- readaim.com
- 0
উত্তর।।উপস্থাপনা: বিংশ শতাব্দীর বিশ্ব রাজনীতিতে মার্ক্সবাদ-লেনিনবাদের একটি অত্যন্ত প্রভাবশালী এবং গতিশীল রূপান্তর হলো মাওবাদ। চীনা কমিউনিস্ট পার্টির মহান নেতা মাও সেতুং-এর তত্ত্ব ও রাজনৈতিক দর্শনের ওপর ভিত্তি করে এই মতবাদ গড়ে উঠেছে, যা মূলত অনুন্নত ও কৃষিপ্রধান সমাজকে সমাজতন্ত্রের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার এক অভিনব ও বৈপ্লবিক পথ প্রদর্শন করে।
১। কৃষকভিত্তিক বিপ্লব: প্রথাগত মার্ক্সবাদে শ্রমিক শ্রেণীকে বিপ্লবের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে গণ্য করা হলেও মাও সেতুং অনুন্নত ও কৃষিপ্রধান চীনের প্রেক্ষাপটে কৃষকদের বিপ্লবের প্রধান শক্তি হিসেবে চিহ্নিত করেন। তাঁর মতে, শোষিত ও বঞ্চিত কৃষক সমাজই পারে সামন্তবাদের বিরুদ্ধে তীব্র গণআন্দোলন গড়ে তুলতে। মাওবাদের এই দৃষ্টিভঙ্গি এশিয়াসহ সারা বিশ্বের কৃষিপ্রধান দেশগুলোর বিপ্লবী আন্দোলনে এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন করে। তিনি কৃষকদের সংগঠিত করে গ্রামীণ এলাকা থেকে বিপ্লব শুরু করার কৌশল গ্রহণ করেছিলেন।
২। দীর্ঘস্থায়ী গণযুদ্ধ: মাওবাদের অন্যতম প্রধান ও মৌলিক কৌশল হলো দীর্ঘস্থায়ী গণযুদ্ধ বা ‘প্রোটেক্টেড পিপলস ওয়ার’। এই তত্ত্ব অনুযায়ী, বিপ্লবীরা শুরুতেই শক্তিশালী রাষ্ট্রশক্তির মুখোমুখি না হয়ে গ্রামীণ প্রত্যন্ত অঞ্চলে নিজেদের ঘাঁটি বা মুক্তাঞ্চল গড়ে তুলবে। এরপর গেরিলা যুদ্ধের মাধ্যমে ধীরে ধীরে চারপাশ থেকে শহরগুলোকে অবরুদ্ধ করে চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করবে। এই দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধ কৌশলটি দুর্বল সামরিক শক্তির অধিকারী জনগণকে একটি শক্তিশালী ও আধুনিক সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে টিকিয়ে রাখতে এবং জয়ী হতে সাহায্য করে।
৩। জনগণের লাইন: মাওবাদের একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় ও গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক নীতি হলো ‘জনগণের লাইন’ বা ‘মাস লাইন’। এই নীতির মূল কথা হলো, সমস্ত সঠিক জ্ঞান এবং পরিকল্পনা জনগণের মধ্য থেকেই আসে এবং তা পুনরায় জনগণের কাছেই ফিরিয়ে দিতে হবে। কমিউনিস্ট পার্টির নেতা ও কর্মীদের সবসময় সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখের অংশীদার হতে হবে এবং তাদের মতামতকে গুরুত্ব দিতে হবে। জনগণের সঙ্গে বিচ্ছিন্ন হয়ে কোনো বিপ্লবী আন্দোলন বা টেকসই সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠন করা কখনোই সম্ভব নয়।
৪। দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদের বিকাশ: মাও সেতুং মার্ক্সীয় দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছেন, যা তাঁর বিখ্যাত ‘অন কন্ট্রাডিকশন’ প্রবন্ধে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। তিনি সমাজে বিদ্যমান দ্বন্দ্বগুলোকে প্রধান দ্বন্দ্ব এবং অপ্রধান দ্বন্দ্ব—এই দুই ভাগে বিভক্ত করেছেন। একই সাথে তিনি বৈরী দ্বন্দ্ব এবং অবৈরী দ্বন্দ্বের মধ্যেও পার্থক্য নির্দেশ করেছেন। মাওয়ের মতে, পরিস্থিতির পরিবর্তনের সাথে সাথে প্রধান দ্বন্দ্বের রূপও বদলে যেতে পারে, তাই সমাজকে বুঝতে হলে এই দ্বন্দ্বগুলোর সঠিক মূল্যায়ন করা অত্যন্ত জরুরি।
