- readaim.com
- 0
উত্তর।।উপস্থাপনা: বিংশ শতাব্দীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ দার্শনিক ও চিন্তাবিদ বার্ট্রান্ড রাসেল গণতন্ত্র সম্পর্কে এক অনন্য ও বাস্তবসম্মত ধারণা পোষণ করতেন। তিনি গণতন্ত্রকে কেবল একটি শাসনব্যবস্থা হিসেবে দেখেননি, বরং একে মানুষের ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও সামাজিক ন্যায়বিচার রক্ষার একটি শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করেছেন। রাসেলের গণতান্ত্রিক চিন্তাধারা মানবকল্যাণ ও মুক্তবুদ্ধির চর্চায় গভীরভাবে অনুপ্রাণিত।
১। ব্যক্তিগত স্বাধীনতা: বার্ট্রান্ড রাসেলের রাজনৈতিক দর্শনের মূল ভিত্তি ছিল মানুষের ব্যক্তিগত স্বাধীনতা রক্ষা করা। তিনি বিশ্বাস করতেন যে, একটি আদর্শ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে প্রতিটি নাগরিকের নিজস্ব মতামত প্রকাশের পূর্ণ স্বাধীনতা থাকা উচিত। রাষ্ট্র যদি মানুষের চিন্তার স্বাধীনতা এবং বাকস্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করে, তবে গণতন্ত্রের মূল উদ্দেশ্যই ব্যাহত হয়। রাসেল মনে করতেন, স্বৈরাচারী মানসিকতা থেকে মুক্ত হয়ে মানুষের সৃজনশীলতার বিকাশ ঘটাতে গণতন্ত্রের কোনো বিকল্প নেই।
২। ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ: রাসেল ক্ষমতার চরম কেন্দ্রীকরণের তীব্র বিরোধী ছিলেন এবং সবসময় ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণের ওপর জোর দিতেন। তিনি মনে করতেন, সমস্ত ক্ষমতা যখন একটি নির্দিষ্ট কেন্দ্র বা অল্প কিছু মানুষের হাতে পুঞ্জীভূত হয়, তখন অত্যাচার ও দুর্নীতির পথ সুগম হয়। গণতন্ত্রের সাফল্যের জন্য স্থানীয় সরকার এবং বিভিন্ন স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ক্ষমতা সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া উচিত। এর ফলে সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষ রাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় সরাসরি অংশ নেওয়ার সুযোগ পায়।
৩। সহনশীলতার গুরুত্ব: রাসেলের মতে, গণতন্ত্র কেবল একটি শাসনপদ্ধতি নয়, এটি এক ধরনের জীবনবোধ যা পারস্পরিক সহনশীলতার ওপর টিকে থাকে। ভিন্নমতের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করা এবং অন্যের অধিকারকে স্বীকৃতি দেওয়া গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির প্রধান শর্ত। সমাজে যখন বিভিন্ন মত ও পথের মানুষ একে অপরকে সহ্য করতে শেখে, তখনই প্রকৃত গণতন্ত্রের বিকাশ ঘটে। রাসেল বিশ্বাস করতেন যে, বলপ্রয়োগের চেয়ে যুক্তি এবং পরমতসহিষ্ণুতা সমাজকে অনেক বেশি স্থিতিশীল ও শান্তিপূর্ণ রাখতে সাহায্য করে।
৪। শিক্ষার বিস্তার: একটি সচেতন ও শিক্ষিত জনগোষ্ঠী ছাড়া গণতন্ত্র কখনো সফল হতে পারে না বলে রাসেল দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করতেন। তিনি এমন এক শিক্ষাব্যবস্থার পক্ষে ছিলেন যা মানুষকে অন্ধ আনুগত্যের পরিবর্তে স্বাধীন ও সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনা করতে শেখাবে। নাগরিকরা যদি রাজনৈতিকভাবে সচেতন না হয়, তবে চতুর শাসকেরা তাদের খুব সহজেই বিভ্রান্ত করতে পারে। তাই রাসেলের মতে, সঠিক এবং নিরপেক্ষ শিক্ষা হলো লুণ্ঠনকারী শাসক ও স্বৈরাচারী ব্যবস্থার বিরুদ্ধে জনগণের সবচেয়ে বড় ঢাল।
