারিদ্র আইন কী? ১৬০১ সালের দারিদ্র আইনের বৈশিষ্ট্য আলোচনা কর।

উত্তর::ভূমিকা: ১৬০১ সালের দারিদ্র আইন ইংল্যান্ডের ইতিহাসে একটি যুগান্তকারী আইন, যা দরিদ্রদের প্রতি রাষ্ট্রের দায়িত্বকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছিল। এই আইন শুধু দরিদ্রদের সাহায্য করাই নয়, বরং সমাজে শ্রম ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ ছিল। এটি দরিদ্রদের বিভিন্ন শ্রেণিতে বিভক্ত করে তাদের জন্য ভিন্ন ভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিল, যা পরবর্তীতে বহু দেশের সামাজিক নীতি ও আইনের ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছে।

১৬০১ সালের দারিদ্র আইন:-

১৬০১ সালের দরিদ্র আইন, যা “এলিজাবেথীয় দরিদ্র আইন” নামেও পরিচিত, ইংল্যান্ডের রানী প্রথম এলিজাবেথের শাসনামলে প্রণীত একটি যুগান্তকারী সামাজিক আইন। এই আইনের মূল উদ্দেশ্য ছিল ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের দরিদ্র জনগণের জন্য একটি সুসংগঠিত সহায়তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা। এটি প্রথম সরকারি আইন যা স্থানীয় প্যারিশগুলোকে তাদের নিজ নিজ এলাকার দরিদ্রদের দায়িত্ব নিতে বাধ্য করে। 

আইনটি দরিদ্রদের তিনটি শ্রেণিতে বিভক্ত করে:-

কাজ করতে অক্ষম (অসুস্থ, বৃদ্ধ), কাজ করতে সক্ষম কিন্তু বেকার, এবং অলস ও ভবঘুরে। প্রথম দুই শ্রেণির জন্য সাহায্য ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হয়েছিল, যখন তৃতীয় শ্রেণির জন্য কঠোর শাস্তির বিধান ছিল। এই আইনের মাধ্যমে দরিদ্রদের জন্য “দরিদ্র কর” (Poor Rate) প্রবর্তন করা হয়, যা স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে আদায় করে দরিদ্রদের সহায়তায় ব্যবহার করা হতো। এই আইনটি প্রায় দুই শতাব্দী ধরে কার্যকর ছিল এবং আধুনিক সমাজকল্যাণ ব্যবস্থার ভিত্তি স্থাপন করে।

১৬০১ সালের দারিদ্র আইনের বৈশিষ্ট্য:-

১। দরিদ্রদের শ্রেণিবিভাগ: এই আইনটি দরিদ্রদের তিনটি প্রধান শ্রেণিতে ভাগ করে। প্রথমত, অক্ষম দরিদ্র, যারা শারীরিক বা মানসিক প্রতিবন্ধকতার কারণে কাজ করতে পারত না। এদের মধ্যে বয়স্ক, অসুস্থ, এবং পঙ্গু ব্যক্তিরা ছিল। তাদের জন্য স্থানীয় চার্চের মাধ্যমে সহায়তা প্রদানের ব্যবস্থা করা হয়। দ্বিতীয়ত, কর্মঠ দরিদ্র, যারা কাজ করতে সক্ষম কিন্তু কোনো কারণে বেকার। এদের জন্য স্থানীয় কর্তৃপক্ষ কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করত। তৃতীয়ত, ভবঘুরে বা অলস দরিদ্র, যারা ইচ্ছাকৃতভাবে কাজ থেকে বিরত থাকত। এদেরকে কঠোর শাস্তির আওতায় আনা হতো, যা মূলত সমাজ থেকে বিশৃঙ্খলা দূর করার একটি প্রয়াস ছিল। এই শ্রেণিবিভাগ ছিল আইনের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য, যা প্রতিটি শ্রেণির জন্য পৃথক ব্যবস্থা নিশ্চিত করে।

