- readaim.com
- 0
উত্তর।।উপস্থাপনা: বিংশ শতাব্দীর শেষভাগে বৈশ্বিক রাজনীতিতে এক অভূতপূর্ব পরিবর্তন ঘটে, যা রাষ্ট্রবিজ্ঞানীদের কাছে গণতন্ত্রের ‘তৃতীয় ঢেউ’ বা ‘Third Wave of Democracy’ নামে পরিচিত। মার্কিন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী স্যামুয়েল পি. হান্টিংটন এই ধারণার প্রবক্তা। ১৯৭৪ সালে পর্তুগালের ‘কার্নেশন বিপ্লব’-এর মাধ্যমে শুরু হওয়া এই ঢেউ নব্বইয়ের দশক পর্যন্ত স্থায়ী হয়। এই সময়ে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে একনায়কতন্ত্র ও সামরিক শাসনের অবসান ঘটে এবং বিপুল সংখ্যক রাষ্ট্রে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার এক বৈপ্লবিক পুনরুত্থান ঘটে।
১। পর্তুগালের কার্নেশন বিপ্লব: ১৯৭৪ সালের ২৫শে এপ্রিল পর্তুগালে একটি রক্তহীন সামরিক অভ্যুত্থান ঘটে, যা কার্নেশন বিপ্লব নামে পরিচিত। এই বিপ্লবের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের সালাজার-ক্যাetano একনায়কতান্ত্রিক শাসনের অবসান ঘটে। এটি ছিল বিশ্বব্যাপী গণতন্ত্রের তৃতীয় ঢেউয়ের আনুষ্ঠানিক সূচনা বিন্দু। এই ঘটনা ইউরোপের অন্যান্য একনায়কতান্ত্রিক দেশের জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করে। এর ফলে দেশে দ্রুত বহুদলীয় শাসন ব্যবস্থা এবং নাগরিক স্বাধীনতা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়।
২। গ্রিসের গণতন্ত্রে প্রত্যাবর্তন: ১৯৭৪ সালে পর্তুগালের পরপরই গ্রিসে দীর্ঘদিনের সামরিক জান্তা শাসনের পতন ঘটে। সাইপ্রাস সংকটের জের ধরে সামরিক বাহিনী ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হলে কারামানলিস দেশে ফিরে আসেন। তিনি একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করে দেশে পুনরায় বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেন। একটি সফল গণভোটের মাধ্যমে গ্রিসকে প্রজাতন্ত্র হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এই ঘটনাটি ইউরোপে তৃতীয় ঢেউয়ের গতিকে আরও বেগবান ও সুসংহত করেছিল।
৩। স্পেনের গণতান্ত্রিক রূপান্তর: ১৯৭৫ সালে দীর্ঘদিনের স্বৈরশাসক জেনারেল ফ্রান্সিসকো ফ্রাঙ্কোর মৃত্যুর পর স্পেনে গণতন্ত্রের পথ সুগম হয়। যুবরাজ হুয়ান কার্লোস সিংহাসনে আরোহণ করে দেশে রাজনৈতিক সংস্কারের সূচনা করেন। সমস্ত প্রধান রাজনৈতিক দলকে বৈধতা দেওয়া হয় এবং ১৯৭৭ সালে মুক্ত নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। স্পেনের এই শান্তিপূর্ণ রূপান্তরকে সংঘাতহীন গণতান্ত্রিক উত্তরণের একটি আদর্শ মডেল হিসেবে গণ্য করা হয়। এটি বিশ্বজুড়ে স্বৈরাচারী শাসকদের জন্য একটি বড় বার্তা ছিল।
৪। ল্যাটিন আমেরিকার জাগরণ: আশির দশকে ল্যাটিন আমেরিকার দেশগুলোতে স্বৈরশাসনের অবসান ঘটতে শুরু করে। আর্জেন্টিনার ফকল্যান্ড যুদ্ধে পরাজয়ের পর ১৯৮৩ সালে সেখানে সামরিক জান্তার পতন ঘটে। পরবর্তীতে ব্রাজিল, উরুগুয়ে এবং চিলিতে দীর্ঘদিনের সামরিক একনায়কতন্ত্রের অবসান ঘটে এবং বেসামরিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়। এই অঞ্চলের দেশগুলো ব্যালটের মাধ্যমে তাদের নেতা নির্বাচন করার অধিকার ফিরে পায়। ফলে সমগ্র দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশে স্বৈরাচারী ব্যবস্থার পরিবর্তে নতুন গণতান্ত্রিক হাওয়া বইতে শুরু করে।
