- readaim.com
- 0
উত্তর।।উপস্থাপনা: ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের অবসানের পর ১৯৪৭ সালে স্বাধীনতা লাভ করে পাকিস্তান। স্বাধীনতা লাভের পর থেকেই দেশটির প্রধান চ্যালেঞ্জ ছিল একটি স্থায়ী ও কার্যকরী শাসনতন্ত্র প্রণয়ন করা। এই সময়কাল (১৯৪৭-১৯৫৮) ছিল পাকিস্তানের শাসনতান্ত্রিক ইতিহাসের এক অত্যন্ত ঘটনাবহুল ও টালমাটাল পর্ব, যেখানে সামরিক শাসনের আগমনের পূর্ব পর্যন্ত বারবার সংবিধান প্রণয়নের প্রচেষ্টা চালানো হয়, যা পাকিস্তানের প্রাথমিক রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার অভাবকে স্পষ্ট করে তোলে।
স্বাধীনতা ও গভর্নমেন্ট অফ ইন্ডিয়া অ্যাক্ট: (১) স্বাধীনতার পর, নবগঠিত পাকিস্তান রাষ্ট্রটি ১৯৩৫ সালের সংশোধিত ভারত শাসন আইন (গভর্নমেন্ট অফ ইন্ডিয়া অ্যাক্ট) দ্বারা পরিচালিত হতে থাকে। এই আইনটি ছিল ভারতের জন্য প্রণীত একটি ব্রিটিশ পার্লামেন্টের আইন, যা পাকিস্তানের স্বাধীন রাষ্ট্রের চাহিদা পূরণের জন্য যথেষ্ট ছিল না। তবে, একটি নতুন সংবিধান প্রণীত না হওয়া পর্যন্ত এটিই ছিল রাষ্ট্রের আইনগত ভিত্তি। এই আইনে গভর্নর-জেনারেলকে রাষ্ট্রের সাংবিধানিক প্রধান হিসেবে এবং প্রধানমন্ত্রীকে নির্বাহী প্রধান হিসেবে ক্ষমতা প্রদান করা হয়, যা ছিল এক প্রকার ওয়েস্টমিনস্টার ধাঁচের সংসদীয় ব্যবস্থা। এই অস্থায়ী ব্যবস্থা সত্ত্বেও, দ্রুত সংবিধান প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া ছিল সময়ের দাবি, যা পূরণ করতে এক দশকের বেশি সময় লেগে যায়।
উদ্দেশ্য প্রস্তাব গ্রহণ: (২) ১৯৪৯ সালের মার্চ মাসে পাকিস্তানের প্রথম প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলি খান কর্তৃক আইনসভায় ঐতিহাসিক উদ্দেশ্য প্রস্তাব (Objective Resolution) উত্থাপন ও গৃহীত হয়। এই প্রস্তাব পাকিস্তানের ভবিষ্যৎ শাসনতন্ত্রের মূলনীতি এবং লক্ষ্য নির্ধারণ করে, যেখানে বলা হয় যে সার্বভৌম ক্ষমতা একমাত্র আল্লাহর এবং রাষ্ট্রের মাধ্যমে জনগণের দ্বারা প্রয়োগ হবে। এটি ছিল পাকিস্তানকে একটি ইসলামিক, গণতান্ত্রিক ও কল্যাণকর রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার প্রথম আনুষ্ঠানিক অঙ্গীকার। এই প্রস্তাবকে পরবর্তীকালে পাকিস্তানের সকল সংবিধানের মুখবন্ধ বা প্রস্তাবনার ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করা হয়, যা দেশটির আদর্শিক ভিত্তিকে দৃঢ় করে।
প্রথম মৌলিক কমিটি: (৩) উদ্দেশ্য প্রস্তাব গৃহীত হওয়ার পর ১৯৪৯ সালে প্রথম মৌলিক নীতি কমিটি (Basic Principles Committee – BPC) গঠিত হয়। এই কমিটির প্রধান দায়িত্ব ছিল উদ্দেশ্য প্রস্তাবের আলোকে দেশের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ শাসনতন্ত্রের খসড়া তৈরি করা। কিন্তু কমিটির কার্যক্রমে দীর্ঘসূত্রিতা দেখা দেয়, কারণ কেন্দ্রীয় সরকার ও প্রাদেশিক সরকারের মধ্যে ক্ষমতার বন্টন, রাষ্ট্রীয় ভাষার অবস্থান এবং ধর্মীয় সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর অধিকার নিয়ে গভীর মতপার্থক্য তৈরি হয়। ফলে কমিটি তার প্রাথমিক প্রতিবেদন সময়মতো জমা দিতে ব্যর্থ হয়, যা জনগণের মধ্যে হতাশার সৃষ্টি করে।
