• Home
  • Class 0-12
  • Grammar
    • Bangla Grammar
    • English Grammar
    • Arabic Grammar
  • Computer
    • MS Word
  • Jobs Study
    • BCS
    • Bank
    • Primary
    • Govt. job
    • Nibandhon
    • Medical Admission
    • University Admission
    • Army/Police/BDR/Anchar
  • Jobs
  • News
  • Digital Tools
    • Home
    • Class 0-12
    • Grammar
      • Bangla Grammar
      • English Grammar
      • Arabic Grammar
    • Computer
      • MS Word
    • Jobs Study
      • BCS
      • Bank
      • Primary
      • Govt. job
      • Nibandhon
      • Medical Admission
      • University Admission
      • Army/Police/BDR/Anchar
    • Jobs
    • News
    • Digital Tools
  • mdreadaim@gmail.com
  • Read at Home
Login > Register
Read Aim
Read Aim
  • Home
  • Class 0-12
  • Grammar
    • Bangla Grammar
    • English Grammar
    • Arabic Grammar
  • Computer
    • MS Word
  • Jobs Study
    • BCS
    • Bank
    • Primary
    • Govt. job
    • Nibandhon
    • Medical Admission
    • University Admission
    • Army/Police/BDR/Anchar
  • Jobs
  • News
  • Digital Tools
  • readaim.com
  • 0

প্রশ্ন:- “জাতীয়তাবাদ কি আধুনিক সভ্যতার প্রতি হুমকি স্বরূপ” ব্যাখ্যা কর।

উত্তর।।ভূমিকা: জাতীয়তাবাদ, যা একই সংস্কৃতি, ভাষা বা ঐতিহ্যের উপর ভিত্তি করে একটি জাতিকে একত্রিত করার ধারণা, আধুনিক সভ্যতার এক জটিল দিক। এটি একদিকে যেমন আত্মপরিচয় ও ঐক্যের জন্ম দেয়, তেমনি অন্যদিকে বিভেদ ও সংঘাতের কারণ হতে পারে। একবিংশ শতাব্দীর প্রেক্ষাপটে তাই প্রশ্ন জাগে, জাতীয়তাবাদ কি সত্যিই আধুনিক সভ্যতার জন্য হুমকি? এই নিবন্ধে আমরা জাতীয়তাবাদের ইতিবাচক ও নেতিবাচক দিকগুলো বিশ্লেষণ করে এর প্রভাব মূল্যায়ন করব।

জাতীয়তাবাদ কি আধুনিক সভ্যতার প্রতি হুমকি স্বরূপ?

১। বিভাজন ও সংঘাতের কারণ: জাতীয়তাবাদ প্রায়শই “আমরা বনাম তারা” মানসিকতার জন্ম দেয়, যেখানে নিজেদের জাতিকে শ্রেষ্ঠ এবং অন্যদের নিকৃষ্ট ভাবা হয়। এই দৃষ্টিভঙ্গি বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে অবিশ্বাস ও শত্রুতা তৈরি করে, যা জাতিগত নিধন, যুদ্ধ এবং সংঘাতের দিকে পরিচালিত করতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, বলকান অঞ্চলের যুদ্ধগুলো জাতীয়তাবাদের চরম রূপের ফল, যেখানে জাতিগত পরিচয়কে কেন্দ্র করে ভয়াবহ রক্তপাত হয়েছে। যখন একটি জাতি নিজেদের স্বার্থকে বৈশ্বিক মূল্যবোধের ঊর্ধ্বে স্থান দেয়, তখন আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ব্যাহত হয় এবং বিশ্ব শান্তি হুমকির মুখে পড়ে।

২। জাতিগত নিধন ও বৈষম্য: জাতীয়তাবাদের ভুল ব্যাখ্যা প্রায়শই জাতিগত নিধন ও বৈষম্যের জন্ম দেয়। যখন একটি শাসকগোষ্ঠী নিজেদের জাতিকে বিশুদ্ধ ও শ্রেষ্ঠ প্রমাণ করতে চায়, তখন তারা সংখ্যালঘু জাতিগোষ্ঠীর উপর অত্যাচার শুরু করে। রুয়ান্ডার গণহত্যা এবং মিয়ানমারে রোহিঙ্গা নির্যাতন এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ, যেখানে জাতীয়তাবাদের নামে নিরীহ মানুষকে হত্যা করা হয়েছে বা তাদের মৌলিক অধিকার হরণ করা হয়েছে। এই ধরনের ঘটনা আধুনিক সভ্যতার কপালে এক কলঙ্কজনক অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয় এবং মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়।