৫। সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন: ১৯৮৯ থেকে ১৯৯১ সালের মধ্যে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন তৃতীয় ঢেউয়ের সবচেয়ে বড় ঘটনা। মিখাইল গর্বাচেভের ‘গ্লাসনস্ত’ বা উন্মুক্ততা এবং ‘পেরেস্ত্রোইকা’ বা পুনর্গঠন নীতি এই পতনকে ত্বরান্বিত করে। এর ফলে সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে ১৫টি স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্ম হয়। এই নতুন রাষ্ট্রগুলোর প্রায় সবকটিতেই সাম্যবাদের অবসান ঘটে। পরবর্তীতে তারা পুঁজিবাদী অর্থনীতি ও প্রাতিষ্ঠানিক গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা গ্রহণ করার প্রক্রিয়া শুরু করে।
৬। পূর্ব ইউরোপের বিপ্লব: ১৯৮৯ সালে পূর্ব ইউরোপের পোল্যান্ড, হাঙ্গেরি, পূর্ব জার্মানি, চেকোস্লোভাকিয়া এবং রোমানিয়ায় সাম্যবাদী শাসনের পতন ঘটে। বার্লিন প্রাচীর ভেঙে ফেলার ঘটনা ছিল এই বিপ্লবের এক ঐতিহাসিক প্রতীক। মানুষ রাস্তায় নেমে এসে বছরের পর বছর ধরে চলা একদলীয় শাসনের অবসান ঘটায়। কোনো বড় ধরনের রক্তপাত ছাড়াই এই দেশগুলো সমাজতন্ত্র থেকে গণতন্ত্রে রূপান্তরিত হয়। এটি বিশ্ব রাজনীতিতে শক্তির ভারসাম্য সম্পূর্ণভাবে বদলে দেয়।
৭। এশিয়ার গণতান্ত্রিক আন্দোলন: আশির দশকের শেষের দিকে এশিয়ার বেশ কয়েকটি দেশে শক্তিশালী গণতান্ত্রিক আন্দোলন গড়ে ওঠে। ১৯৮৬ সালে ফিলিপাইনে ‘পিপল পাওয়ার মুভমেন্ট’-এর মাধ্যমে স্বৈরশাসক ফার্দিনান্দ মার্কোসের পতন ঘটে। দক্ষিণ কোরিয়ায় ১৯৮৭ সালে গণ-বিক্ষোভের মুখে সামরিক সরকার অবাধ প্রেসিডেন্ট নির্বাচন দিতে বাধ্য হয়। বাংলাদেশেও ১৯৯০ সালে দীর্ঘস্থায়ী সামরিক স্বৈরশাসনের পতন ঘটে এবং সংসদীয় গণতন্ত্রের পুনরুত্থান হয়। এই ঘটনাগুলো প্রমাণ করে যে গণতন্ত্রের আকাঙ্ক্ষা কেবল পাশ্চাত্যে সীমাবদ্ধ ছিল না।
৮। বর্ণবাদের অবসান: দক্ষিণ আফ্রিকায় দীর্ঘদিনের প্রাতিষ্ঠানিক বর্ণবাদী শাসনের অবসান তৃতীয় ঢেউয়ের অন্যতম শ্রেষ্ঠ অর্জন। ১৯৯০ সালে আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেসের নেতা নেলসন ম্যান্ডেলা দীর্ঘ ২৭ বছর পর কারামুক্ত হন। ১৯৯৪ সালে দেশে প্রথম সব বর্ণের মানুষের অংশগ্রহণে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ম্যান্ডেলা প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়ে একটি বহুত্ববাদী গণতান্ত্রিক দক্ষিণ আফ্রিকা গড়ে তোলেন। এই ঘটনাটি আফ্রিকার অন্যান্য দেশের জন্য গণতন্ত্রের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে।