দ্বিতীয় মৌলিক কমিটির রিপোর্ট: (৪) প্রথম কমিটির ব্যর্থতার পর, ১৯৫২ সালে কমিটি তার চূড়ান্ত প্রতিবেদন পেশ করে, কিন্তু এর সুপারিশগুলো বিশেষত কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক প্রতিনিধিত্ব এবং ভাষার প্রশ্নে তীব্র বিতর্কের জন্ম দেয়। পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যে জনসংখ্যার ভিত্তিতে প্রতিনিধিত্বের প্রশ্ন জটিল আকার ধারণ করে। পশ্চিম পাকিস্তানে সংখ্যাগুরু পাঞ্জাবিদের তুলনায় পূর্ব পাকিস্তানের বাঙালিরা সংখ্যায় বেশি হওয়া সত্ত্বেও, পশ্চিম পাকিস্তান সংখ্যাসাম্যের (Parity) দাবি তোলে। এই বিতর্কের কারণে সংবিধান প্রণয়ন প্রক্রিয়া আরও বিলম্বিত হয় এবং রিপোর্টটি জনগণের সমর্থন লাভে ব্যর্থ হয়।
গভর্নর জেনারেলের ক্ষমতা: (৫) এই সময়কালে, গভর্নর জেনারেলের সাংবিধানিক ক্ষমতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং কখনও কখনও বিতর্কিত হয়ে ওঠে। গভর্নর জেনারেল গোলাম মোহাম্মদ ছিলেন এই সময়ের সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বদের একজন। ১৯৫৪ সালে তিনি আইনসভা ভেঙে দেন, যা ছিল একটি সাংবিধানিক সংকট। তিনি মনে করেছিলেন যে সংবিধান প্রণয়নের গতি অত্যন্ত শ্লথ এবং আইনসভা তার কার্যকারিতা হারিয়েছে। এই পদক্ষেপ দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করে এবং পরবর্তীতে ফেডারেল কোর্টে এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মামলা হয়, যা আইনি ও সাংবিধানিক বিতর্ক সৃষ্টি করে।
আইনসভা ভেঙ্গে দেওয়া: (৬) ১৯৫৪ সালের ২৪ অক্টোবর গভর্নর জেনারেল গোলাম মোহাম্মদ কর্তৃক সংবিধান সভা (Constituent Assembly) ভেঙে দেওয়া পাকিস্তানের শাসনতান্ত্রিক ইতিহাসের একটি অন্ধকার অধ্যায়। এই পদক্ষেপ ছিল দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর এক মারাত্মক আঘাত। গভর্নর জেনারেলের এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে তৎকালীন স্পিকার মৌলভী তমিজউদ্দিন খান ফেডারেল কোর্টে মামলা করেন। এই মামলাটি মৌলভী তমিজউদ্দিন খান বনাম ফেডারেশন অফ পাকিস্তান নামে পরিচিত, যা দেশের বিচার বিভাগীয় ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।
বিচার বিভাগীয় বিতর্ক: (৭) মৌলভী তমিজউদ্দিন খান বনাম ফেডারেশন অফ পাকিস্তান মামলায় ফেডারেল কোর্টের রায় পাকিস্তানের সাংবিধানিক ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ নজির স্থাপন করে। যদিও সিন্ধু হাইকোর্ট স্পিকারের পক্ষে রায় দিয়েছিলেন, কিন্তু ফেডারেল কোর্ট গভর্নর জেনারেলের পদক্ষেপকে বৈধতা প্রদান করে। এই রায়ের মাধ্যমে কার্যত গভর্নর জেনারেলের ক্ষমতা আরও সুসংহত হয় এবং সংসদীয় সার্বভৌমত্বের ধারণাকে দুর্বল করে দেওয়া হয়। এই বিতর্ক গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি রাষ্ট্রের প্রাথমিক অঙ্গীকার নিয়ে প্রশ্ন তোলে।
সংখ্যাসাম্য নীতি গ্রহণ: (৮) সংবিধান প্রণয়নের জটিলতা দূর করতে ১৯৫৫ সালে সংখ্যাসাম্য (Parity) নীতি গ্রহণ করা হয়। এই নীতির মাধ্যমে পূর্ব পাকিস্তান ও পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যে কেন্দ্রীয় আইনসভায় সমান সংখ্যক আসন বরাদ্দ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। যদিও পূর্ব পাকিস্তানের জনসংখ্যা বেশি ছিল, জাতীয় ঐক্যের স্বার্থে এই নীতি গৃহীত হয়েছিল। এই নীতির অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য ছিল আঞ্চলিক বৈষম্য দূর করা এবং উভয় অঞ্চলের মধ্যে একটি ভারসাম্যপূর্ণ রাজনৈতিক কাঠামো প্রতিষ্ঠা করা, যদিও এই সিদ্ধান্ত নিয়ে পূর্ব পাকিস্তানে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ছিল।