২। স্থানীয় প্রশাসন ও দায়িত্ব: ১৬০১ সালের দারিদ্র আইনের প্রধান দিক ছিল স্থানীয় প্রশাসনকে দারিদ্র্য বিমোচনের মূল দায়িত্ব দেওয়া। প্রতিটি প্যারিশ (স্থানীয় প্রশাসনিক একক) তাদের এলাকার দরিদ্রদের দেখভাল করার জন্য দায়ী ছিল। এই দায়িত্ব পালনের জন্য ‘ওভারসিয়ারস অব দ্য পুওর’ নামক একটি পদ সৃষ্টি করা হয়, যা স্থানীয় প্যারিশের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সমন্বয়ে গঠিত হত। এই ওভারসিয়ারদের কাজ ছিল দরিদ্রদের তালিকা তৈরি করা, তাদের চাহিদা মূল্যায়ন করা এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করা। এর ফলে কেন্দ্র থেকে স্থানীয় পর্যায়ে দারিদ্র্য ব্যবস্থাপনার ক্ষমতা ও দায়িত্ব হস্তান্তর করা সম্ভব হয়েছিল, যা কার্যকরভাবে আইনটি বাস্তবায়নে সহায়ক হয়েছিল।

৩। কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা: কর্মঠ দরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা এই আইনের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য ছিল। স্থানীয় ওভারসিয়ারদের দায়িত্ব ছিল দরিদ্রদের জন্য কাঁচামাল যেমন উল, সুতা বা শন সরবরাহ করা, যাতে তারা নিজেদের বাড়িতে বসে কাজ করতে পারে। যারা কাজ করতে ইচ্ছুক ছিল না, তাদের জন্য ‘ওয়ার্কহাউস’ বা কর্মশালা তৈরি করা হয়েছিল। এই কর্মশালাগুলোতে কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে তাদের কাজের প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি করা এবং সমাজের উৎপাদনশীল সদস্য হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করা হত। এই ব্যবস্থাটি কেবল খাদ্য বা অর্থ সহায়তা প্রদানের পরিবর্তে দরিদ্রদের স্বাবলম্বী করার উপর জোর দিত।

৪। শিশু শ্রমের ব্যবহার: এই আইনটি দরিদ্র পরিবারের শিশুদের জন্য এক বিশেষ ব্যবস্থা চালু করে। ছয় বছরের বেশি বয়সী দরিদ্র শিশুদের কাজে লাগানোর জন্য তাদের বিভিন্ন কারখানায় বা কর্মশালায় শিক্ষানবিশ হিসেবে পাঠানো হত। এই ব্যবস্থাটি একদিকে যেমন শিশুদের ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের জন্য প্রশিক্ষণ দিত, তেমনি তাদের পরিবারের উপর নির্ভরশীলতা কমাত। এটি ছিল সমাজের উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর একটি কৌশল। যদিও আধুনিক দৃষ্টিকোণ থেকে এটি শিশু শ্রম হিসেবে বিবেচিত হতে পারে, তবে সেই সময়ের প্রেক্ষাপটে এটি দরিদ্র শিশুদের জন্য একটি প্রশিক্ষণের সুযোগ হিসেবে দেখা হতো এবং তাদের বেকার জীবন থেকে রক্ষা করার একটি উপায় ছিল।

৫। অর্থ সংগ্রহ ও কর ব্যবস্থা: দারিদ্র আইন বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ স্থানীয় করের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হতো। প্রতিটি প্যারিশের সম্পদশালী ব্যক্তিদের উপর ‘পুওর রেট’ বা দারিদ্র কর আরোপ করা হতো। এই করের পরিমাণ নির্ভর করত ব্যক্তির সম্পত্তির উপর। এই কর সংগ্রহের দায়িত্বও ছিল ওভারসিয়ারস অব দ্য পুওর-এর। সংগৃহীত অর্থ ব্যবহার করা হত দরিদ্রদের খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান এবং অসুস্থদের চিকিৎসার জন্য। এই কর ব্যবস্থা ছিল একটি প্রগতিশীল পদক্ষেপ, যা সমাজের ধনীদের উপর দরিদ্রদের প্রতি সামাজিক দায়িত্ব চাপিয়ে দেয় এবং একটি সমন্বিত আর্থিক কাঠামোর মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচনের পথ খুলে দেয়।

৬। ওয়ার্কহাউসের ভূমিকা: ওয়ার্কহাউস বা কর্মশালা ছিল এই আইনের একটি কেন্দ্রীয় অংশ। কর্মক্ষম দরিদ্র এবং অলস জীবনযাপনকারী ব্যক্তিদের জন্য এই কেন্দ্রগুলো স্থাপন করা হয়েছিল। এখানে কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে তাদের শৃঙ্খলাবদ্ধ এবং উৎপাদনশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করা হতো। কর্মশালায় কাজ করতে অস্বীকার করলে কঠোর শাস্তির বিধান ছিল। যদিও এই ওয়ার্কহাউসগুলি দরিদ্রদের জন্য একটি আশ্রয়স্থল ছিল, এটি একইসাথে তাদের স্বাধীনতা সীমাবদ্ধ করত এবং একটি নির্দিষ্ট নিয়মের মধ্যে জীবনযাপন করতে বাধ্য করত।

