- readaim.com
- 0
উত্তর।।উপস্থাপনা: একটি উন্নয়নশীল ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের সার্বিক অগ্রগতির জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক ঐক্যমত্য অত্যন্ত জরুরি। তবে স্বাধীনতার পর থেকেই এদেশের রাজনীতিতে সুস্থ ধারার সমঝোতার চেয়ে পারস্পরিক দূরত্ব ও আস্থার সংকট বেশি দৃশ্যমান হয়েছে। দলগুলোর মধ্যকার এই দীর্ঘস্থায়ী অনৈক্য ও বিরোধের পেছনে সুনির্দিষ্ট কিছু মনস্তাত্ত্বিক, কাঠামোগত এবং ঐতিহাসিক প্রতিবন্ধকতা কাজ করছে।
রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐক্যমত্য প্রতিষ্ঠার প্রতিবন্ধকতাসমূহ
১। আস্থার চরম সংকট: বাংলাদেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে একে অপরের প্রতি বিশ্বাস ও আস্থার অভাব সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা। এক দল অন্য দলকে চরম শত্রু ভাবার কারণে কোনো জাতীয় ইস্যুতে তারা এক টেবিলে বসতে পারে না। অতীত ইতিহাস এবং রাজনৈতিক হিংসাত্মক কর্মকাণ্ড এই আস্থাহীনতাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। পারস্পরিক সন্দেহের সংস্কৃতির কারণে সাধারণ আলোচনা বা সমঝোতার পথ শুরুতেই বন্ধ হয়ে যায়। ফলে দেশের বৃহত্তর স্বার্থেও দলগুলো ন্যূনতম কোনো ঐক্যমত্যে পৌঁছাতে পারে না।
২। ঐতিহাসিক মতাদর্শগত বিরোধ: দলগুলোর জন্ম ইতিহাস এবং রাষ্ট্রীয় মূলনীতির ব্যাখ্যা নিয়ে গভীর আদর্শিক পার্থক্য রয়েছে। বিশেষ করে স্বাধীনতার নেতৃত্ব, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং জাতীয়তাবাদের সংজ্ঞা নিয়ে প্রধান দলগুলো সম্পূর্ণ বিপরীত মেরুতে অবস্থান করছে। এক পক্ষ যেটিকে নিজের আদর্শ মনে করে, অন্য পক্ষ সেটিকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে। এই ঐতিহাসিক ও মৌলিক মতাদর্শগত সংঘাতের কারণে তাদের মধ্যে দূরত্ব কমিয়ে আনা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। আদর্শের এই অনমনীয়তাই রাজনৈতিক সমঝোতার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় দেওয়াল হিসেবে কাজ করে।
৩। ব্যক্তিগত দ্বন্দ ও অহমিকা: বাংলাদেশের রাজনীতি বহুলাংশে ব্যক্তিকেন্দ্রিক এবং শীর্ষ নেতাদের ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের ওপর নির্ভরশীল। শীর্ষস্থানীয় নেতাদের দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত বৈরিতা ও অহমিকা দলীয় নীতি নির্ধারণেও সরাসরি প্রভাব ফেলে থাকে। এক নেতার প্রতি অন্য নেতার ব্যক্তিগত ক্ষোভ ও অহংবোধের কারণে দলগুলো আলোচনার উদ্যোগ নিতে চায় না। সমঝোতার চেয়ে নিজের জেদ ধরে রাখাকেই নেতারা অনেক সময় রাজনৈতিক স্বার্থ হিসেবে বিবেচনা করেন। এই ব্যক্তিগত ইগোর লড়াই শেষ পর্যন্ত পুরো দেশের রাজনৈতিক পরিবেশকে অচল করে রাখে।
৪। ক্ষমতাকেন্দ্রীক চরম প্রতিযোগিতা: এদেশের রাজনীতিতে ক্ষমতা লাভ এবং তা টিকিয়ে রাখাই প্রধান দলগুলোর একমাত্র লক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। ক্ষমতার এই অন্ধ মোহের কারণে তারা যেকোনো উপায়ে প্রতিপক্ষকে দমন করতে ব্যস্ত থাকে। যখন একটি দল ক্ষমতায় থাকে, তখন তারা বিরোধী দলকে সম্পূর্ণ কোণঠাসা করার চেষ্টা করে। আবার বিরোধী দলও সরকারকে যেকোনো মূল্যে টেনে নামানোর জন্য আন্দোলন ও সহিংস পথ বেছে নেয়। এই জয়-পরাজয়ের নিষ্ঠুর খেলায় দেশের স্বার্থ বা রাজনৈতিক ঐক্যমত্যের বিষয়টি ঢাকা পড়ে যায়।
