• Home
  • Class 0-12
  • Grammar
    • Bangla Grammar
    • English Grammar
    • Arabic Grammar
  • Computer
    • MS Word
  • Jobs Study
    • BCS
    • Bank
    • Primary
    • Govt. job
    • Nibandhon
    • Medical Admission
    • University Admission
    • Army/Police/BDR/Anchar
  • Jobs
  • News
  • Digital Tools
    • Home
    • Class 0-12
    • Grammar
      • Bangla Grammar
      • English Grammar
      • Arabic Grammar
    • Computer
      • MS Word
    • Jobs Study
      • BCS
      • Bank
      • Primary
      • Govt. job
      • Nibandhon
      • Medical Admission
      • University Admission
      • Army/Police/BDR/Anchar
    • Jobs
    • News
    • Digital Tools
Read Aim
Read Aim
  • Home
  • Class 0-12
  • Grammar
    • Bangla Grammar
    • English Grammar
    • Arabic Grammar
  • Computer
    • MS Word
  • Jobs Study
    • BCS
    • Bank
    • Primary
    • Govt. job
    • Nibandhon
    • Medical Admission
    • University Admission
    • Army/Police/BDR/Anchar
  • Jobs
  • News
  • Digital Tools
  • readaim.com
  • 0

প্রশ্ন:- কল্যাণ রাষ্ট্রের দার্শনিক ভিত্তি কী? ব্যাক্তিস্বাতন্ত্রবাদ ও সমাজতন্ত্রবাদের সাথে কল্যাণ রাষ্ট্রের সম্পর্ক দেখাও।

উত্তর::ভূমিকা: একটি কল্যাণ রাষ্ট্র হল এমন একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা যেখানে সরকার তার নাগরিকদের মৌলিক চাহিদা পূরণের দায়িত্ব নেয়, যেমন: শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক নিরাপত্তা, এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ নিশ্চিত করা। এর মূল লক্ষ্য হলো নাগরিকদের জীবনযাত্রার মান উন্নত করা এবং সমাজের মধ্যে সমতা ও ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠা করা।

কল্যাণ রাষ্ট্রের দার্শনিক ভিত্তি:-

কল্যাণ রাষ্ট্রের দার্শনিক ভিত্তি মূলত দুটি প্রধান ধারণার উপর দাঁড়িয়ে আছে: সামাজিক ন্যায়বিচার এবং মানবিক মর্যাদা। এই দুটি স্তম্ভই রাষ্ট্রের ভূমিকা নির্ধারণ করে।

১। সামাজিক ন্যায়বিচার:-সামাজিক ন্যায়বিচার মানে হলো সমাজের প্রতিটি সদস্যের জন্য সুযোগ ও সম্পদ বন্টনের ক্ষেত্রে একটি ন্যায্য ব্যবস্থা নিশ্চিত করা। দার্শনিক জন রলস তার বিখ্যাত ‘এ থিওরি অফ জাস্টিস’ (A Theory of Justice) গ্রন্থে এই ধারণাটিকে বিশেষভাবে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সমাজে সম্পদের অসম বন্টন তখনই গ্রহণযোগ্য হবে, যদি তা সবচেয়ে পিছিয়ে পড়া মানুষের জন্যও লাভজনক হয়। অর্থাৎ, ধনী ও শক্তিশালীরা যদি আরও সুবিধা পায়, তবে সেই সুবিধা থেকে গরিবরাও যেন বঞ্চিত না হয়। রলসের মতে, একটি ন্যায্য সমাজ গঠনের জন্য এমন কিছু মৌলিক অধিকার থাকা উচিত যা সকলের জন্য প্রযোজ্য এবং কারও কাছ থেকে কেড়ে নেওয়া যাবে না। কল্যাণ রাষ্ট্র এই আদর্শকে বাস্তবায়নের চেষ্টা করে, যেখানে সরকার শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ও সামাজিক নিরাপত্তার মতো সেবাগুলো সবার জন্য উন্মুক্ত করে।