৭। পরিবারভিত্তিক সহায়তা: এই আইনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল পরিবারভিত্তিক সহায়তা প্রদান। অনেক ক্ষেত্রে, পরিবারের প্রধানকে কর্মসংস্থান প্রদান করা হতো, যাতে পুরো পরিবারটি দারিদ্র্য থেকে মুক্তি পায়। যদি পরিবারের কোনো সদস্য অসুস্থ বা অক্ষম হয়, তবে তাদের ভরণপোষণের জন্য সরাসরি আর্থিক বা খাদ্য সহায়তা দেওয়া হতো। এই ব্যবস্থাটি পারিবারিক বন্ধন ও সামাজিক কাঠামোকে শক্তিশালী করার চেষ্টা করেছিল, এবং এটি ছিল কেবল একজন ব্যক্তিকে সাহায্য না করে পুরো পরিবারকে সহায়তা করার একটি উদ্যোগ।

৮। ভবঘুরেদের প্রতি কঠোরতা: ১৬০১ সালের আইন ভবঘুরে বা অলস ব্যক্তিদের প্রতি অত্যন্ত কঠোর ছিল। এই আইন অনুযায়ী, যারা কোনো কাজ করতে রাজি হত না বা ঘুরে বেড়াত, তাদের শাস্তি দেওয়া হত। এই শাস্তিগুলির মধ্যে বেত্রাঘাত এবং কর্মশালায় বাধ্যতামূলক শ্রম অন্তর্ভুক্ত ছিল। এর প্রধান লক্ষ্য ছিল সমাজ থেকে ভিক্ষাবৃত্তি এবং বিশৃঙ্খলা দূর করা। এটি একটি পরিষ্কার বার্তা দিয়েছিল যে, সমাজে স্থান পেতে হলে প্রত্যেককে অবশ্যই উৎপাদনশীল হতে হবে এবং অলসতা কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না।

৯। আইনের স্থায়ীত্ব ও দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব: ১৬০১ সালের দারিদ্র আইন ইংল্যান্ডে প্রায় ২০০ বছর ধরে বলবৎ ছিল এবং এটি আধুনিক সামাজিক নীতি ও কল্যাণ রাষ্ট্রের ধারণার ভিত্তি স্থাপন করে। এই আইনটি একটি স্থায়ী কাঠামো তৈরি করে যা দারিদ্র্য মোকাবেলার জন্য রাষ্ট্রের দায়িত্বকে স্বীকৃতি দেয়। এর মাধ্যমে প্রথমবারের মতো দারিদ্র্যকে কেবল ব্যক্তিগত ব্যর্থতা হিসেবে না দেখে একটি সামাজিক সমস্যা হিসেবে দেখা হয়, যার সমাধানের জন্য রাষ্ট্রীয় হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। এর ধারাবাহিকতা আধুনিক কল্যাণমূলক রাষ্ট্রে সামাজিক নিরাপত্তা এবং বেকারত্ব ভাতার মতো নীতির জন্ম দিয়েছে।

১০। সাহায্য ও নিয়ন্ত্রণের সমন্বয়: এই আইনটি দরিদ্রদের সাহায্য এবং তাদের জীবনযাত্রা নিয়ন্ত্রণের মধ্যে একটি সূক্ষ্ম ভারসাম্য বজায় রেখেছিল। একদিকে যেমন অসহায় ও অসুস্থদের জন্য মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করা হয়েছিল, তেমনি অন্যদিকে কর্মক্ষম দরিদ্রদের কর্মসংস্থান এবং ভবঘুরেদের কঠোর শাস্তির মাধ্যমে সমাজের শৃঙ্খলা বজায় রাখার চেষ্টা করা হয়েছিল। এই দ্বৈত নীতিটি ছিল আইনের একটি প্রধান বৈশিষ্ট্য, যা কেবল মানবিক দিকই নয়, বরং অর্থনৈতিক ও সামাজিক শৃঙ্খলাও নিশ্চিত করতে চেয়েছিল।

