• Home
  • Class 0-12
  • Masters
  • Honours
  • Degree
  • Grammar
    • Bangla Grammar
    • English Grammar
    • Arabic Grammar
  • Computer
    • MS Word
  • Jobs Study
    • BCS
    • Bank
    • Primary
    • Govt. job
    • Nibandhon
    • Medical Admission
    • University Admission
    • Army/Police/BDR/Anchar
  • Jobs
  • News
  • Tools
    • আনা গন্ডা ক্যালকুলেটর
    • Copyable PDF maker
    •  PDF to Excel
    •  Word to PDF
    • Add and remove PDF watermark
    • Add Page Numbers
    • Merge PDF files
    • Organize PDF
    • PDF to image
    • PDF to PowerPoint
    • PDF to Word
    • PowerPoint to PDF
    • Remove PDF Pages
    • Rotate PDF
    • Separate PDF | Split
    • Image to PDF
    • Home
    • Class 0-12
    • Masters
    • Honours
    • Degree
    • Grammar
      • Bangla Grammar
      • English Grammar
      • Arabic Grammar
    • Computer
      • MS Word
    • Jobs Study
      • BCS
      • Bank
      • Primary
      • Govt. job
      • Nibandhon
      • Medical Admission
      • University Admission
      • Army/Police/BDR/Anchar
    • Jobs
    • News
    • Tools
      • আনা গন্ডা ক্যালকুলেটর
      • Copyable PDF maker
      •  PDF to Excel
      •  Word to PDF
      • Add and remove PDF watermark
      • Add Page Numbers
      • Merge PDF files
      • Organize PDF
      • PDF to image
      • PDF to PowerPoint
      • PDF to Word
      • PowerPoint to PDF
      • Remove PDF Pages
      • Rotate PDF
      • Separate PDF | Split
      • Image to PDF
  • mdreadaim@gmail.com
  • Bangladesh
Login
Read Aim

Read Aim

  • Home
  • Class 0-12
  • Masters
  • Honours
  • Degree
  • Grammar
    • Bangla Grammar
    • English Grammar
    • Arabic Grammar
  • Computer
    • MS Word
  • Jobs Study
    • BCS
    • Bank
    • Primary
    • Govt. job
    • Nibandhon
    • Medical Admission
    • University Admission
    • Army/Police/BDR/Anchar
  • Jobs
  • News
  • Tools
    • আনা গন্ডা ক্যালকুলেটর
    • Copyable PDF maker
    •  PDF to Excel
    •  Word to PDF
    • Add and remove PDF watermark
    • Add Page Numbers
    • Merge PDF files
    • Organize PDF
    • PDF to image
    • PDF to PowerPoint
    • PDF to Word
    • PowerPoint to PDF
    • Remove PDF Pages
    • Rotate PDF
    • Separate PDF | Split
    • Image to PDF
  • readaim.com
  • 0

প্রশ্ন:- দক্ষিণ এশিয়ার দেশসমূহে সামরিক হস্তক্ষেপের কারণ কি?

উপস্থাপনা: দক্ষিণ এশিয়া বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল এবং ভূ-রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলগুলির মধ্যে একটি। এখানকার বিভিন্ন দেশে সামরিক বাহিনীর ক্ষমতা দখল বা রাষ্ট্র পরিচালনায় সরাসরি হস্তক্ষেপের ঘটনা বহুবার দেখা গেছে। এই হস্তক্ষেপগুলির পেছনে রয়েছে গভীর এবং জটিল আর্থ-সামাজিক, রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক কারণসমূহ, যা এই অঞ্চলের গণতন্ত্র ও স্থিতিশীলতাকে বারবার প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা যা এই অঞ্চলের ভবিষ্যত নির্ধারণে সহায়ক।

দক্ষিণ এশিয়ার দেশসমূহে সামরিক হস্তক্ষেপের কারণ:

দুর্বল গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান (১) দক্ষিণ এশিয়ার বেশিরভাগ দেশেই নব-প্রতিষ্ঠিত গণতান্ত্রিক কাঠামোগুলি প্রায়শই ভঙ্গুর ও দুর্বল ভিত্তির উপর দাঁড়িয়ে থাকে। রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে অভ্যন্তরীণ কোন্দল, জবাবদিহিতার অভাব, এবং নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে জনগণের আস্থা হ্রাস পায়। এই পরিস্থিতিতে, যখন নির্বাচিত সরকারগুলি শাসন পরিচালনায় ব্যর্থ হয় বা সাংবিধানিক সংকট তৈরি করে, তখন সামরিক বাহিনী নিজেদেরকে রাষ্ট্রের ‘ত্রাতা’ হিসেবে তুলে ধরার সুযোগ পায়। বেসামরিক প্রতিষ্ঠানগুলি যথেষ্ট শক্তিশালী না হওয়ায়, সামরিক বাহিনী সহজেই ক্ষমতার শূন্যস্থান পূরণ করে হস্তক্ষেপ করে। এটি গণতন্ত্রের মূল ভিত্তিকেই দুর্বল করে দেয়, ফলে সামরিক হস্তক্ষেপের পথ সুগম হয়।

অর্থনৈতিক অস্থিরতা ও সংকট (২) যখন কোনো দেশে উচ্চ বেকারত্ব, লাগামহীন মুদ্রাস্ফীতি, ব্যাপক দারিদ্র্য এবং অর্থনৈতিক বৈষম্য চরম আকার ধারণ করে, তখন জনগণের মধ্যে অসন্তোষ বাড়তে থাকে। সরকার যদি এই গুরুতর অর্থনৈতিক সমস্যাগুলির সমাধান করতে ব্যর্থ হয়, তবে তা ব্যাপক সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টি করে। এই ধরনের গভীর অর্থনৈতিক সংকটের সময়ে, সামরিক নেতৃত্ব প্রায়শই দাবি করে যে বেসামরিক সরকার দেশকে সঠিক পথে পরিচালনা করতে অক্ষম এবং স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে তাদের হস্তক্ষেপ জরুরি। অর্থনৈতিক দুর্দশা এবং রাজনৈতিক অব্যবস্থাপনার এই সমন্বয় সামরিক বাহিনীর জন্য হস্তক্ষেপের যৌক্তিকতা তৈরি করে, যা জনগণের একাংশের সমর্থনও পেতে পারে।

রাজনৈতিক অস্থিরতা ও দুর্নীতি (৩) সরকারের মধ্যে যখন চরম রাজনৈতিক অস্থিরতা, ঘন ঘন মন্ত্রিসভা পরিবর্তন, এবং বিরোধী দলগুলির সাথে তীব্র সংঘাত দেখা দেয়, তখন রাষ্ট্রীয় কার্যক্রমে স্থবিরতা আসে। এর সাথে যখন উচ্চ-স্তরের দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ ওঠে, তখন সাধারণ মানুষ রাজনৈতিক নেতৃত্বের উপর বিশ্বাস হারিয়ে ফেলে। সামরিক বাহিনী এই পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে নিজেদেরকে ‘পরিষ্কার’ ও ‘শৃঙ্খলাবদ্ধ’ শক্তি হিসেবে উপস্থাপন করে, যারা দেশের পতন রোধে সক্ষম। অকার্যকর এবং দুর্নীতিগ্রস্ত রাজনৈতিক ব্যবস্থার প্রতি জনগণের হতাশা সামরিক হস্তক্ষেপের জন্য একটি উর্বর ক্ষেত্র তৈরি করে।

সামরিক বাহিনীর উচ্চাকাঙ্ক্ষা (৪) দক্ষিণ এশিয়ার অনেক দেশেই সামরিক বাহিনী নিজেদেরকে রাষ্ট্রের সবচেয়ে সুসংগঠিত, শক্তিশালী এবং একমাত্র জাতীয়তাবাদী প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখে থাকে। এই ধারণার কারণে অনেক সামরিক নেতা রাষ্ট্রের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে আরও বেশি প্রভাব বিস্তার করতে উচ্চাকাঙ্ক্ষী হন। তারা বিশ্বাস করে যে তারাই দেশকে রক্ষা করতে এবং একটি কার্যকর শাসন প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম। এই উচ্চাকাঙ্ক্ষা কেবল ক্ষমতা দখলের মাধ্যমেই শেষ হয় না, বরং অর্থনৈতিক সুবিধা, বাজেট বরাদ্দ এবং সামাজিক মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখার জন্যও সামরিক নেতৃত্ব সরাসরি রাজনীতিতে হস্তক্ষেপের সুযোগ খোঁজেন।

