• Digital Tools
      •  PDF to Excel
      •  Word to PDF
      • Merge PDF files
      • PDF to image
      • PDF to PowerPoint
      • PDF to Word
      • PowerPoint to PDF
      • Remove PDF Pages
      • Separate PDF | Split
      • Image to PDF
    • MASTERS
      • 📚 রাষ্ট্রবিজ্ঞান
        • ১। সাম্প্রতিক রাষ্ট্রচিন্তা
        • ২। সামাজিক পরিবর্তন ও রাজনৈতিক উন্নয়ন
        • ৩। বাংলাদেশের রাজনীতি ইসু ও প্রবণতাসমূহ
        • ৪। শাসনের সমস্যাবলি
        • ৫। নিরাপত্তা অধ্যয়ন
        • ৬। বাংলাদেশের দলীয় রাজনীতি
        • ৭। ভূ-রাজনীতি ও বাংলাদেশ
      • 📚 সমাজবিজ্ঞান
        • ১। সমসাময়িক সমাজবিজ্ঞানের তত্ত্ব
        • ২। মার্কসীয় সমাজবিজ্ঞান
        • ৩। উন্নয়ন ও অনুন্নয়নের সমাজবিজ্ঞান
        • ৪। সংখ্যালঘুর সমাজবিজ্ঞান
        • ৫। জনসংখ্যা, রাজনীতি ও উন্নয়ন
        • ৬। দারিদ্র্যের সমাজবিজ্ঞান
        • ৭। তুলনামূলক সমাজকাঠামো
      • 📚 সমাজকর্ম
        • ১। সামাজিক প্রশাসন
        • ২। উচ্চতর সামাজিক গবেষণা ও পরিসংখ্যান
        • ৩। শিল্প সম্পর্ক ও শ্রম আইন
        • ৪। সংশোধন ও সংশোধনমূলক সেবা
        • ৫। নারী ও পরিবার কল্যাণ
        • ৬। শিশু, যুব ও প্রবীণ কল্যাণ
        • ৭। সমাজকর্মের নির্দেশনা ও কাউন্সেলিং
      • 📚 ইতিহাস
        • ১। ইতিহাস তত্ত্ব ও গবেষণা পদ্ধতি
        • ২। ইউরোপ ও আমেরিকার ইতিহাস (১৯১৯খ্রিস্টাব্দ থেকে)
        • ৩। দক্ষিণ এশিয়ার জাতীয়তাবাদ ও জাতীয়তাবাদী আন্দোলন (উনিশ ও বিশ শতক)
        • ৪। বাংলার সাংস্কৃতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক দিকসমূহ (নির্বাচিত বিষয়সমূহ)
        • ৫। বাংলাদেশের ইতিহাস (১৯৭২ খ্রিস্টাব্দ থেকে বর্তমান)
        • ৬। দক্ষিণ এশিয়ার ইতিহাস ১৯৪৭ থেকে (বাংলাদেশ ব্যতীত)
        • ৭। আন্তর্জাতিক আইন
      • 📚 ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি
        • ১। ইসলামের সামাজিক ও অর্থনৈতিক ইতিহাস
        • ২। বাংলার সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থতিক ইতিহাস (১২০০-১৭৬৫ খ্রি:)
        • ৩। মুসলিম ভারতের সামাজিক এবং অর্থনৈতিক ইতিহাস (৭১২-১৭৬৫)
        • ৪। তুরস্ক, ইরান ও আফগানিস্তানের ইতিহাস
        • ৫। আধুনিক মিশর ও উত্তর আফ্রিকার আরব রাষ্ট্রসমূহ
        • ৬। পশ্চিম এশিয়ার আরব রাষ্ট্রসমূহের ইতিহাস
        • ৭। দক্ষিণ এশিয়ার মুসলমানদের ইতিহাস (১৭৬৫-১৯৭১)
      • 📚বাংলা
        • ১। বাংলা কবিতা
        • ২। বাংলা উপন্যাস
        • ৩। বাংলা ছোটগল্প
        • ৪। বাংলা নাটক
        • ৫। বাংলা প্রবন্ধ
        • ৬। বাংলাদেশের সাহিত্য: কবিতা, গল্প, উপন্যাস এবং প্রবন্ধ
        • ৭। ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের সাহিত্য
      • 📚 দর্শন
        • ১। ভাষা দর্শন
        • ২। রূপতত্ত্ব ও অস্তিত্ববাদ
        • ৩। জি.ই. ম্যুর এবং রাসেলের দর্শন
        • ৪। প্রয়োগবাদ ও মানবতাবাদ
        • ৫। জ্ঞানবিদ্যা ও অধিবিদ্যা
        • ৬। আল-গাজালি ও ইবনে রুশদের দর্শন
        • ৭। সুফিবাদ
        • ৮। বৌদ্ধ দর্শন
        • ৯। বাঙালির দর্শন (আধুনিক ও সমকালীন)
        • ১০। সমকালীন রাষ্ট্রদর্শন
      • 📚 ব্যবস্থাপনা
        • ১। ব্যবস্থাপনা চিন্তাধারা
        • ২। আন্তর্জাতিক ব্যবসায়
        • ৩। ব্যবসায় গবেষণা
        • ৪। কৌশলগত ব্যবস্থাপনা
        • ৫। ব্যবস্থাপনা তথ্য পদ্ধতি
        • ৬। প্রশিক্ষণ ও উন্নয়ন
        • ৭। ক্ষতিপূরণ ব্যবস্থাপনা
      • 📚 হিসাববিজ্ঞান
        • ১। প্রায়োগিক হিসাববিজ্ঞান তত্ত্ব
        • ২। উচ্চতর উৎপাদন ব্যয় হিসাববিজ্ঞান
        • ৩। কৌশলগত ব্যবস্থাপনা হিসাববিজ্ঞান
        • ৪। কৌশলগত ব্যবস্থাপনা
        • ৫। কর্পোরেট গভর্ন্য্যান্স
        • ৬। কর্পোরেট আর্থিক প্রর্তিবেদন
        • ৭। কর্পোরেট কর পরিকল্পনা
    • Member Account
    • Member Login
    • Member Logout
    • Member Profile
    • Member Registration
    • Members
    • MS Word
    • Reset Password
    • SYLLABUS 0-12 NCTB BD
    • DEGREE
      • স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাস (আবশ্যিক)
      • ডিগ্রী রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ
        • ১ম বর্ষ ডিগ্রী রাষ্ট্রবিজ্ঞান
          • রাজনৈতিক তত্ত্ব
    • HONOURS
      • 📚 অনার্স রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ
        • 📗 ১ম বর্ষ অনার্স রাষ্ট্রবিজ্ঞান (নতুন সিলেবাস)
        • 📗 ১ম বর্ষ অনার্স রাষ্ট্রবিজ্ঞান (পুরাতন সিলেবাস)
          • 🔴 স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাস
          • 🔴 রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান ও সংগঠন
          • 🔴 পাশ্চাত্যের রাষ্ট্রচিন্তা
          • 🔴 প্রধান প্রধান বৈদেশিক সরকার (UK, USA & France) ২১১৯০৫
          • 🔴 লোক প্রশাসন পরিচিতি
          • 🔴 সমাজবিজ্ঞান পরিচিতি
          • 🔴 সমাজকর্ম পরিচিতি
          • 🔴 অর্থনীতির মৌলনীতি
        • 📗 ২য় বর্ষ অনার্স রাষ্ট্রবিজ্ঞান
          • 🔴 ব্রিটিশ ভারতের রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক উন্নয়ন (১৭৫৭-১৯৪৭)
          • 🔴 বাংলাদেশের রাজনৈতিক অর্থনীতি
          • 🔴 রাজনীতি ও উন্নয়নে নারী
          • 🔴 প্রাচ্যের রাষ্ট্রচিন্তা
          • 🔴 বাংলাদেশের সমাজবিজ্ঞান
          • 🔴 বাংলাদেশের সমাজ ও সংস্কৃতি
          • 🔴 বাংলাদেশের অর্থনীতি
        • 📗৩য় বর্ষ অনার্স রাষ্ট্রবিজ্ঞান
          • 🔴 বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক উন্নয়ন ১৯৭১ থেকে বর্তমান
          • 🔴 আন্তর্জাতিক রাজনীতির মূলনীতি
          • 🔴 দক্ষিণ এশিয়ার সরকার ও রাজনীতি ( ভারত, পাকিস্তান, নেপাল ও শ্রীলংকা )
          • 🔴 রাজনীতি অধ্যয়নের পদ্ধতি
          • 🔴 শান্তি এবং সংঘাত অধ্যায়ন পরিচিতি
          • 🔴 বাংলাদেশের লোক প্রশাসন
          • 🔴 গবেষণা পদ্ধতি ও পরিসংখ্যান
          • 🔴 রাজনৈতিক সমাজবিজ্ঞান
        • 📗 ৪র্থ বর্ষ অনার্স রাষ্ট্রবিজ্ঞান
