- readaim.com
- 0
উত্তর।।উপস্থাপনা: ১৯৭৫ সালের ২৫শে জানুয়ারি জাতীয় সংসদে পাস হওয়া বাংলাদেশের সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনী ছিল দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও দূরগামী ঘটনা। এই সংশোধনীর মাধ্যমে দেশের বিদ্যমান শাসনব্যবস্থা ও রাজনৈতিক কাঠামোতে এক আমূল পরিবর্তন আনা হয়। মূলত যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের তৎকালীন বিশেষ পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং রাজনৈতিক স্থায়িত্ব আনার লক্ষ্যে এই ঐতিহাসিক পদক্ষেপটি গ্রহণ করা হয়েছিল।
সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীর মূল বৈশিষ্ট্যসমূহ
১। রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার: এই সংশোধনীর মাধ্যমে বাংলাদেশে প্রচলিত সংসদীয় পদ্ধতির সরকারব্যবস্থা বাতিল করে একক সর্বময় ক্ষমতাসম্পন্ন রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়। এর ফলে রাষ্ট্রপতির হাতে দেশের শাসন বিভাগের চূড়ান্ত ও একচ্ছত্র ক্ষমতা অর্পণ করা হয়। প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভা তাদের কাজের জন্য সংসদের পরিবর্তে সম্পূর্ণভাবে রাষ্ট্রপতির কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য থাকতেন। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে রাষ্ট্রপ্রধানই সরকারের প্রকৃত নীতি-নির্ধারক ও প্রধান চালিকাশক্তিতে পরিণত হন।
২। একদলীয় রাজনৈতিক ব্যবস্থা: সংশোধনীর সবচেয়ে আলোচিত বৈশিষ্ট্য ছিল দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্রের অবসান ঘটিয়ে একটিমাত্র জাতীয় রাজনৈতিক দল গঠনের বিধান রাখা। এর ফলে তৎকালীন রাষ্ট্রপতিকে ‘জাতীয় দল’ গঠনের একক ক্ষমতা দেওয়া হয় এবং অন্য সব রাজনৈতিক দল স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিষিদ্ধ হয়ে যায়। সরকারি চাকরিজীবীসহ দেশের সব স্তরের নাগরিকদের এই একটিমাত্র রাজনৈতিক দলে যোগদানের সুযোগ রাখা হয়েছিল। এই ব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্য ছিল রাজনৈতিক মতভেদ দূর করে জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলা।
৩। বাকশালের আত্মপ্রকাশ: চতুর্থ সংশোধনীর ওপর ভিত্তি করে পরবর্তীতে ‘বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ’ বা সংক্ষেপে ‘বাকশাল’ নামক একক জাতীয় দল গঠন করা হয়। এই নতুন রাজনৈতিক কাঠামোর অধীনে দেশের সমস্ত রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড এককভাবে পরিচালিত হতে শুরু করে। বাকশালের বাইরে কোনো ধরনের রাজনৈতিক কার্যক্রম বা দলীয় প্রচারণা চালানো সম্পূর্ণ বেআইনি ঘোষণা করা হয়। এই ব্যবস্থাটি দেশের সমগ্র শাসন ও রাজনৈতিক প্রক্রিয়াকে একটি একক প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসে।
৪। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা খর্ব: এই সংশোধনীর মাধ্যমে বাংলাদেশের বিচার বিভাগের সনাতন স্বাধীনতা ও স্বায়ত্তশাসন ব্যাপকভাবে সংকুচিত ও খর্ব করা হয়। সুপ্রিম কোর্টের বিচারকদের অভিশংসন বা অপসারণের ক্ষমতা জাতীয় সংসদের হাত থেকে সরাসরি রাষ্ট্রপতির একক ইচ্ছার ওপর ন্যস্ত করা হয়। এর ফলে বিচার বিভাগ অনেকাংশে নির্বাহী বিভাগের অধীনস্থ একটি প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়। বিচারকদের কার্যকাল ও চাকরির সুরক্ষার বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে রাষ্ট্রপতির সন্তুষ্টির ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে।