৩। অর্থনৈতিক সুরক্ষা ও বাণিজ্য বাধা: চরম জাতীয়তাবাদ প্রায়শই অর্থনৈতিক সুরক্ষাবাদকে উৎসাহিত করে, যেখানে সরকার দেশীয় শিল্পকে রক্ষা করার জন্য আমদানি শুল্ক বৃদ্ধি করে বা বৈদেশিক বাণিজ্য সীমিত করে। এই নীতিগুলো আন্তর্জাতিক বাণিজ্যকে ব্যাহত করে এবং বিশ্ব অর্থনীতির গতি কমিয়ে দেয়। যদিও এটি স্বল্পমেয়াদে দেশীয় শিল্পকে সুরক্ষা দিতে পারে, তবে দীর্ঘমেয়াদে এটি প্রতিযোগিতা হ্রাস করে এবং ভোক্তা পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি করে। এর ফলে আন্তর্জাতিক সম্পর্কও খারাপ হতে পারে এবং বাণিজ্যিক যুদ্ধ শুরু হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

৪। আন্তর্জাতিক সহযোগিতার অভাব: জাতীয়তাবাদ যখন প্রবল হয়, তখন দেশগুলো নিজেদের স্বার্থকে প্রাধান্য দেয় এবং আন্তর্জাতিক সমস্যা সমাধানের জন্য সহযোগিতা করতে অনীহা প্রকাশ করে। জলবায়ু পরিবর্তন, মহামারী এবং সন্ত্রাসবাদের মতো বৈশ্বিক সমস্যাগুলো এককভাবে কোনো দেশ সমাধান করতে পারে না, এর জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অপরিহার্য। কিন্তু জাতীয়তাবাদ এই সহযোগিতার পথে বাধা সৃষ্টি করে, যা সমগ্র মানবজাতির জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে। প্রতিটি দেশ যদি কেবল নিজেদের সুবিধা দেখে, তাহলে বড় বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলা করা কঠিন হয়ে পড়ে।

৫। সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের অবজ্ঞা: জাতীয়তাবাদ অনেক সময় সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে অবজ্ঞা করে এবং একটি নির্দিষ্ট সংস্কৃতির আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করতে চায়। এটি বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর ঐতিহ্য, ভাষা ও রীতিনীতিকে হুমকির মুখে ফেলে দেয়। যখন একটি জাতি নিজেদের সংস্কৃতিকে একমাত্র সঠিক বা শ্রেষ্ঠ মনে করে, তখন অন্যান্য সংস্কৃতিগুলো প্রান্তিক হয়ে পড়ে এবং তাদের অস্তিত্ব সংকটে পড়ে। আধুনিক সভ্যতা যেখানে বহুত্ববাদকে গুরুত্ব দেয়, সেখানে এই ধরনের একচেটিয়া ধারণা সংস্কৃতির বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করে।

৬। গণতন্ত্রের জন্য হুমকি: কিছু ক্ষেত্রে জাতীয়তাবাদ স্বৈরাচারী শাসনের জন্ম দিতে পারে, যেখানে একজন শক্তিশালী নেতা জাতীয়তাবাদী উন্মাদনাকে কাজে লাগিয়ে ক্ষমতা দখল করেন এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংস করেন। জনগণের মধ্যে দেশপ্রেমের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে ভিন্নমত দমন করা হয় এবং মৌলিক অধিকার খর্ব করা হয়। ইতিহাসের বিভিন্ন সময়ে এমন উদাহরণ দেখা গেছে যেখানে জাতীয়তাবাদী স্লোগান ব্যবহার করে স্বৈরাচারী শাসকরা ক্ষমতায় এসেছেন এবং গণতন্ত্রকে পদদলিত করেছেন।