৫। সংবিধানের বারবার পরিবর্তন: রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের সুবিধা অনুযায়ী বিভিন্ন সময় সংবিধানের মৌলিক কিছু ধারা পরিবর্তন করেছে। বিশেষ করে নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থা নিয়ে সংবিধানে বারবার যে রদবদল হয়েছে, তা সংকট বাড়িয়েছে। এক দল যে ব্যবস্থাকে সঠিক মনে করে, অন্য দল ক্ষমতায় এসে তা বাতিল করে দেয়। সংবিধানের এই রাজনৈতিক ব্যবহার দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক দূরত্ব ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। সাংবিধানিক নিয়মাবলীর ওপর সবার একমত হতে না পারাটাই স্থায়ী অনৈক্যের অন্যতম কারণ।
৬। সহিংস রাজনৈতিক সংস্কৃতি: বাংলাদেশের রাজনীতিতে হরতাল, ভাঙচুর ও রাজপথের সহিংসতা একটি নিয়মিত সংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছে। এই সংঘাতময় রাজনীতির কারণে দলগুলোর মধ্যে শান্তিপূর্ণ আলোচনার পরিবেশ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। যখনই কোনো দল রাজপথে রক্তক্ষয়ী আন্দোলন করে, তখন সংলাপের সুযোগ চিরতরে বন্ধ হয়ে যায়। প্রতিপক্ষের ওপর শারীরিক ও মানসিক আক্রমণ রাজনৈতিক প্রতিহিংসাকে আরও কয়েক গুণ বাড়িয়ে তোলে। এই ভীতিকর ও সহিংস পরিবেশের মধ্যে কখনো সুস্থ ধারার ঐক্যমত্য গড়ে উঠতে পারে না।
৭। তৃণমূল পর্যায়ের বৈরিতা: দলীয় অনৈক্য কেবল শীর্ষ নেতাদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, তা তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। মাঠ পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা নিজেদের মধ্যে চরম শত্রু ভাবাপন্ন সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে এবং প্রায়ই সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। স্থানীয় পর্যায়ে এই রক্তক্ষয়ী বিরোধের কারণে ওপরের মহল থেকে সমঝোতার চেষ্টা করলেও তা সফল হয় না। তৃণমূলের কর্মীরা তাদের স্থানীয় আধিপত্য ধরে রাখতে গিয়ে প্রতিপক্ষের সাথে যেকোনো আপসকামিতাকে প্রত্যাখ্যান করে। ফলে দলীয় কর্মীদের এই মানসিকতা জাতীয় স্তরের ঐক্যমত্যের পথকে মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত করে।
৮। বাহ্যিক শক্তির হস্তক্ষেপ: বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে অনেক সময় আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতির প্রভাব স্পষ্ট হয়ে ওঠে। বিভিন্ন বিদেশী রাষ্ট্র বা সংস্থা নিজেদের স্বার্থে এদেশের নির্দিষ্ট কিছু রাজনৈতিক দলকে সমর্থন দিয়ে থাকে। এই বাহ্যিক শক্তির মদদ পাওয়ার কারণে দলগুলো নিজেদের মধ্যে সমঝোতা করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে না। তারা দেশের জনগণের চেয়ে বিদেশী প্রভুদের সন্তুষ্ট করতে বেশি ব্যস্ত থাকে, যা অভ্যন্তরীণ ঐক্যমত্যের পরিপন্থী। বিদেশী শক্তির এই অদৃশ্য সুতোয় বাধা রাজনীতি আমাদের নিজস্ব রাজনৈতিক বোঝাপড়াকে ব্যাহত করে।