৯। অর্থনৈতিক সংকটের প্রভাব: সত্তর ও আশির দশকের বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকট স্বৈরাচারী সরকারগুলোর পতনকে ত্বরান্বিত করেছিল। ঋণ সংকট এবং তীব্র মুদ্রাস্ফীতির কারণে একনায়কতান্ত্রিক শাসকেরা জনগণের মৌলিক চাহিদা মেটাতে ব্যর্থ হয়। কর্মসংস্থান হ্রাস এবং জীবনযাত্রার মান কমে যাওয়ায় সরকারের ওপর জনগণের ক্ষোভ বাড়ে। এই অর্থনৈতিক ব্যর্থতা স্বৈরাচারী শাসকদের বৈধতা সম্পূর্ণভাবে নষ্ট করে দেয়। ফলে বাধ্য হয়ে তারা ক্ষমতা ছাড়তে বা সংস্কার করতে বাধ্য হয়।
১০। ক্যাথলিক চার্চের ভূমিকা: গণতন্ত্রের তৃতীয় ঢেউয়ে রোমান ক্যাথলিক চার্চ এবং পোপ দ্বিতীয় জন পলের ভূমিকা ছিল অনন্য। পোপ পোল্যান্ডসহ বিভিন্ন স্বৈরাচারী দেশের সফর করে মানবাধিকার ও স্বাধীনতার পক্ষে জোরালো বক্তব্য দেন। চার্চ স্থানীয় পর্যায়ে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনকারীদের আশ্রয় এবং নৈতিক সমর্থন প্রদান করেছিল। ল্যাটিন আমেরিকা এবং ফিলিপাইনে চার্চ সরাসরি জনগণের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে শরিক হয়। এর ফলে দমনপীড়নের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের মাঝে এক বিশাল প্রতিরোধ গড়ে ওঠে।
১১। যোগাযোগ প্রযুক্তির উন্নয়ন: বিংশ শতাব্দীর শেষভাগে স্যাটেলাইট টেলিভিশন, ফ্যাক্স এবং আন্তর্জাতিক রেডিওর বিস্তার ঘটে। এর ফলে এক দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের খবর দ্রুত অন্য দেশে ছড়িয়ে পড়ত। স্বৈরাচারী শাসকেরা আগের মতো তথ্য সম্পূর্ণভাবে সেন্সর বা চেপে রাখতে পারছিল না। ফিলিপাইন বা পূর্ব বার্লিনের বিক্ষোভের ছবি দেখে অন্য দেশের মানুষও অনুপ্রাণিত হয়েছিল। এই তথ্যপ্রযুক্তির বিপ্লব স্বৈরাচারী ব্যবস্থার অভ্যন্তরীণ দুর্বলতা বিশ্ববাসীর সামনে উন্মোচন করে দেয়।
১২। মানবাধিকারের আন্তর্জাতিকীকরণ: এই সময়ে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে মানবাধিকার রক্ষা একটি প্রধান শর্ত হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। জাতিসংঘ এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা স্বৈরাচারী দেশগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করতে শুরু করে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মতো সংস্থাগুলো বন্দি মুক্তি ও নাগরিক অধিকারের পক্ষে বিশ্বজুড়ে জনমত গঠন করে। পশ্চিমা দেশগুলো সাহায্য ও বাণিজ্যের ক্ষেত্রে গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখার শর্ত জুড়ে দেয়। ফলে স্বৈরাচারী শাসকেরা আন্তর্জাতিকভাবে চরম একাকীত্ব বোধ করতে শুরু করে।
১৩। আমেরিকার নীতি পরিবর্তন: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তার পররাষ্ট্র নীতিতে স্বৈরশাসকদের অন্ধ সমর্থন দেওয়া বন্ধ করে। স্নায়ুযুদ্ধের সমাপ্তির দিকে আসায় আমেরিকার কাছে স্বৈরশাসকদের ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্ব কমে যায়। তারা বিভিন্ন দেশে মুক্ত বাজার অর্থনীতি এবং বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পক্ষে অবস্থান নেয়। ল্যাটিন আমেরিকা এবং এশিয়ায় আমেরিকার এই নীতি পরিবর্তনের ফলে স্বৈরাচারী শাসকেরা তাদের প্রধান আন্তর্জাতিক পৃষ্ঠপোষককে হারায়। এটি তাদের ক্ষমতা ধরে রাখার পথকে অত্যন্ত কঠিন করে তোলে।