১১। স্থানীয় করের প্রবর্তন: এই আইনের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য আর্থিক দিক ছিল ‘পুওর রেট’ বা দরিদ্র করের প্রবর্তন। এই কর ব্যবস্থাটি ছিল একটি বিপ্লবী পদক্ষেপ, যা স্থানীয় প্রশাসনের জন্য একটি নিয়মিত আয়ের উৎস তৈরি করে। এর ফলে দরিদ্রদের সহায়তা প্রদানের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের অনুদানের উপর নির্ভর করতে হতো না। স্থানীয়ভাবে সংগৃহীত এই অর্থ সরাসরি এলাকার দরিদ্রদের কল্যাণে ব্যয় করা হতো, যা একটি সুশৃঙ্খল এবং কার্যকর আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করেছিল।

১২। প্যারিশের দায়িত্ব: এই আইনটি প্যারিশ বা স্থানীয় চার্চের দায়িত্বকে আইনি কাঠামোতে অন্তর্ভুক্ত করে। প্যারিশকে শুধু ধর্মীয় কেন্দ্র হিসেবেই নয়, বরং একটি সামাজিক কল্যাণ কেন্দ্র হিসেবেও কাজ করার ক্ষমতা দেওয়া হয়। প্যারিশের পুরোহিত এবং অন্যান্য কর্মকর্তারা ওভারসিয়ারদের সঙ্গে মিলে দরিদ্রদের তালিকা প্রণয়ন, অর্থ সংগ্রহ এবং বিতরণসহ বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করতেন। এই ব্যবস্থাটি স্থানীয় কমিউনিটির মধ্যে সামাজিক দায়িত্ববোধ বাড়াতে সাহায্য করে।

১৩। সামাজিক নিয়ন্ত্রণের হাতিয়ার: ১৬০১ সালের দারিদ্র আইনকে অনেক ঐতিহাসিক সামাজিক নিয়ন্ত্রণের একটি হাতিয়ার হিসেবেও দেখে থাকেন। এর মাধ্যমে রাষ্ট্র তার নাগরিকদের জীবন ও কর্মের উপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিল। অলসতা ও ভিক্ষাবৃত্তির মতো আচরণকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করে সমাজকে একটি উৎপাদনমুখী এবং শৃঙ্খলাবদ্ধ কাঠামোতে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হয়েছিল। এর ফলে সমাজের দুর্বল অংশকে একটি নির্দিষ্ট নিয়মের মধ্যে পরিচালিত করা সম্ভব হয়েছিল।

১৪। আইনের কঠোরতা ও মানবিকতা: এই আইনটি একাধারে কঠোর এবং মানবিক ছিল। এটি যেমন অসহায়দের প্রতি মানবিক সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছিল, তেমনি যারা কাজ করতে ইচ্ছুক ছিল না তাদের প্রতি কঠোর মনোভাব পোষণ করেছিল। এই মিশ্র নীতিটি সেই সময়ের অর্থনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতা থেকে উদ্ভূত হয়েছিল, যেখানে শৃঙ্খলা এবং উৎপাদনশীলতা ছিল সমাজের মূল চালিকাশক্তি। এই দ্বৈত রূপটিই আইনটিকে দীর্ঘস্থায়ী এবং কার্যকর করে তুলেছিল।

১৫। আধুনিক কল্যাণ রাষ্ট্রের ভিত্তি: ১৬০১ সালের দারিদ্র আইনকে আধুনিক কল্যাণমূলক রাষ্ট্রের একটি আদি রূপ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এটি রাষ্ট্রীয়ভাবে দরিদ্রদের দায়িত্ব নেওয়ার ধারণা প্রবর্তন করে, যা পরবর্তীতে বিভিন্ন দেশে সামাজিক নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা এবং বেকারত্ব ভাতার মতো কর্মসূচিগুলোর ভিত্তি হিসেবে কাজ করে। এটি দেখায় যে, দরিদ্রদের সহায়তা করা কেবল ব্যক্তিগত দয়া নয়, বরং রাষ্ট্রের একটি মৌলিক দায়িত্ব।