৯। সুশীল সমাজের নিষ্ক্রিয়তা: রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সেতু বন্ধন তৈরি করার ক্ষেত্রে সুশীল সমাজ বা নাগরিক সমাজ বড় ভূমিকা রাখতে পারতো। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত বাংলাদেশের সুশীল সমাজের একটি বড় অংশই এখন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পক্ষে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য মধ্যস্থতাকারীর অভাবের কারণে দলগুলোকে এক সুতোয় বাঁধা যাচ্ছে না। নাগরিক সমাজ যখন দলকানা হয়ে পড়ে, তখন তাদের কোনো আহ্বানই দলগুলো গুরুত্ব দেয় না। এই বলিষ্ঠ ও নিরপেক্ষ কণ্ঠস্বরের অভাব রাজনৈতিক সংকটকে দিন দিন আরও ঘনীভূত করছে।
১০। গণমাধ্যমের পক্ষপাতমূলক ভূমিকা: দেশের অনেক গণমাধ্যম এখন বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের চেয়ে নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের প্রচারণায় ব্যস্ত থাকে। তারা দলগুলোর মধ্যকার বিরোধকে কমিয়ে আনার চেষ্টা না করে উল্টো উসকানিমূলক খবর প্রকাশ করে। এক দলের নেতিবাচক দিক এবং অন্য দলের ইতিবাচক দিক বাড়িয়ে দেখানোর ফলে জনমনেও বিভক্তি বাড়ে। গণমাধ্যমের এই পক্ষপাতিত্ব দলগুলোর মধ্যকার ভুল বোঝাবুঝি ও দূরত্বকে আরও স্থায়ী রূপ দান করে। একটি নিরপেক্ষ ও দায়িত্বশীল মিডিয়ার অভাব রাজনৈতিক ঐক্যমত্য গড়ে তোলার পথে অন্যতম অন্তরায়।
১১। অগণতান্ত্রিক দলীয় কাঠামো: বাংলাদেশের প্রায় প্রতিটি রাজনৈতিক দলের অভ্যন্তরীণ কাঠামো পুরোপুরি গণতান্ত্রিক নয়। দলের ভেতরে মুক্ত চিন্তা, ভিন্ন মত প্রকাশ বা সমালোচনা করার কোনো সুযোগ রাখা হয় না। শীর্ষ নেতার একক সিদ্ধান্তই দলের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচিত হয় এবং সবাইকে তা মানতে হয়। এর ফলে কোনো নেতা চাইলেও দলের বাইরে গিয়ে জাতীয় স্বার্থে অন্য দলের সাথে আলোচনার প্রস্তাব দিতে পারেন না। দলের ভেতরের এই স্বৈরতান্ত্রিক চর্চা বাইরের রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে উদার সংলাপের পথকে রুদ্ধ করে দেয়।
১২। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ইতিহাস: অতীতের বিভিন্ন রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড, দমন-পীড়ন এবং মামলার ইতিহাস দলগুলোর মনে গভীর ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। এক দল যখন ক্ষমতায় আসে, তখন পূর্ববর্তী সরকারের করা অন্যায়ের প্রতিশোধ নিতে মরিয়া হয়ে ওঠে। এই অন্তহীন প্রতিহিংসার চক্র বছরের পর বছর ধরে দেশের রাজনীতিকে তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে। অতীত ভুলের ক্ষমা বা সমঝোতার মানসিকতা না থাকায় দলগুলো কেবল একে অপরকে ধ্বংস করতে চায়। এই ঐতিহাসিক ক্ষোভের আগুনকে নেভাতে না পারলে কোনো ধরনের স্থায়ী ঐক্যমত্য সম্ভব নয়।
১৩। সহনশীলতার চরম অভাব: এদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে ভিন্ন মতের প্রতি শ্রদ্ধা বা সহনশীলতা দেখানোর রেওয়াজ প্রায় নেই বললেই চলে। প্রতিপক্ষের যেকোনো যুক্তি বা সমালোচনাকে দেশদ্রোহিতা বা ষড়যন্ত্র হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। এই অসহিষ্ণু মানসিকতার কারণে কোনো দলই অন্য দলের ভালো কাজের স্বীকৃতি দিতে চায় না। রাজনীতিতে ‘আমিই একমাত্র সঠিক এবং বাকিরা ভুল’—এই অহংকার কাজ করে। এই তীব্র অসহিষ্ণুতা ও গোঁড়ামি দলগুলোকে আলোচনার টেবিল থেকে সবসময় দূরে সরিয়ে রাখে।