৫। আইনের শাসন: গণতন্ত্রকে টিকিয়ে রাখতে হলে সমাজে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা অপরিহার্য বলে রাসেল মনে করতেন। ধনী-দরিদ্র বা শাসক-শাসিত নির্বিশেষে দেশের প্রতিটি নাগরিক আইনের চোখে সমান সুযোগ এবং বিচার পাওয়ার অধিকারী। আইন যদি পক্ষপাতদুষ্ট হয়, তবে সাধারণ মানুষের মনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয় যা গণতান্ত্রিক স্থিতিশীলতাকে বিনষ্ট করে। রাসেল স্পষ্ট বলেছেন যে, সুনির্দিষ্ট এবং ন্যায়সংগত আইনের মাধ্যমেই নাগরিকের অধিকার সুরক্ষিত রাখা সম্ভব।
৬। সংখ্যালঘুর অধিকার: সংখ্যাগরিষ্ঠের শাসনের নামে সংখ্যাগরিষ্ঠের স্বৈরাচার যেন প্রতিষ্ঠা না পায়, সে বিষয়ে রাসেল অত্যন্ত সতর্ক ছিলেন। তিনি মনে করতেন, একটি প্রকৃত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব হলো সমাজে বসবাসকারী সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অধিকার রক্ষা করা। কেবল ভোটের সংখ্যা দিয়ে ন্যায়-অন্যায়ের বিচার করা সমীচীন নয়, বরং দুর্বল ও সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা দেওয়া রাষ্ট্রের কর্তব্য। রাসেলের মতে, সংখ্যালঘুদের অধিকার যেখানে বিপন্ন, সেখানে গণতন্ত্রের নামে আসলে একনায়কতন্ত্রই বিরাজ করে।
৭। অর্থনৈতিক সাম্য: রাসেল বুঝতে পেরেছিলেন যে, চরম অর্থনৈতিক বৈষম্য বজায় রেখে রাজনৈতিক গণতন্ত্র কখনো পূর্ণতা পেতে পারে না। ক্ষুধার্ত ও দরিদ্র মানুষের কাছে ভোটের অধিকার বা বাকস্বাধীনতার মূল্য অনেক সময়ই অর্থহীন হয়ে পড়ে। তাই তিনি পুঁজিবাদী ব্যবস্থার ত্রুটিগুলো দূর করে সমাজে এক ধরনের অর্থনৈতিক ভারসাম্য আনার পক্ষে মত দিয়েছিলেন। নাগরিকের মৌলিক চাহিদাগুলো পূরণ করা সম্ভব হলে তবেই তারা রাষ্ট্রীয় রাজনীতিতে সঠিকভাবে মনোনিবেশ করতে সক্ষম হয়।
৮। যুক্তিবাদের প্রয়োগ: রাসেলের সামগ্রিক দর্শনের মতো তাঁর গণতান্ত্রিক ধারণাতেও যুক্তিবাদ এবং বিজ্ঞানমনস্কতার প্রভাব ছিল অপরিসীম। তিনি আবেগের বশে বা অন্ধ বিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে কোনো রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ঘোর বিরোধী ছিলেন। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ভোটার এবং নেতা উভয়কেই যেকোনো জাতীয় সমস্যায় যৌক্তিক ও বাস্তবসম্মত দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করতে হবে। কুসংস্কার ও অন্ধ আবেগ পরিহার করে যুক্তির আলোকেই কেবল একটি প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠন করা সম্ভব।