এক ইউনিট প্রতিষ্ঠা: (৯) ১৯৫৫ সালে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ শাসনতান্ত্রিক পদক্ষেপ হিসেবে এক ইউনিট (One Unit) নীতি কার্যকর করা হয়। এর মাধ্যমে পশ্চিম পাকিস্তানের চারটি প্রদেশ (পাঞ্জাব, সিন্ধু, উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশ, এবং বেলুচিস্তান) ও কয়েকটি ছোট রাজ্যকে একত্রিত করে একটি একক প্রদেশে রূপান্তরিত করা হয়। এর উদ্দেশ্য ছিল পশ্চিম পাকিস্তানের প্রশাসনিক জটিলতা হ্রাস করা এবং সংখ্যাসাম্য নীতিকে কার্যকর করা। কিন্তু এই পদক্ষেপ বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি করে, বিশেষত ছোট প্রদেশগুলোতে, যেখানে তাদের স্বায়ত্তশাসন হারানোর আশঙ্কা দেখা দেয়।
১৯৫৬ সালের সংবিধান: (১০) দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ১৯৫৬ সালের ২৩ মার্চ পাকিস্তান তার প্রথম সংবিধান লাভ করে। এই সংবিধানের মাধ্যমে পাকিস্তানকে একটি ইসলামিক প্রজাতন্ত্র হিসেবে ঘোষণা করা হয় এবং দেশটি ডোমিনিয়ন স্ট্যাটাস থেকে সম্পূর্ণ স্বাধীন রাষ্ট্রে উন্নীত হয়। এটি একটি ফেডারেল সংসদীয় ব্যবস্থা প্রবর্তন করে, যেখানে রাষ্ট্রপতি ছিলেন সাংবিধানিক প্রধান। এই সংবিধানে রাষ্ট্রীয় ভাষা হিসেবে উর্দু ও বাংলাকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়, যা পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের দীর্ঘদিনের দাবির প্রতি সম্মান জানায়।
ইস্কান্দার মির্জার ক্ষমতা: (১১) ১৯৫৬ সালের সংবিধান কার্যকর হওয়ার পর মেজর জেনারেল ইস্কান্দার মির্জা পাকিস্তানের প্রথম রাষ্ট্রপতি হন। তিনি ছিলেন একজন সামরিক কর্মকর্তা এবং রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব। রাষ্ট্রপতি হিসেবে তিনি সংবিধান প্রদত্ত ক্ষমতা প্রয়োগের পাশাপাশি অনেক ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ক্ষমতা ব্যবহার করেন, যা গণতান্ত্রিক কাঠামোর জন্য ক্ষতিকর ছিল। তার সময়ে ঘন ঘন প্রধানমন্ত্রীর পরিবর্তন হয়, যা দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা আরও বাড়িয়ে তোলে এবং কার্যকর শাসনতন্ত্রের বিকাশকে বাধা দেয়।
সংসদীয় ব্যবস্থার দুর্বলতা: (১২) ১৯৫৬ সালের সংবিধানের অধীনে সংসদীয় ব্যবস্থা চালু হলেও এর কার্যকারিতা ছিল দুর্বল। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে অনৈক্য, অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং সুযোগ-সন্ধানী জোট গঠনের প্রবণতা বিদ্যমান ছিল। মাত্র দুই বছরের মধ্যে চারজন প্রধানমন্ত্রী পরিবর্তন হন, যার ফলে সরকারে কোনো ধারাবাহিকতা বা স্থিতিশীলতা ছিল না। এই দুর্বলতা শাসনতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে নড়বড়ে করে তোলে এবং জনগণের মধ্যে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রতি আস্থা কমিয়ে দেয়, যা শেষ পর্যন্ত অগণতান্ত্রিক শক্তির উত্থানের পথ প্রশস্ত করে।
অর্থনৈতিক অস্থিরতা: (১৩) শাসনতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার পাশাপাশি এই সময়ে অর্থনৈতিক অস্থিরতাও ছিল পাকিস্তানের অন্যতম প্রধান সমস্যা। সংবিধান প্রণয়ন এবং রাজনৈতিক সংঘাতের কারণে অর্থনৈতিক নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে সরকার মনোযোগ দিতে পারেনি। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ হ্রাস, মুদ্রাস্ফীতি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি জনগণের জীবনকে দুর্বিষহ করে তোলে। এই অর্থনৈতিক সংকট রাজনৈতিক অস্থিরতাকে আরও বাড়িয়ে দেয় এবং জনগণের মধ্যে দ্রুত একটি স্থিতিশীল সমাধানের আকাঙ্ক্ষা তৈরি করে।