২। মানবিক মর্যাদা: মানবিক মর্যাদা মানে হলো প্রতিটি মানুষের অন্তর্নিহিত মূল্য ও সম্মান। এর মূল কথা হলো, একজন মানুষ শুধু তার জন্ম, পেশা, বা সামাজিক অবস্থানের কারণে অন্য মানুষের চেয়ে কম মূল্যবান নয়। কল্যাণ রাষ্ট্র এই ধারণাকে গুরুত্ব দিয়ে থাকে। দার্শনিক ইমানুয়েল কান্ট (Immanuel Kant) মানব মর্যাদা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেছেন। তিনি মনে করেন, মানুষকে কোনো অবস্থাতেই শুধুমাত্র কোনো কিছুর মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়; বরং তাদের নিজস্ব উদ্দেশ্য হিসেবে গণ্য করা উচিত। অর্থাৎ, মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত করা রাষ্ট্রের নৈতিক দায়িত্ব। দারিদ্র্য, রোগ, বা বেকারত্বের মতো সমস্যাগুলো মানুষের মর্যাদাকে ক্ষুণ্ন করে। কল্যাণ রাষ্ট্র এই সমস্যাগুলো সমাধানের চেষ্টা করে যাতে কোনো নাগরিককে তার মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হতে না হয়।

৩। সম্মানজনক জীবন: কল্যাণ রাষ্ট্রের দার্শনিক ভিত্তি হলো সমাজের প্রতিটি মানুষের জন্য একটি সম্মানজনক জীবন নিশ্চিত করা। এটি শুধু অর্থনৈতিক উন্নয়নের বিষয় নয়, বরং মানবিক মূল্যবোধ এবং নৈতিকতারও একটি প্রশ্ন। যদিও কল্যাণ রাষ্ট্রের ধারণা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে, তবুও এটি একটি এমন রাষ্ট্রব্যবস্থা যা আধুনিক সমাজকে আরও মানবিক ও ন্যায়সঙ্গত করার পথে পরিচালিত করছে।

৪। নাগরিকদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক কল্যাণ: কল্যাণ রাষ্ট্র এমন একটি ব্যবস্থা যেখানে সরকার তার নাগরিকদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক কল্যাণের জন্য দায়বদ্ধ থাকে। এই ধারণাটি মূলত ব্যক্তিস্বাতন্ত্রবাদ ও সমাজতন্ত্রবাদের আদর্শের সমন্বয় ও সংঘাতের মধ্যে বিকশিত হয়েছে। ব্যক্তিস্বাতন্ত্রবাদ ব্যক্তি স্বাধীনতার ওপর জোর দিলেও কল্যাণ রাষ্ট্র তার সুরক্ষা নিশ্চিত করে, আবার সমাজতন্ত্রবাদের মূলনীতি অনুসরণ করে সমাজে সমতা আনে।

ব্যাক্তিস্বাতন্ত্রবাদ ও সমাজতন্ত্রবাদের সাথে কল্যাণ রাষ্ট্রের সম্পর্ক:-

১. ব্যক্তিস্বাতন্ত্রবাদ ও স্বাধীনতা: ব্যক্তিস্বাতন্ত্রবাদীরা মনে করেন, প্রতিটি ব্যক্তির নিজস্ব অধিকার ও স্বাধীনতা থাকা উচিত, এবং সরকার যেন তাতে হস্তক্ষেপ না করে। কল্যাণ রাষ্ট্র এই দৃষ্টিভঙ্গিকে সম্মান জানায় এবং ব্যক্তি স্বাধীনতার সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এটি নিশ্চিত করে যে প্রতিটি নাগরিকের জীবনধারণের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা যেমন শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও নিরাপত্তা থাকবে, যা তাদের ব্যক্তিগত উন্নতির পথ খুলে দেবে।

২. ব্যক্তিগত অধিকারের সুরক্ষা: ব্যক্তিস্বাতন্ত্রবাদ মানুষের মৌলিক অধিকার যেমন বাক-স্বাধীনতা, সম্পত্তির অধিকার এবং ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়। কল্যাণ রাষ্ট্র এই অধিকারগুলো নিশ্চিত করে এবং প্রয়োজনে আইনি সুরক্ষা প্রদান করে। এটি নাগরিকদের আর্থিক দুর্বলতা বা সামাজিক বৈষম্যের শিকার হওয়া থেকে রক্ষা করে, যাতে তারা স্বাধীনভাবে জীবন যাপন করতে পারে।