১৪। নাগরিক সমাজের বিকাশ: এই ঢেউয়ের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি ছিল বিভিন্ন দেশে স্বাধীন নাগরিক সমাজের উত্থান। পেশাজীবী সংগঠন, ছাত্র ইউনিয়ন, স্বাধীন গণমাধ্যম এবং শ্রমিক সংগঠনগুলো স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয়। তারা সাধারণ মানুষকে অধিকার সচেতন করে তোলে এবং আন্দোলনের জন্য সংগঠিত করে। পোল্যান্ডের ‘সলিডারিটি’ আন্দোলন ছিল এর একটি অন্যতম উজ্জ্বল এবং সফল উদাহরণ। এই নাগরিক সমাজই পরবর্তীতে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনের মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।
১৫। নির্বাচনী ব্যবস্থার সংস্কার: তৃতীয় ঢেউয়ের সময়ে রাষ্ট্রগুলোতে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের ওপর সর্বোচ্চ জোর দেওয়া হয়। স্বাধীন নির্বাচন কমিশন গঠন এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতি নিশ্চিত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়। ব্যালট বাক্সের মাধ্যমে ক্ষমতার শান্তিপূর্ণ হস্তান্তরের সংস্কৃতি বিশ্বব্যাপী গ্রহণযোগ্যতা লাভ করে। মানুষ বুঝতে পারে যে ভোটের মাধ্যমেই সরকারের পরিবর্তন করা সম্ভব। এই বিশ্বাস নির্বাচনী ব্যবস্থার প্রতি জনগণের আস্থা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
১৬। আঞ্চলিক সংস্থাগুলোর চাপ: ইউরোপীয় ইউনিয়ন বা ওএএস-এর মতো আঞ্চলিক সংস্থাগুলো গণতন্ত্র প্রসারে ভূমিকা রাখে। ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগদানের শর্ত হিসেবে দক্ষিণ ও পূর্ব ইউরোপের দেশগুলোকে গণতান্ত্রিক মানদণ্ড পূরণ করতে হয়েছিল। অর্থনৈতিক সুবিধা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার লোভে এই দেশগুলো দ্রুত নিজেদের শাসন ব্যবস্থাকে গণতান্ত্রিক করে তোলে। আঞ্চলিক এই চাপ দেশগুলোকে পুনরায় স্বৈরাচারী ব্যবস্থায় ফিরে যাওয়া থেকে কঠোরভাবে বিরত রাখে।
১৭। সামরিক বাহিনীর পেশাদারিত্ব: এই যুগে সামরিক বাহিনী রাজনৈতিক ক্ষমতা লোভ ত্যাগ করে ব্যারাকে ফিরে যেতে শুরু করে। বিশ্বব্যাপী সামরিক অভ্যুত্থানের গ্রহণযোগ্যতা এবং বৈধতা একদম শূন্যের কোঠায় নেমে আসে। অনেক দেশের সামরিক কর্মকর্তারা বুঝতে পারেন যে দেশ চালানো তাদের পেশাদারিত্বকে নষ্ট করছে। ফলে তারা বেসামরিক নেতৃত্বের অধীনে কাজ করতে সম্মত হয় এবং রাজনৈতিক ক্ষমতা ছেড়ে দেয়। সামরিক বাহিনীর এই ইতিবাচক রূপান্তর গণতান্ত্রিক স্থিতিশীলতা অর্জনে অত্যন্ত সহায়ক হয়েছিল।
শেষকথা: গণতন্ত্রের তৃতীয় ঢেউ বিংশ শতাব্দীর বিশ্ব রাজনীতির মানচিত্রকে আমূল বদলে দিয়েছিল। এর ফলে বিশ্বের অর্ধেকেরও বেশি দেশে মানুষের মৌলিক অধিকার এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠিত হয়। যদিও পরবর্তী সময়ে কিছু দেশে এই গণতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেতে নানাবিধ সংকটের মুখোমুখি হয়েছে, তবুও স্বৈরাচার থেকে মুক্তির ক্ষেত্রে এই ঢেউ ছিল মানব ইতিহাসের অন্যতম সফল ও গৌরবময় অধ্যায়।