- readaim.com
- 0
উত্তর।।উপস্থাপনা: বর্তমান পরিবর্তনশীল বিশ্বে শাসনব্যবস্থা হিসেবে গণতন্ত্র এক নতুন অধ্যায়ে পদার্পণ করেছে। বিশ্বায়ন, প্রযুক্তির অভূতপূর্ব উন্নয়ন এবং ভূ-রাজনৈতিক নানা সমীকরণের কারণে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার ভেতরের ও বাইরের রূপ দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। বর্তমান যুগে গণতন্ত্রের এই বিবর্তন ও তার সাম্প্রতিক প্রবণতাসমূহ নিচে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হলো।
১। ডিজিটাল গণতন্ত্র: আধুনিক যুগে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যাপক প্রসারের ফলে গণতন্ত্রের চর্চায় ডিজিটাল মাধ্যমের ব্যবহার দারুণভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে নাগরিকেরা ঘরে বসেই বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও ওয়েবসাইটের সাহায্যে সরকারের নানা সিদ্ধান্তের ওপর নিজেদের মতামত প্রকাশ করতে পারছেন। এই ব্যবস্থা জনগণের সাথে রাষ্ট্রের দূরত্ব কমিয়ে এনেছে এবং শাসনকার্যে আমূল পরিবর্তন এনেছে। ই-গভর্ন্যান্সের এই নতুন রূপটি বর্তমান বিশ্বে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অন্যতম একটি প্রধান ও শক্তিশালী ভিত্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।
২। জনতুষ্টিবাদের উত্থান: সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্ব রাজনীতিতে জনতুষ্টিবাদ বা পপুলিজমের এক প্রবল জোয়ার লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অনেক দেশের রাজনৈতিক নেতারাই সাধারণ মানুষের আবেগ ও সাময়িক ক্ষোভকে পুঁজি করে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আরোহণ করছেন। তারা প্রথাগত রাজনৈতিক দল বা প্রতিষ্ঠানের বাইরে গিয়ে সরাসরি জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে নিজেদের উপস্থাপন করতে ভালোবাসেন। এই প্রবণতা অনেক সময় দীর্ঘমেয়াদী গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য এক ধরনের বড় চ্যালেঞ্জ বা সংকট তৈরি করছে।
৩। ভোটদানে প্রযুক্তির ব্যবহার: আধুনিক নির্বাচন ব্যবস্থায় কাগজের ব্যালটের পরিবর্তে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন বা ইভিএম এবং অনলাইন ভোটিংয়ের ব্যবহার অনেক বেড়েছে। প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে ভোট গণনা অনেক দ্রুত ও নির্ভুলভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে, যা নির্বাচন ব্যবস্থার গতি বাড়ায়। তবে এই ব্যবস্থার নিরাপত্তা এবং হ্যাকিংয়ের ঝুঁকি নিয়ে বিভিন্ন মহলে নানা বিতর্কও তৈরি হয়েছে। তা সত্ত্বেও নির্বাচনকে স্বচ্ছ ও আধুনিক করার জন্য বিশ্বজুড়ে এই ডিজিটাল ভোটদান পদ্ধতির গ্রহণযোগ্যতা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।
৪। নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধি: বর্তমান যুগে শিক্ষার আলো ও ইন্টারনেটের সহজলভ্যতার কারণে সাধারণ মানুষের রাজনৈতিক সচেতনতা আগের চেয়ে অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। নাগরিকেরা এখন তাদের মৌলিক অধিকার, আইন এবং সরকারের জবাবদিহিতা সম্পর্কে অনেক বেশি সচেতন ও সোচ্চার। যেকোনো অন্যায়ের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষ এখন সহজেই সংগঠিত হতে পারে এবং নিজেদের দাবি আদায় করতে পারে। এই সচেতনতা মূলত একটি দেশের সামগ্রিক গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে ভেতর থেকে আরও শক্তিশালী ও পরিপক্ক করে তুলছে।
৫। সামাজিক মাধ্যমের প্রভাব: ফেসবুক, এক্স (সাবেক টুইটার) এবং ইউটিউবের মতো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো এখন জনমত গঠনের প্রধান হাতিয়ার হয়ে উঠেছে। যেকোনো রাজনৈতিক ইস্যু বা রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তের পক্ষে-বিপক্ষে মানুষ এখানে স্বাধীনভাবে তাদের মতামত ও ক্ষোভ প্রকাশ করছে। এই মাধ্যমগুলো সনাতন সংবাদমাধ্যমের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে সরাসরি জনগণের কণ্ঠস্বরকে সবার সামনে তুলে ধরছে। তবে এর মাধ্যমে অপপ্রচার বা ভুয়া খবর ছড়ানোর আশঙ্কাও বর্তমান গণতান্ত্রিক পরিবেশের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ।
৬। পরিবেশবাদী রাজনীতি: সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিশ্বজুড়ে জলবায়ু পরিবর্তন এবং পরিবেশ রক্ষার আন্দোলনগুলো গণতান্ত্রিক রাজনীতির মূল ধারায় যুক্ত হয়েছে। তরুণ প্রজন্ম এখন পরিবেশ সুরক্ষাকে তাদের রাজনৈতিক অধিকার এবং ভোটের অন্যতম প্রধান শর্ত হিসেবে বিবেচনা করছে। বিভিন্ন দেশের রাজনৈতিক দলগুলো এখন তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে পরিবেশবান্ধব নীতি ও টেকসই উন্নয়নের বিষয়টিকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দিচ্ছে। এই প্রবণতাটি প্রমাণ করে যে আধুনিক গণতন্ত্র এখন কেবল মানুষের অধিকার নয়, প্রকৃতির অধিকার নিয়েও সমানভাবে ভাবছে।
৭। নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন: বর্তমান বিশ্বে শাসনব্যবস্থা ও রাজনীতিতে নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং নেতৃত্ব প্রদানের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সংসদ, স্থানীয় সরকার এবং নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে নারীদের জন্য আসন সংরক্ষণ ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হচ্ছে। নারীদের এই রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন সমাজ থেকে লিঙ্গবৈষম্য দূর করতে এবং সামগ্রিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে সাহায্য করছে। ফলে গণতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি মানবিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও ভারসাম্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
৮। আঞ্চলিকতাবাদের বিস্তার: বিশ্বায়নের এই যুগেও জাতীয় রাজনীতির পাশাপাশি আঞ্চলিক স্বার্থ ও আঞ্চলিকতাবাদের গুরুত্ব দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। অনেক দেশের মূল ধারার বড় রাজনৈতিক দলগুলোর চেয়ে আঞ্চলিক দলগুলো সাধারণ মানুষের আকাঙ্ক্ষাকে বেশি ধারণ করতে পারছে। নাগরিকেরা তাদের স্থানীয় উন্নয়ন, সংস্কৃতি এবং স্বাতন্ত্র্য রক্ষার জন্য আঞ্চলিক দলগুলোর প্রতি বেশি আস্থা প্রদর্শন করছে। এই প্রবণতাটি কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণ এবং স্থানীয় গণতন্ত্রকে আরও বেশি মজবুত করতে ভূমিকা রাখছে।
৯। অধিকার আন্দোলনের বৈচিত্র্য: বর্তমান সময়ের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় প্রথাগত রাজনৈতিক অধিকারের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের নতুন নাগরিক অধিকারের দাবি উঠছে। এর মধ্যে রয়েছে ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষা, বাকস্বাধীনতা, লিঙ্গবৈষম্য দূরীকরণ এবং বৈচিত্র্যময় জনগোষ্ঠীর অধিকারের স্বীকৃতি। পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ নিজেদের এই আধুনিক ও মানবিক অধিকারগুলো আদায়ের জন্য রাজপথে ও আদালতে লড়াই করছে। ফলে আধুনিক রাষ্ট্রগুলো এই নতুন দাবিগুলো মেনে নিয়ে তাদের আইনি কাঠামো সংস্কার করতে বাধ্য হচ্ছে।
১০। তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণ: সমকালীন রাজনীতিতে তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্ব এবং স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ একটি অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক ইতিবাচক পরিবর্তন। তরুণরা এখন প্রথাগত রাজনীতির গণ্ডি পেরিয়ে বিভিন্ন সামাজিক আন্দোলন ও অধিকার রক্ষার লড়াইয়ে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। তারা প্রচলিত ব্যবস্থার দুর্নীতির বিরুদ্ধে এবং সুশাসনের দাবিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ও রাজপথে তীব্র আন্দোলন গড়ে তুলছে। এই তরুণদের সাহসী ও আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গি আগামী দিনের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে আরও গতিশীল ও সংস্কারমুখী করে তুলবে।
১১। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা: বর্তমান সময়ে একটি দেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশ টিকিয়ে রাখার জন্য বিচার বিভাগের স্বাধীনতাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কার্যনির্বাহী বিভাগের অনাকাঙ্ক্ষিত হস্তক্ষেপ থেকে মুক্ত থেকে আদালত যাতে স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে, নাগরিকেরা সেই দাবি তুলছেন। স্বাধীন বিচার ব্যবস্থা সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার রক্ষা এবং সরকারের স্বেচ্ছাচারিতা রোধে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই বিশ্বজুড়ে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও বিচার বিভাগের নিরপেক্ষতা বজায় রাখার প্রবণতা আরও জোরালো হচ্ছে।
১২। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সংকট: বর্তমান গণতান্ত্রিক বিশ্বে মুক্ত ও স্বাধীন গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে এক নতুন ধরনের সংকট ও প্রবণতা তৈরি হয়েছে। অনেক দেশে করপোরেট স্বার্থ অথবা সরকারি নানামুখী চাপের কারণে সাংবাদিকতার স্বাধীনতা চরমভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। স্বাধীনভাবে সত্য প্রকাশ করতে গিয়ে সাংবাদিকদের নানা ধরনের আইনি জটিলতা বা বাধার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। গণমাধ্যমের এই কণ্ঠরোধের চেষ্টা মূলত সুস্থ গণতন্ত্রের বিকাশ এবং মুক্ত সমাজ বিনির্মাণের পথকে সংকুচিত করে তুলছে।
১৩। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা: আধুনিক শাসনব্যবস্থায় সরকারের সব ধরনের কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় প্রবণতা। নাগরিকেরা এখন তাদের ট্যাক্সের টাকার সঠিক ব্যবহার এবং সরকারি প্রকল্পগুলোর অগ্রগতির হিসাব সরাসরি দেখতে চায়। তথ্য অধিকার আইনের মতো বিভিন্ন প্রগতিশীল আইনের মাধ্যমে জনগণ এখন সরকারি নথিপত্র ও তথ্য পাওয়ার অধিকার লাভ করেছে। এই জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা দুর্নীতি হ্রাস করতে এবং জনগণের সাথে সরকারের বিশ্বাসের সম্পর্ক দৃঢ় করতে সাহায্য করে।
১৪। বহুত্ববাদী সংস্কৃতির চর্চা: বর্তমান বিশ্বে একটি আদর্শ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে বহুত্ববাদ বা বিভিন্ন জাতি, ধর্ম ও বর্ণের মানুষের সহাবস্থানকে স্বাগত জানানো হচ্ছে। সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তরে সংখ্যালঘু ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার নিশ্চিত করা বর্তমান রাজনীতির অন্যতম লক্ষ্য। বৈচিত্র্যের এই স্বীকৃতি সমাজে পরমতসহিষ্ণুতা বাড়াতে এবং যেকোনো ধরনের সামাজিক সংঘাত দূর করতে বড় ভূমিকা রাখে। বহুত্ববাদী এই চর্চা মূলত গণতন্ত্রকে আরও বেশি উদার, পরমতসহিষ্ণু ও সর্বজনীন করে গড়ে তুলছে।
১৫। অর্থনৈতিক বৈষম্যের প্রভাব: বর্তমান সময়ের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার ওপর অর্থনৈতিক তীব্র বৈষম্য এক ধরনের নেতিবাচক প্রভাব বিস্তার করছে। ধনী ও দরিদ্রের মধ্যকার বিশাল ব্যবধান সাধারণ মানুষের মাঝে রাজনৈতিক ব্যবস্থার প্রতি এক ধরনের চরম অসন্তোষ তৈরি করছে। অনেক সময় দেখা যায় যে, পুঁজি বা অর্থশক্তির প্রভাবে সাধারণ মানুষের প্রকৃত ভোটাধিকার বা মতামত ঢাকা পড়ে যাচ্ছে। তাই বর্তমান যুগের গণতান্ত্রিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য অর্থনৈতিক সমতা আনয়ন অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।
১৬। নাগরিক সমাজের সক্রিয়তা: একটি দেশের সরকার ও সাধারণ জনগণের মাঝে সেতুবন্ধন হিসেবে নাগরিক সমাজ বা সিভিল সোসাইটির ভূমিকা এখন অনেক বেড়েছে। বিভিন্ন অলাভজনক সংস্থা, মানবাধিকার সংগঠন এবং বুদ্ধিজীবী মহল সরকারের ভুল নীতির সমালোচনা করে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় চাপ সৃষ্টি করছে। তারা সমাজে আইনের শাসন, মানবাধিকার রক্ষা এবং নির্বাচনের স্বচ্ছতা বজায় রাখার জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। নাগরিক সমাজের এই জোরালো সক্রিয়তা মূলত স্বৈরাচারী প্রবণতা রুখতে এবং গণতন্ত্রকে বাঁচিয়ে রাখতে সাহায্য করে।
১৭। জাতীয়তাবাদের নতুন রূপ: সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্ব রাজনীতিতে উদারনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির পাশাপাশি উগ্র বা রক্ষণশীল জাতীয়তাবাদের এক নতুন উত্থান দেখা যাচ্ছে। অনেক রাষ্ট্রই এখন নিজেদের সীমান্ত রক্ষা, বহিরাগতদের আগমন নিয়ন্ত্রণ এবং দেশীয় সংস্কৃতি সুরক্ষাকে প্রধান রাজনৈতিক এজেন্ডা বানাচ্ছে। এই প্রবণতা অনেক সময় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং বিশ্বজনীন মানবিক মূল্যবোধের পরিপন্থী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছে। ফলে এই নতুন জাতীয়তাবাদী চেতনা সমকালীন গণতান্ত্রিক রাজনীতির গতিপ্রকৃতিকে এক জটিল সমীকরণের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে।
শেষকথা: পরিশেষে বলা যায় যে, বর্তমান বিশ্বে গণতন্ত্র এক মিশ্র ও পরিবর্তনশীল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে অগ্রসর হচ্ছে। একদিকে প্রযুক্তির কল্যাণ ও নাগরিক সচেতনতা গণতন্ত্রকে আরও বেশি অংশগ্রহণমূলক ও আধুনিক করছে, অন্যদিকে নানা অভ্যন্তরীণ সংকট এর পথকে বাধাগ্রস্ত করছে। তবে সব চ্যালেঞ্জ সত্ত্বে বিশ্বজুড়ে মানুষের আকাঙ্ক্ষা একটি সাম্য, ন্যায়বিচার ও স্বাধীনতাসম্পন্ন মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করা। তাই যুগের চাহিদার সাথে তাল মিলিয়ে নিজেদের ত্রুটিগুলো সংশোধন করেই গণতন্ত্রকে আগামী দিনে এগিয়ে যেতে হবে।