৭। শিক্ষার উপর প্রভাব: জাতীয়তাবাদ শিক্ষার উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে, যেখানে ইতিহাসকে বিকৃত করে নিজেদের জাতির শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করার চেষ্টা করা হয়। পাঠ্যপুস্তকে ভুল তথ্য অন্তর্ভুক্ত করা হয় এবং ভিন্ন মতাদর্শকে দমন করা হয়। এর ফলে নতুন প্রজন্ম সংকীর্ণ মানসিকতা নিয়ে বেড়ে ওঠে এবং তারা বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট বুঝতে ব্যর্থ হয়। যখন শিক্ষা ব্যবস্থা সত্যের পরিবর্তে জাতীয়তাবাদী প্রোপাগান্ডায় পূর্ণ হয়, তখন তরুণদের মধ্যে সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনার বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়।

৮। সংখ্যালঘুদের বঞ্চনা: জাতীয়তাবাদ যখন চরম আকার ধারণ করে, তখন সংখ্যালঘুদের অধিকার খর্ব হয়। তাদের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয় এবং তাদের উপর নানা ধরনের বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। এটি সমাজে অস্থিরতা সৃষ্টি করে এবং সংখ্যালঘুদের মধ্যে বঞ্চনার অনুভূতি তৈরি হয়, যা ভবিষ্যতে সংঘাতের কারণ হতে পারে। একটি জাতি যখন নিজেদের সংখ্যাগরিষ্ঠতার উপর ভিত্তি করে অন্যদের উপর আধিপত্য বিস্তার করতে চায়, তখন সমাজে বিভেদ সৃষ্টি হয়।

৯। উগ্রবাদের জন্ম: জাতীয়তাবাদের নামে উগ্রবাদী গোষ্ঠীগুলোর জন্ম হতে পারে, যারা নিজেদের লক্ষ্য অর্জনের জন্য সহিংস পন্থা অবলম্বন করে। এই গোষ্ঠীগুলো প্রায়শই জাতিগত বা ধর্মীয় বিভেদকে কাজে লাগিয়ে সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনা করে। উগ্র জাতীয়তাবাদীরা নিজেদের উদ্দেশ্য সাধনের জন্য যেকোনো সীমা অতিক্রম করতে প্রস্তুত থাকে, যা দেশের শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য মারাত্মক হুমকি। এদের কারণে সমাজে চরমপন্থার বিস্তার ঘটে এবং সাধারণ মানুষের জীবন ঝুঁকিতে পড়ে।

১০। ঐতিহাসিক ভুল পুনরাবৃত্তি: জাতীয়তাবাদের আবেগপ্রবণতা প্রায়শই মানুষকে অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিতে বাধা দেয়। যখন একটি জাতি নিজেদের ইতিহাসকে শুধু মহিমান্বিত করে দেখে এবং এর অন্ধকার দিকগুলোকে অস্বীকার করে, তখন একই ভুল বারবার পুনরাবৃত্তি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। উদাহরণস্বরূপ, হিটলারের নাৎসি জার্মানি জাতীয়তাবাদের চরম রূপ দেখিয়েছিল, যার পরিণতি ছিল ভয়াবহ। ইতিহাস থেকে শিক্ষা না নিলে জাতিগুলো একই ভুল চক্রে পড়তে পারে।

১১। বৈশ্বিক নাগরিকত্বের অবক্ষয়: জাতীয়তাবাদ বৈশ্বিক নাগরিকত্বের ধারণাকে ক্ষুণ্ন করে, যেখানে প্রতিটি মানুষ বিশ্বের একজন সদস্য হিসেবে নিজেকে গণ্য করে। যখন মানুষ কেবল নিজেদের দেশ ও জাতির মধ্যে আবদ্ধ থাকে, তখন তারা বিশ্বের বৃহত্তর সমস্যাগুলো সম্পর্কে উদাসীন থাকে। বৈশ্বিক নাগরিকত্ব একটি শান্তিপূর্ণ ও সহনশীল বিশ্ব গঠনের জন্য অপরিহার্য, কিন্তু জাতীয়তাবাদ এই ধারণাকে দুর্বল করে দেয়। এটি মানুষকে তাদের সংকীর্ণ গণ্ডির মধ্যে আটকে রাখে এবং বিশ্বব্যাপী ঐক্যের পথে বাধা সৃষ্টি করে।