রাজনৈতিক দলগুলোর বিভেদ: (১৪) এই সময়কালে পাকিস্তানের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বিভেদ ছিল অত্যন্ত প্রকট। মুসলিম লীগ, কৃষক শ্রমিক পার্টি, আওয়ামী লীগ এবং রিপাবলিকান পার্টির মতো প্রধান দলগুলোর মধ্যে আদর্শগত ও আঞ্চলিক স্বার্থ নিয়ে গভীর মতপার্থক্য ছিল। এই দলগুলো নিজেদের মধ্যে সহযোগিতা করার পরিবর্তে ক্ষমতা দখলের রাজনীতিতে বেশি মনোযোগ দেয়। এই বিভেদ আইনসভার কার্যকর কার্যকারিতাকে বাধাগ্রস্ত করে এবং সংবিধানে বর্ণিত গণতান্ত্রিক নীতিগুলো প্রয়োগের পথে প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়।
সামরিক হস্তক্ষেপের পটভূমি: (১৫) ১৯৫৬ সালের সংবিধান প্রবর্তনের পরেও রাজনৈতিক অস্থিরতা, অর্থনৈতিক দুরবস্থা, এবং ক্ষমতাসীনদের মধ্যে দ্বন্দ্ব সামরিক বাহিনীর হস্তক্ষেপের পটভূমি তৈরি করে। রাজনৈতিক নেতৃত্ব দেশের সমস্যার সমাধানে ব্যর্থ হলে সামরিক বাহিনীর প্রধানরা নিজেদেরকে দেশের একমাত্র ত্রাতা হিসেবে উপস্থাপন করার সুযোগ পান। আইন-শৃঙ্খলার অবনতি এবং সরকারের প্রশাসনিক দুর্বলতা সামরিক হস্তক্ষেপের জন্য যুক্তি হিসেবে কাজ করে, যা গণতান্ত্রিক শাসনতান্ত্রিক অগ্রগতির সমাপ্তি টেনে আনে।
মার্শাল ল’ জারি: (১৬) ১৯৫৮ সালের ৭ অক্টোবর রাষ্ট্রপতি ইস্কান্দার মির্জা মার্শাল ল’ (সামরিক আইন) জারি করেন। তিনি ১৯৫৬ সালের সংবিধান বাতিল করেন এবং কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক আইনসভা ভেঙে দেন। এই পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে পাকিস্তানের প্রথম সামরিক শাসন শুরু হয়। মাত্র বিশ দিনের মধ্যে সামরিক বাহিনীর প্রধান জেনারেল আইয়ুব খান রাষ্ট্রপতি মির্জাকে ক্ষমতাচ্যুত করে নিজেই ক্ষমতা গ্রহণ করেন। এই ঘটনা পাকিস্তানের শাসনতান্ত্রিক অগ্রগতির ওপর একটি পূর্ণচ্ছেদ টেনে দেয় এবং দীর্ঘমেয়াদী সামরিক শাসনের সূচনা করে।
সংবিধান বাতিল ও সমাপ্তি: (১৭) মার্শাল ল’ জারির মাধ্যমে ১৯৫৬ সালের সংবিধান বাতিল করা হয়, যা পাকিস্তানের ইতিহাসে প্রথম সাংবিধানিক সরকারের পতন চিহ্নিত করে। সংবিধানটি মাত্র আড়াই বছর কার্যকর ছিল। সংবিধান বাতিলের ফলে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অবসান ঘটে এবং সেনাশাসন শুরু হয়। এই সময়কাল প্রমাণ করে যে একটি নতুন রাষ্ট্রের জন্য কেবল একটি সংবিধান প্রণয়ন করাই যথেষ্ট নয়, বরং এটিকে কার্যকর করতে হলে শক্তিশালী গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান, স্থিতিশীল রাজনৈতিক নেতৃত্ব এবং জনগণের আস্থা অপরিহার্য।
📝 উপসংহার: ১৯৪৭ থেকে ১৯৫৮ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানের শাসনতান্ত্রিক অগ্রগতি ছিল প্রচেষ্টা ও ব্যর্থতার এক করুণ গাঁথা। একদিকে উদ্দেশ্য প্রস্তাব ও ১৯৫৬ সালের সংবিধান প্রণয়ন ছিল ইতিবাচক পদক্ষেপ, অন্যদিকে রাজনৈতিক অস্থিরতা, আঞ্চলিক দ্বন্দ্ব, এবং ক্ষমতা-লিপ্সা এই অর্জনকে ম্লান করে দেয়। গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করার ব্যর্থতা এবং ক্রমাগত সাংবিধানিক সংকটই শেষ পর্যন্ত সামরিক শাসনের পথ খুলে দেয়, যা পাকিস্তানের শাসনতান্ত্রিক ইতিহাসকে এক দীর্ঘমেয়াদী অস্থিতিশীলতার দিকে ঠেলে দেয়।