          • 🔴 রাজনৈতিক তত্ত্ব পরিবর্তন ও ধারাবাহিকতা
          • 🔴 বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন
          • 🔴 সরকারি নীতি পরিচিতি
          • 🔴 পূর্ব এশিয়ার সরকার ও রাজনীতি চীন, জাপান ও দিক্ষণ কোরিয়া
          • 🔴 পরিবেশ ও উন্নয়ন
          • 🔴 বাংলাদেশের বৈদেশিক সম্পর্ক
          • 🔴 বাংলাদেশের আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়া
          • 🔴 বিশ্বায়ন, আঞ্চলিকতাবাদ ও আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান
      • 📚 অনার্স সমাজবিজ্ঞান বিভাগ
        • ১ম বর্ষ অনার্স সমাজবিজ্ঞান
          • ১। প্রারম্ভিক সমাজবিজ্ঞান ২১২০০১
          • সামাজিক ইতিহাস ও বিশ্ব সভ্যতা ২১২০০৩
          • রাজনৈতিক সমাজবিজ্ঞান ২১২০০৫
          • সামাজিক সমস্যা ২১২০০৭
          • স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাস ২১১৫০১
          • রাজনৈতিক তত্ত্ব পরিচিতি ২১১৯০৯
          • অর্থনীতির মূলনীতি ২১১৯০৯
        • ২য় বর্ষ অনার্স সমাজবিজ্ঞান
          • 💞 প্ররম্ভিক নৃ-বিজ্ঞান
          • 💞 ধ্রুপদী সমাজচিন্তা
          • 💞 সামাজিক পরিসংখ্যান
          • 💞 গবেষণা পদ্ধতি
          • 💞 রাজনৈতিক সংগঠন এবং যুক্তরাজ্য ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ব্যবস্থা
          • 💞 বাংলাদেশের অর্থনীতি
        • ৩য় বর্ষ অনার্স সমাজবিজ্ঞান
          • 🌳ধ্রুপদী সমাজতাত্ত্বিক তত্ত্ব
          • 🌳গ্রামীণ সমাজবিজ্ঞান
          • 🌳ধর্মের সমাজবিজ্ঞান ২৩২০০৫
          • 🌳সামাজিক অসমতা
          • 🌳 সমাজ ও সম্প্রদায়
          • 🌳বাংলাদেশের সমাজ কাঠামো
          • 🌳নগর সমাজবিজ্ঞান
          • 🌳সমাজ মনোবিজ্ঞান
        • ৪র্থ বর্ষ অনার্স সমাজবিজ্ঞান
          • 📢 জেন্ডার, সমাজ ও উন্নয়ন
          • 📢 উন্নয়নের সমাজবিজ্ঞান
          • 📢 সামাজিক জনবিজ্ঞান
          • 📢 পরিবেশ সমাজবিজ্ঞান
          • 📢 বাংলাদেশের সমাজবিজ্ঞান
          • 📢 সামাজিক পরিবর্তন
          • 📢 বিচ্যুতি ও অপরাধ
          • 📢 শিল্প সমাজবিজ্ঞান
          • কৃষক সমাজ ২৪২০১৭
    • HOME
      • About
      • Blog
      • Contact
      • News
      • Privacy
    • GRAMMAR
      • Arabic Grammar
      • Bangla Grammar
      • English Grammar
    • JOB STUDY
      • Army/Police/BDR/Anchar
      • Bank
      • BCS
      • Govt. job
      • Medical Admission
      • Nibandhon
      • Primary
      • University Admission
      • Bangla
      • English
      • Math
      • General Knowledge Bangladesh
      • General Knowledge International
      • Computer & IT
      • Biology
      • Chemistry
      • Physics
      • Ethics, Values ​​and Good Governance
      • Geography/Environment/Disaster Management
    • JOBS
      • BRAC NGO Job Circular New All Jobs Notice 2023
      • Jobs CANADA
      • Jobs INDIA
      • Jobs USA
Read Aim
Read Aim Read Aim
  • readaim.com
  • 0