১৪। অর্থনৈতিক কায়েমি স্বার্থ: রাজনীতি এখন জনসেবার চেয়ে ব্যক্তিস্বার্থ ও অর্থ উপার্জনের একটি বড় মাধ্যমে পরিণত হয়েছে। দলীয় ক্ষমতায় থাকলে টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল অর্থ আয়ের সুযোগ তৈরি হয়। এই অর্থনৈতিক সুবিধা হারানোর ভয়ে ক্ষমতার বাইরে থাকা দলগুলো যেমন মরিয়া থাকে, তেমনি ক্ষমতাবানেরাও তা ছাড়তে চায় না। ক্ষমতার সাথে জড়িত এই বিপুল অর্থনৈতিক লাভ-ক্ষতির হিসাব রাজনৈতিক দলগুলোকে আপসহীন করে তোলে। ফলে শুধু আদর্শের জন্য নয়, অর্থনৈতিক সাম্রাজ্য টিকিয়ে রাখতেই তারা অনৈক্যের পথ বেছে নেয়।
১৫। নির্বাচনী ব্যবস্থার বিতর্ক: বাংলাদেশে একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনী ব্যবস্থা গড়ে না ওঠা অনৈক্যের অন্যতম প্রধান উৎস। নির্বাচন এলেই সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে পদ্ধতি নিয়ে তীব্র বিরোধ ও সংঘাত শুরু হয়। এক পক্ষ দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে অটল থাকে, অন্য পক্ষ তত্ত্বাবধায়ক বা নিরপেক্ষ সরকারের দাবি করে। এই নির্বাচনী ব্যবস্থার ওপর সব দলের আস্থা না থাকায় ভোটের পর বিজয়ী পক্ষকে কেউ মেনে নেয় না। ফলে নির্বাচনের মাধ্যমে সংকট কাটার চেয়ে দলগুলোর মধ্যকার রাজনৈতিক দূরত্ব আরও বহুগুণ বেড়ে যায়।
১৬। সুনির্দিষ্ট জাতীয় এজেন্ডার অভাব: আমাদের দেশে দলগুলোর ভিন্নতা থাকলেও দেশের জন্য দীর্ঘমেয়াদী কোনো জাতীয় এজেন্ডা বা লক্ষ্য যৌথভাবে নির্ধারণ করা হয়নি। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পররাষ্ট্রনীতি বা অর্থনীতির মতো মৌলিক বিষয়ে দলগুলোর কোনো সাধারণ রূপরেখা নেই। সরকার পরিবর্তন হলেই পূর্ববর্তী সরকারের নেওয়া সব উন্নয়ন প্রকল্প বা নীতি বাতিল করে দেওয়া হয়। জাতীয় স্বার্থের চেয়ে দলীয় এজেন্ডাকে ওপরে স্থান দেওয়ার এই প্রবণতা ঐক্যমত্যের প্রধান বাধা। দেশের অগ্রগতির জন্য কোন বিষয়গুলো অপরিবর্তনীয় থাকবে, তা নিয়ে দলগুলোর কোনো স্পষ্ট ধারণা নেই।
১৭। জনগণের অসচেতনতা ও বিভক্তি: সাধারণ জনগণও এখন রাজনৈতিক দলগুলোর অন্ধ সমর্থনে নিজেদের মধ্যে চরমভাবে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। মানুষ যখন কোনো দলের অন্যায়কেও চোখ বুঁজে সমর্থন করে, তখন দলগুলো আরও বেশি স্বেচ্ছাচারী হয়ে ওঠে। জনগণের পক্ষ থেকে দলগুলোর ওপর ঐক্যমত্যে পৌঁছানোর জন্য কোনো জোরালো চাপ বা দাবি তৈরি হয় না। নাগরিক সমাজ বা সাধারণ মানুষ যদি অনৈক্যের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতো, তবে দলগুলো বাধ্য হতো নিজেদের অবস্থান পরিবর্তন করতে। জনগণের এই উদাসীনতা ও অন্ধ দলপ্রীতি রাজনৈতিক দলগুলোর অনৈক্যের সংস্কৃতিকে টিকিয়ে রাখছে।
উপসংহার: পরিশেষে বলা যায়, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যকার এই গভীর অনৈক্য বাংলাদেশের সামগ্রিক স্থায়িত্ব ও উন্নয়নের গতিকে শ্লথ করে দিচ্ছে। পারস্পরিক আস্থাহীনতা, ক্ষমতার মোহ এবং প্রতিহিংসার রাজনীতি থেকে বের হতে না পারলে এই সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। দেশের বৃহত্তর স্বার্থে এবং একটি সুস্থ গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে দলগুলোকে অবশ্যই ছাড় দেওয়ার মানসিকতা নিয়ে সংলাপে বসতে হবে। জাতীয় মৌলিক ইস্যুগুলোতে ন্যূনতম ঐক্যমত্য প্রতিষ্ঠা করা এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।