- readaim.com
- 0
ভূমিকা: স্বাধীনতার পর থেকেই পাকিস্তানের রাজনীতিতে সামরিক বাহিনীর হস্তক্ষেপ একটি গভীর ও পুনরাবৃত্তিমূলক সমস্যা। নির্বাচিত বেসামরিক সরকারের বারবার পতন এবং সামরিক শাসন জারির ঘটনা দেশটির গণতান্ত্রিক যাত্রাকে পদে পদে ব্যাহত করেছে। এই নিবন্ধে আমরা সহজ ও আকর্ষণীয় ভাষায় সেই কারণগুলো আলোচনা করব, যা সামরিক প্রতিষ্ঠানকে বারবার রাজনৈতিক ক্ষমতা দখলের দিকে ঠেলে দিয়েছে।
দুর্বল বেসামরিক প্রতিষ্ঠান ও নেতৃত্ব শূন্যতা (১) পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর থেকেই শক্তিশালী, কার্যকর ও জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ বেসামরিক রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠতে পারেনি। ঘন ঘন রাজনৈতিক দলবদল, নেতৃত্বের দুর্বলতা, দুর্নীতি এবং নিজেদের মধ্যেকার কোন্দল একটি স্থিতিশীল গণতান্ত্রিক কাঠামো তৈরিতে বাধা দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে, যখনই সরকার কোনো বড় সংকটের মুখোমুখি হয়েছে বা কার্যকরভাবে দেশ পরিচালনায় ব্যর্থ হয়েছে, সামরিক বাহিনী নিজেদেরকে একমাত্র স্থিতিশীল এবং সুসংগঠিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে তুলে ধরেছে, যা দেশের হাল ধরতে পারে। দুর্বল প্রতিষ্ঠান সামরিক বাহিনীর জন্য হস্তক্ষেপের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে।
আমলাতন্ত্রের ওপর সামরিক নিয়ন্ত্রণ (২) শুরুর দিক থেকেই সামরিক ও বেসামরিক আমলাতন্ত্রের মধ্যে একটি নিবিড় সম্পর্ক বিদ্যমান ছিল, যেখানে সামরিক বাহিনী প্রায়শই উচ্চতর স্থানে অবস্থান করত। সামরিক কর্মকর্তাদের গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক পদে নিয়োগ দেওয়া এবং নীতি নির্ধারণে তাদের প্রভাব একটি “নিরাপত্তা রাজ্য” (Security State) মানসিকতা তৈরি করেছে। এই প্রভাবের কারণে সামরিক বাহিনী বেসামরিক প্রশাসনের দুর্বলতা এবং অদক্ষতাকে সহজেই রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করতে পারে। এই কাঠামোগত সুবিধা সামরিক বাহিনীকে ক্ষমতা দখলের পথ সহজ করে দেয়।
ভূ-রাজনৈতিক এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা উদ্বেগ (৩) ভারতকে প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখা এবং কাশ্মীর বিতর্ককে কেন্দ্র করে সৃষ্ট ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা পাকিস্তানের রাজনীতিতে সামরিক বাহিনীর কেন্দ্রীয় ভূমিকা নিশ্চিত করেছে। সামরিক বাহিনী নিজেদেরকে রাষ্ট্রের নিরাপত্তা এবং অস্তিত্বের রক্ষক হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছে। এই “জাতীয় নিরাপত্তার” ধারণাটি এত বেশি প্রাধান্য পেয়েছে যে, এটি প্রায়শই বেসামরিক গণতন্ত্রের চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়। যখনই কোনো বেসামরিক সরকার ভারতের সাথে সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা করেছে বা সামরিক বাজেট কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে, সামরিক বাহিনী একে জাতীয় স্বার্থের প্রতি হুমকি হিসেবে দেখে হস্তক্ষেপ করার ন্যায্যতা খুঁজেছে।
