- readaim.com
- 0
উত্তর।।উপস্থাপনা: গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করা একটি অন্যতম প্রধান শর্ত। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ১১৮ অনুচ্ছেদের অধীনে গঠিত ‘বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন’ একটি স্বাধীন ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও জনগণের ভোটাধিকার সুরক্ষায় এই কমিশন এক অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে অনন্য দায়িত্ব পালন করে আসছে।
বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব ও কার্যাবলি
১। ভোটার তালিকা প্রণয়ন: নির্বাচন কমিশনের অন্যতম প্রধান এবং প্রাথমিক কাজ হলো দেশের প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকদের তালিকাভুক্ত করে একটি সঠিক ও হালনাগাদ ভোটার তালিকা প্রস্তুত করা। প্রতি বছর এই তালিকা সংস্কার ও নতুন ভোটারদের নাম অন্তর্ভুক্ত করার প্রক্রিয়া অত্যন্ত দক্ষতার সাথে সম্পন্ন করা হয়। ভুয়া ভোটার বাদ দিয়ে একটি স্বচ্ছ তালিকা তৈরি করা কমিশনের সাংবিধানিক দায়িত্ব। এই নির্ভুল ভোটার তালিকার ওপর ভিত্তি করেই মূলত দেশের যেকোনো সাধারণ কিংবা স্থানীয় নির্বাচন আয়োজন করা হয়ে থাকে।
২। নির্বাচন পরিচালনা: বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং সকল ধরনের স্থানীয় সরকার নির্বাচন অত্যন্ত সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করা এই কমিশনের মূল কাজ। তফসিল ঘোষণা থেকে শুরু করে নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াটি কমিশন অত্যন্ত সতর্কতার সাথে নিয়ন্ত্রণ করে। দেশের গণতান্ত্রিক ধারা সচল রাখতে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করা এই প্রতিষ্ঠানের প্রধান আইনি বাধ্যবাধকতা। সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে কমিশন জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটায়।
৩। নির্বাচনী এলাকা সীমানা নির্ধারণ: দেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং প্রশাসনিক পরিবর্তনের সাথে সামঞ্জস্য রেখে জাতীয় সংসদের নির্বাচনী এলাকার সীমানা পুনর্নির্ধারণ করা কমিশনের দায়িত্ব। এই কাজের মূল উদ্দেশ্য হলো প্রতিটি নির্বাচনী এলাকায় ভোটারের সংখ্যা এবং ভৌগোলিক অবস্থানের মধ্যে একটি যৌক্তিক ভারসাম্য বজায় রাখা। সীমানা নির্ধারণের সময় কমিশন স্থানীয় জনগণের আপত্তি ও পরামর্শ বিবেচনায় নিয়ে চূড়ান্ত সীমানা গেজেট আকারে প্রকাশ করে। এটি একটি অত্যন্ত জটিল এবং স্পর্শকাতর আইনি প্রক্রিয়া হিসেবে বিবেচিত।
৪। রাজনৈতিক দল নিবন্ধন: বাংলাদেশে কার্যরত সকল রাজনৈতিক দলকে নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে নির্বাচন কমিশনের কাছে বাধ্যতামূলকভাবে নিবন্ধন লাভ করতে হয়। কমিশনের নির্ধারিত আইন, নিয়মকানুন ও শর্তাবলী যথাযথভাবে পূরণ করলেই কেবল একটি রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশ নেওয়ার যোগ্যতা অর্জন করে। নিবন্ধিত দলগুলোর আয়-ব্যয়ের হিসাব এবং সাংগঠনিক কার্যক্রমের ওপর কমিশন নিয়মিত নজরদারি বজায় রাখে। গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় রাজনৈতিক দলগুলোর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে এই নিবন্ধন প্রক্রিয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
