- readaim.com
- 0
উত্তর।।উপস্থাপনা: রাজনৈতিক সন্ত্রাস উন্নয়নশীল দেশগুলোর রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক বিকাশের পথে একটি বড় বাধা। রাজনৈতিক উদ্দেশ্য অর্জনের জন্য যখন ভয়ভীতি, সহিংসতা ও জোরপূর্বক শক্তি প্রয়োগ করা হয়, তখন তাকে রাজনৈতিক সন্ত্রাস বলা হয়। উন্নয়নশীল দেশগুলোতে বিভিন্ন সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সমস্যার কারণে এই ধরনের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।
উন্নয়নশীল দেশে রাজনৈতিক সন্ত্রাসের কারণসমূহ:
১। রাজনৈতিক অস্থিরতা: রাজনৈতিক অস্থিরতা রাজনৈতিক সন্ত্রাসের অন্যতম প্রধান কারণ। সরকার পরিবর্তনের সংঘাত, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বিরোধ এবং ক্ষমতা দখলের প্রতিযোগিতা অনেক সময় সহিংস পরিস্থিতি সৃষ্টি করে। এর ফলে রাজনৈতিক পরিবেশ অস্থিতিশীল হয়ে পড়ে এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সুযোগ বৃদ্ধি পায়।
২। ক্ষমতার দ্বন্দ্ব: রাজনৈতিক ক্ষমতা অর্জন ও ধরে রাখার প্রতিযোগিতা অনেক সময় সহিংসতার জন্ম দেয়। বিভিন্ন রাজনৈতিক গোষ্ঠী নিজেদের প্রভাব বিস্তার ও প্রতিপক্ষকে দুর্বল করার জন্য শক্তির ব্যবহার করে। ফলে রাজনৈতিক সন্ত্রাসের সৃষ্টি হয় এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
৩। দুর্বল রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান: উন্নয়নশীল দেশগুলোতে অনেক সময় রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান যেমন নির্বাচন ব্যবস্থা, বিচারব্যবস্থা ও প্রশাসন পর্যাপ্ত শক্তিশালী হয় না। এসব প্রতিষ্ঠানের দুর্বলতার কারণে রাজনৈতিক বিরোধ শান্তিপূর্ণভাবে সমাধান করা কঠিন হয় এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি পেতে পারে।
৪। অর্থনৈতিক বৈষম্য: ধনী ও দরিদ্রের মধ্যে ব্যাপক পার্থক্য, বেকারত্ব ও দারিদ্র্য রাজনৈতিক অসন্তোষ সৃষ্টি করে। অনেক সময় বঞ্চিত জনগোষ্ঠী নিজেদের দাবি আদায়ের জন্য চরমপন্থী বা সহিংস পথ বেছে নেয়, যা রাজনৈতিক সন্ত্রাসের রূপ নিতে পারে।
৫। রাজনৈতিক অসহিষ্ণুতা: ভিন্নমত ও বিরোধী রাজনৈতিক মতাদর্শের প্রতি সহনশীলতার অভাব রাজনৈতিক সন্ত্রাসের অন্যতম কারণ। যখন রাজনৈতিক দলগুলো আলোচনার পরিবর্তে শক্তি প্রয়োগের পথ গ্রহণ করে, তখন সংঘাত ও সহিংসতা বৃদ্ধি পায়।
৬। দুর্নীতি ও সুশাসনের অভাব: দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও প্রশাসনিক দুর্বলতা জনগণের মধ্যে হতাশা সৃষ্টি করে। এর ফলে রাষ্ট্রের প্রতি আস্থা কমে যায় এবং কিছু গোষ্ঠী রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে সহিংস কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়তে পারে।
৭। শিক্ষার অভাব ও রাজনৈতিক সচেতনতার ঘাটতি: রাজনৈতিক শিক্ষা ও সচেতনতার অভাবের কারণে অনেক মানুষ গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে দাবি আদায়ের পরিবর্তে সহিংস পন্থার দিকে আকৃষ্ট হতে পারে। সচেতনতার অভাব রাজনৈতিক সন্ত্রাস বিস্তারের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে।
৮। সামাজিক ও জাতিগত বিভাজন: ধর্ম, জাতি, ভাষা বা আঞ্চলিক বিভাজন অনেক সময় রাজনৈতিক সংঘাত সৃষ্টি করে। এসব বিভাজনকে ব্যবহার করে কিছু গোষ্ঠী নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের জন্য সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে পারে।
উপসংহার: উন্নয়নশীল দেশে রাজনৈতিক সন্ত্রাসের পেছনে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক নানা কারণ কাজ করে। শক্তিশালী গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান, সুশাসন, রাজনৈতিক সহনশীলতা ও জনগণের সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে রাজনৈতিক সন্ত্রাস কমানো সম্ভব।