- readaim.com
- 0
প্রশ্ন:- তমদ্দুন মজলিশ কী?
Or, তমদ্দুন মজলিশ সম্পর্কে লিখ।
Or, তমদ্দুন মজলিশ সম্পর্কে যা জান লিখ।
উত্তর::ভূমিকা: ভাষা, সংস্কৃতি ও সাহিত্য একটি জাতির পরিচয় ও ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ভারত বিভাজনের পর পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সময় বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির অস্তিত্ব রক্ষায় যে সংগঠনগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, তমদ্দুন মজলিশ ছিল তাদের মধ্যে অন্যতম। এটি বাংলা ভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠা এবং সাংস্কৃতিক চেতনা বিকাশে বিশেষ অবদান রাখে।
তমদ্দুন মজলিশের পরিচয়:
শাব্দিক অর্থ: “তমদ্দুন” শব্দের অর্থ হলো সভ্যতা, সংস্কৃতি বা কৃষ্টি এবং “মজলিশ” শব্দের অর্থ হলো সভা বা সংগঠন। তাই তমদ্দুন মজলিশের শাব্দিক অর্থ হলো সংস্কৃতি ও সভ্যতা বিষয়ক একটি সংগঠন।
তমদ্দুন মজলিশ: তমদ্দুন মজলিশ ছিল একটি সাংস্কৃতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক সংগঠন, যা ১৯৪৭ সালের ১ সেপ্টেম্বর তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের (বর্তমান বাংলাদেশ) ঢাকায় প্রতিষ্ঠিত হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবুল কাসেম এর নেতৃত্বে এই সংগঠন গড়ে ওঠে। বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা দেওয়ার দাবিতে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর যখন উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়, তখন তমদ্দুন মজলিশ বাংলা ভাষার পক্ষে জনমত গড়ে তোলে। ১৯৪৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসে সংগঠনটি “পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু?” নামে একটি পুস্তিকা প্রকাশ করে, যেখানে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার যৌক্তিকতা তুলে ধরা হয়।
তমদ্দুন মজলিশ ভাষা আন্দোলনের প্রাথমিক পর্যায়ের অন্যতম সংগঠক হিসেবে পরিচিত। ১৯৪৮ সালের ভাষা আন্দোলনের বিভিন্ন কর্মসূচি ও ভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে সংগঠনটির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।
তমদ্দুন মজলিশের ভূমিকা:
১। ভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠা: তমদ্দুন মজলিশ বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা দেওয়ার দাবিতে প্রথম দিকের সংগঠিত আন্দোলন গড়ে তোলে। তারা বাংলা ভাষার গুরুত্ব তুলে ধরে জনগণের মধ্যে ভাষা সচেতনতা সৃষ্টি করে।
২। ভাষা আন্দোলনের সূচনা: ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর বাংলা ভাষার দাবিতে যে আন্দোলনের সূচনা হয়, তাতে তমদ্দুন মজলিশ অগ্রণী ভূমিকা পালন করে। পরবর্তীতে এই আন্দোলন ১৯৫২ সালের মহান ভাষা আন্দোলনে রূপ নেয়।
৩। সাংস্কৃতিক চেতনা সৃষ্টি: সংগঠনটি বাংলা সাহিত্য, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য রক্ষায় কাজ করে। এর মাধ্যমে বাঙালির জাতীয়তাবোধ ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের বিকাশ ঘটে।
৪। বুদ্ধিবৃত্তিক আন্দোলন: তমদ্দুন মজলিশ লেখক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও বুদ্ধিজীবীদের একত্রিত করে ভাষা ও সংস্কৃতির পক্ষে মতামত গড়ে তোলে।
৫। রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবি: সংগঠনটি যুক্তি দিয়ে প্রমাণ করার চেষ্টা করে যে, পূর্ব বাংলার সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ভাষা বাংলা হওয়ায় এটিকে রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা দেওয়া উচিত।
উপসংহার: তমদ্দুন মজলিশ বাংলাদেশের ভাষা ও সাংস্কৃতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংগঠন। বাংলা ভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠার প্রাথমিক আন্দোলনে এর ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভাষা আন্দোলনের ভিত্তি গঠনে এই সংগঠনের অবদান ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে আছে।