৫। সাংস্কৃতিক বিপ্লব: মাওবাদের একটি অনন্য বৈশিষ্ট্য হলো নিরবচ্ছিন্ন বিপ্লব বা সাংস্কৃতিক বিপ্লবের ধারণা। মাও মনে করতেন, শুধু রাজনৈতিক ক্ষমতা দখল বা অর্থনৈতিক কাঠামোর পরিবর্তন করলেই সমাজতন্ত্র সুরক্ষিত হয় না। কারণ পুরনো বুর্জোয়া মানসিকতা, সংস্কৃতি এবং কুসংস্কার মানুষের মনে দীর্ঘকাল টিকে থাকে, যা সমাজতন্ত্রকে ধ্বংস করতে পারে। তাই জনগণের চিন্তাভাবনা, সংস্কৃতি ও অভ্যাসকে সমাজতান্ত্রিক আদর্শে উজ্জীবিত রাখতে এবং পার্টির ভেতরের সংশোধনবাদীদের হঠাতে সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রেও ক্রমাগত সাংস্কৃতিক বিপ্লবের প্রয়োজন রয়েছে।
৬। নয়া গণতন্ত্র: মাও সেতুং ঔপনিবেশিক এবং আধা-সামন্ততান্ত্রিক দেশগুলোর জন্য ‘নয়া গণতন্ত্র’ বা ‘নিউ ডেমোক্রেসি’ নামক একটি বিশেষ রাজনৈতিক ধারণার প্রবর্তন করেন। তাঁর মতে, এই ধরনের পিছিয়ে পড়া দেশগুলোতে সরাসরি সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব সম্ভব নয়, তাই প্রথমে সামন্তবাদ ও সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী একটি অন্তর্বর্তীকালীন রাষ্ট্রব্যবস্থা গঠন করতে হবে। এই ব্যবস্থায় সর্বহারা শ্রেণীর নেতৃত্বে কৃষক, মধ্যবিত্ত ও জাতীয় বুর্জোয়াদের একটি যৌথ একনায়কত্ব প্রতিষ্ঠিত হবে। এটি মূলত পুঁজিবাদ থেকে পূর্ণাঙ্গ সমাজতন্ত্রে উত্তরণের একটি পূর্ববর্তী রূপান্তরকালীন পর্যায়।
৭। গেরিলা যুদ্ধকৌশল: সামরিক ক্ষেত্রে মাও সেতুং-এর গেরিলা যুদ্ধকৌশল বিশ্বজুড়ে এক অনন্য স্থান দখল করে আছে। শত্রুর শক্তি ও নিজেদের দুর্বলতার কথা মাথায় রেখে তিনি এক বিশেষ রণকৌশল তৈরি করেন, যা ‘শত্রু যখন এগোয়, আমরা পিছিয়ে যাই; শত্রু যখন থামে, আমরা তাকে হয়রানি করি; শত্রু যখন ক্লান্ত হয়, আমরা তাকে আক্রমণ করি; শত্রু যখন পালায়, আমরা তাকে তাড়া করি’—এই সূত্রের ওপর প্রতিষ্ঠিত। এই কৌশলের মূল উদ্দেশ্য হলো প্রতিপক্ষকে মানসিকভাবে দুর্বল করা এবং নিজেদের ক্ষয়ক্ষতি সর্বনিম্ন রাখা।
৮। সাম্রাজ্যবাদ বিরোধিতা: মাওবাদ চরমভাবে সাম্রাজ্যবাদ এবং ঔপনিবেশিকতাবাদের বিরোধিতা করে এবং বিশ্বজুড়ে শোষিত জাতিগুলোর মুক্তির আন্দোলনকে সমর্থন জানায়। মাও সেতুং মার্কিন সাম্রাজ্যবাদকে একটি বাহ্যিক পরাশক্তি হিসেবে দেখলেও একে ‘কাগজের বাঘ’ বলে উপহাস করেছিলেন। তাঁর মতে, বাহ্যিকভাবে সাম্রাজ্যবাদকে যতটাই শক্তিশালী ও ভয়ংকর মনে হোক না কেন, জনগণের সম্মিলিত শক্তির সামনে তা আসলে অত্যন্ত দুর্বল এবং একদিন এর পতন অনিবার্য। তিনি বিশ্বের সকল শোষিত মানুষকে সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
৯। সংশোধনবাদ বিরোধিতা: সোভিয়েত ইউনিয়নে স্টালিনের মৃত্যুর পর ক্রুশ্চেভের নেতৃত্বে যে ক্রমান্বয়ে পুঁজিবাদী মানসিকতার উত্থান ঘটেছিল, মাওবাদ তার তীব্র বিরোধিতা করে। মাও একে ‘আধুনিক সংশোধনবাদ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন এবং সতর্ক করেন যে এটি সমাজতন্ত্রের মূল লক্ষ্য থেকে বিচ্যুতি ঘটায়। তাঁর মতে, পার্টির ভেতরে ঢুকে পড়া এই সংশোধনবাদী আমলারা আসলে ছদ্মবেশী বুর্জোয়া, যারা বিপ্লবের অর্জনকে ধ্বংস করতে চায়। তাই মাওবাদ পার্টিকে সবসময় বুর্জোয়া ও সংশোধনবাদী আদর্শের বিরুদ্ধে কঠোর ও আপসহীন থাকার নির্দেশ দেয়।