৫। অধস্তন আদালত নিয়ন্ত্রণ: দেশের জেলা ও দায়রা আদালতসহ অন্যান্য সকল নিম্ন বা অধস্তন আদালতের নিয়ন্ত্রণ ও সুপ্রিমেসি সম্পূর্ণভাবে রাষ্ট্রপতির হাতে ন্যস্ত করা হয়। পূর্বে এই আদালতগুলোর নিয়োগ, পদোন্নতি ও শৃঙ্খলা বিধানের ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্টের যে পরামর্শ ও নিয়ন্ত্রণ ছিল, তা বাতিল করা হয়। রাষ্ট্রপতি নিজের বিবেচনা অনুযায়ী এই আদালতগুলোর বিচারক নিয়োগ ও বদলির সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকারী হন। এর ফলে মাঠ পর্যায়ের বিচারব্যবস্থায় নির্বাহী বিভাগের প্রত্যক্ষ প্রভাব প্রতিষ্ঠিত হয়।
৬। মৌলিক অধিকার স্থগিত: নাগরিকদের মৌলিক অধিকার বলবৎ করার জন্য সুপ্রিম কোর্টে মামলা করার যে সাংবিধানিক অধিকার ছিল, তা এই সংশোধনীর মাধ্যমে কেড়ে নেওয়া হয়। সংবিধানের ৪৪ অনুচ্ছেদ সংশোধন করে মৌলিক অধিকার রক্ষায় আদালতের হস্তক্ষেপ করার ক্ষমতা সম্পূর্ণভাবে বাতিল করা হয়। এর ফলে নাগরিকরা তাদের মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হলেও আদালতের কাছে কোনো আইনি প্রতিকার চাইতে পারতেন না। এই বিধানটি রাষ্ট্রকে নাগরিকদের অধিকারের ওপর একচ্ছত্র কর্তৃত্ব প্রদান করে।
৭। সংবাদপত্রের স্বাধীনতা হরণ: এই সংশোধনীর পর দেশে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা চরমভাবে সংকুচিত করা হয় এবং সরকারি নিয়ন্ত্রণ জোরদার করা হয়। সরকার অনুমোদিত মাত্র চারটি দৈনিক পত্রিকা বাদে বাকি সব সংবাদপত্র ও সাময়িকীর প্রকাশনা সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। তথ্য প্রবাহ ও জনমত গঠনের মাধ্যমগুলোকে কঠোরভাবে রাষ্ট্রীয় সেন্সরশিপের আওতায় নিয়ে আসা হয়। স্বাধীন সাংবাদিকতা এবং সরকারের সমালোচনা করার সুযোগ এর ফলে পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।
৮। রাষ্ট্রপতির অভিশংসন কঠিন: সংশোধনীর মাধ্যমে রাষ্ট্রপতিকে পদ থেকে অপসারণ বা অভিশংসন করার প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত জটিল ও কঠিন করে তোলা হয়। রাষ্ট্রপতিকে অপসারণ করতে হলে জাতীয় সংসদের মোট সদস্য সংখ্যার তিন-চতুর্থাংশ বা ৭৫ শতাংশ ভোটের আধিক্য বাধ্যতামূলক করা হয়। এর ফলে সংসদে সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলেও রাষ্ট্রপতিকে পদচ্যুত করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। এই বিধানটি রাষ্ট্রপতির পদকে অত্যন্ত সুরক্ষিত ও দীর্ঘস্থায়ী করার আইনি ভিত্তি প্রদান করে।
৯। জাতীয় সংসদের মেয়াদ বৃদ্ধি: এই সংশোধনীর মাধ্যমে তৎকালীন প্রথম জাতীয় সংসদের কার্যকাল বা মেয়াদ আরও পাঁচ বছরের জন্য বৃদ্ধি করার বিশেষ আইনি বিধান রাখা হয়। এর ফলে পূর্বনির্ধারিত সময়ে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠান করার বাধ্যবাধকতা সাময়িকভাবে স্থগিত হয়ে যায়। দেশের তৎকালীন বিশেষ ও সংকটময় পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে এই মেয়াদ বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। এই পদক্ষেপের ফলে তৎকালীন আইনসভা নতুন রাজনৈতিক ব্যবস্থার অধীনে কাজ করার সুযোগ পায়।