আঞ্চলিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ (৫) এই অঞ্চলে আন্তঃরাষ্ট্রীয় সংঘাত, সীমান্ত বিরোধ, এবং অভ্যন্তরীণ জঙ্গি তৎপরতা একটি নিয়মিত বিষয়। যখন দেশের নিরাপত্তা গুরুতর চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে, তখন সামরিক বাহিনী স্বাভাবিকভাবেই দৃশ্যপটে চলে আসে। সামরিক নেতৃত্ব প্রায়শই দাবি করে যে বেসামরিক সরকার জাতীয় নিরাপত্তার মতো সংবেদনশীল বিষয়গুলি পরিচালনা করতে বা সন্ত্রাসবাদ ও আঞ্চলিক হুমকি মোকাবিলা করতে ব্যর্থ। এই নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগকে পুঁজি করে, সামরিক বাহিনী সামরিক আইন জারি করে অথবা শাসনভার গ্রহণ করে দেশের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পক্ষে যুক্তি দেখায়, যা প্রায়শই দীর্ঘস্থায়ী হস্তক্ষেপের জন্ম দেয়।

দুর্বল বেসামরিক নিয়ন্ত্রণ (৬) সামরিক বাহিনীর উপর বেসামরিক সরকারের পর্যাপ্ত নিয়ন্ত্রণ না থাকা সামরিক হস্তক্ষেপের অন্যতম প্রধান কারণ। যেসব দেশে সামরিক বাজেটের উপর বেসামরিক নেতৃত্বের নজরদারি কম এবং সামরিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে রাজনৈতিক প্রভাব ক্ষীণ, সেখানে সামরিক বাহিনী নিজেদেরকে স্বাধীন একটি সত্তা হিসেবে গণ্য করতে শুরু করে। যখন সামরিক ও বেসামরিক নেতৃত্বের মধ্যে সম্পর্ক তিক্ত হয়, তখন সামরিক বাহিনী সহজে বেসামরিক কর্তৃপক্ষের নির্দেশ অমান্য করে নিজেদের ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে। প্রাতিষ্ঠানিকভাবে দুর্বল নিয়ন্ত্রণ সামরিক বাহিনীকে ক্ষমতা দখলের সাহস জোগায় এবং তাদের স্বেচ্ছাচারিতাকে বাড়িয়ে তোলে।

জাতিগত ও ধর্মীয় সংঘাত (৭) দক্ষিণ এশিয়ার বহু দেশে জাতিগত বা ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের মধ্যে তীব্র সংঘাত এবং বিভাজন বিদ্যমান। যখন এই সংঘাতগুলি সহিংস আকার ধারণ করে এবং বেসামরিক সরকার আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়, তখন সামরিক বাহিনীকে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য ডাকা হয়। এই পরিস্থিতিতে, সামরিক বাহিনী নিজেদেরকে একমাত্র নিরপেক্ষ শক্তি হিসেবে দাবি করে এবং সংঘাত নিরসনের নামে রাজনৈতিক ক্ষমতা গ্রহণ করে। এই অভ্যন্তরীণ বিভেদ এবং সরকার কর্তৃক তা দমনে ব্যর্থতা সামরিক হস্তক্ষেপের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রেক্ষাপট তৈরি করে, যা স্থিতিশীলতাকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তোলে।