১০। নিয়তিবাদের অস্বীকৃতি: মাওবাদ কোনো অন্ধ ভাগ্য বা নিয়তিবাদে বিশ্বাস করে না, বরং মানুষের সক্রিয় ভূমিকা ও ইচ্ছাশক্তিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়। মার্ক্সবাদের কিছু গোঁড়া ব্যাখ্যাকারী মনে করতেন যে অর্থনৈতিক ভিত্তি পরিবর্তনের সাথে সাথে সমাজ আপনা-আপনি পরিবর্তিত হবে। কিন্তু মাও এই যান্ত্রিক ধারণাকে প্রত্যাখ্যান করে বলেন যে মানুষের সচেতন প্রয়াস ও বিপ্লবী উদ্দীপনা যেকোনো বস্তুগত প্রতিবন্ধকতাকে জয় করতে পারে। সঠিক রাজনৈতিক চেতনা থাকলে মানুষ অসম্ভবকেও সম্ভব করতে পারে, যা চীনের উন্নয়নে প্রমাণিত হয়েছিল।
১১। শ্রমের মর্যাদা: মাওবাদে শারীরিক শ্রম এবং মানসিক শ্রমের মধ্যকার ব্যবধান দূর করার ওপর বিশেষভাবে জোর দেওয়া হয়েছে। সমাজতান্ত্রিক সমাজ গঠনে কৃষক ও শ্রমিকের কঠোর পরিশ্রমকে সর্বোচ্চ সম্মান দেওয়া হয় এবং বুদ্ধিজীবীদেরও সাধারণ মানুষের সাথে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়। মাওয়ের শাসনামলে বিজ্ঞানী, শিক্ষক ও আমলাদের গ্রামীণ এলাকায় পাঠিয়ে কৃষকদের সাথে কাজ করানো হতো, যাতে তারা শ্রমের প্রকৃত মূল্য বুঝতে পারে। এর উদ্দেশ্য ছিল সমাজে কোনো ধরনের কৃত্রিম শ্রেণীবিভাগ বা আভিজাত্য তৈরি হতে না দেওয়া।
১২। নারীর ক্ষমতায়ন: নারীর অধিকার এবং সমাজে তাদের ভূমিকার বিষয়ে মাওবাদ অত্যন্ত প্রগতিশীল দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করে। মাও সেতুং-এর একটি বিখ্যাত উক্তি হলো, “নারীরা অর্ধেক আকাশ ধরে রেখেছে,” যা মাওবাদে নারীর গুরুত্বকে স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তোলে। সামন্ততান্ত্রিক চীনের শৃঙ্খল থেকে নারীদের মুক্ত করতে মাওবাদ বিয়ে, সম্পত্তি এবং কাজের ক্ষেত্রে নারীদের সমান অধিকার নিশ্চিত করে। বিপ্লবী যুদ্ধ থেকে শুরু করে উৎপাদন ব্যবস্থা ও রাষ্ট্র পরিচালনায় নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা মাওবাদের একটি অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ছিল।
১৩। পার্টির প্রাধান্য: মাওবাদে কমিউনিস্ট পার্টির নেতৃত্ব ও শৃঙ্খলাকে সমস্ত বিপ্লবী কর্মকাণ্ডের মূল ভিত্তি হিসেবে গণ্য করা হয়। মাওয়ের বিখ্যাত উক্তি, “রাজনীতি বন্দুকের নল থেকে বের হয়, তবে পার্টি অবশ্যই বন্দুককে নিয়ন্ত্রণ করবে,” এই নীতিকেই নির্দেশ করে। এর অর্থ হলো, সামরিক শক্তি বা অস্ত্র যতই গুরুত্বপূর্ণ হোক না কেন, তা সবসময় রাজনৈতিক আদর্শ ও পার্টির কঠোর নিয়ন্ত্রণের অধীনে থাকবে। পার্টি ছাড়া বিপ্লবী আন্দোলন দিকহারা হয়ে পড়ে, তাই সর্বাবস্থায় পার্টির আদর্শিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা বাধ্যতামূলক।