১৬। বিচার বিভাগীয় ভূমিকা: এই আইনটির বাস্তবায়নে বিচার বিভাগীয় ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। স্থানীয় বিচারকরা, যাদেরকে ‘জাস্টিস অব পিস’ বলা হতো, তারা ওভারসিয়ারদের কার্যক্রম তদারকি করতেন এবং আইন অনুযায়ী দরিদ্রদের শ্রেণিবিভাগ ও শাস্তি নিশ্চিত করতেন। তারা প্যারিশের মধ্যে কোনো বিরোধ দেখা দিলে তার সমাধানও করতেন। এর ফলে আইনের প্রয়োগে একটি আইনি ও বিচারিক কাঠামো নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছিল।

১৭। সময়ের সঙ্গে পরিবর্তন: যদিও ১৬০১ সালের আইনটি দীর্ঘস্থায়ী ছিল, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এর কিছু দিক সমালোচিত হতে থাকে। বিশেষ করে শিল্প বিপ্লবের সময় যখন শহরাঞ্চলে দরিদ্রের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়, তখন এই আইনের স্থানীয় প্যারিশ ভিত্তিক কাঠামোটি অপ্রতুল হয়ে পড়ে। পরবর্তীতে, ১৮৩৪ সালের নতুন দারিদ্র আইন (New Poor Law) এই আইনের কিছু দুর্বলতা দূর করার চেষ্টা করে, তবে ১৬০১ সালের আইনটিই ছিল মূল ভিত্তি।

১৮। দীর্ঘমেয়াদী রাজনৈতিক প্রভাব: এই আইনটি কেবল সামাজিক বা অর্থনৈতিক প্রভাবই নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদী রাজনৈতিক প্রভাবও ফেলেছিল। এটি রাষ্ট্রের ভূমিকা সম্পর্কে নতুন ধারণা তৈরি করে এবং জনগণের কল্যাণে সরকারের হস্তক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা প্রতিষ্ঠিত করে। এটি প্রমাণ করে যে, সরকার কেবল শাসনকারী শক্তিই নয়, বরং সমাজের দুর্বল অংশের রক্ষকও হতে পারে। এই ধারণাটি পরবর্তীতে রাষ্ট্রীয় নীতি নির্ধারণে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

১৯। সামাজিক সংহতির প্রভাব: ১৬০১ সালের দারিদ্র আইন সমাজে একটি বৃহত্তর সংহতি তৈরি করতে সাহায্য করেছিল। ধনী এবং দরিদ্র উভয়কে একটি সাধারণ লক্ষ্যের অধীনে একত্রিত করে এটি সমাজের মধ্যে পারস্পরিক নির্ভরতার একটি বোধ তৈরি করেছিল। এটি সমাজের সকল স্তরের মানুষকে দারিদ্র্য বিমোচনের একটি যৌথ প্রচেষ্টায় অংশ নিতে উৎসাহিত করে, যা একটি শক্তিশালী সামাজিক বন্ধন তৈরি করেছিল।

উপসংহার: ১৬০১ সালের দারিদ্র আইন শুধু একটি আইন ছিল না, বরং এটি ছিল একটি সামাজিক দর্শন। এটি দরিদ্রদের প্রতি রাষ্ট্রের দায়িত্বকে সুসংহত করে এবং একটি স্থায়ী কাঠামোর মাধ্যমে দারিদ্র্য মোকাবেলা করার পথ খুলে দেয়। এই আইনটি দরিদ্রদের মানবিক সহায়তা ও কর্মসংস্থানের মধ্যে একটি ভারসাম্য তৈরি করে এবং সমাজের শৃঙ্খলা বজায় রাখার চেষ্টা করে। এই আইনের নীতি ও বৈশিষ্ট্যগুলো পরবর্তী শতাব্দিগুলোতে ইউরোপ ও বিশ্বের অন্যান্য দেশের সামাজিক নীতির ভিত্তি হিসেবে কাজ করে, যা আধুনিক কল্যাণ রাষ্ট্রের ধারণার জন্ম দেয়।

একনজরে উত্তর দেখুন

১। দরিদ্রদের শ্রেণিবিভাগ ২। স্থানীয় প্রশাসন ও দায়িত্ব ৩। কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা ৪। শিশু শ্রমের ব্যবহার ৫। অর্থ সংগ্রহ ও কর ব্যবস্থা ৬। ওয়ার্কহাউসের ভূমিকা ৭। পরিবারভিত্তিক সহায়তা ৮। ভবঘুরেদের প্রতি কঠোরতা ৯। আইনের স্থায়ীত্ব ও দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ১০। সাহায্য ও নিয়ন্ত্রণের সমন্বয় ১১। স্থানীয় করের প্রবর্তন ১২। প্যারিশের দায়িত্ব ১৩। সামাজিক নিয়ন্ত্রণের হাতিয়ার ১৪। আইনের কঠোরতা ও মানবিকতা ১৫। আধুনিক কল্যাণ রাষ্ট্রের ভিত্তি ১৬। বিচার বিভাগীয় ভূমিকা ১৭। সময়ের সঙ্গে পরিবর্তন ১৮। দীর্ঘমেয়াদী রাজনৈতিক প্রভাব ১৯। সামাজিক সংহতির প্রভাব।