সংবিধানের দুর্বলতা (৮) কোনো কোনো দেশে সামরিক বাহিনীর ক্ষমতাকে সীমিত করার জন্য সাংবিধানিক বিধানগুলি যথেষ্ট শক্তিশালী বা সুস্পষ্ট নয়। অনেক সময় সামরিক হস্তক্ষেপের পরে প্রণীত সংবিধানে সামরিক নেতৃত্বকে পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষভাবে ক্ষমতা ভাগ করে নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়। সংবিধানের এই ধরনের দুর্বলতা বা অস্পষ্টতা সামরিক বাহিনীকে আইনি অজুহাত দেয় ক্ষমতা দখলের জন্য। এছাড়া, জরুরি অবস্থা ঘোষণার বিষয়ে সাংবিধানিক কাঠামোর অপব্যবহার করেও সামরিক বাহিনী প্রায়শই নিজেদের প্রভাব বিস্তার করে এবং দীর্ঘমেয়াদী শাসনের সুযোগ তৈরি করে।

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়ার অভাব (৯) যখন কোনো দেশে সামরিক অভ্যুত্থান ঘটে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় থেকে তাৎক্ষণিক ও কঠোর কোনো নিন্দা বা চাপ আসে না, তখন সামরিক নেতৃত্ব আরও উৎসাহিত হয়। দুর্বল আন্তর্জাতিক চাপ সামরিক সরকারকে বৈধতা পেতে এবং তাদের শাসনকে দীর্ঘায়িত করতে সহায়তা করে। বিশেষ করে, যখন বড় শক্তিগুলি নিজেদের ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থের কারণে সামরিক সরকারকে সমর্থন করে বা নীরব থাকে, তখন সামরিক হস্তক্ষেপকারীরা নির্ভয়ে শাসন চালিয়ে যেতে পারে। কার্যকর আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়ার অনুপস্থিতি গণতান্ত্রিক স্থিতিশীলতার জন্য একটি বড় হুমকি।

আমলাতন্ত্রের দুর্বলতা (১০) দক্ষ, নিরপেক্ষ এবং কার্যকর আমলাতন্ত্র একটি গণতান্ত্রিক সরকারের মেরুদণ্ড। দক্ষিণ এশিয়ার বহু দেশে আমলাতন্ত্র দুর্বল, অকার্যকর এবং রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত। যখন বেসামরিক প্রশাসন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে বা নীতি বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়, তখন শাসন প্রক্রিয়ায় বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। সামরিক নেতৃত্ব এই প্রশাসনিক দুর্বলতাকে তুলে ধরে নিজেদের সুসংগঠিত এবং কার্যকরী প্রশাসন দেওয়ার সামর্থ্য প্রমাণ করার চেষ্টা করে। আমলাতন্ত্রের এই ব্যর্থতা সামরিক বাহিনীকে দেশের সামগ্রিক শাসনভার গ্রহণের একটি কারণ হিসেবে কাজ করে।

ক্ষমতার অসম বন্টন (১১) দেশের সম্পদ ও রাজনৈতিক ক্ষমতার অসম বন্টন সমাজে গভীর অস্থিরতা তৈরি করে। যখন সমাজের একটি ক্ষুদ্র অংশ বিপুল সুবিধা ভোগ করে এবং বৃহত্তর জনগোষ্ঠী বঞ্চিত থাকে, তখন তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা জন্ম নেয়। এই ধরনের সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্য প্রায়শই গণ-বিক্ষোভ বা অস্থিরতার জন্ম দেয়। সামরিক বাহিনী এই পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে নিজেদেরকে ‘সামাজিক ন্যায়বিচার’ প্রতিষ্ঠাকারী শক্তি হিসেবে দাবি করে এবং ক্ষমতার ভারসাম্য ফিরিয়ে আনার নামে হস্তক্ষেপ করে, যা আসলে তাদের নিজেদের ক্ষমতাকেই সুসংহত করে।

ঐতিহাসিক উত্তরাধিকার (১২) দক্ষিণ এশিয়ার অনেক দেশেই ঔপনিবেশিক শাসনের সময় থেকে সামরিক বাহিনীর একটি প্রভাবশালী ভূমিকা পালনের ঐতিহ্য রয়েছে। এই ঐতিহাসিক উত্তরাধিকার সামরিক বাহিনীকে নিজেদের রাজনৈতিক প্রভাবকে স্বাভাবিক এবং গ্রহণযোগ্য মনে করতে উৎসাহিত করে। অতীতে সামরিক শাসনের সফল উদাহরণ বা দীর্ঘ মেয়াদে সামরিক বাহিনীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণের ইতিহাস থাকলে, পরবর্তী প্রজন্ম সেই প্রবণতা অনুসরণ করতে অনুপ্রাণিত হয়। এই ঐতিহ্য গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলির বিকাশে বাধা দেয় এবং সামরিক হস্তক্ষেপের ঘটনাকে বারবার ফিরিয়ে আনে।