১৪। তিন বিশ্ব তত্ত্ব: আন্তর্জাতিক রাজনীতির ক্ষেত্রে মাও সেতুং ‘তিন বিশ্ব তত্ত্ব’ বা ‘থ্রি ওয়ার্ল্ডস থিওরি’ প্রদান করেন, যা তৎকালীন বিশ্বব্যবস্থাকে ব্যাখ্যা করে। এই তত্ত্ব অনুযায়ী, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়ন হলো প্রথম বিশ্ব, যারা বিশ্বকে নিয়ন্ত্রণ করতে চায়। ইউরোপ, কানাডা ও জাপানের মতো উন্নত দেশগুলো হলো দ্বিতীয় বিশ্ব এবং এশিয়া, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার অনুন্নত দেশগুলো হলো তৃতীয় বিশ্ব। মাওবাদ এই তৃতীয় বিশ্বের শোষিত দেশগুলোকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দুই পরাশক্তির আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করার আহ্বান জানায়।
১৫। গণআদালত প্রতিষ্ঠা: বিচার ব্যবস্থার ক্ষেত্রে মাওবাদ বুর্জোয়া আমলাতান্ত্রিক আদালতের পরিবর্তে জনগণের নিজস্ব আদালত বা গণআদালতের ধারণাকে সমর্থন করে। এই ব্যবস্থায় স্থানীয় অপরাধ বা জমিদার-জোতদারদের শোষণমূলক আচরণের বিচার সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে প্রকাশ্য জনসভায় করা হতো। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল প্রচলিত জটিল ও ব্যয়বহুল আইন ব্যবস্থার অবসান ঘটিয়ে দ্রুত এবং সহজে সাধারণ মানুষের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা। এই প্রক্রিয়াটি বিপ্লবের সময় শোষকদের মনে ব্যাপক ভীতি তৈরি করেছিল এবং শোষিতদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছিল।
১৬। আত্ম-সমালোচনা: মাওবাদী দর্শনে পার্টি কর্মী ও নেতাদের শুদ্ধাচার বজায় রাখার জন্য নিয়মিত আত্ম-সমালোচনা বা ‘সেলফ-ক্রিটিসিজম’ করার নিয়ম রয়েছে। মাও বিশ্বাস করতেন যে মানুষ মাত্রই ভুল করতে পারে, কিন্তু সেই ভুলগুলো আড়াল না করে প্রকাশ্য আলোচনার মাধ্যমে সংশোধন করা উচিত। পার্টির ভেতরের অহংকার, আমলাতান্ত্রিক মানসিকতা এবং দুর্নীতি দূর করার জন্য এই পদ্ধতিটি একটি শক্তিশালী হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হতো। এর ফলে কর্মীরা সবসময় জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ এবং আদর্শের প্রতি বিশ্বস্ত থাকতে বাধ্য হতো।
১৭। স্বাবলম্বিতা: মাওবাদ যেকোনো জাতির অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের জন্য বাইরের কোনো শক্তির ওপর নির্ভর না করে নিজস্ব সম্পদের ওপর ভিত্তি করে স্বাবলম্বী হওয়ার কথা বলে। মাওয়ের মতে, বিদেশী সাহায্য বা ঋণের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা একটি দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে বিপন্ন করতে পারে। তাই তিনি চীনের জনগণকে নিজেদের শক্তি ও মেধা ব্যবহার করে কৃষি ও শিল্পের বিকাশ ঘটানোর আহ্বান জানিয়েছিলেন। এই নীতিটি অনুন্নত দেশগুলোকে আত্মমর্যাদাশীল হতে এবং নিজস্ব উপায়ে অর্থনৈতিক মুক্তি অর্জন করতে দারুণভাবে অনুপ্রাণিত করে।
শেষকথা: সামগ্রিক মূল্যায়নে বলা যায় যে, মাওবাদ কেবল একটি তাত্ত্বিক দর্শন নয়, বরং এটি বাস্তব প্রয়োগমুখী এক অভিনব বৈপ্লবিক বিজ্ঞান। মার্ক্সবাদ-লেনিনবাদকে এশিয়ার বাস্তবতায় প্রয়োগ করে মাও সেতুং যে নতুন ধারার সূচনা করেছিলেন, তা বিশ্ব রাজনীতির গতিপথকে চিরতরে বদলে দিয়েছে। নানান বিতর্ক ও সমালোচনা থাকা সত্ত্বেও, তৃতীয় বিশ্বের শোষিত, লাঞ্ছিত এবং সুবিধাবঞ্চিত মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে ও সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী আন্দোলনে মাওবাদের প্রাসঙ্গিকতা আজও ফুরিয়ে যায়নি।