৩. বাজার অর্থনীতির ভূমিকা: ব্যক্তিস্বাতন্ত্রবাদের একটি মূল ভিত্তি হলো মুক্ত বাজার অর্থনীতি, যেখানে প্রতিযোগিতা ও ব্যক্তিগত উদ্যোগকে উৎসাহিত করা হয়। কল্যাণ রাষ্ট্র পুরোপুরি এই আদর্শের সঙ্গে একমত না হলেও, এটি বাজার অর্থনীতির কার্যকারিতাকে স্বীকৃতি দেয়। একই সাথে, এটি সমাজের দুর্বল অংশকে রক্ষা করার জন্য কিছু ব্যবস্থা গ্রহণ করে, যেমন বেকার ভাতা বা ন্যূনতম মজুরি, যাতে বাজার ব্যবস্থার নেতিবাচক প্রভাব হ্রাস পায়।

৪. সামাজিক সমতার ধারণা: সমাজতন্ত্রবাদের মূলনীতি হলো সমাজে অর্থনৈতিক ও সামাজিক বৈষম্য দূর করা। কল্যাণ রাষ্ট্র এই আদর্শ দ্বারা প্রভাবিত হয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করে, যেমন প্রগতিশীল কর ব্যবস্থা বা সকলের জন্য বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা, যাতে ধনী-গরীবের মধ্যেকার ব্যবধান কমে আসে। এটি নিশ্চিত করে যে সমাজের প্রতিটি সদস্যের জন্য সমান সুযোগ তৈরি হবে, যা কেবল ব্যক্তিগত প্রচেষ্টার উপর নির্ভরশীল নয়।

৫. সম্পদের সুষম বন্টন: সমাজতন্ত্রবাদীরা মনে করে, সমাজের সম্পদ কিছু নির্দিষ্ট ব্যক্তির হাতে কেন্দ্রীভূত না থেকে সবার মধ্যে ন্যায্যভাবে বন্টন হওয়া উচিত। কল্যাণ রাষ্ট্র এই নীতি অনুসরণ করে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরি করে, যেমন পেনশন বা অক্ষমতা ভাতা। এটি নিশ্চিত করে যে অর্থনৈতিক উন্নতির সুফল সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষ ভোগ করতে পারবে, এবং কোনো বিশেষ গোষ্ঠী সুবিধাবঞ্চিত থাকবে না।

৬. যৌথ কল্যাণের গুরুত্ব: সমাজতন্ত্রবাদ ব্যক্তিগত লাভের চেয়ে সামগ্রিক সমাজের কল্যাণের ওপর বেশি জোর দেয়। কল্যাণ রাষ্ট্র এই ধারণা গ্রহণ করে এমন কিছু ব্যবস্থা চালু করে যা পুরো সমাজকে উপকৃত করে, যেমন সর্বজনীন শিক্ষা ব্যবস্থা বা গণপরিবহন। এই ব্যবস্থাগুলো শুধু ব্যক্তিগত উন্নতি নয়, বরং একটি শক্তিশালী ও সংহত সমাজ গঠনেও সহায়তা করে।

৭. রাষ্ট্রের ভূমিকা ও হস্তক্ষেপ: সমাজতন্ত্রবাদের মতে, রাষ্ট্রের উচিত জনগণের কল্যাণের জন্য অর্থনীতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলোতে সক্রিয়ভাবে হস্তক্ষেপ করা। কল্যাণ রাষ্ট্র এই ধারণাকে বাস্তবায়ন করে বিভিন্ন নীতি ও আইনের মাধ্যমে, যা শ্রমিকের অধিকার রক্ষা করে, পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণ করে এবং জনস্বাস্থ্য নিশ্চিত করে। এই হস্তক্ষেপগুলো ব্যক্তিস্বাতন্ত্রবাদীদের কাছে কিছুটা বিতর্কের বিষয় হলেও, কল্যাণ রাষ্ট্রের কার্যকারিতার জন্য এগুলো অপরিহার্য।