প্রশ্ন:- আধুনিক রাষ্ট্রচিন্তায় রাসেলের রাষ্ট্রদর্শনের অবদান আলোচনা কর।

উত্তর।।উপস্থাপনা: আধুনিক রাষ্ট্রচিন্তার বিকাশে নোবেলজয়ী দার্শনিক বার্ট্রান্ড রাসেলের রাষ্ট্রদর্শন এক অনন্য ও যুগান্তকারী অধ্যায়। তিনি কেবল তত্ত্বীয় পন্ডিত ছিলেন না, বরং মানবতার মুক্তি ও বিশ্বশান্তির সপক্ষে একজন সক্রিয় কণ্ঠস্বর ছিলেন। ব্যক্তিমানুষের স্বাধীনতা রক্ষা এবং রাষ্ট্রের অহেতুক কর্তৃত্ববাদের বিরুদ্ধে তাঁর বলিষ্ঠ চিন্তাভাবনা সমকালীন ও ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রবিজ্ঞানকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে।

আধুনিক রাষ্ট্রচিন্তায় রাসেলের রাষ্ট্রদর্শনের অবদান:

১। ব্যক্তি স্বাধীনতা: রাসেল তাঁর দর্শনে ব্যক্তি মানুষের স্বাধীনতাকে রাষ্ট্রের চেয়েও বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। তাঁর মতে, রাষ্ট্রের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত ব্যক্তির সৃজনশীল ও সুপ্ত প্রতিভার বিকাশে সহায়তা করা। রাষ্ট্র যদি নাগরিকের ব্যক্তিগত স্বাধীনতায় অতিরিক্ত হস্তক্ষেপ করে, তবে সমাজের প্রগতি থমকে যায়। তাই তিনি রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণের ঊর্ধ্বে ব্যক্তির মৌলিক চিন্তার স্বাধীনতাকে স্থান দিয়েছেন।

২। কর্তৃত্ববাদের বিরোধিতা: ফ্যাসিবাদের মতো চরম কর্তৃত্ববাদী ব্যবস্থার বিরুদ্ধে রাসেল আজীবন সোচ্চার ছিলেন। তিনি বিশ্বাস করতেন, রাষ্ট্র যখন সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী হয়ে ওঠে, তখন তা নাগরিকদের দাসত্বে বাধ্য করে। ক্ষমতার এই কেন্দ্রীভূত রূপ মানুষের স্বাভাবিক বিকাশকে রুদ্ধ করে দেয় বলে তিনি মনে করতেন। তাই ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রতি তাঁর অবিচল আস্থা ছিল।

