- readaim.com
- 0
উত্তর।।উপস্থাপনা: ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষভাগে মার্ক্সবাদের কট্টরপন্থী ও বিপ্লবী ধারার বাইরে এসে সমাজতন্ত্র অর্জনের একটি শান্তিপূর্ণ, গণতান্ত্রিক ও সংস্কারবাদী বিকল্প পথ প্রদর্শন করেন এডওয়ার্ড বার্নস্টাইন। তিনি বৈপ্লবিক উপায়ে পুঁজিবাদের উচ্ছেদ না করে প্রচলিত গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার মাধ্যমেই সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখেছিলেন। তাঁর এই তাত্ত্বিক রূপান্তরই রাষ্ট্রবিজ্ঞানে ‘সংশোধনবাদ’ বা ‘গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্র’ নামে পরিচিত।
১। সংশোধনবাদের প্রবর্তন: এডওয়ার্ড বার্নস্টাইনকে সমাজতান্ত্রিক চিন্তাধারার ইতিহাসে সংশোধনবাদের জনক বা প্রধান প্রবক্তা হিসেবে গণ্য করা হয়। তিনি কার্ল মার্ক্সের সমকালীন অর্থনৈতিক ও সামাজিক তত্ত্বগুলোকে অন্ধভাবে বিশ্বাস না করে যুগের প্রয়োজনে পুনর্বিবেচনা করার আহ্বান জানান। বার্নস্টাইন দেখান যে সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে মার্ক্সীয় ধারণার কিছু পরিবর্তন অনিবার্য হয়ে পড়েছে। তাঁর এই সাহসী দৃষ্টিভঙ্গি সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনে এক নতুন তাত্ত্বিক দিগন্তের উন্মোচন করেছিল।
২। বিপ্লবের বিরোধিতা: মার্ক্সীয় দর্শনে সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার একমাত্র পথ হিসেবে যেখানে সশস্ত্র বিপ্লবকে অবধারিত মনে করা হতো, বার্নস্টাইন সেখানে সম্পূর্ণ ভিন্ন পথ বেছে নেন। তিনি রক্তক্ষয়ী ও সহিংস বিপ্লবের ধারণাকে কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করেন এবং শান্তিপূর্ণ উপায়ের ওপর জোর দেন। তাঁর মতে, সহিংসতা সমাজে বিশৃঙ্খলা ও দীর্ঘমেয়াদী ক্ষত সৃষ্টি করে, যা প্রগতির পথকে রুদ্ধ করে দেয়। তাই তিনি বিপ্লবের পরিবর্তে নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে পরিবর্তনের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন।
৩৩। গণতান্ত্রিক রূপান্তর: বার্নস্টাইনের রাজনৈতিক দর্শনের অন্যতম মূল স্তম্ভ ছিল প্রচলিত গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার সর্বোচ্চ ব্যবহার করা। তিনি বিশ্বাস করতেন যে বুর্জোয়া গণতন্ত্রকে ধ্বংস না করে বরং এর ভেতরে প্রবেশ করে সমাজতান্ত্রিক লক্ষ্য অর্জন সম্ভব। ব্যালট বা ভোটাধিকারকে তিনি শ্রমিক শ্রেণীর সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে বিবেচনা করতেন। তাঁর মতে, সার্বজনীন ভোটাধিকারের মাধ্যমে শ্রমিক শ্রেণী সহজেই নিজেদের অধিকার আদায় ও আইন প্রণয়ন করতে পারে।
৪। পুঁজিবাদের টিকে থাকা: কার্ল মার্ক্স ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন যে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কারণে পুঁজিবাদ খুব দ্রুতই ভেঙে পড়বে এবং এর অবসান ঘটবে। কিন্তু বার্নস্টাইন বাস্তব পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে দেখান যে পুঁজিবাদ এত সহজে ধ্বংস হওয়ার নয়, বরং এর অভিযোজন ক্ষমতা প্রচুর। পুঁজিবাদী অর্থনীতি দিন দিন আরও শক্তিশালী এবং নমনীয় হয়ে উঠছে বলে তিনি মনে করতেন। ফলে পুঁজিবাদ নিজে নিজেই ধ্বংস হয়ে যাবে—এমন তত্ত্বের ওপর নির্ভর করাকে তিনি ভুল মনে করতেন।
৫। মধ্যবিত্তের বিকাশ: মার্ক্সীয় তত্ত্বে বলা হয়েছিল যে সমাজে কেবল দুটি প্রধান শ্রেণী থাকবে এবং মধ্যবিত্ত শ্রেণী ক্রমান্বয়ে বিলুপ্ত হয়ে সর্বহারায় পরিণত হবে। বার্নস্টাইন এই ধারণাকে সম্পূর্ণ ভুল প্রমাণ করেন এবং দেখান যে মধ্যবিত্ত শ্রেণী বিলুপ্ত তো হচ্ছেই না, বরং এর আকার ও প্রভাব দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। নতুন নতুন পেশাজীবী ও কারিগরি কর্মীর আবির্ভাবে সমাজ কাঠামো আরও জটিল রূপ ধারণ করছে। এই ক্রমবর্ধমান মধ্যবিত্ত শ্রেণীকে অবহেলা করে কোনো টেকসই রাজনৈতিক পরিবর্তন সম্ভব নয় বলে তিনি মনে করতেন।
৬। শ্রমিকদের সমৃদ্ধি: বার্নস্টাইন লক্ষ্য করেন যে পুঁজিবাদের বিকাশের সাথে সাথে শ্রমিকদের অবস্থা আরও শোচনীয় হওয়ার মার্ক্সীয় তত্ত্বটি বাস্তবে মিলছে না। বরং বিভিন্ন ট্রেড ইউনিয়ন আন্দোলন এবং কারখানা আইনের ফলে শ্রমিকদের জীবনযাত্রার মান এবং মজুরি ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছিল। শ্রমিকরা কেবল শোষিত হচ্ছে না, বরং তারা সমাজের অর্থনৈতিক লভ্যাংশের একটি অংশ পেতে শুরু করেছে। তাই চরম দারিদ্র্য ও হতাশা থেকে শ্রমিকরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে বিপ্লব করবে, এমন ভাবনাকে তিনি অবাস্তব মনে করতেন।
৭। ধীরে সংস্কারনীতি: তিনি সমাজতন্ত্রকে একটি রাতারাতি ঘটে যাওয়া অলৌকিক ঘটনা মনে না করে একটি দীর্ঘমেয়াদী ও ধীর প্রক্রিয়া হিসেবে দেখতেন। তাঁর মতে, সমাজতন্ত্র হলো একটি ধারাবাহিক সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংস্কারের সমষ্টি, যা ধাপে ধাপে অর্জিত হয়। কোনো আকস্মিক ধাক্কায় সমাজকে পুরোপুরি বদলে ফেলা যায় না, বরং ছোট ছোট সংস্কারের মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনা সম্ভব। এই ধীর ও ক্রমান্বয়ী রূপান্তরই সমাজকে দীর্ঘস্থায়ী স্থিতিশীলতা প্রদান করে।
৮। ট্রেড ইউনিয়নের ভূমিকা: শ্রমিক আন্দোলনের ক্ষেত্রে ট্রেড ইউনিয়ন বা শ্রমিক সংগঠনগুলোর ভূমিকাকে বার্নস্টাইন অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে মূল্যায়ন করেছেন। তিনি মনে করতেন, ট্রেড ইউনিয়নগুলো কেবল মজুরি বাড়ানোর লড়াই করে না, বরং এগুলো হলো গণতন্ত্রের প্রাথমিক পাঠশালা। ইউনিয়নগুলোর মাধ্যমে শ্রমিকরা নিজেদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হয় এবং দরকষাকষির মাধ্যমে পুঁজিবাদের একচ্ছত্র আধিপত্যকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। এটি অর্থনৈতিক গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার একটি কার্যকর মাধ্যম।
৯। শ্রেণী সংগ্রামের পুনঃব্যাখ্যা: মার্ক্সীয় দর্শনে শ্রেণী সংগ্রামকে ইতিহাসের একমাত্র চালিকাশক্তি এবং চরম সংঘাতময় হিসেবে চিত্রায়িত করা হয়েছিল। বার্নস্টাইন এই ধারণার আংশিক সংশোধন করে বলেন যে শ্রেণী সংগ্রাম সমাজ পরিবর্তনের একমাত্র উপাদান নয়, এবং এটি সবসময় সহিংস রূপ নেয় না। সমাজ গঠনে বিভিন্ন শ্রেণীর মধ্যে কেবল দ্বন্দ্বই থাকে না, বরং অনেক ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতাও পরিলক্ষিত হয়। তাই শ্রেণী স্বার্থের উগ্র সংঘাতের চেয়ে সমঝোতার রাজনীতিই বেশি কল্যাণকর।
১০। লিপজিগের প্রভাব: বার্নস্টাইনের রাজনৈতিক চিন্তার বিবর্তনে জার্মানির সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিবেশ, বিশেষ করে লিপজিগ ও অন্যান্য অঞ্চলের শ্রমিক আন্দোলনের বাস্তব অভিজ্ঞতা গভীর প্রভাব ফেলেছিল। তিনি জার্মান সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টির (SPD) ভেতরের তাত্ত্বিক দ্বিমত ও বাস্তব সাফল্যগুলোকে খুব কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করেছিলেন। বাস্তব রাজনীতিতে সংসদীয় ব্যবস্থার কার্যকারিতা দেখে তিনি বুঝতে পারেন যে পুঁজিবাদের কাঠামোর মধ্যেই শ্রমিকদের কল্যাণ নিশ্চিত করা সম্ভব। এই বাস্তবতাই তাঁকে তত্ত্বের চেয়ে কর্মপদ্ধতিকে বেশি প্রাধান্য দিতে উদ্বুদ্ধ করে।
১১। সর্বহারার একনায়কত্ব বর্জন: মার্ক্সীয় সমাজতন্ত্রের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হলো বিপ্লবোত্তর কালে ‘সর্বহারার একনায়কত্ব’ প্রতিষ্ঠা করা। বার্নস্টাইন এই একনায়কত্বের ধারণাকে স্বৈরতান্ত্রিক এবং স্বাধীনতার পরিপন্থী বলে তীব্র সমালোচনা করেন। তাঁর মতে, একনায়কত্ব যেকোনো রূপেই আসুক না কেন, তা জনগণের মৌলিক অধিকার ও স্বাধীনতাকে খর্ব করে। সমাজতন্ত্রের মূল লক্ষ্যই যেখানে মুক্তি, সেখানে কোনো ধরনের একনায়কত্ব বা দমনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
১২। রাষ্ট্রের ইতিবাচক ভূমিকা: প্রচলিত মার্ক্সবাদী চিন্তায় রাষ্ট্রকে কেবল শোষক শ্রেণীর একটি নিপীড়নমূলক যন্ত্র হিসেবে গণ্য করা হতো। কিন্তু বার্নস্টাইন রাষ্ট্রকে সম্পূর্ণ ভিন্ন চোখে দেখেন এবং এর একটি ইতিবাচক রূপরেখা প্রস্তুত করেন। তিনি মনে করতেন, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে জনগণের প্রতিনিধিদের মাধ্যমে রাষ্ট্রকে জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যবহার করা সম্ভব। রাষ্ট্র কেবল ধনীদের স্বার্থ রক্ষা করবে না, বরং আইন প্রণয়নের মাধ্যমে সম্পদের সুষম বণ্টন এবং সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে।
১৩। নৈতিকতার গুরুত্ব: বার্নস্টাইন সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনকে কেবল শুষ্ক অর্থনৈতিক হিসেব-নিকেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে চাননি, বরং এর পেছনে একটি সুদৃঢ় নৈতিক ভিত্তির প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেছিলেন। তিনি ইমানুয়েল কান্টের নীতিশাস্ত্র দ্বারা প্রভাবিত হয়ে সমাজতন্ত্রকে একটি মানবিক ও নৈতিক আদর্শ হিসেবে তুলে ধরেন। তাঁর মতে, সমাজতন্ত্রের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত মানুষের মর্যাদা, সাম্য এবং পারস্পরিক সৌহার্দ্য প্রতিষ্ঠা করা। কেবল বস্তুগত উন্নয়ন নয়, আত্মিক ও নৈতিক প্রগতিই সমাজতন্ত্রের প্রকৃত পরিচয়।