৮. মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তের সুরক্ষা: কল্যাণ রাষ্ট্র ব্যবস্থা মূলত সমাজের দুর্বল এবং মধ্যবিত্ত শ্রেণিকে রক্ষা করার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। ব্যক্তিস্বাতন্ত্রবাদ যদিও ব্যক্তিগত দায়িত্বের ওপর জোর দেয়, কল্যাণ রাষ্ট্র স্বীকার করে যে অনেকে আর্থিক বা স্বাস্থ্যগত কারণে নিজেদের রক্ষা করতে সক্ষম হয় না। এই রাষ্ট্র ব্যবস্থা তাদের জন্য একটি নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরি করে যাতে তারা মৌলিক চাহিদা থেকে বঞ্চিত না হয়।

৯. শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার সার্বজনীনতা: ব্যক্তিস্বাতন্ত্রবাদীরা শিক্ষা ও স্বাস্থ্যকে ব্যক্তিগত বিনিয়োগ হিসেবে দেখতে পারে, কিন্তু কল্যাণ রাষ্ট্র এগুলিকে সকলের জন্য মৌলিক অধিকার হিসেবে দেখে। তাই এটি সবার জন্য সাশ্রয়ী বা বিনামূল্যে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করে, যা একটি সুস্থ ও শিক্ষিত জাতি গঠনে অপরিহার্য। এটি সামাজিক গতিশীলতা বাড়াতেও সহায়তা করে।

১০. সম্পত্তির অধিকার ও কর ব্যবস্থা: ব্যক্তিস্বাতন্ত্রবাদ ব্যক্তিগত সম্পত্তির অধিকারকে পরম অধিকার হিসেবে দেখে, কিন্তু কল্যাণ রাষ্ট্র এই অধিকারকে সমাজের বৃহত্তর কল্যাণের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ করার চেষ্টা করে। প্রগতিশীল কর ব্যবস্থার মাধ্যমে ধনী ব্যক্তিদের কাছ থেকে বেশি কর আদায় করে সেই অর্থ জনকল্যাণে ব্যয় করা হয়। এই ব্যবস্থাটি সমাজতন্ত্রবাদের সম্পদ বন্টনের আদর্শের সঙ্গে কিছুটা মিলে যায়।

১১. বেকারত্ব ও সামাজিক নিরাপত্তা: ব্যক্তিস্বাতন্ত্রবাদে বেকারত্বকে প্রায়শই ব্যক্তিগত ব্যর্থতা হিসেবে দেখা হয়, কিন্তু কল্যাণ রাষ্ট্র এটিকে একটি সামাজিক সমস্যা হিসেবে বিবেচনা করে। তাই এটি বেকার ভাতা, কর্মসংস্থান সহায়তা কর্মসূচি এবং অন্যান্য সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রদান করে যাতে কেউ আর্থিক দুর্দশার শিকার না হয়। এটি সমাজতন্ত্রবাদের মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির একটি প্রকাশ।

১২. বাজারের ব্যর্থতা মোকাবিলা: ব্যক্তিস্বাতন্ত্রবাদীরা মুক্ত বাজারের উপর আস্থা রাখে, কিন্তু কল্যাণ রাষ্ট্র স্বীকার করে যে বাজার সবসময় সবার জন্য ন্যায্য ফলাফল দেয় না। তাই সরকার জনস্বার্থে বাজারে হস্তক্ষেপ করে, যেমন একচেটিয়া ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করা বা ভোক্তা সুরক্ষা আইন প্রণয়ন করা। এই পদক্ষেপগুলো সমাজের দুর্বল অংশের স্বার্থ রক্ষা করে।

১৩. গণতন্ত্র ও অংশগ্রহণ: কল্যাণ রাষ্ট্র ব্যবস্থায় জনগণের অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ব্যক্তিস্বাতন্ত্রবাদ ব্যক্তি স্বাধীনতার ওপর জোর দেওয়ায়, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ব্যক্তিকে তার মতামত প্রকাশের সুযোগ দেয়। আবার সমাজতন্ত্রবাদ সাম্যের ওপর জোর দেওয়ায়, এই প্রক্রিয়া নিশ্চিত করে যে সমাজের সকল স্তরের মানুষের কণ্ঠস্বর শোনা যায়, যা একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক নীতি নির্ধারণে সহায়ক।

১৪. ঐতিহাসিক বিবর্তন ও সমন্বয়: আধুনিক কল্যাণ রাষ্ট্রগুলো কোনো একক মতাদর্শের ফল নয়, বরং ব্যক্তিস্বাতন্ত্রবাদ ও সমাজতন্ত্রবাদের মধ্যেকার দীর্ঘ বিতর্কের ফসল। প্রাথমিকভাবে শিল্প বিপ্লবের পর যখন শ্রমিকদের অবস্থা খারাপ হতে থাকে, তখন সমাজতান্ত্রিক ধারণাগুলো জনপ্রিয়তা লাভ করে। এর প্রতিক্রিয়ায়, অনেক রাষ্ট্র ব্যক্তিস্বাতন্ত্রবাদের মূলনীতি বজায় রেখেও জনগণের কল্যাণে মনোযোগী হয়, যা কল্যাণ রাষ্ট্রের জন্ম দেয়।

১৫. সামাজিক সংহতি ও সংঘাত: কল্যাণ রাষ্ট্র সামাজিক সংহতি তৈরি করতে সাহায্য করে। যখন সমাজের প্রতিটি সদস্যের মৌলিক চাহিদাগুলো পূরণ হয়, তখন অর্থনৈতিক বৈষম্য ও সামাজিক অসন্তোষ কমে আসে। এটি ব্যক্তিস্বাতন্ত্রবাদের ব্যক্তিগত সাফল্যের আকাঙ্ক্ষাকে সম্মান করে আবার সমাজতন্ত্রবাদের সামাজিক সংহতির ধারণাকেও সমর্থন করে, যা সমাজের ভেতরকার সংঘাত কমিয়ে আনতে সাহায্য করে।

১৬. নীতিগত নমনীয়তা: কল্যাণ রাষ্ট্রের অন্যতম একটি বৈশিষ্ট্য হলো এর নীতিগত নমনীয়তা। এটি নির্দিষ্ট কোনো আদর্শের কঠোর অনুসারী নয়, বরং প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যক্তিস্বাতন্ত্রবাদী ও সমাজতান্ত্রিক নীতির মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখে। উদাহরণস্বরূপ, এটি বাজার ব্যবস্থাকে উৎসাহিত করলেও সামাজিক বৈষম্য কমাতে কর ও ভর্তুকি ব্যবহার করে, যা একটি কার্যকরী এবং স্থিতিশীল ব্যবস্থা তৈরি করে।

১৭. প্রগতিশীল কর ব্যবস্থা: ব্যক্তিস্বাতন্ত্রবাদীরা করকে ব্যক্তিগত সম্পত্তির উপর হস্তক্ষেপ মনে করতে পারে, কিন্তু সমাজতন্ত্রবাদীরা এটিকে সামাজিক দায়িত্ব মনে করে। কল্যাণ রাষ্ট্র এই দুই ধারণার মাঝে সমন্বয় সাধন করে প্রগতিশীল কর ব্যবস্থা চালু করে, যেখানে আয়ের পরিমাণ বাড়লে করের হারও বাড়ে। এই পদ্ধতিটি সম্পদের পুনর্বন্টনে সাহায্য করে এবং সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করে।

উপসংহার: ব্যক্তিস্বাতন্ত্রবাদ এবং সমাজতন্ত্রবাদের আদর্শগত সংঘাত ও সমন্বয়ের ফল হলো কল্যাণ রাষ্ট্র। এটি ব্যক্তিস্বাতন্ত্রবাদের ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও উদ্যোগকে মর্যাদা দেয়, আবার সমাজতন্ত্রবাদের সামাজিক সমতা ও যৌথ কল্যাণের নীতিও গ্রহণ করে। কল্যাণ রাষ্ট্র প্রমাণ করে যে, ব্যক্তি ও সমাজের মধ্যেকার ভারসাম্য রক্ষা করা সম্ভব এবং একটি স্থিতিশীল সমাজ গঠনের জন্য উভয় আদর্শই অপরিহার্য। এটি একটি এমন ব্যবস্থা যা ব্যক্তিগত সাফল্যকে উৎসাহিত করে, কিন্তু একইসাথে নিশ্চিত করে যে সমাজের কোনো সদস্য যেন পিছিয়ে না থাকে।

