- readaim.com
- 0
উত্তর।।উপস্থাপনা:
১৯৫৬ সালের পাকিস্তানের সংবিধান ছিল দেশটির প্রথম লিখিত সংবিধান, যেখানে কেন্দ্র ও প্রদেশের মধ্যে ক্ষমতা বণ্টনের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ স্থান পায়। পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠা করা। এই সংবিধানে প্রদেশগুলোকে কিছু নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে নিজস্ব প্রশাসনিক ও আইন প্রণয়নের ক্ষমতা প্রদান করা হয়।
প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসনের পরিচয়:
শাব্দিক অর্থ: প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন শব্দটি তিনটি শব্দের সমন্বয়ে গঠিত। “প্রাদেশিক” অর্থ হলো প্রদেশ বা অঞ্চলের সঙ্গে সম্পর্কিত, “স্ব” অর্থ নিজস্ব এবং “শাসন” অর্থ পরিচালনা করা। তাই প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসনের শাব্দিক অর্থ হলো নিজস্ব ক্ষমতার মাধ্যমে একটি প্রদেশের শাসন পরিচালনা করা।
১৯৫৬ সালের সংবিধান অনুসারে প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন: ১৯৫৬ সালের পাকিস্তানের সংবিধান অনুযায়ী প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন বলতে বোঝায় এমন একটি ব্যবস্থা, যেখানে প্রদেশগুলোকে নিজস্ব আইনসভা ও সরকারের মাধ্যমে নির্দিষ্ট বিষয়ে প্রশাসনিক ও আইন প্রণয়নের ক্ষমতা প্রদান করা হয়। এই ব্যবস্থায় কেন্দ্রীয় সরকারের পাশাপাশি প্রাদেশিক সরকারও নিজস্ব দায়িত্ব ও ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে।
১৯৫৬ সালের সংবিধানে পাকিস্তানকে একটি ফেডারেল রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা করা হয় এবং কেন্দ্র ও প্রদেশের মধ্যে ক্ষমতা ভাগ করা হয়। তবে প্রতিরক্ষা, পররাষ্ট্র ও মুদ্রার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় কেন্দ্রের হাতে রাখা হয়। অন্যান্য কিছু বিষয়ে প্রদেশগুলোকে পরিচালনার সুযোগ দেওয়া হয়।
১৯৫৬ সালের সংবিধানে প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসনের বৈশিষ্ট্য:
১। প্রাদেশিক আইনসভা: ১৯৫৬ সালের সংবিধানে প্রতিটি প্রদেশের জন্য পৃথক আইনসভা গঠনের ব্যবস্থা করা হয়। প্রাদেশিক আইনসভা নিজস্ব এলাকার বিভিন্ন বিষয়ে আইন প্রণয়ন করতে পারত। এর মাধ্যমে প্রদেশের জনগণের প্রতিনিধিরা স্থানীয় সমস্যা ও প্রয়োজন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ পায়।
২। প্রাদেশিক মন্ত্রিসভা: এই সংবিধান অনুযায়ী প্রদেশে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে মন্ত্রিসভা গঠনের ব্যবস্থা করা হয়। প্রাদেশিক সরকার নিজ নিজ এলাকার প্রশাসন পরিচালনার দায়িত্ব পালন করত এবং জনগণের প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম গ্রহণ করতে পারত।
৩। ক্ষমতার বণ্টন: ১৯৫৬ সালের সংবিধানে কেন্দ্র ও প্রদেশের মধ্যে ক্ষমতা ভাগ করা হয়। যদিও কেন্দ্রের হাতে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো রাখা হয়েছিল, তবুও প্রদেশগুলোকে কিছু ক্ষেত্রে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দেওয়া হয়। এটি প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল।
৪। আঞ্চলিক উন্নয়নের সুযোগ: প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসনের মাধ্যমে প্রদেশগুলো নিজেদের স্থানীয় সমস্যা ও উন্নয়নের বিষয়গুলো গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করতে পারত। শিক্ষা, কৃষি, স্থানীয় প্রশাসনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রাদেশিক সরকারের ভূমিকা বৃদ্ধি পায়।
৫। সীমাবদ্ধ স্বায়ত্তশাসন: যদিও ১৯৫৬ সালের সংবিধানে প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসনের ব্যবস্থা করা হয়েছিল, তবে কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা তুলনামূলকভাবে বেশি ছিল। ফলে প্রদেশগুলোর স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ অনেক ক্ষেত্রে সীমিত ছিল।
উপসংহার: ১৯৫৬ সালের সংবিধান অনুসারে প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন বলতে প্রদেশগুলোকে নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে নিজস্ব সরকার ও আইনসভার মাধ্যমে পরিচালনার ক্ষমতা প্রদানকে বোঝায়। তবে কেন্দ্রের অধিক ক্ষমতার কারণে এই স্বায়ত্তশাসন পূর্ণাঙ্গ ছিল না। তবুও এটি বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলনের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হয়।