৫। প্রতীক বরাদ্দ: নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রতিটি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জন্য আলাদা আলাদা নির্বাচনী প্রতীক বরাদ্দ করা কমিশনের কাজ। আমাদের দেশের সাধারণ ভোটারদের একটি বড় অংশের কাছে প্রার্থীর চেয়ে প্রতীক চেনা অনেক বেশি সহজ ও সুবিধাজনক হয়। প্রতীক বরাদ্দের ক্ষেত্রে যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা বিরোধ সৃষ্টি না হয়, সেদিকে কমিশন কড়া নজর রাখে। এই প্রতীকগুলো ব্যালট পেপারে বা ইভিএম মেশিনে প্রার্থীদের পরিচয় হিসেবে ব্যবহার করা হয়ে থাকে।
৬। মনোনয়নপত্র যাচাই: নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে ইচ্ছুক প্রার্থীদের জমা দেওয়া মনোনয়নপত্র অত্যন্ত নিখুঁতভাবে যাচাই-বাছাই করা নির্বাচন কমিশনের একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি দায়িত্ব। প্রার্থীর বয়স, নাগরিকত্ব, ঋণখেলাপি সংক্রান্ত তথ্য এবং কোনো ফৌজদারি অপরাধের রেকর্ড আছে কিনা তা কঠোরভাবে পরীক্ষা করা হয়। আইনানুযায়ী কোনো প্রার্থীর যোগ্যতা ঘাটতি থাকলে বা তথ্যে ভুল থাকলে কমিশন তার মনোনয়নপত্র বাতিল করার ক্ষমতা রাখে। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সৎ, যোগ্য ও আইনানুগ প্রার্থীরাই কেবল নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পান।
৭। আচরণবিধি প্রণয়ন: নির্বাচনের সময় রাজনৈতিক দল এবং প্রার্থীরা কীভাবে প্রচারণা চালাবেন, তার জন্য একটি নির্দিষ্ট আচরণবিধি তৈরি ও প্রয়োগ করে কমিশন। নির্বাচনী প্রচারণায় যাতে কোনো ধরনের সহিংসতা, উস্কানিমূলক বক্তব্য বা পেশিশক্তির ব্যবহার না হয়, তা নিশ্চিত করা এর লক্ষ্য। এই আচরণবিধি ভঙ্গকারী প্রার্থী বা দলের বিরুদ্ধে কমিশন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা বা প্রার্থিতা বাতিলের মতো কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারে। এর ফলে সব প্রার্থীর জন্য নির্বাচনে সমান সুযোগ বা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি হয়।
৮। ভোটকেন্দ্র স্থাপন: দেশের প্রতিটি নির্বাচনী এলাকায় ভোটারদের সুশৃঙ্খলভাবে ভোটদানের সুবিধার্থে প্রয়োজনীয় সংখ্যক ভোটকেন্দ্র এবং ভোটকক্ষ স্থাপন করে এই কমিশন। ভোটারদের যাতায়াতের সুবিধা, নিরাপত্তা এবং কেন্দ্রের ভৌগোলিক অবস্থান বিবেচনা করে এই কেন্দ্রগুলো অত্যন্ত সতর্কতার সাথে নির্বাচন করা হয়। সরকারি বা আধা-সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে সাধারণত ভোটকেন্দ্র হিসেবে অগ্রাধিকার দেওয়া হয় এবং সেখানে প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হয়। ভোটের দিন কেন্দ্রগুলোর সার্বিক পরিবেশ শান্ত ও নিয়ন্ত্রিত রাখাও নির্বাচন কমিশনের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।
৯। কর্মকর্তা নিয়োগ: নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে বিশাল সংখ্যক প্রিজাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার এবং পোলিং অফিসার নিয়োগ দেওয়া হয়। সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্য থেকে অত্যন্ত যাচাই-বাছাই করে এই নির্বাচনী কর্মকর্তা বা জনবল সাময়িকভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়। নির্বাচনের দায়িত্বে থাকাকালীন এই সমস্ত কর্মকর্তা ও কর্মচারী সম্পূর্ণভাবে নির্বাচন কমিশনের অধীনে এবং এর আদেশ মেনে চলতে বাধ্য থাকেন। তাদের কাজের দক্ষতা এবং সততার ওপরই একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনেকাংশে নির্ভর করে।