একনজরে উত্তর দেখুন

১. ব্যক্তিস্বাতন্ত্রবাদ ও স্বাধীনতা ২. ব্যক্তিগত অধিকারের সুরক্ষা ৩. বাজার অর্থনীতির ভূমিকা ৪. সামাজিক সমতার ধারণা ৫. সম্পদের সুষম বন্টন ৬. যৌথ কল্যাণের গুরুত্ব ৭. রাষ্ট্রের ভূমিকা ও হস্তক্ষেপ ৮. মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তের সুরক্ষা ৯. শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার সার্বজনীনতা ১০. সম্পত্তির অধিকার ও কর ব্যবস্থা ১১. বেকারত্ব ও সামাজিক নিরাপত্তা ১২. বাজারের ব্যর্থতা মোকাবিলা ১৩. গণতন্ত্র ও অংশগ্রহণ ১৪. ঐতিহাসিক বিবর্তন ও সমন্বয় ১৫. সামাজিক সংহতি ও সংঘাত ১৬. নীতিগত নমনীয়তা ১৭. প্রগতিশীল কর ব্যবস্থা।

প্রশ্নটির গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

আধুনিক কল্যাণ রাষ্ট্রের ধারণা প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর থেকেই জনপ্রিয়তা লাভ করতে শুরু করে, বিশেষ করে ১৯২৯ সালের মহামন্দার পর। ১৯৪২ সালে ব্রিটিশ অর্থনীতিবিদ উইলিয়াম বেভারিজের ‘বেভারিজ রিপোর্ট’ একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হয়, যা আধুনিক কল্যাণ রাষ্ট্রের রূপরেখা তৈরি করে। এটি ” cradle to grave” অর্থাৎ জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত সামাজিক নিরাপত্তা প্রদানের প্রতিশ্রুতি দেয়। ১৯৪৭ সালে ব্রিটেনে ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস (NHS) প্রতিষ্ঠা এর একটি বড় উদাহরণ। স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশগুলো, যেমন সুইডেন ও ডেনমার্ক, তাদের শক্তিশালী কল্যাণ রাষ্ট্রের জন্য পরিচিত। এই দেশগুলোতে উচ্চ করের বিনিময়ে নাগরিকদের জন্য বিনামূল্যে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও অন্যান্য সামাজিক সুবিধা নিশ্চিত করা হয়, যা সামাজিক সমতা প্রতিষ্ঠায় সহায়ক। তবে ১৯৯০-এর দশক থেকে বিশ্বব্যাপী উদারীকরণ এবং মুক্তবাজার অর্থনীতির প্রসারের কারণে অনেক কল্যাণ রাষ্ট্রেই কিছু কিছু সুবিধা হ্রাস পেয়েছে।

  • Previous সমাজকল্যাণের বিকাশে প্রধান প্রধান ধর্মের অবদান আলোচনা কর।
  • Next “শিল্প বিপ্লব অবিমিশ্র আশীর্বাদ নয়” – উক্তিটির যথার্থতা নিরূপণ কর।
Read Aim

SUBSCRIBE

    JOB CIRCULAR

    • Media/Ads/Event Mngnt (145)
    • Medical/Pharmaceutical (123)
    • NGO/Organization (323)
    • Production/Operation (142)
    • Research/Consultancy (85)
    • Secretary/Receptionist (188)
    • Security/Support Service (99)
    • Others (59)

    LEARNING & EARNING

    • English Article
    • Bearded Dragon
    • Cats
    • Dogs
    • Guinea Pigs
    • Insurance
    • Lawyer
    • Rabbits
    • Earn Money Online
    • Others

    CATEGORIES

    • Computer (12)
    • DEGREE (4)
    • English Article (27)
    • GRAMMAR (138)
    • Health Tips (2)
    • Honours (1083)
    • Jobs (16)
    • Jobs Study (33)
    • News (1336)
    • PDF BOOK (78)

    RECENT POST

    উত্তর আধুনিকতাবাদের উদ্ভব ও ক্রমবিকাশ আলোচনা কর।
    উত্তর আধুনিকতাবাদের বৈশিষ্ট্যসমূহ আলোচনা কর।
    সেন্ট সাইমন ও রবার্ট ওয়েনের কাল্পনিক সমাজতন্ত্রের রূপরেখা বিশ্লেষণ কর।
    কাল্পনিক ও বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রের মধ্যে একটি তুলনামূলক আলোচনা কর।

    2025 All Rights Reserved readaim.com

    • Contact
    • About
    • Privacy
    • Blog
    • READ AIM