সাংবিধানিক দুর্বলতা এবং আইনি ফাঁক (৪) পাকিস্তানের সংবিধান একাধিকবার সামরিক শাসকের দ্বারা স্থগিত, পরিবর্তন বা নতুন করে লেখা হয়েছে। সামরিক শাসকরা প্রায়শই আদালতের মাধ্যমে নিজেদের ক্ষমতা বৈধ করার চেষ্টা করেছে, যা “ডকট্রিন অফ নেসেসিটি” (Doctrine of Necessity) বা “প্রয়োজনের মতবাদ” নামে পরিচিত। এই আইনি ফাঁকগুলো সামরিক অভ্যুত্থানকে এক ধরনের আইনি আবরণ দিয়েছে এবং ভবিষ্যতে হস্তক্ষেপের জন্য একটি বিপজ্জনক নজির স্থাপন করেছে। সংবিধানের প্রতি শ্রদ্ধার অভাব এবং সামরিক বাহিনীর দায়মুক্তি রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে পারেনি।
রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ বিভাজন ও কোন্দল (৫) পাকিস্তানের রাজনৈতিক দলগুলো প্রায়শই ক্ষমতার জন্য নিজেদের মধ্যে তীব্র কোন্দল এবং বিভাজনে লিপ্ত থাকে। এই অভ্যন্তরীণ কলহ, বিশেষ করে সংসদের ভেতরে ও বাইরে, সরকারকে অস্থিতিশীল করে তোলে এবং কার্যকর নীতি প্রণয়নে বাধা দেয়। যখন রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের মধ্যেকার ঝগড়া মেটাতে পারে না, তখন সামরিক বাহিনী নিজেকে দেশের শৃঙ্খলা ও ঐক্যের প্রতীক হিসেবে দেখিয়ে হস্তক্ষেপ করার সুযোগ পায়। এই বিভাজনগুলি সামরিক বাহিনীকে প্রায়শই একটি পক্ষকে দুর্বল করতে বা অন্য পক্ষকে সমর্থন করতে প্ররোচিত করে।
গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি ও নাগরিক সমাজের দুর্বলতা (৬) শক্তিশালী গণতান্ত্রিক রীতিনীতি এবং জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া গণতন্ত্র সফল হতে পারে না। পাকিস্তানে দীর্ঘ সামরিক শাসনের ইতিহাস গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের গভীরে প্রবেশে বাধা দিয়েছে। নাগরিক সমাজ, গণমাধ্যম এবং বিচার বিভাগ সামরিক হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে পর্যাপ্ত প্রতিরোধ গড়ে তুলতে প্রায়শই ব্যর্থ হয়েছে। দুর্বল গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি সামরিক বাহিনীকে এই বিশ্বাস করতে উৎসাহিত করে যে, জনগণ সামরিক শাসনকে সহজেই মেনে নেবে অথবা তারা এটিকে বেসামরিক বিশৃঙ্খলার চেয়ে শ্রেয় মনে করবে।
অর্থনৈতিক সংকট এবং সুশাসনের অভাব (৭) যখনই দেশ গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছে, যেমন – মুদ্রাস্ফীতি, বৈদেশিক ঋণের বোঝা বা ব্যাপক বেকারত্ব, সামরিক বাহিনী সেই পরিস্থিতিকে বেসামরিক সরকারের অযোগ্যতা হিসেবে তুলে ধরেছে। জনগণের মধ্যে সৃষ্ট অসন্তোষকে কাজে লাগিয়ে সামরিক বাহিনী নিজেদেরকে দেশের অর্থনীতিকে সঠিক পথে আনার একমাত্র সক্ষম শক্তি হিসেবে উপস্থাপন করেছে। সুশাসনের অভাব, যেমন – দুর্নীতি এবং সম্পদের অপব্যবহার, সামরিক হস্তক্ষেপের জন্য জনগণের সম্মতি অর্জনে সহায়তা করেছে।
সামরিক বাহিনীর স্বার্থ ও বিশেষ সুবিধা রক্ষা (৮) পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী একটি বিশাল অর্থনৈতিক সাম্রাজ্যের অধিকারী, যা আবাসন, ব্যাংকিং এবং শিল্পসহ বিভিন্ন খাতে বিস্তৃত। এই ব্যাপক অর্থনৈতিক স্বার্থ সামরিক প্রতিষ্ঠানকে রাজনৈতিক ক্ষমতা ধরে রাখতে উৎসাহিত করে। বেসামরিক সরকার যখনই সামরিক বাজেট কমাতে বা তাদের অর্থনৈতিক সুবিধাগুলোতে হস্তক্ষেপ করতে চেয়েছে, সামরিক নেতৃত্ব এটিকে তাদের স্বার্থের জন্য হুমকি হিসেবে দেখে ক্ষমতা দখলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ক্ষমতা ধরে রাখার মাধ্যমে তারা তাদের অর্থনৈতিক সুবিধাগুলো সুরক্ষিত করে।
ভারতের সাথে সামরিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা (৯) ভারতের সাথে চলমান অগ্নিপরীক্ষা ও সীমান্ত উত্তেজনা সামরিক বাহিনীকে জাতীয় জীবনে একটি বিশাল এবং অপ্রতিরোধ্য ভূমিকা দিয়েছে। দেশের পররাষ্ট্র এবং প্রতিরক্ষা নীতিতে সামরিক বাহিনী কার্যত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী হিসেবে কাজ করে। এই পরিস্থিতি সামরিক বাহিনীকে রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত শক্তিশালী করে তোলে, কারণ তারা নিজেদেরকে রাষ্ট্রের অপরিহার্য চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচনা করে। সামরিক বাহিনীর এই আধিপত্য প্রায়শই বেসামরিক নেতৃত্বকে দুর্বল করে দেয়।
পাকিস্তানের রাজনৈতিক ক্ষমতার ঐতিহ্য (১০) ঔপনিবেশিক আমল থেকেই এই অঞ্চলে ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু বেসামরিকের চেয়ে সামরিক দিকে বেশি হেলে আছে। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর থেকে, রাষ্ট্রের ক্ষমতা কাঠামোতে সামরিক প্রতিষ্ঠান একটি কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করেছে। এই ঐতিহাসিক ঐতিহ্যটি সামরিক বাহিনীকে এই মানসিকতা দিয়েছে যে, প্রয়োজনে দেশের নিয়ন্ত্রণ হাতে নেওয়া তাদের এক প্রকার দায়িত্ব। এই প্রথাগত ক্ষমতা কাঠামো বেসামরিক সরকারকে তাদের পূর্ণ মেয়াদ শেষ করতে দেয়নি।
আমেরিকার ও পশ্চিমা বিশ্বের শীতল মনোভাব (১১) বিভিন্ন সময়ে সামরিক শাসকরা পশ্চিমা শক্তিগুলোর, বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের, সমর্থন বা অন্তত নীরব সম্মতি পেয়েছেন। স্নায়ুযুদ্ধের সময় এবং পরবর্তীকালে সন্ত্রাস-বিরোধী যুদ্ধে সামরিক সরকারগুলো কৌশলগত মিত্র হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। এই আন্তর্জাতিক সমর্থন সামরিক হস্তক্ষেপকারীদের জন্য একটি বৈধতা প্রদান করেছে এবং তাদের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ কমিয়েছে। আন্তর্জাতিক সমর্থন বেসামরিক গণতন্ত্রকে মজবুত করতে সহায়ক হয়নি, বরং সামরিক শাসককে উৎসাহিত করেছে।
মিডিয়া এবং জনসাধারণের উপর নিয়ন্ত্রণ (১২) সামরিক শাসকরা ক্ষমতায় থাকাকালীন গণমাধ্যম এবং জনসাধারণের মতামতকে নিয়ন্ত্রণ ও প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছে। তারা প্রায়শই নিজেদের দেশপ্রেমিক এবং দুর্নীতিমুক্ত নেতা হিসেবে উপস্থাপন করেছে, অন্যদিকে বেসামরিক রাজনীতিবিদদের দুর্নীতিবাজ এবং অযোগ্য হিসেবে চিত্রিত করেছে। এই ধরণের প্রচারণা এবং তথ্য নিয়ন্ত্রণ জনগণকে সামরিক শাসনের পক্ষে নিয়ে যেতে এবং গণতন্ত্রের প্রতি তাদের বিশ্বাসকে দুর্বল করতে সাহায্য করেছে।