১২। গণমাধ্যম ও প্রোপাগান্ডার ব্যবহার: জাতীয়তাবাদী সরকারগুলো প্রায়শই গণমাধ্যমকে তাদের এজেন্ডা প্রচারের জন্য ব্যবহার করে। তারা সংবাদকে বিকৃত করে, ভিন্নমত দমন করে এবং নিজেদের পছন্দসই তথ্য প্রচার করে। এর ফলে জনগণ সঠিক তথ্য থেকে বঞ্চিত হয় এবং তাদের মধ্যে ভুল ধারণা তৈরি হয়। গণমাধ্যম যখন স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে না, তখন জাতীয়তাবাদী প্রোপাগান্ডা সমাজে আরও সহজে ছড়িয়ে পড়ে এবং জনগণের চিন্তাভাবনাকে প্রভাবিত করে।

১৩। অভিবাসন সমস্যা বৃদ্ধি: জাতীয়তাবাদ অভিবাসন সমস্যাকে আরও জটিল করে তোলে। যখন দেশগুলো নিজেদের সীমান্ত বন্ধ করে দেয় এবং অভিবাসীদের প্রতি বিদ্বেষমূলক মনোভাব পোষণ করে, তখন মানবিক সংকট দেখা দেয়। জাতীয়তাবাদী ধারণার বশবর্তী হয়ে অভিবাসীদের প্রতি অমানবিক আচরণ করা হয়, যা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন। এই মনোভাব বৈশ্বিক সংহতিকে দুর্বল করে এবং অভিবাসীদের জন্য জীবন আরও কঠিন করে তোলে।

১৪। বৈজ্ঞানিক অগ্রগতিতে বাধা: জাতীয়তাবাদ বৈজ্ঞানিক অগ্রগতিতে বাধা দিতে পারে যখন দেশগুলো নিজেদের আবিষ্কারকে একচেটিয়াভাবে রাখতে চায় এবং আন্তর্জাতিক গবেষণা সহযোগিতা সীমিত করে। জ্ঞানের আদান-প্রদান বৈজ্ঞানিক উদ্ভাবনের জন্য অপরিহার্য, কিন্তু জাতীয়তাবাদ এই প্রক্রিয়াকে ধীর করে দেয়। যখন বিজ্ঞানীরা নিজেদের দেশের সীমানার মধ্যে আবদ্ধ থাকে, তখন বিশ্বব্যাপী জ্ঞান ও প্রযুক্তির বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়।

১৫। পরিবেশগত বিপর্যয়: পরিবেশগত সমস্যাগুলো সীমান্ত মানেনা, এবং তাদের সমাধানের জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজন। কিন্তু জাতীয়তাবাদ প্রায়শই দেশগুলোকে পরিবেশগত ইস্যুতে এককভাবে কাজ করতে উৎসাহিত করে, যা বৈশ্বিক পরিবেশ বিপর্যয়কে আরও বাড়িয়ে তোলে। যখন একটি দেশ শুধু নিজেদের অর্থনৈতিক স্বার্থ দেখে এবং পরিবেশের উপর এর প্রভাব সম্পর্কে উদাসীন থাকে, তখন এটি সমগ্র পৃথিবীর জন্য ক্ষতিকর হয়।

১৬। সন্ত্রাসবাদকে উৎসাহিত করা: কিছু ক্ষেত্রে, উগ্র জাতীয়তাবাদী ideology সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোকে অনুপ্রেরণা যোগাতে পারে। এই গোষ্ঠীগুলো জাতীয়তাবাদী আবেগ ব্যবহার করে নিজেদের সহিংস কার্যক্রমকে বৈধতা দিতে চায়। তারা নিজেদের জাতিকে “শত্রুদের” হাত থেকে রক্ষা করার নামে নির্বিচারে হামলা চালায়, যা আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি। যখন জাতীয়তাবাদ উগ্রবাদের সাথে মিশে যায়, তখন তা চরম বিধ্বংসী হতে পারে।

১৭। কূটনৈতিক সম্পর্ক অবনতি: জাতীয়তাবাদের বাড়াবাড়ি প্রায়শই দেশগুলোর মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ককে খারাপ করে তোলে। যখন প্রতিটি দেশ কেবল নিজেদের স্বার্থকে প্রাধান্য দেয় এবং অন্যের প্রতি অবিশ্বাস পোষণ করে, তখন শান্তিপূর্ণ আলোচনার সুযোগ কমে যায়। এটি আন্তর্জাতিক মঞ্চে অস্থিরতা তৈরি করে এবং বিভিন্ন দেশের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি করে। দুর্বল কূটনৈতিক সম্পর্ক বৈশ্বিক সংকট সমাধানে বড় বাধা সৃষ্টি করে।