১৪। অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণ: তিনি সম্পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মালিকানার পরিবর্তে মিশ্র অর্থনীতি এবং রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণের ওপর বেশি জোর দিয়েছিলেন। সব ব্যক্তিগত সম্পত্তি বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান একযোগে বাজেয়াপ্ত করার ধারণাকে তিনি ক্ষতিকর ও অবাস্তব বলে মনে করতেন। তাঁর মতে, বাজার অর্থনীতিকে পুরোপুরি ধ্বংস না করে ট্যাক্স ব্যবস্থা ও শ্রম আইনের মাধ্যমে এর ওপর সামাজিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করাই যুক্তিযুক্ত। এর ফলে একদিকে যেমন উৎপাদনশীলতা বজায় থাকে, অন্যদিকে অর্থনৈতিক বৈষম্যও হ্রাস পায়।
১৫। আন্তর্জাতিকতাবাদ ও জাতীয়তাবাদ: বার্নস্টাইন আন্তর্জাতিক সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের সমর্থক হলেও উগ্র বা অবাস্তব আন্তর্জাতিকতাবাদের জোয়ারে ভেসে যাননি। তিনি মনে করতেন, প্রতিটি দেশের সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের ধরণ সেই দেশের নিজস্ব সংস্কৃতি, ইতিহাস ও জাতীয় পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে নির্ধারিত হওয়া উচিত। আন্তর্জাতিক সংহতি বজায় রাখার পাশাপাশি নিজের দেশের বাস্তব রাজনীতি ও জাতীয় স্বার্থকে উপক্ষো করা অনুচিত। এই বাস্তবমুখী দৃষ্টিভঙ্গি তাঁকে অন্যান্য গোঁড়া সমাজতন্ত্রীদের থেকে পৃথক করেছিল।
১৬। লক্ষ্য বনাম আন্দোলন: বার্নস্টাইনের একটি অত্যন্ত বিখ্যাত উক্তি ছিল, “চূড়ান্ত লক্ষ্য বলতে কিছুই নেই, আন্দোলনই সবকিছু।” এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি বোঝাতে চেয়েছিলেন যে সমাজতন্ত্র কোনো স্থির বা শেষ গন্তব্য নয়, যেখানে পৌঁছালেই সব শেষ হয়ে যায়। সমাজতন্ত্র হলো মানুষের মুক্তির জন্য একটি চলমান ও গতিশীল প্রক্রিয়া বা আন্দোলন যা প্রতিনিয়ত চলতে থাকে। মানুষের চাহিদার পরিবর্তনের সাথে সাথে এই আন্দোলনের রূপ ও সংস্কারের ধরণও পরিবর্তিত হয়।
১৭। উদারতাবাদের সাথে সমন্বয়: বার্নস্টাইন সমাজতন্ত্রের সাথে উদারতাবাদী মূল্যবোধের, বিশেষ করে ব্যক্তিগত স্বাধীনতা এবং নাগরিক অধিকারের একটি চমৎকার সমন্বয় সাধন করেন। তিনি মনে করতেন, উদারতাবাদ যে স্বাধীনতার কথা বলে, সমাজতন্ত্র তাকে পূর্ণতা দান করে অর্থনৈতিক নিরাপত্তার মাধ্যমে। নাগরিকের বাকস্বাধীনতা, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও চিন্তার স্বাধীনতাকে খর্ব করে যে সমাজতন্ত্র আসে, তা প্রকৃত সমাজতন্ত্র হতে পারে না। তাই তিনি সমাজতন্ত্রকে উদারতাবাদেরই একটি উন্নত ও পরিমার্জিত রূপ বলে গণ্য করতেন।
শেষকথা: এডওয়ার্ড বার্নস্টাইনের রাজনৈতিক চিন্তাধারা সমাজতান্ত্রিক ভাবধারায় এক যুগান্তকারী পরিবর্তন এনেছিল। তিনি তত্ত্বের বেড়াজাল থেকে সমাজতন্ত্রকে মুক্ত করে বাস্তবমুখী ও মানবতাবাদী রূপে প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর এই সংস্কারবাদী ও গণতান্ত্রিক চিন্তার ওপর ভিত্তি করেই আধুনিক ইউরোপের কল্যাণকামী রাষ্ট্রসমূহ এবং সোশ্যাল ডেমোক্রেসির বিকাশ ঘটেছে। সমকালীন বিশ্বে সহিংসতাহীন প্রগতিশীল রাজনীতি চর্চায় তাঁর দর্শন আজও অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক ও অনুকরণীয়।