অসফল বেসামরিক সরকারের দীর্ঘ তালিকা (১৩) পাকিস্তানের ইতিহাসে প্রায়শই বেসামরিক সরকারগুলো তাদের পূর্ণ মেয়াদ শেষ করতে পারেনি বা জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি খারাপ হওয়া, দুর্নীতি এবং রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে জনগণের মধ্যে গণতন্ত্রের কার্যকারিতা নিয়ে হতাশা সৃষ্টি হয়েছে। এই হতাশার সুযোগ নিয়ে সামরিক বাহিনী জনগণের কাছে নিজেদেরকে একমাত্র আশাব্যঞ্জক বিকল্প হিসেবে উপস্থাপন করেছে, যা তাদের হস্তক্ষেপের পথ সহজ করে দিয়েছে।
আঞ্চলিক এবং জাতিগত রাজনীতি (১৪) পাকিস্তানের রাজনীতিতে আঞ্চলিক এবং জাতিগত বিভাজন প্রায়শই তীব্র রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। বিভিন্ন প্রদেশের মধ্যেকার ক্ষমতার ভাগাভাগি নিয়ে দ্বন্দ্ব এবং ছোট জাতিগোষ্ঠীগুলোর প্রতিবাদের ফলে কেন্দ্রীয় সরকারের দুর্বলতা প্রকাশিত হয়েছে। এই আঞ্চলিক সংঘাত সামরিক বাহিনীকে জাতীয় ঐক্যের রক্ষক হিসেবে হস্তক্ষেপ করার একটি অজুহাত দিয়েছে, দাবি করে যে তারা দেশের সংহতি বজায় রাখতে অপরিহার্য।
সেনা প্রধানদের ব্যক্তিগত উচ্চাকাঙ্ক্ষা (১৫) অনেক ক্ষেত্রে, সামরিক হস্তক্ষেপের পিছনে ব্যক্তিগত উচ্চাকাঙ্ক্ষা এবং ক্ষমতা দখলের লোভ একটি বড় কারণ। উচ্চাভিলাষী সেনাপ্রধানরা রাজনৈতিক অস্থিরতার সুযোগ নিয়ে দেশের সর্বোচ্চ ক্ষমতা দখলে নিতে উৎসাহিত হয়েছেন। সামরিক প্রতিষ্ঠানের কাঠামোগত ক্ষমতা এবং দুর্বল বেসামরিক নেতৃত্বের কারণে একজন ব্যক্তিগতভাবে ক্ষমতাশালী নেতার জন্য অভ্যুত্থান ঘটানো তুলনামূলকভাবে সহজ হয়েছে।
আর্থিক শৃঙ্খলা ও সামরিক ব্যয় (১৬) সামরিক বাহিনী প্রায়শই এই ধারণা প্রচার করে যে, বেসামরিক সরকারগুলো আর্থিক শৃঙ্খলা এবং জাতীয় প্রতিরক্ষা ব্যয় সঠিকভাবে পরিচালনা করতে পারে না। সামরিক নেতৃত্ব মনে করে যে, তাদের হাতে ক্ষমতা থাকলে তারা সামরিক বাহিনীর জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ নিশ্চিত করতে পারবে এবং দেশের আর্থিক অব্যবস্থা দূর করতে পারবে। জাতীয় বাজেট এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের উপর প্রভাব বজায় রাখতে সামরিক বাহিনী সবসময় সচেষ্ট থাকে।
আইনের শাসনের অভাব ও দায়বদ্ধতা শূন্যতা (১৭) সামরিক শাসকরা ক্ষমতা দখল করার পর তাদের কাজের জন্য কোনো আইনি দায়বদ্ধতা থাকে না। অভ্যুত্থানের পর সামরিক বাহিনীর দ্বারা সংঘটিত মানবাধিকার লঙ্ঘন বা অনৈতিক কাজের জন্য তাদের জবাবদিহি করতে হয় না। আইনের শাসনের এই দুর্বলতা এবং সামরিক বাহিনীর দায়মুক্তির সংস্কৃতি হস্তক্ষেপকে একটি ঝুঁকিহীন উদ্যোগে পরিণত করে, যা বারবার সামরিক নেতৃত্বকে ক্ষমতা দখলের জন্য উৎসাহিত করে।
উপসংহার: পাকিস্তানের রাজনীতিতে সামরিক বাহিনীর বারবার হস্তক্ষেপের মূলে রয়েছে দুর্বল বেসামরিক প্রতিষ্ঠান, ভূ-রাজনৈতিক উদ্বেগ, সাংবিধানিক দুর্বলতা এবং সামরিক বাহিনীর অর্থনৈতিক স্বার্থ। এই জটিল কারণগুলোর চক্রাকার প্রভাব দেশটির গণতন্ত্রের বিকাশকে বারবার ব্যাহত করেছে। ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার জন্য, সামরিক বাহিনীকে রাজনীতি থেকে দূরে রেখে শক্তিশালী, স্বচ্ছ এবং জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ বেসামরিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার উপর গুরুত্ব দেওয়া অপরিহার্য।