১০। সংসদের ক্ষমতা হ্রাস: আইন প্রণয়ন এবং সরকারি নীতি নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে জাতীয় সংসদের যে সার্বভৌম ক্ষমতা ছিল, তা এই সংশোধনীর মাধ্যমে উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পায়। রাষ্ট্রপতির সিদ্ধান্ত বা অধ্যাদেশের ওপর সংসদের কার্যকর নিয়ন্ত্রণ কিংবা ভেটো দেওয়ার ক্ষমতা সংকুচিত করা হয়। সংসদ মূলত একটি আনুষ্ঠানিক সংস্থায় পরিণত হয় এবং এর অধিবেশন ডাকার বিষয়ে রাষ্ট্রপতির একক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়। ফলে রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণে আইনসভার ভূমিকা গৌণ হয়ে পড়ে।
১১। উপরাষ্ট্রপতির পদ সৃষ্টি: শাসনকার্যে রাষ্ট্রপতিকে সহায়তা প্রদান এবং রাষ্ট্রপতির অনুপস্থিতিতে দায়িত্ব পালনের জন্য ‘উপরাষ্ট্রপতি’ নামক একটি নতুন পদের সৃষ্টি করা হয়। রাষ্ট্রপতি নিজের পছন্দানুযায়ী যেকোনো ব্যক্তিকে এই পদে নিয়োগ দিতে পারতেন এবং তাকে পদচ্যুত করার ক্ষমতাও রাষ্ট্রপতির ছিল। উপরাষ্ট্রপতি সম্পূর্ণভাবে রাষ্ট্রপতির নির্দেশ ও সন্তুষ্টি অনুযায়ী তার রাষ্ট্রীয় কার্যাবলি সম্পাদন করতেন। এই পদটি রাষ্ট্রীয় প্রশাসনের শীর্ষ স্তরে ক্ষমতার একটি নতুন স্তর যুক্ত করে।
১২। প্রধানমন্ত্রী পদের মর্যাদা হ্রাস: সংসদীয় ব্যবস্থার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা প্রধানমন্ত্রী পদের গুরুত্ব ও মর্যাদা এই সংশোধনীর মাধ্যমে ব্যাপকভাবে কমিয়ে দেওয়া হয়। নতুন ব্যবস্থায় প্রধানমন্ত্রীকে মন্ত্রিসভার প্রধান বা সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী না করে কেবল রাষ্ট্রপতির একজন প্রধান সহকারী হিসেবে গণ্য করা হয়। রাষ্ট্রপতি নিজের ইচ্ছামতো প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ ও বরখাস্ত করার একক ক্ষমতা লাভ করেন। ফলে সরকারের সমস্ত প্রশাসনিক ফাইল ও নীতিগত সিদ্ধান্ত সরাসরি রাষ্ট্রপতির কার্যালয় থেকে নিয়ন্ত্রিত হতো।
১৩। স্থানীয় সরকার পরিবর্তন: দেশের তৃণমূল পর্যায়ের প্রশাসনিক ও স্থানীয় সরকার কাঠামোতেও এই সংশোধনীর মাধ্যমে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়। ঐতিহ্যবাহী মহকুমাগুলোকে জেলায় রূপান্তরিত করে সেখানে ‘জেলা গভর্নর’ নামক একটি নতুন প্রশাসনিক পদের সৃষ্টি করা হয়। এই গভর্নরদের সরাসরি রাষ্ট্রপতি কর্তৃক মনোনীত ও নিয়োগ দেওয়ার বিধান রাখা হয়। এর ফলে স্থানীয় সায়ত্তশাসনের পরিবর্তে কেন্দ্র থেকে সরাসরি আমলাতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ জেলা পর্যায়ে প্রতিষ্ঠিত হয়।
১৪। নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতা সংকুচিত: দেশের সাধারণ নির্বাচন ও উপ-নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে থাকা নির্বাচন কমিশনের স্বাধীন কার্যপরিধি এই সংশোধনীর মাধ্যমে কিছুটা সীমিত করা হয়। জাতীয় দলের একক প্রার্থী মনোনয়ন ব্যবস্থার কারণে কমিশনের নির্বাচন ব্যবস্থাপনার চিরাচরিত ধরনে পরিবর্তন আসে। রাষ্ট্রপতি এবং একক জাতীয় দলের সিদ্ধান্তের বাইরে স্বাধীনভাবে নির্বাচন আয়োজনের সুযোগ সংকুচিত হয়ে পড়ে। এর ফলে নির্বাচনী প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণভাবে রাষ্ট্রীয় কাঠামোর একটি অংশ হিসেবে পরিচালিত হতে থাকে।