১৮। মানবাধিকারের লঙ্ঘন: জাতীয়তাবাদ প্রায়শই মানবাধিকারের লঙ্ঘনের কারণ হয়। যখন একটি জাতি নিজেদের শ্রেষ্ঠ প্রমাণ করতে চায়, তখন তারা সংখ্যালঘুদের অধিকার, মত প্রকাশের স্বাধীনতা এবং অন্যান্য মৌলিক মানবাধিকারকে পদদলিত করে। বিভিন্ন দেশে জাতীয়তাবাদী শাসকরা ভিন্নমত দমনের জন্য এই ধরনের কৌশল ব্যবহার করে, যা গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের পরিপন্থী।

১৯। অস্থিতিশীল আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা: যখন প্রতিটি দেশ শুধু নিজেদের জাতীয় স্বার্থ নিয়ে ব্যস্ত থাকে, তখন একটি স্থিতিশীল আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার অভাব দেখা দেয়। এটি বিশ্বব্যাপী ভারসাম্য নষ্ট করে এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ককে অনিশ্চিত করে তোলে। একটি সুসংহত বিশ্ব ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য জাতীয়তাবাদের ঊর্ধ্বে উঠে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহযোগিতার প্রয়োজন।

২০। অর্থনৈতিক বৈষম্য বৃদ্ধি: কিছু ক্ষেত্রে, জাতীয়তাবাদ দেশের অভ্যন্তরে অর্থনৈতিক বৈষম্য বৃদ্ধি করতে পারে। যখন সরকার জাতীয়তাবাদী স্লোগানের আড়ালে কিছু নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষা করে, তখন সমাজের অন্য অংশগুলো বঞ্চিত হয়। এটি অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা সৃষ্টি করে এবং সামাজিক ন্যায়বিচার ব্যাহত করে।

২১। ঐতিহাসিক বিভেদ জিইয়ে রাখা: জাতীয়তাবাদ প্রায়শই অতীতের ঐতিহাসিক বিভেদ ও ক্ষোভকে জিইয়ে রাখে, যা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসে। এর ফলে পুরনো শত্রুতা নতুন করে জেগে ওঠে এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার পথ কঠিন হয়। যখন জাতিগুলো অতীতের তিক্ততাকে ছাড়িয়ে যেতে পারে না, তখন সমাজে বিভেদ স্থায়ী রূপ নেয়।

উপসংহার: জাতীয়তাবাদ একটি দ্বিমুখী তলোয়ারের মতো। এটি যেমন একটি জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করতে পারে, তেমনি বিশ্ব শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য মারাত্মক হুমকিও হতে পারে। যখন এটি উগ্র রূপ ধারণ করে এবং বিভেদ ও সংঘাতকে উস্কে দেয়, তখন এটি আধুনিক সভ্যতার অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করে। তাই, একটি সহনশীল ও শান্তিপূর্ণ বিশ্ব গড়তে হলে জাতীয়তাবাদের ইতিবাচক দিকগুলো গ্রহণ করে এর নেতিবাচক দিকগুলো পরিহার করা অপরিহার্য। আমাদের এমন একটি ভারসাম্যপূর্ণ জাতীয়তাবাদের চর্চা করতে হবে যা মানবতাকে প্রাধান্য দেয় এবং বৈশ্বিক সহযোগিতাকে উৎসাহিত করে।

একনজরে উত্তর দেখুন
  • 🌍 ১। বিভাজন ও সংঘাতের কারণ
  • 💔 ২। জাতিগত নিধন ও বৈষম্য
  • 💰 ৩। অর্থনৈতিক সুরক্ষা ও বাণিজ্য বাধা
  • 🤝 ৪। আন্তর্জাতিক সহযোগিতার অভাব
  • 🎨 ৫। সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের অবজ্ঞা
  • ⚖️ ৬। গণতন্ত্রের জন্য হুমকি
  • 📚 ৭। শিক্ষার উপর প্রভাব
  • 📉 ৮। সংখ্যালঘুদের বঞ্চনা
  • 🔥 ৯। উগ্রবাদের জন্ম
  • 🔄 ১০। ঐতিহাসিক ভুল পুনরাবৃত্তি
  • 🌐 ১১। বৈশ্বিক নাগরিকত্বের অবক্ষয়
  • 📢 ১২। গণমাধ্যম ও প্রোপাগান্ডার ব্যবহার
  • 🚶‍♀️ ১৩। অভিবাসন সমস্যা বৃদ্ধি
  • 🔬 ১৪। বৈজ্ঞানিক অগ্রগতিতে বাধা
  • 🌳 ১৫। পরিবেশগত বিপর্যয়
  • 💣 ১৬। সন্ত্রাসবাদকে উৎসাহিত করা
  • 📉 ১৭। কূটনৈতিক সম্পর্ক অবনতি
  • 🚫 ১৮। মানবাধিকারের লঙ্ঘন
  • 🌍 ১৯। অস্থিতিশীল আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা
  • 📊 ২০। অর্থনৈতিক বৈষম্য বৃদ্ধি
  • 📜 ২১। ঐতিহাসিক বিভেদ জিইয়ে রাখা
প্রশ্নটির গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

জাতীয়তাবাদের ইতিহাস বহু পুরনো হলেও এর আধুনিক রূপ ১৯শ শতকে ইউরোপে ফরাসি বিপ্লবের (১৭৮৯) পর থেকে বিস্তার লাভ করে। এই সময় থেকে জাতি-রাষ্ট্রের ধারণা জনপ্রিয় হয়। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ (১৯১৪-১৯১৮) এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ (১৯৩৯-১৯১৯৪৫) ছিল উগ্র জাতীয়তাবাদের ভয়াবহ পরিণতি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জাতিসংঘের (১৯৪৫ সালে প্রতিষ্ঠিত) মতো আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো জাতীয়তাবাদের নেতিবাচক প্রভাব কমানোর চেষ্টা করে। ১৯৯০-এর দশকে বলকান যুদ্ধের সময় (যেমন বসনিয়া যুদ্ধ, ১৯৯২-১৯৯৫) জাতিগত জাতীয়তাবাদের কারণে ভয়াবহ সংঘাত দেখা যায়। ২১শ শতাব্দীতেও বিভিন্ন জরিপে দেখা যায়, অনেক দেশে জাতীয়তাবাদী আবেগ তীব্র হচ্ছে, যা বৈশ্বিক ভূ-রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। অভিবাসন সংকট এবং ব্রেক্সিট (২০১৬) এর মতো ঘটনাগুলোও জাতীয়তাবাদী চেতনার প্রভাবের উদাহরণ।

Tags: জাতীয়তাবাদ কি আধুনিক সভ্যতার প্রতি হুমকি স্বরূপ
  • Previous সংবিধান প্রতিষ্ঠার পদ্ধতি সমূহ আলোচনা কর।
  • Next জাতীয়তাবাদ ও আন্তর্জাতিকতাবাদের সম্পর্ক বিশ্লেষণ করো।
Read Aim

SUBSCRIBE

    JOB CIRCULAR

    • Media/Ads/Event Mngnt (145)
    • Medical/Pharmaceutical (123)
    • NGO/Organization (323)
    • Production/Operation (142)
    • Research/Consultancy (85)
    • Secretary/Receptionist (188)
    • Security/Support Service (99)
    • Others (59)

    LEARNING & EARNING

    • English Article
    • Bearded Dragon
    • Cats
    • Dogs
    • Guinea Pigs
    • Insurance
    • Lawyer
    • Rabbits
    • Earn Money Online
    • Others

    CATEGORIES

    • Computer (12)
    • DEGREE (4)
    • English Article (27)
    • GRAMMAR (138)
    • Health Tips (2)
    • Honours (1083)
    • Jobs (16)
    • Jobs Study (33)
    • News (1336)
    • PDF BOOK (78)

    RECENT POST

    উত্তর আধুনিকতাবাদের উদ্ভব ও ক্রমবিকাশ আলোচনা কর।
    উত্তর আধুনিকতাবাদের বৈশিষ্ট্যসমূহ আলোচনা কর।
    সেন্ট সাইমন ও রবার্ট ওয়েনের কাল্পনিক সমাজতন্ত্রের রূপরেখা বিশ্লেষণ কর।
    কাল্পনিক ও বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রের মধ্যে একটি তুলনামূলক আলোচনা কর।

    2025 All Rights Reserved readaim.com

    • Contact
    • About
    • Privacy
    • Blog
    • READ AIM