- readaim.com
- 0
উত্তর।।উপস্থাপনা: ১৯৬৬ সালের ৬ দফা আন্দোলন বাঙালি জাতির মুক্তিসংগ্রামের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় ঘটনা। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঘোষিত এই কর্মসূচি ছিল পাকিস্তানি ঔপনিবেশিক শাসন-শোষণ থেকে বাঙালির মুক্তির সনদ বা ‘ম্যাগনা কার্টা’। এই দাবিগুলো কেবল স্বায়ত্তশাসনের দাবি ছিল না, বরং তা ছিল স্বাধীন বাংলাদেশের ভিত্তিপ্রস্তর এবং বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলনের মূল চালিকাশক্তি।
স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ে ৬ দফা কর্মসূচির তাৎপর্য:
১। বাঙালির মুক্তির সনদ: ৬ দফা কর্মসূচি ছিল তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের মানুষের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক মুক্তির মহাসনদ। দীর্ঘকাল ধরে চলা পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর চরম বৈষম্য এবং শোষণের বিরুদ্ধে এটি ছিল বাঙালির প্রথম জোরালো প্রতিবাদ। এই কর্মসূচির মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালির বাঁচার দাবিগুলোকে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বিশ্ব দরবারে তুলে ধরেছিলেন। ফলে সমগ্র বাঙালি জাতি এই দাবির পেছনে ঐক্যবদ্ধ হতে শুরু করে এবং নিজেদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হয়। এটি মূলত আমাদের স্বাধীনতার বীজ বপন করেছিল।
২। স্বায়ত্তশাসনের দাবি: ৬ দফার মূল লক্ষ্য ছিল পূর্ব পাকিস্তানের জন্য পূর্ণ আঞ্চলিক স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করা। পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকারের হাত থেকে প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বাদে বাকি সব ক্ষমতা প্রাদেশিক সরকারের হাতে ন্যস্ত করার দাবি জানানো হয়। এর মাধ্যমে বাঙালিরা নিজেদের অঞ্চল নিজেরা শাসন করার আইনি ও রাজনৈতিক অধিকার দাবি করে। এই স্বায়ত্তশাসনের চেতনা পরবর্তীতে ক্রমান্বয়ে স্বাধিকার থেকে পূর্ণ স্বাধীনতার আন্দোলনে রূপ নেয়। পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী এই দাবিকে রাষ্ট্রদ্রোহিতা হিসেবে দেখলেও বাঙালি একে নিজেদের অস্তিত্বের লড়াই মনে করত।
৩। জাতীয়তাবোধের উন্মেষ: ৬ দফা আন্দোলন বাঙালি জাতির মধ্যে তীব্র জাতীয়তাবোধের উন্মেষ ঘটিয়েছিল। ভাষা আন্দোলনের পর এই কর্মসূচিই বাঙালিদের একটি একক রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মে দাঁড়াতে সাহায্য করে। এর মাধ্যমে মানুষ বুঝতে পারে যে তাদের ভাষা, সংস্কৃতি এবং অর্থনৈতিক মুক্তি পাকিস্তানের কাঠামোর মধ্যে সম্ভব নয়। এই রাজনৈতিক সচেতনতা বাঙালিকে একটি পৃথক জাতি হিসেবে নিজেদের অধিকার আদায়ে উদ্বুদ্ধ করে। ফলস্বরূপ, তৎকালীন সময়ে আঞ্চলিকতার গণ্ডি পেরিয়ে বাঙালি জাতীয়তাবাদ এক মহীরুহে পরিণত হয়।
৪। অর্থনৈতিক বৈষম্যের প্রতিবাদ: এই কর্মসূচির মাধ্যমে পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যকার চরম অর্থনৈতিক বৈষম্যকে আনুষ্ঠানিকভাবে চ্যালেঞ্জ করা হয়। ৬ দফায় দুই অঞ্চলের জন্য দুটি পৃথক কিন্তু সহজে বিনিময়যোগ্য মুদ্রার দাবি জানানো হয়েছিল। পূর্ব পাকিস্তানের উপার্জিত বৈদেশিক মুদ্রা যেন এই অঞ্চলেই ব্যবহৃত হয়, তার সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব ছিল এতে। এর ফলে পশ্চিম পাকিস্তানে পাচার হওয়া বাঙালি সম্পদ রক্ষা করার একটি আইনি পথ তৈরি হয়। এই অর্থনৈতিক দাবিগুলো সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষকে আন্দোলনের প্রতি তীব্রভাবে আকৃষ্ট করেছিল।
৫। রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধি: ৬ দফা পেশ করার পর দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে অভূতপূর্ব রাজনৈতিক সচেতনতা সৃষ্টি হয়। আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ঘুরে ঘুরে এই দাবির পক্ষে জনমত গঠন করেন। এর ফলে কৃষক, শ্রমিক, ছাত্র ও বুদ্ধিজীবীসহ সমাজের সর্বস্তরের মানুষ রাজনীতির মূল ধারার সাথে যুক্ত হয়। সাধারণ মানুষ বুঝতে শেখে কীভাবে তাদের সম্পদ লুটপাট করা হচ্ছে এবং কীভাবে তারা বঞ্চিত হচ্ছে। এই ব্যাপক রাজনৈতিক সচেতনতাই ১৯৭১ সালের সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছিল।
৬। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা: ৬ দফা কর্মসূচির সফল উত্থাপন ও প্রচারের মাধ্যমে শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা হিসেবে আবির্ভূত হন। পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর রক্তচক্ষু ও জেল-জুলুম উপেক্ষা করে তিনি টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া চষে বেড়ান। তাঁর এই আপসহীন সংগ্রামের কারণে তিনি বাঙালি জাতির হৃদয়ে একচ্ছত্র স্থান করে নেন। এই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় বাঙালি জাতি তাঁকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতে ভূষিত করে। ৬ দফাই মূলত শেখ মুজিবকে একক নেতৃত্ব হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে স্বাধীনতার দিকে এগিয়ে নিয়ে যায়।
৭। আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা: ৬ দফা আন্দোলনকে নস্যাৎ করতে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী বঙ্গবন্ধুসহ ৩৫ জনের বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করে। সরকারের উদ্দেশ্য ছিল এই মামলার মাধ্যমে ৬ দফার আন্দোলনকে চিরতরে স্তব্ধ করে দেওয়া। কিন্তু ফলাফল হয়েছিল সম্পূর্ণ উল্টো, কারণ এই মিথ্যা মামলা বাঙালিকে আরও বেশি ক্ষুব্ধ করে তোলে। দেশের মানুষ বুঝতে পারে যে আইনি পথে দাবি আদায় সম্ভব নয়, রাজপথই একমাত্র বিকল্প। এই মামলা আন্দোলনের গতিকে আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছিল।
৮। ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান: ৬ দফা আন্দোলনের প্রত্যক্ষ ফল ছিল ১৯৬৯ সালের ঐতিহাসিক ও স্বতঃস্ফূর্ত গণঅভ্যুত্থান। আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা এবং ৬ দফার পক্ষে আন্দোলন করতে গিয়ে ছাত্র-জনতার ওপর যে নির্যাতন চালানো হয়েছিল, তার জবাবেই এই অভ্যুত্থান ঘটে। ছাত্রসমাজের ১১ দফা কর্মসূচির মধ্যে ৬ দফার মূল দাবিগুলো অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। এই গণঅভ্যুত্থানের মুখে আইয়ুব খানের স্বৈরশাসনের পতন ঘটে এবং বঙ্গবন্ধু জেল থেকে মুক্ত হন। এটি ছিল পাকিস্তানি শাসনের বিরুদ্ধে বাঙালিদের প্রথম বড় বিজয়।
৯। সত্তরের নির্বাচনে বিজয়: ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ বিজয়ের মূল ভিত্তি ছিল এই ৬ দফা কর্মসূচি। আওয়ামী লীগ এই নির্বাচনকে ৬ দফার ওপর একটি গণভোট হিসেবে সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরেছিল। পূর্ব পাকিস্তানের মানুষ ব্যালটের মাধ্যমে ৬ দফার পক্ষে তাদের রায় দেয় এবং আওয়ামী লীগকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রদান করে। এই বিজয় প্রমাণ করেছিল যে, ৬ দফা কেবল কোনো দলের দাবি ছিল না, বরং তা ছিল সাড়ে সাত কোটি বাঙালির প্রাণের দাবি। এই নির্বাচনের ফলাফলই মূলত বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে অবশ্যম্ভাবী করে তোলে।
১০। ঔপনিবেশিক শাসনের বিরোধিতা: ৬ দফা ছিল পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ ঔপনিবেশিক এবং বৈষম্যমূলক শাসন ব্যবস্থার বিরুদ্ধে এক প্রকাশ্য বিদ্রোহ। এর মাধ্যমে বাঙালিরা স্পষ্ট করে দেয় যে তারা আর পশ্চিম পাকিস্তানের দাস হয়ে থাকবে না। কেন্দ্রীয় সরকারের একনায়কতন্ত্র এবং সামরিক জান্তার একচ্ছত্র ক্ষমতার ভিত্তিকে এই কর্মসূচি নাড়িয়ে দিয়েছিল। এটি পাকিস্তানি শাসকদের বুঝিয়ে দিয়েছিল যে বন্দুকের নল দিয়ে একটি জাতিকে চিরকাল দাবিয়ে রাখা যায় না। এই বিরোধিতা বাঙালিদের মনে স্বাধীনতার চূড়ান্ত আকাঙ্ক্ষা তৈরি করেছিল।
১১। সামরিক শক্তির দাবি: ৬ দফার একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দাবি ছিল পূর্ব পাকিস্তানের প্রতিরক্ষার জন্য আধা-সামরিক বা আঞ্চলিক বাহিনী গঠন করা। ১৯৬৫ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের সময় এই অঞ্চল যেভাবে সম্পূর্ণ অরক্ষিত ছিল, তা বাঙালিকে ক্ষুব্ধ করেছিল। ৬ দফায় মিলিশিয়া বা প্যারামিলিটারি বাহিনী গঠনের দাবি জানিয়ে বাঙালিরা নিজেদের নিরাপত্তার দায়িত্ব নিজেরা নিতে চেয়েছিল। এই দাবিটি বাঙালিদের মধ্যে নিজেদের সামরিক শক্তি বৃদ্ধির আকাঙ্ক্ষা তৈরি করে। পরবর্তীতে এটিই আমাদের মুক্তিযুদ্ধের সময় মুক্তিবাহিনী গঠনে মানসিকভাবে সাহায্য করেছিল।
১২। কর আদায়ের অধিকার: ৬ দফায় বলা হয়েছিল যে কর, খাজনা ও শুল্ক ধার্য এবং আদায়ের চূড়ান্ত ক্ষমতা থাকবে কেবল আঞ্চলিক সরকারের হাতে। আদায়কৃত অর্থের একটি নির্দিষ্ট অংশ কেন্দ্রীয় সরকারকে তাদের ব্যয় নির্বাহের জন্য দেওয়া হবে। এই দাবির মাধ্যমে কেন্দ্রীয় সরকারের অর্থনৈতিক একাধিপত্যের অবসান ঘটানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। বাঙালিরা চেয়েছিল তাদের কষ্টের টাকায় কেনা রাজস্ব যেন তাদের নিজেদের উন্নয়নের কাজেই ব্যয় হয়। এই দাবিটি পাকিস্তানি অর্থনৈতিক কাঠামোর মূলে চরম আঘাত হেনেছিল।
১৩। বৈদেশিক বাণিজ্যের স্বাধীনতা: এই কর্মসূচিতে পূর্ব পাকিস্তানের উৎপাদিত পণ্য বিদেশে রপ্তানি এবং বৈদেশিক বাণিজ্য পরিচালনার পূর্ণ স্বাধীনতা দাবি করা হয়েছিল। তৎকালীন সময়ে পূর্ব পাকিস্তানের পাট ও অন্যান্য পণ্য বিক্রি করে যে সিংহভাগ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হতো, তা পশ্চিম পাকিস্তানের উন্নয়নে ব্যয় হতো। ৬ দফা এই অন্যায় ব্যবস্থার অবসান ঘটিয়ে বৈদেশিক বাণিজ্যের ওপর নিজস্ব নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পথ দেখায়। এর ফলে বাঙালি ব্যবসায়িক ও অর্থনৈতিক সমাজ এই আন্দোলনের সাথে প্রত্যক্ষভাবে একাত্মতা ঘোষণা করে।
১৪। কেন্দ্রীয় সরকারের রূপরেখা: ৬ দফায় কেন্দ্রীয় সরকারের রূপরেখা কেমন হবে তা অত্যন্ত সুনির্দিষ্টভাবে নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছিল। এতে বলা হয়েছিল, পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা কেবল দুটি বিষয়ে সীমাবদ্ধ থাকবে—দেশরক্ষা এবং পররাষ্ট্র নীতি। অন্য সব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পূর্ণ ক্ষমতা থাকবে ফেডারেশনের অন্তর্ভুক্ত অঙ্গরাজ্যগুলোর হাতে। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকারের একনায়কতান্ত্রিক চরিত্র বিলুপ্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছিল। এর ফলে কেন্দ্রীয় সরকারের ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ে এবং স্বাধিকারের পথ সুগম হয়।
১৫। সংবিধানের গণতান্ত্রিক রূপান্তর: এই কর্মসূচির প্রথম দফায় বলা হয়েছিল, ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে পাকিস্তানের জন্য একটি প্রকৃত ফেডারেল বা যুক্তরাষ্ট্রীয় শাসন ব্যবস্থা কায়েম করতে হবে। যেখানে সরকার পদ্ধতি হবে সংসদীয় প্রকৃতির এবং আইনসভা হবে জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত। এর মাধ্যমে তৎকালীন সামরিক জান্তার স্বৈরতান্ত্রিক সংবিধানকে প্রত্যাখ্যান করে একটি গণতান্ত্রিক সংবিধানের দাবি জানানো হয়। এই দাবিটি দেশের প্রগতিশীল ও গণতন্ত্রকামী মানুষকে আন্দোলনের প্রতি প্রবলভাবে আকৃষ্ট করেছিল।
১৬। স্বাধীনতার মনস্তাত্ত্বিক প্রস্তুতি: ৬ দফা আন্দোলন বাঙালির মনে স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র গঠনের একটি গভীর মনস্তাত্ত্বিক প্রস্তুতি তৈরি করেছিল। এই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে বাঙালিরা বুঝতে পেরেছিল যে পাকিস্তানি শাসকদের সাথে আপস করে কোনো অধিকার আদায় সম্ভব নয়। স্বায়ত্তশাসনের দাবি আদায়ে ব্যর্থতা বাঙালিদের স্বাধীনতার চূড়ান্ত লড়ায়ের দিকে ধাবিত করে। প্রতিটি আন্দোলন, হরতাল এবং সমাবেশ মানুষকে মানসিকভাবে একটি সশস্ত্র সংগ্রামের জন্য প্রস্তুত করে তুলছিল। তাই ৬ দফাকে স্বাধীনতার এক পরোক্ষ ও শক্তিশালী মনস্তাত্ত্বিক রূপরেখা বলা যায়।
১৭। মুক্তিযুদ্ধের মূল অনুপ্রেরণা: ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের পেছনের মূল রাজনৈতিক ও আদর্শিক অনুপ্রেরণা এসেছিল এই ৬ দফা থেকে। দীর্ঘ ৫ বছর ধরে ৬ দফার পক্ষে যে আন্দোলন চলেছিল, তাতেই বাঙালির ত্যাগ ও সংগ্রামের মানসিকতা তৈরি হয়েছিল। ৭ মার্চের ভাষণে বঙ্গবন্ধু যখন স্বাধীনতার ডাক দেন, তখন এ দেশের মানুষ মুহূর্তেই সেই ডাকে সাড়া দিতে পেরেছিল। কারণ ৬ দফার আন্দোলনই তাদের শিখিয়েছিল কীভাবে অধিকারের জন্য জীবন দিতে হয়। সুতরাং, আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের মূল চালিকাশক্তি এবং প্রেরণা ছিল এই ঐতিহাসিক কর্মসূচি।
শেষকথা: পরিশেষে বলা যায় যে, ১৯৬৬ সালের ৬ দফা কর্মসূচি কেবল একটি রাজনৈতিক দাবি ছিল না, এটি ছিল স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের প্রধান সোপান। এর মাধ্যমেই বাঙালি জাতি নিজেদের অধিকার, অর্থনীতি এবং সার্বভৌমত্ব সম্পর্কে প্রথম স্পষ্ট ধারণা লাভ করে। ৬ দফার সফল আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান, সত্তরের নির্বাচন এবং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বিশ্বের মানচিত্রে স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম হয়। তাই বাংলাদেশের ইতিহাসে ৬ দফার তাৎপর্য চিরকাল অক্ষয় ও অম্লান হয়ে থাকবে।