১৫। সরকারি চাকুরিজীবীদের রাজনীতি: পূর্বে সরকারি কর্মকর্তাদের রাজনীতিতে অংশগ্রহণের ওপর যে কঠোর নিষেধাজ্ঞা ছিল, তা এই সংশোধনীর মাধ্যমে শিথিল করা হয়। নতুন বিধান অনুযায়ী সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের একক জাতীয় দল বা বাকশালে যোগদানের পথ উন্মুক্ত করা হয়। রাষ্ট্রীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতৃত্বকে একই ছাতার নিচে এনে সমন্বিতভাবে কাজ করার জন্য এই পরিবর্তন আনা হয়েছিল। এর ফলে সিভিল প্রশাসন ও রাজনৈতিক দলের মধ্যে একটি প্রত্যক্ষ প্রাতিষ্ঠানিক সংযোগ তৈরি হয়।
১৬। আদালতের রিট ক্ষমতা বাতিল: সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের মূল কার্যকারিতা সংশোধন করে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের রিট জারি করার ক্ষমতা বাতিল করা হয়। এর ফলে কোনো নাগরিক বা সংস্থা সরকারের বেআইনি আদেশের বিরুদ্ধে আদালতে গিয়ে রিট পিটিশন দায়ের করার অধিকার হারায়। প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে আদালতের এই ক্ষমতাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এই সংশোধনীর ফলে নির্বাহী বিভাগের যেকোনো সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করার আইনি পথ বন্ধ হয়ে যায়।
১৭। রাষ্ট্রপতি নির্বাচন পদ্ধতি: এই সংশোধনীর মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি সরাসরি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হওয়ার বিধান কাগজের কলমে থাকলেও, তৎকালীন বিশেষ পরিস্থিতিতে শেখ মুজিবুর রহমানকে সরাসরি রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করা হয়। পরবর্তী মেয়াদের জন্য প্রাপ্তবয়স্কদের প্রত্যক্ষ ভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের কথা বলা হয়েছিল। তবে অন্তর্বর্তীকালীন সময়ের জন্য সংসদীয় ভোটের বাধ্যবাধকতা এড়িয়ে সরাসরি নেতৃত্ব নির্ধারণের এই বিশেষ ব্যবস্থা কার্যকর করা হয়। এই পরিবর্তনটি তৎকালীন নেতৃত্বের হাতে দ্রুত ক্ষমতা স্থানান্তরের পথ সুগম করে।
১৮। সংবিধানে দলীয় প্রাধান্য: চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে দেশের মূল সংবিধানে একক জাতীয় দলের আদর্শ ও আধিপত্যকে আইনিভাবে অন্তর্ভুক্ত ও প্রতিষ্ঠা করা হয়। রাষ্ট্রের নীতি নির্ধারণ থেকে শুরু করে প্রতিটি স্তরে দলীয় সিদ্ধান্তকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা তৈরি হয়। এর ফলে রাষ্ট্র এবং রাজনৈতিক দল—এই দুটি সত্তার মধ্যকার ঐতিহ্যগত পার্থক্য ঘুচে যায়। পুরো রাষ্ট্রযন্ত্র একক দলের রাজনৈতিক দর্শন ও কর্মসূচি বাস্তবায়নের প্রধান হাতিয়ারে রূপান্তরিত হয়।
উপসংহার: পরিশেষে বলা যায়, বাংলাদেশের সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনী ছিল দেশের শাসনতান্ত্রিক ইতিহাসের একটি আমূল ও বিতর্কিত পরিবর্তন। এই সংশোধনীর মাধ্যমে বহুদলীয় সংসদীয় গণতন্ত্রের স্থান নেয় একদলীয় রাষ্ট্রপতি শাসিত শাসনব্যবস্থা। সংকটকালীন উত্তরণের জন্য এই ব্যবস্থা প্রবর্তিত হলেও, এটি বিচার বিভাগ ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতাকে ব্যাপকভাবে সীমিত করেছিল। তবে দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক মুক্তির লক্ষ্যেই তৎকালীন নেতৃত্ব এই চরম ও ব্যতিক্রমী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন।