- readaim.com
- 0
উত্তর।।উপস্থাপনা: বিংশ শতাব্দীর বিশ্বরাজনীতিতে সমাজতন্ত্র একটি অন্যতম শক্তিশালী আদর্শ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিল। তবে সমাজতান্ত্রিক আদর্শের মূল ভিত্তি এক হলেও সোভিয়েত ইউনিয়ন এবং চীনের বাস্তবায়নের রূপ এক ছিল না। ভৌগোলিক অবস্থান, জাতীয় সংস্কৃতি এবং নেতৃত্বের ভিন্নতার কারণে এই দুই পরাশক্তির সমাজতান্ত্রিক ধারার মধ্যে বেশ কিছু মৌলিক ও কাঠামোগত পার্থক্য গড়ে উঠেছিল, যা বিশ্বরাজনীতির মোড় ঘুরিয়ে দেয়।
১। বিপ্লবের চালিকাশক্তি: সোভিয়েত ইউনিয়নে সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের মূল চালিকাশক্তি ছিল শহরের শিল্প কারখানার শ্রমিক বা সর্বহারা শ্রেণী। কার্ল মার্ক্সের তত্ত্ব অনুসরণ করে ভ্লাদিমির লেনিন শ্রমিকদের সংগঠিত করে ১৯১৭ সালের বিপ্লব সফল করেছিলেন। অপরদিকে, চীনের সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের মূল শক্তি ছিল প্রত্যন্ত অঞ্চলের বিশাল কৃষক সমাজ। মাও সেতুং অনুধাবন করেছিলেন যে, চিনের প্রেক্ষাপটে শ্রমিকদের চেয়ে কৃষকদের বিপ্লবে শামিল করা বেশি কার্যকর হবে।
২। নেতৃত্বের আদর্শ: সোভিয়েত সমাজতন্ত্র পরিচালিত হতো মূলত মার্ক্সবাদ-লেনিনবাদের তাত্ত্বিক ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো অনুযায়ী, যেখানে দলের সিদ্ধান্তই ছিল চূড়ান্ত। অন্যদিকে, চিনের সমাজতন্ত্র গড়ে উঠেছিল ‘মাওবাদ’ বা মাও সেতুং-এর নিজস্ব চিন্তাধারার ওপর ভিত্তি করে। মাও সমাজতন্ত্রকে চিনের নিজস্ব সংস্কৃতি ও গ্রামীণ বাস্তবতার উপযোগী করে পুনর্গঠন করেছিলেন। ফলে দুই দেশের সমাজতান্ত্রিক দর্শনে এক বিশাল তাত্ত্বিক ব্যবধান তৈরি হয়।
৩। অর্থনৈতিক অগ্রাধিকার: সোভিয়েত ইউনিয়ন তাদের অর্থনৈতিক নীতিতে ভারী শিল্প, খনিজ সম্পদ এবং যান্ত্রিকীকরণের ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দিয়েছিল। তারা কৃষিকে শিল্পের সহায়ক শক্তি হিসেবে বিবেচনা করত। বিপরীতে, চীন প্রাথমিক অবস্থায় কৃষি খাতকে তাদের অর্থনীতির মূল ভিত্তি হিসেবে ঘোষণা করে। পরবর্তীতে তারা গ্রামীণ কুটির শিল্প এবং স্থানীয় পর্যায়ের উৎপাদন ব্যবস্থার ওপর জোর দিয়ে অর্থনৈতিক স্বয়ম্ভরতা অর্জনের চেষ্টা চালায়।
৪। শহুরে বনাম গ্রামীণ: সোভিয়েত সমাজতন্ত্রের মূল কেন্দ্রবিন্দু এবং ক্ষমতার উৎস ছিল বড় বড় শহর ও শিল্পাঞ্চলগুলো। গ্রামীণ অঞ্চলগুলোকে তারা শহরের অর্থনৈতিক চাহিদা মেটানোর উৎস হিসেবে দেখত। পক্ষান্তরে, চিনের সমাজতান্ত্রিক আন্দোলন গড়ে উঠেছিল গ্রামকে কেন্দ্র করে এবং তাদের রণকৌশল ছিল ‘গ্রাম দিয়ে শহর ঘেরাও’ করা। চিনের সমাজতন্ত্রে গ্রামীণ জীবনধারা ও কৃষকদের জীবনযাত্রাকে সবসময় বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।
৫। শ্রেণী সংগ্রামের ধরণ: সোভিয়েত ইউনিয়নে বিপ্লবের পর বুর্জোয়া বা পুঁজিবাদী শ্রেণীকে দমন করে দ্রুত রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। সেখানে শ্রেণী সংগ্রামকে একটি নির্দিষ্ট সময়ের পর সমাপ্ত মনে করা হতো। কিন্তু চিনে মাও সেতুং ‘নিয়ত বৈপ্লবিক সংগ্রাম’ বা স্থায়ী বিপ্লবের ধারণায় বিশ্বাস করতেন। তাঁর মতে, সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পরও সমাজ থেকে পুঁজিবাদী মানসিকতা দূর করতে প্রতিনিয়ত লড়াই চালিয়ে যাওয়া প্রয়োজন।
৬। ব্যক্তিগত পুঁজির অবস্থান: সোভিয়েত ইউনিয়নে সমস্ত অর্থনৈতিক খাত সম্পূর্ণরূপে রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে ছিল এবং সেখানে ব্যক্তিগত মালিকানার কোনো সুযোগ ছিল না। ক্ষুদ্র ব্যবসা বা ব্যক্তিগত চাষাবাদ সেখানে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ ছিল। চিনে সমাজতন্ত্রের প্রাথমিক যুগে কড়াকড়ি থাকলেও পরবর্তীতে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গঠনের মাধ্যমে সীমিত আকারে ব্যক্তিগত পুঁজির অনুমতি দেওয়া হয়। চিনের এই মিশ্র অর্থনৈতিক কৌশল তাদের সমাজতন্ত্রকে সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে আলাদা করে।
৭। সাংস্কৃতিক বিপ্লবের প্রভাব: সোভিয়েত ইউনিয়নে সংস্কৃতির রূপান্তর ঘটেছিল মূলত রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় শিক্ষা ও প্রচারণামূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে, যা ছিল বেশ নিয়ন্ত্রিত। কিন্তু চিনে মাও সেতুংয়ের নেতৃত্বে এক বিধ্বংসী ‘সাংস্কৃতিক বিপ্লব’ সংঘটিত হয়েছিল। এই বিপ্লবের উদ্দেশ্য ছিল চিনের পুরোনো ঐতিহ্য, সংস্কৃতি এবং বুর্জোয়া চিন্তাভাবনাকে সম্পূর্ণ উপড়ে ফেলা। চিনের এই রূপান্তর ছিল সোভিয়েত ইউনিয়নের তুলনায় অনেক বেশি উগ্র এবং বিশৃঙ্খল।
৮। আমলাতন্ত্রের ভূমিকা: সোভিয়েত ইউনিয়নে সমাজতন্ত্র টিকিয়ে রাখা এবং রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য একটি শক্তিশালী ও সুসংগঠিত আমলাতান্ত্রিক শ্রেণী গড়ে উঠেছিল। স্তালিনের আমলে এই আমলাতন্ত্র অত্যন্ত শক্তিশালী হয়ে ওঠে। অন্যদিকে, মাও সেতুং আমলাতন্ত্রকে সমাজতন্ত্রের শত্রু মনে করতেন এবং এর তীব্র বিরোধী ছিলেন। তিনি মনে করতেন, আমলাতন্ত্র সাধারণ মানুষের কাছ থেকে দলকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলে, তাই তিনি প্রতিনিয়ত আমলাদের ক্ষমতা খর্ব করার চেষ্টা করতেন।
৯। পররাষ্ট্র নীতি: সোভিয়েত ইউনিয়নের পররাষ্ট্র নীতি ছিল বিশ্বজুড়ে অন্যান্য সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রকে নেতৃত্ব দেওয়া এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সরাসরি শীতল যুদ্ধে লিপ্ত হওয়া। তারা নিজেদের সমাজতান্ত্রিক শিবিরের একমাত্র অভিভাবক মনে করত। অন্যদিকে, চীন প্রথম দিকে সোভিয়েত বলয়ে থাকলেও পরে নিজস্ব ও স্বতন্ত্র পররাষ্ট্র নীতি গ্রহণ করে। তারা এশীয় ও আফ্রিকান অঞ্চলের উন্নয়নশীল দেশগুলোর নেতা হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করতে বেশি আগ্রহী ছিল।
১০। ভূমি সংস্কার নীতি: সোভিয়েত ইউনিয়নে জোরপূর্বক কৃষিজমির জাতীয়করণ করা হয়েছিল এবং বড় বড় যৌথ খামার বা ‘কোলখোজ’ তৈরি করা হয়েছিল। এর ফলে কৃষকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছিল। চিনেও ভূমি সংস্কার হয়েছিল, তবে তা ছিল মূলত জমিদারদের জমি সাধারণ কৃষকদের মধ্যে বণ্টন করার মাধ্যমে। পরবর্তীতে চিনে ‘পিপলস কমিউন’ ব্যবস্থার মাধ্যমে কৃষকদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের ওপর জোর দেওয়া হয়েছিল, যা সোভিয়েত মডেল থেকে ভিন্ন ছিল।
১১। জাতীয়তাবাদের মিশ্রণ: সোভিয়েত ইউনিয়ন একটি বহুজাতিভিত্তিক রাষ্ট্র হওয়ায় তারা ‘সোভিয়েত মানব’ নামক একটি কৃত্রিম পরিচিতি তৈরির চেষ্টা করেছিল এবং স্থানীয় জাতীয়তাবাদকে দমন করেছিল। চিনের সমাজতন্ত্র কিন্তু তীব্র চিনা জাতীয়তাবাদের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছিল। মাও সেতুং মার্ক্সবাদকে চিনের হাজার বছরের জাতীয় গৌরব এবং সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী চেতনার সাথে সফলভাবে মিশ্রিত করতে পেরেছিলেন, যা চিনের জনগণকে বেশি উদ্বুদ্ধ করেছিল।
১২। দলীয় কাঠামো: সোভিয়েত কমিউনিস্ট পার্টি ছিল অত্যন্ত কঠোর, নিয়মতান্ত্রিক এবং শীর্ষ নেতাদের দ্বারা উপর থেকে নিচে পরিচালিত একটি দল। সাধারণ কর্মীদের সেখানে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ কম ছিল। চিনের কমিউনিস্ট পার্টিও কঠোর ছিল, তবে তারা ‘গণলাইন’ বা সাধারণ মানুষের সাথে সরাসরি যোগাযোগের নীতি অনুসরণ করত। চিনা কমিউনিস্টরা জনগণের মতামতকে দলের নীতি নির্ধারণে যুক্ত করার দাবি করত, যা সোভিয়েত মডেলে দেখা যেত না।
১৩। বুদ্ধিজীবীদের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি: সোভিয়েত ইউনিয়নে বুদ্ধিজীবী, বিজ্ঞানী ও বিজ্ঞানমনস্ক প্রযুক্তিবিদদের রাষ্ট্রীয় কাজে অত্যন্ত গুরুত্ব দেওয়া হতো এবং তাদের বিশেষ মর্যাদা ও সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হতো। কিন্তু চিনে সমাজতন্ত্রের সূচনালগ্নে এবং বিশেষ করে সাংস্কৃতিক বিপ্লবের সময় বুদ্ধিজীবীদের সন্দেহের চোখে দেখা হতো। মাও সেতুং মনে করতেন, বুদ্ধিজীবীরা শ্রমবিমুখ এবং বুর্জোয়া ঘেঁষা, তাই অনেক বুদ্ধিজীবীকে গ্রামে পাঠিয়ে শারীরিক শ্রম দিতে বাধ্য করা হয়েছিল।
১৪। শিল্পায়নের গতি: সোভিয়েত ইউনিয়ন পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার মাধ্যমে অত্যন্ত সুপরিকল্পিত এবং নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে দ্রুত শিল্পায়ন সম্পন্ন করতে সক্ষম হয়েছিল। যদিও এর পেছনে সাধারণ মানুষের ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল। অপরদিকে, চিন শিল্পায়নের জন্য ‘গ্রেট লিপ ফরোয়ার্ড’ এর মতো দ্রুত ও অবাস্তব পরিকল্পনা গ্রহণ করেছিল। প্রতিটি ঘরে লোহা গলানোর চুল্লি তৈরির মতো চিনা পরিকল্পনাগুলো চরম বিপর্যয় ডেকে এনেছিল।
১৫। অর্থনৈতিক সংস্কার: সোভিয়েত ইউনিয়ন তাদের ইতিহাসের দীর্ঘ সময় জুড়ে অর্থনৈতিক সংস্কারের ক্ষেত্রে অত্যন্ত রক্ষণশীল ও অনমনীয় মনোভাব প্রদর্শন করেছিল। মিখাইল গর্বাচেভের আমলে যখন সংস্কার শুরু হয়, ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গিয়েছিল। অন্যদিকে, চীন মাওয়ের মৃত্যুর পর ডেং শিয়াওপিংয়ের নেতৃত্বে অত্যন্ত বাস্তবমুখী ও নমনীয় অর্থনৈতিক সংস্কার নীতি গ্রহণ করে। তারা সমাজতন্ত্রের ভেতরেই বাজার অর্থনীতির উপাদান প্রবেশ করিয়ে অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করে।
১৬। ব্যক্তিপূজার ধরণ: সোভিয়েত ইউনিয়নে জোসেফ স্তালিনের আমলে চরম ব্যক্তিপূজা গড়ে উঠেছিল, যা মূলত রাষ্ট্রীয় শক্তির ভয় এবং প্রচারণার মাধ্যমে টিকিয়ে রাখা হয়েছিল। চিনে মাও সেতুংয়ের ব্যক্তিপূজা ছিল আরও গভীর এবং তা সাধারণ মানুষের আবেগের সাথে মিশে গিয়েছিল। চিনের প্রতিটি মানুষ মাওয়ের ‘লাল বই’ সাথে রাখত এবং তাঁকে প্রায় দেবতার আসনে বসিয়েছিল। স্তালিনের মৃত্যুর পর সোভিয়েতে ব্যক্তিপূজার অবসান ঘটলেও চিনে মাওয়ের প্রভাব অক্ষুণ্ণ থাকে।
১৭। আদর্শিক দ্বন্দ্ব: ষাটের দশকে সোভিয়েত ইউনিয়ন ও চিনের মধ্যে তাত্ত্বিক বিশুদ্ধতা নিয়ে তীব্র মতাদর্শগত বিরোধ বা ‘সোভিয়েত-চীন বিভাজন’ দেখা দেয়। সোভিয়েত ইউনিয়ন আমেরিকার সাথে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের নীতি গ্রহণ করলে চীন তাদের ‘সংশোধনবাদী’ বলে গালি দেয়। অন্যদিকে সোভিয়েত ইউনিয়ন চিনকে উগ্রপন্থী ও অ্যাডভেঞ্চারিস্ট বলে আখ্যায়িত করে। এই দ্বন্দ্বের ফলে বিশ্ব সমাজতান্ত্রিক আন্দোলন স্থায়ীভাবে দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছিল।
১৮। ঐতিহাসিক পরিণতি: সোভিয়েত সমাজতান্ত্রিক মডেল শেষ পর্যন্ত অর্থনৈতিক স্থবিরতা, রাজনৈতিক দুর্নীতি এবং জনবিচ্ছিন্নতার কারণে ১৯৯১ সালে সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ে। সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন বিশ্বরাজনীতিতে এক বিশাল শূন্যতার সৃষ্টি করে। পক্ষান্তরে, চিনের সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থা নিজেদের সময়োপযোগী পরিবর্তন ও সংস্কারের মাধ্যমে আজও টিকে রয়েছে। চীন আজ বিশ্বের বুকে সমাজতান্ত্রিক লেবাসেই এক অর্থনৈতিক ও সামরিক মহাশক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।
শেষকথা: পরিশেষে বলা যায়, সোভিয়েত ইউনিয়ন ও চিনের সমাজতন্ত্রের মূল লক্ষ্য এক হলেও তা অর্জনের পথ এবং কৌশল ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। সোভিয়েত ইউনিয়ন যেখানে শিল্প, আমলাতন্ত্র ও কঠোর কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণের ওপর ভর করে রাষ্ট্র পরিচালনা করেছিল, চিন সেখানে কৃষি, তৃণমূলের মানুষ এবং জাতীয়তাবাদের ওপর ভিত্তি করে তাদের সমাজতন্ত্রকে টিকিয়ে রেখেছে। এই কৌশলগত পার্থক্যের কারণেই সোভিয়েত সমাজতন্ত্রের পতন ঘটলেও চিনের সমাজতন্ত্র নতুন রূপে আজও বিশ্বে টিকে আছে।