শক্তিশালী বিরোধী দলের অভাব (১৩) একটি শক্তিশালী এবং কার্যকর বিরোধী দল সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জন্য অপরিহার্য। দক্ষিণ এশিয়ার অনেক দেশে বিরোধী দলগুলি হয় দুর্বল, বিভক্ত অথবা নিজেরাও দুর্নীতির অভিযোগের সম্মুখীন হয়। যখন শক্তিশালী বিরোধী দলের অনুপস্থিতিতে সরকার স্বেচ্ছাচারী হয়ে ওঠে, তখন সামরিক বাহিনী ক্ষমতা দখলের যৌক্তিকতা খুঁজে পায়। বিরোধী দলের দুর্বলতা জনগণের অসন্তোষকে রাজনৈতিকভাবে চ্যানেলাইজ করতে ব্যর্থ হয়, ফলে হতাশা সামরিক হস্তক্ষেপের দিকে ঠেলে দেয়।

গণমাধ্যমের ভূমিকা (১৪) অনেক সময় গণমাধ্যম হয় সরকারের প্রতি চরম পক্ষপাতদুষ্ট থাকে অথবা নিয়ন্ত্রিত হয়। যখন একটি স্বাধীন ও দায়িত্বশীল গণমাধ্যম থাকে না, তখন জনগণের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ে এবং সরকার বা সামরিক বাহিনীর ভুল কাজের সমালোচনা হয় না। কিছু ক্ষেত্রে, গণমাধ্যম সামরিক শাসনকে ইতিবাচকভাবে প্রচার করে বা হস্তক্ষেপের পক্ষে জনমত তৈরি করতে সাহায্য করে। এই পরিস্থিতিতে, নিরপেক্ষ তথ্যের অভাবে জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়, যা সামরিক বাহিনীর ক্ষমতা দখলের প্রক্রিয়াকে সহজ করে তোলে।

প্রতিবেশী রাষ্ট্রের প্রভাব (১৫) অনেক সময় প্রতিবেশী বা আঞ্চলিক শক্তিগুলির ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থ একটি দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে সামরিক হস্তক্ষেপকে প্রভাবিত করে। কিছু আঞ্চলিক শক্তি তাদের স্বার্থ রক্ষায় সামরিক সরকারকে সমর্থন জানাতে পারে, যা হস্তক্ষেপকারীদের সাহস জোগায়। এছাড়া, একটি প্রতিবেশী দেশে সামরিক অভ্যুত্থানের সাফল্য অন্য দেশের সামরিক বাহিনীকে একই ধরনের পদক্ষেপ নিতে উৎসাহিত করতে পারে। এই আঞ্চলিক গতিশীলতা এবং ভূ-রাজনৈতিক খেলা সামরিক হস্তক্ষেপের পুনরাবৃত্তিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

সামরিক জোটের রাজনীতি (১৬) আঞ্চলিক বা আন্তর্জাতিক সামরিক জোটের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা এবং সামরিক সরঞ্জাম নির্ভরতা অনেক সময় দেশের সামরিক বাহিনীকে অতিরিক্ত শক্তিশালী করে তোলে। যখন সামরিক বাহিনীর বৈদেশিক প্রশিক্ষণ এবং অস্ত্র সরবরাহ বৃদ্ধি পায়, তখন তাদের নিজেদের ক্ষমতা সম্পর্কে উচ্চ ধারণা সৃষ্টি হয়। এই সামরিক জোটের রাজনীতি অনেক সময় সামরিক নেতৃত্বকে আন্তর্জাতিক সমর্থন লাভের আশ্বাস দিয়ে বেসামরিক সরকারের উপর চাপ সৃষ্টি করতে বা সরাসরি হস্তক্ষেপ করতে উৎসাহিত করে, যা গণতান্ত্রিক ভারসাম্যকে নষ্ট করে।