১০। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা: নির্বাচনের আগে, ভোটের দিন এবং নির্বাচনের পরে সার্বিক শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে কমিশন দেশজুড়ে পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করে। পুলিশ, আনসার, র্যাব, বিজিবি এবং ক্ষেত্রবিশেষে সশস্ত্র বাহিনীকে নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের জন্য স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে মোতায়েন করা হয়। যেকোনো ধরনের কারচুপি, কেন্দ্র দখল বা ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শন রোধ করতে এই বাহিনীগুলো কমিশনের নির্দেশে কাজ করে। একটি ভয়হীন ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটাররা যাতে ভোট দিতে পারেন, তা নিশ্চিত করাই এর মূল উদ্দেশ্য।
১১। ভোটগ্রহণ ও গণনা: নির্বাচনের নির্ধারিত দিনে অত্যন্ত স্বচ্ছ ও গোপন ব্যালট বা ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার সাথে সাথেই কেন্দ্রের ভেতরেই পোলিং এজেন্টদের উপস্থিতিতে ভোট গণনার কাজ শুরু করা হয়। প্রতিটি কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রিজাইডিং অফিসার ভোট গণনার ফলাফল বিবরণী তৈরি করে প্রার্থীর এজেন্টদের স্বাক্ষর সংগ্রহ করেন। এই সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং এতে শতভাগ স্বচ্ছতা বজায় রাখতে কমিশন কঠোর নির্দেশনা প্রদান করে।
১২। ফলাফল প্রকাশ: প্রতিটি ভোটকেন্দ্র থেকে প্রাপ্ত ফলাফলের বিবরণী একীভূত করে রিটার্নিং কর্মকর্তা চূড়ান্ত ফলাফল প্রস্তুত করেন এবং তা কমিশনে পাঠান। নির্বাচন কমিশন সেই ফলাফল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করে আনুষ্ঠানিকভাবে বিজয়ী প্রার্থীর নাম ও ফলাফল গেজেট আকারে প্রকাশ করে। সরকারি গেজেট প্রকাশের পরেই একজন প্রার্থী আইনগতভাবে সংসদ সদস্য বা জনপ্রতিনিধি হিসেবে পূর্ণ স্বীকৃতি লাভ করেন। ফলাফল প্রকাশের এই পুরো প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত দ্রুত এবং নির্ভুলভাবে সম্পন্ন করার দায়িত্ব এই কমিশনের।
১৩। অভিযোগ নিষ্পত্তি: নির্বাচনী প্রক্রিয়া চলাকালীন বা নির্বাচনের পরে যেকোনো প্রার্থী বা ভোটারের পক্ষ থেকে আসা আইনি অভিযোগগুলো নিষ্পত্তি করে কমিশন। নির্বাচনী অনিয়ম, কারচুপি বা আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটলে কমিশন নিজস্ব তদন্ত কমিটির মাধ্যমে বিষয়গুলো খতিয়ে দেখে। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে কমিশন তাৎক্ষণিকভাবে ওই কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ স্থগিত বা পুরো নির্বাচন বাতিল করার ক্ষমতা রাখে। সংক্ষুব্ধ পক্ষকে ন্যায়বিচার প্রদান এবং নির্বাচনী ব্যবস্থার প্রতি জনগণের আস্থা ধরে রাখতে এই কাজ অপরিহার্য।
১৪। আদালত গঠন: নির্বাচনী অপরাধের দ্রুত বিচার এবং তাৎক্ষণিক শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য কমিশন নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল এবং নির্বাচনী আপিল ট্রাইব্যুনাল গঠন করে। জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এবং নির্বাচনী কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত এই আদালতগুলো মাঠপর্যায়ে আইনশৃঙ্খলার তদারকি করে থাকে। কোনো প্রার্থী বা সমর্থক গুরুতর অপরাধ করলে এই ট্রাইব্যুনাল তাদের জরিমানা বা কারাদণ্ড প্রদান করতে পারে। এই বিচারিক ক্ষমতার কারণে নির্বাচনী মাঠে অপরাধপ্রবণতা অনেকাংশে হ্রাস পায় এবং আইনি শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।
১৫। পরিচয়পত্র প্রদান: বাংলাদেশের নাগরিকদের তথ্য সংগ্রহ করে ডিজিটাল এবং উন্নতমানের জাতীয় পরিচয়পত্র বা স্মার্ট কার্ড প্রস্তুত ও বিতরণ করে নির্বাচন কমিশন। এই পরিচয়পত্রটি শুধু ভোটদানের জন্যই নয়, বরং দেশের নাগরিক হিসেবে বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় ও বেসরকারি সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ব্যাংকিং সেবা, পাসপোর্ট তৈরি, সিম কার্ড ক্রয়সহ প্রায় সব ধরনের নাগরিক কাজের জন্য এই কার্ডটি এখন বাধ্যতামূলক। আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর এই পরিচয়পত্র ডেটাবেজটি কমিশন অত্যন্ত গোপনীয়তা ও সুরক্ষার সাথে রক্ষণাবেক্ষণ করে।
১৬। প্রযুক্তি ব্যবহার: আধুনিক যুগে নির্বাচন প্রক্রিয়াকে আরও দ্রুত, নির্ভুল এবং স্বচ্ছ করার জন্য কমিশন উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার উত্তরোত্তর বৃদ্ধি করছে। ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন বা ইভিএমের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ এবং অনলাইনে মনোনয়নপত্র দাখিলের মতো আধুনিক ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। এছাড়া ভোটার তালিকা ডাটাবেজ এবং ফলাফল ব্যবস্থাপনায় বিশেষ সফটওয়্যার ব্যবহার করে মানবীয় ভুলের সম্ভাবনা কমিয়ে আনা হচ্ছে। প্রযুক্তির এই সফল প্রয়োগ নির্বাচনী ব্যবস্থাপনাকে বিশ্বমানে উন্নীত করতে এবং জনগণের বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জনে সাহায্য করছে।
১৭। পর্যবেক্ষক নিয়ন্ত্রণ: দেশি এবং বিদেশি নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের অনুমোদন প্রদান এবং তাদের কার্যক্রমের ওপর নীতিমালা প্রণয়ন ও নিয়ন্ত্রণ করে এই কমিশন। নির্বাচনের স্বচ্ছতা বিশ্ব দরবারে তুলে ধরতে এবং নিরপেক্ষতা প্রমাণে এই পর্যবেক্ষকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়। কমিশন অনুমোদিত পর্যবেক্ষকরা বিভিন্ন ভোটকেন্দ্র ঘুরে দেখেন এবং নির্বাচন শেষে তাদের মূল্যায়ন প্রতিবেদন জমা দেন। মিডিয়া কর্মী এবং সাংবাদিকদের নির্বাচনী সংবাদ সংগ্রহের জন্য বিশেষ পাস বা পরিচয়পত্র ইস্যু করাও এই কাজের অন্তর্ভুক্ত।
শেষকথা: পরিশেষে বলা যায়, বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। একটি জাতির ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব কেমন হবে, তা বহুলাংশে নির্ভর করে এই কমিশনের সততা, নিরপেক্ষতা ও দৃঢ় কর্মতৎপরতার ওপর। শত চ্যালেঞ্জের মধ্যেও এই সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটি তার দায়িত্ব ও কার্যাবলি অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে পালন করে আসছে। সর্বস্তরের জনগণের সহযোগিতা এবং কমিশনের নিজস্ব সদিচ্ছাই পারে একটি সুন্দর ও কলঙ্কমুক্ত নির্বাচনী সংস্কৃতি গড়ে তুলতে।