৯। বিশ্ব সরকারের ভাবনা: আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখার জন্য রাসেল একটি বিশ্ব সরকার বা আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার স্বপ্ন দেখেছিলেন। তিনি মনে করতেন, উগ্র জাতীয়তাবাদ মানবজাতির জন্য মারাত্মক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে, যার প্রমাণ দুটি বিশ্বযুদ্ধ। বিশ্বের বিভিন্ন গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলোর উচিত পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে একটি শক্তিশালী আন্তর্জাতিক সংস্থা গড়ে তোলা। এই বিশ্ব সংস্থাই পরমাণু যুদ্ধ প্রতিরোধ করবে এবং বিশ্বজুড়ে মানুষের মৌলিক মানবাধিকার ও গণতন্ত্র রক্ষা করবে।
১০। নিয়মতান্ত্রিক পরিবর্তন: রাসেল বিপ্লব বা রক্তাক্ত বিদ্রোহের মাধ্যমে ক্ষমতা পরিবর্তনের চেয়ে নিয়মতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ উপায়ে সরকার পরিবর্তনের সমর্থক ছিলেন। গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় সৌন্দর্য হলো, এখানে বুলেট বা অস্ত্রের ব্যবহার ছাড়াই ব্যালটের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ তাদের প্রতিনিধি পরিবর্তন করতে পারে। সহিংসতা সমাজে বিশৃঙ্খলা ও নতুন কোনো একনায়কতন্ত্রের জন্ম দেয়, যা প্রগতির পথকে রুদ্ধ করে। তাই রাসেল সবসময় শান্তিপূর্ণ আলোচনা, নির্বাচন এবং আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সমাজ পরিবর্তনের কথা বলতেন।
১১। আমলাতন্ত্রের সমালোচনা: গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে আমলাতন্ত্রের অতিরিক্ত প্রভাব ও ক্ষমতার অপব্যবহার নিয়ে রাসেল বেশ চিন্তিত ও সমালোচনামূলক ছিলেন। তিনি মনে করতেন, সরকারি কর্মচারীরা যখন জনগণের সেবকের পরিবর্তে শাসকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়, তখন গণতন্ত্রের চেতনা ধূলিসাৎ হয়ে যায়। আমলাতান্ত্রিক জটিলতা সাধারণ মানুষের অধিকার প্রাপ্তিকে বিলম্বিত করে এবং রাষ্ট্রকে স্থবির করে তোলে। তাই রাসেলের মতে, আমলাতন্ত্রকে সবসময় জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ন্ত্রণে এবং জবাবদিহিতার মধ্যে রাখা উচিত।
১২। উগ্র জাতীয়তাবাদের বিরোধিতা: রাসেল উগ্র জাতীয়তাবাদকে মানবজাতির শত্রু এবং গণতন্ত্রের জন্য একটি বড় হুমকি হিসেবে গণ্য করতেন। নিজের দেশকে ভালোবাসার অর্থ এই নয় যে অন্য দেশের প্রতি ঘৃণা পোষণ করতে হবে। উগ্র জাতীয়তাবাদ মানুষকে অন্ধ করে তোলে এবং এর ফলে শাসকেরা জনগণের আসল সমস্যাগুলো আড়াল করার সুযোগ পায়। রাসেল এমন এক বিশ্বজনীন গণতান্ত্রিক সমাজ চেয়েছিলেন যেখানে সংকীর্ণ জাতীয় সীমানা পেরিয়ে মানুষ সমগ্র মানবজাতির কল্যাণের কথা ভাববে।
১৩। প্রচারমাধ্যমের স্বাধীনতা: একটি কার্যকরী গণতন্ত্রের জন্য সংবাদপত্র ও প্রচারমাধ্যমের স্বাধীনতা অত্যন্ত জরুরি বলে রাসেল মনে করতেন। সরকারের ভুলত্রুটি ও দুর্নীতি জনগণের সামনে তুলে ধরার ক্ষেত্রে গণমাধ্যমকে সম্পূর্ণ স্বাধীন ও নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে হবে। তবে একই সাথে রাসেল প্রচারমাধ্যমের ওপর পুঁজিবাদের নিয়ন্ত্রণ বা রাষ্ট্রীয় প্রচারণার অপব্যবহার সম্পর্কেও সতর্ক করেছিলেন। তথ্য যদি বিকৃত বা সেন্সর করা হয়, তবে সাধারণ মানুষ সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে ব্যর্থ হবে এবং গণতন্ত্র দুর্বল হবে।