প্রশ্নটির গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

১৬০১ সালের আইনটি প্রবর্তিত হয়েছিল রানী প্রথম এলিজাবেথের শাসনামলে এবং এর উদ্দেশ্য ছিল বিদ্যমান বিভিন্ন স্থানীয় আইন ও রীতির একটি সমন্বিত রূপ দেওয়া। এর পূর্বে ১৫৯৮ সালে একটি পরীক্ষামূলক আইন পাশ করা হয়েছিল, যা ১৬০১ সালের আইনের ভিত্তি হিসেবে কাজ করে। এই আইনটি ছিল ইংল্যান্ডের সামাজিক ইতিহাসে একটি বিশাল পরিবর্তন, যা মধ্যযুগের ব্যক্তিগত দাতব্য প্রথার পরিবর্তে রাষ্ট্রীয় দায়িত্বের ধারণা নিয়ে আসে। ১৮৩৪ সালের নতুন দারিদ্র আইন (New Poor Law) পর্যন্ত ১৬০১ সালের আইনটি কার্যকর ছিল। নতুন আইনে ওয়ার্কহাউসগুলোতে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয় এবং দরিদ্রদের সাহায্য পাওয়ার প্রক্রিয়া আরও জটিল করা হয়, যার ফলে অনেক সমালোচনা হয়েছিল। শিল্প বিপ্লবের সময় শহরের দারিদ্র্য বৃদ্ধির কারণে পুরানো আইনটি অকার্যকর হয়ে পড়েছিল, যা ১৮৩৪ সালের সংস্কারকে অনিবার্য করে তোলে। এই আইনগুলো কেবল ইংল্যান্ডের নয়, বরং এর উপনিবেশগুলোতেও (যেমন আমেরিকা) প্রভাব ফেলেছিল।

Tags: ১৬০১১৬০১ সালের দারিদ্র আইন১৬০১ সালের দারিদ্র আইনের বৈশিষ্ট্যদারিদ্র আইনের বৈশিষ্ট্য
  • Previous আমেরিকার পেশাদার সমাজকর্মের বিবর্তনের ইতিহাস বর্ণনা কর।
  • Next যুক্তরাজ্যের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি বিকাশে বিভারিজ রিপোর্টের অবদান
Read Aim

SUBSCRIBE


    JOB CIRCULAR

    • Media/Ads/Event Mngnt (145)
    • Medical/Pharmaceutical (123)
    • NGO/Organization (323)
    • Production/Operation (142)
    • Research/Consultancy (85)
    • Secretary/Receptionist (188)
    • Security/Support Service (99)
    • Others (59)

    LEARNING & EARNING

    • English Article
    • Bearded Dragon
    • Cats
    • Dogs
    • Guinea Pigs
    • Insurance
    • Lawyer
    • Rabbits
    • Earn Money Online
    • Others

    CATEGORIES

    • Computer (12)
    • DEGREE (4)
    • English Article (27)
    • GRAMMAR (138)
    • Health Tips (2)
    • Honours (1082)
    • Jobs (16)
    • Jobs Study (33)
    • News (1253)
    • PDF BOOK (78)

    RECENT POST

    পাকিস্তানের গণতন্ত্রায়নের সমস্যা সমাধানের উপায় আলোচনা কর।
    ভারতে সংসদীয় গণতন্ত্রের সফলতার কারণগুলো ব্যাখ্যা কর।
    সাম্প্রতিক ঘটনাবলির পরিপ্রেক্ষিতে নেপালের রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণসমূহ আলোচনা কর।
    পাকিস্তানের রাজনীতিতে সামরিক-বেসামরিক সম্পর্ক ব্যাখ্যা কর।

    2025 All Rights Reserved readaim.com

    • Contact
    • About
    • Privacy
    • Blog
    • READ AIM