- readaim.com
- 0
প্রশ্ন:- বৈধতা কী?
Or, বৈধতা কাকে বলে?
Or, বৈধতার সজ্ঞা দাও।
Or, বৈধতা বলতে কী বুঝ?
উত্তর::ভূমিকা: রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে শুধু ক্ষমতা থাকা যথেষ্ট নয়, সেই ক্ষমতার প্রতি জনগণের গ্রহণযোগ্যতা ও আস্থা থাকা প্রয়োজন। কোনো শাসক বা সরকারের ক্ষমতা যখন জনগণের কাছে ন্যায়সংগত ও গ্রহণযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হয়, তখন সেই ক্ষমতা বৈধতা লাভ করে। রাজনৈতিক ব্যবস্থার স্থিতিশীলতা ও কার্যকারিতার জন্য বৈধতা একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।
বৈধতার পরিচয়:
শাব্দিক অর্থ: বৈধতা শব্দটি “বৈধ” শব্দ থেকে এসেছে, যার অর্থ হলো আইনসম্মত, গ্রহণযোগ্য বা স্বীকৃত। তাই বৈধতার শাব্দিক অর্থ হলো কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা ক্ষমতার আইনগত ও সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা।
বৈধতা: বৈধতা হলো এমন একটি রাজনৈতিক ধারণা, যার মাধ্যমে কোনো রাষ্ট্র, সরকার বা কর্তৃত্বের প্রতি জনগণের স্বীকৃতি, আস্থা ও আনুগত্য প্রকাশ পায়। কোনো শাসনব্যবস্থা তখনই বৈধ বলে বিবেচিত হয়, যখন জনগণ মনে করে যে সেই ক্ষমতা ন্যায়সংগত, আইনসম্মত এবং গ্রহণযোগ্য ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত।
বৈধতা শুধু আইনগত স্বীকৃতির বিষয় নয়, বরং জনগণের বিশ্বাস, ঐতিহ্য, রাজনৈতিক মূল্যবোধ ও শাসকের কার্যকারিতার ওপরও নির্ভর করে। একটি বৈধ রাজনৈতিক ব্যবস্থা সাধারণত বেশি স্থিতিশীল ও কার্যকর হয়।
১। ম্যাক্স ওয়েবার (Max Weber): ম্যাক্স ওয়েবারের মতে, বৈধতা হলো এমন একটি বিশ্বাস, যার মাধ্যমে জনগণ কোনো কর্তৃত্ব বা ক্ষমতাকে যথাযথ ও গ্রহণযোগ্য বলে মেনে নেয়। (Legitimacy is the belief by people that a system of authority is rightful and acceptable.)
২। গ্যাব্রিয়েল অ্যালমন্ড (Gabriel Almond): অ্যালমন্ডের মতে, রাজনৈতিক ব্যবস্থার প্রতি জনগণের আস্থা ও সমর্থনের ভিত্তিতেই বৈধতা সৃষ্টি হয়। জনগণ যখন রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানকে গ্রহণ করে, তখন সেই ব্যবস্থা বৈধতা অর্জন করে। (Legitimacy is based on public confidence and support for the political system and its institutions.)
৩। স্যামুয়েল পি. হান্টিংটন (Samuel P. Huntington): হান্টিংটনের মতে, কোনো রাজনৈতিক ব্যবস্থা তখনই বৈধ হয় যখন জনগণ সেই ব্যবস্থাকে বিদ্যমান রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানের জন্য উপযুক্ত ও গ্রহণযোগ্য মনে করে। (A political system is legitimate when people believe that existing political institutions are appropriate and acceptable.)
৪। ডেভিড ইস্টন (David Easton): ডেভিড ইস্টনের মতে, বৈধতা হলো জনগণের সেই সাধারণ বিশ্বাস, যার মাধ্যমে তারা রাজনৈতিক কর্তৃপক্ষ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়াকে গ্রহণ করে। (Legitimacy is the public belief that political authorities and decisions deserve acceptance and support.)
৫। রবার্ট এ. ডাল (Robert A. Dahl): রবার্ট ডালের মতে, বৈধতা রাজনৈতিক ব্যবস্থার প্রতি জনগণের সম্মতি ও গ্রহণযোগ্যতার সঙ্গে সম্পর্কিত। জনগণের সমর্থন ছাড়া রাজনৈতিক ক্ষমতা দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে না। (Legitimacy is associated with public consent and acceptance of political authority.)
৬। জ্যাঁ-জ্যাক রুশো (Jean-Jacques Rousseau): রুশোর মতে, প্রকৃত রাজনৈতিক কর্তৃত্ব জনগণের সম্মতির ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়। জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটলে শাসনব্যবস্থা বৈধতা লাভ করে। (Political authority becomes legitimate when it is based on the consent of the people.)
৭। অক্সফোর্ড ডিকশনারি (Oxford Dictionary): অক্সফোর্ড ডিকশনারি অনুযায়ী, বৈধতা হলো কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা কার্যক্রমের আইনগত ও গ্রহণযোগ্য অবস্থান। (Legitimacy is the quality of being lawful, valid and acceptable.)
উপরের সংজ্ঞাগুলোর আলোকে বলা যায়, বৈধতা হলো এমন একটি অবস্থা, যেখানে কোনো সরকার, রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান বা ক্ষমতার উৎস জনগণের কাছে আইনসম্মত, ন্যায়সংগত ও গ্রহণযোগ্য হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে। জনগণের আস্থা, সম্মতি ও সমর্থনের মাধ্যমে রাজনৈতিক বৈধতা প্রতিষ্ঠিত হয় এবং এর ফলে রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা বৃদ্ধি পায়।
উপসংহার: বৈধতা একটি কার্যকর রাজনৈতিক ব্যবস্থার অন্যতম প্রধান ভিত্তি। জনগণের আস্থা ও গ্রহণযোগ্যতা ছাড়া কোনো শাসনব্যবস্থা দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে না। তাই একটি স্থিতিশীল রাষ্ট্র গঠনের জন্য ক্ষমতার বৈধতা ও জনগণের সমর্থন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।