১৪। সমাজতন্ত্রের সাথে সমন্বয়: রাসেল সমাজতন্ত্রের অর্থনৈতিক সমতার ধারণাকে পছন্দ করলেও সোভিয়েত ইউনিয়নের মতো কর্তৃত্ববাদী সমাজতন্ত্রের তীব্র বিরোধী ছিলেন। তিনি এমন এক ব্যবস্থার কথা ভাবতেন যা গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্র বা গিল্ড সমাজতন্ত্রের কাছাকাছি, যেখানে অর্থনৈতিক নিরাপত্তা এবং ব্যক্তিগত স্বাধীনতা উভয়ই বজায় থাকবে। রাষ্ট্র উৎপাদন ও বণ্টনের ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ রাখবে কিন্তু মানুষের মৌলিক গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেবে না। রাসেল মনে করতেন, স্বাধীনতা ও অর্থনৈতিক সুরক্ষার এই সমন্বয়ই মানবজাতির জন্য কল্যাণকর।
১৫। যৌথ নেতৃত্বের গুরুত্ব: একনায়কতান্ত্রিক একক নেতৃত্বের চেয়ে রাসেল সবসময় সম্মিলিত বা যৌথ নেতৃত্বের ধারণাকে প্রাধান্য দিয়েছেন। তিনি মনে করতেন, কোনো একজন ব্যক্তির হাতে সমস্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা ছেড়ে দেওয়া অত্যন্ত বিপজ্জনক। যেকোনো মানুষেরই ভুল হতে পারে, তাই সম্মিলিত আলোচনা ও বিতর্কের মাধ্যমে নেওয়া সিদ্ধান্ত সবসময় বেশি নিখুঁত ও গ্রহণযোগ্য হয়। যৌথ নেতৃত্ব দলের বা রাষ্ট্রের মধ্যে স্বৈরাচারী মনোভাব গড়ে উঠতে বাধা দেয় এবং গণতান্ত্রিক ধারাকে সচল রাখে।
১৬। যুদ্ধ ও শান্তি: রাসেলের রাজনৈতিক চিন্তার এক বিশাল অংশ জুড়ে ছিল যুদ্ধবিরোধী চেতনা এবং বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার আন্দোলন। তিনি মনে করতেন, যুদ্ধ কেবল মানুষের প্রাণই কেড়ে নেয় না, বরং এটি গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও মানবিক চেতনাকে ধ্বংস করে দেয়। যুদ্ধের সময় রাষ্ট্রগুলো নাগরিক স্বাধীনতা খর্ব করে এবং সামরিক জান্তার প্রভাব বৃদ্ধি পায়। তাই প্রকৃত গণতন্ত্র বিকাশের জন্য একটি শান্তিপূর্ণ এবং যুদ্ধমুক্ত পরিবেশ তৈরি করা অপরিহার্য বলে রাসেল দৃঢ়ভাবে প্রচার করতেন।
১৭। নাগরিকের কর্তব্য: রাসেল মনে করতেন, গণতন্ত্র কেবল অধিকার ভোগের জায়গা নয়, এটি নাগরিকদের দায়িত্ব ও কর্তব্য সচেতনতার ওপরও নির্ভরশীল। অলস ও উদাসীন নাগরিকেরা প্রকারান্তরে স্বৈরাচারী শাসনকে ডেকে আনে, তাই প্রতিটি নাগরিককে রাষ্ট্রের বিষয়ে সজাগ থাকতে হবে। নিয়মিত কর প্রদান, সৎ ও যোগ্য প্রার্থীকে ভোট দেওয়া এবং অন্যায়ের প্রতিবাদ করা প্রতিটি গণতান্ত্রিক নাগরিকের পরম কর্তব্য। জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং সজাগ দৃষ্টিই কেবল একটি সুস্থ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রকে টিকিয়ে রাখতে পারে।
উপসংহার: পরিশেষে বলা যায়, বার্ট্রান্ড রাসেলের গণতন্ত্রের ধারণা ছিল অত্যন্ত গভীর, মানবিক এবং প্রগতিশীল। তিনি গণতন্ত্রকে কোনো ত্রুটিহীন ব্যবস্থা মনে না করলেও, মানুষের স্বাধীনতা ও বিশ্বশান্তি রক্ষার জন্য একেই সর্বোত্তম পথ বলে বিবেচনা করেছেন। রাসেলের এই রাজনৈতিক দর্শন আজ একবিংশ শতাব্দীতেও সমসাময়িক বিশ্বের নানা সংকট উত্তরণে এবং মুক্ত গণতান্ত্রিক সমাজ গঠনে আমাদের পথপ্রদর্শন করে চলেছে।