দুর্বল নাগরিক সমাজ (১৭) একটি সক্রিয় এবং শক্তিশালী নাগরিক সমাজ গণতন্ত্রকে রক্ষা করার জন্য অতীব গুরুত্বপূর্ণ। দক্ষিণ এশিয়ার অনেক দেশে নাগরিক সমাজের প্রতিষ্ঠানগুলি হয় দুর্বল, বিভক্ত, অথবা সরকারের চাপের মুখে অসহায়। যখন নাগরিক সমাজ সামরিক হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে পর্যাপ্ত প্রতিরোধ গড়ে তুলতে ব্যর্থ হয় বা সামরিক সরকারের দমন-পীড়নে মুখ থুবড়ে পড়ে, তখন সামরিক শাসন দীর্ঘস্থায়ী হয়। দুর্বল নাগরিক সমাজের কারণে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পক্ষে জনমত তৈরি করা কঠিন হয়ে পড়ে এবং সামরিক হস্তক্ষেপের পথটি প্রশস্ত থাকে।

শেষকথা: দক্ষিণ এশিয়ার দেশসমূহে সামরিক হস্তক্ষেপের কারণগুলি এক জটিল জালের মতো, যেখানে দুর্বল গণতান্ত্রিক কাঠামো, তীব্র অর্থনৈতিক সংকট, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং সামরিক বাহিনীর উচ্চাকাঙ্ক্ষা প্রধান ভূমিকা পালন করে। এই হস্তক্ষেপ এই অঞ্চলের গণতন্ত্র ও স্থিতিশীলতাকে বারবার বাধাগ্রস্ত করেছে, যার ফলে দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়ন ও জনগণের আশা আকাঙ্ক্ষা পূরণ হয়নি। এই প্রবণতা বন্ধ করতে হলে প্রয়োজন শক্তিশালী, জবাবদিহিমূলক গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান, অর্থনৈতিক বৈষম্য দূরীকরণ এবং সামরিক বাহিনীর উপর পূর্ণ বেসামরিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা।

Tags: দক্ষিণ এশিয়াদক্ষিণ এশিয়ার দেশসমূহে সামরিক হস্তক্ষেপের কারণ কি?সামরিক হস্তক্ষেপের কারণ
  • Previous পাকিস্তানের রাজনীতিতে সামরিক বাহিনী বারবার হস্তক্ষেপ করার কারণ কী?
  • Next দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে গণতন্ত্র রক্ষায় আমলাতন্ত্রের ভূমিকা মূল্যায়ন কর।
Read Aim

SUBSCRIBE

    JOB CIRCULAR

    • Media/Ads/Event Mngnt (145)
    • Medical/Pharmaceutical (123)
    • NGO/Organization (323)
    • Production/Operation (142)
    • Research/Consultancy (85)
    • Secretary/Receptionist (188)
    • Security/Support Service (99)
    • Others (59)

    LEARNING & EARNING

    • English Article
    • Bearded Dragon
    • Cats
    • Dogs
    • Guinea Pigs
    • Insurance
    • Lawyer
    • Rabbits
    • Earn Money Online
    • Others

    CATEGORIES

    • Computer (12)
    • DEGREE (4)
    • English Article (27)
    • GRAMMAR (138)
    • Health Tips (2)
    • Honours (1083)
    • Jobs (16)
    • Jobs Study (33)
    • News (1646)
    • PDF BOOK (78)

    RECENT POST

    বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যসমূহ আলোচনা কর।
    জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশে সৃষ্ট প্রভাব সম্পর্কে আলোচনা কর।
    বর্তমান বিশ্বে শরণার্থী সংকটের কারণগুলো আলোচনা কর।
    ভূ-রাজনীতি অধ্যয়নের গুরুত্ব ও তাৎপর্য আলোচনা কর।

    2025 All Rights Reserved readaim.com

    • Contact
    • About
    • Privacy
    • Blog
    • READ AIM