৩। শান্তিবাদ প্রচার: প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহতা দেখে রাসেল বিশ্বব্যাপী শান্তিবাদ ও যুদ্ধবিরোধী চেতনা প্রচার করেন। তিনি যুদ্ধের চরম বিরোধিতা করেন এবং পরমাণু অস্ত্র প্রতিযোগিতার বিরুদ্ধে বিশ্ববাসীকে সতর্ক করেছিলেন। তাঁর মতে, রাষ্ট্রগুলোর উগ্র জাতীয়তাবাদী নীতিই মূলত যুদ্ধের জন্ম দেয়, যা মানবসভ্যতাকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেয়। তাই বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় তিনি যুদ্ধ বর্জনের ডাক দেন।

৪। বিশ্বরাষ্ট্রের ধারণা: আন্তর্জাতিক দ্বন্দ্বের স্থায়ী অবসান ও মানবজাতির সুরক্ষায় রাসেল একটি শক্তিশালী ‘বিশ্বরাষ্ট্র’ বা বিশ্বসরকার গঠনের প্রস্তাব করেন। তিনি মনে করতেন, একক রাষ্ট্রগুলোর সার্বভৌমত্ব অনেক সময় আন্তর্জাতিক অশান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। একটি কেন্দ্রীয় বিশ্বসংস্থা থাকলে তা রাষ্ট্রগুলোর মধ্যকার বিরোধ মীমাংসা করতে পারবে। ফলে বিশ্বজুড়ে চিরস্থায়ী শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

৫। উগ্র জাতীয়তাবাদ: রাসেল উগ্র জাতীয়তাবাদকে মানবজাতির জন্য একটি বড় অভিশাপ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। নিজের দেশকে ভালোবাসার নামে অন্য দেশের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করাকে তিনি সমর্থন করেননি। তাঁর মতে, এই সংকীর্ণ মানসিকতাই বিশ্বজুড়ে যুদ্ধ ও হানাহানির মূল কারণ। তিনি আন্তর্জাতিকতাবাদের পক্ষে কথা বলেন, যেখানে সব মানুষ সমান মর্যাদা পাবে।

৬। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ: গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রতি রাসেলের ছিল গভীর শ্রদ্ধা ও অটুট বিশ্বাস। তবে তিনি কেবল সংখ্যাগুরুদের শাসন নয়, বরং সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষার গণতন্ত্রে বিশ্বাসী ছিলেন। তাঁর মতে, প্রকৃত গণতন্ত্রে প্রতিটি নাগরিকের মত প্রকাশের সমান সুযোগ থাকতে হবে। রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণই গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি হওয়া উচিত।

৭। সমাজতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গি: রাসেল সমাজতন্ত্রের অর্থনৈতিক সমতার নীতিকে পছন্দ করলেও সোভিয়েত ধাঁচের বলপ্রয়োগের সমাজতন্ত্রের বিরোধী ছিলেন। তিনি এমন এক সমাজতন্ত্রের স্বপ্ন দেখতেন, যেখানে অর্থনৈতিক মুক্তি থাকবে কিন্তু ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন হবে না। তাঁর এই চিন্তাধারাকে গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্র বা গিল্ড সমাজতন্ত্রের কাছাকাছি বলা যায়। তিনি পুঁজিবাদের শোষণেরও তীব্র সমালোচনা করেছিলেন।

৮। ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ: রাষ্ট্রের সমস্ত ক্ষমতা এক জায়গায় পুঞ্জীভূত রাখার ঘোর বিরোধী ছিলেন বার্ট্রান্ড রাসেল। তিনি মনে করতেন, ক্ষমতা একমুখী হলে তা স্বৈরাচারী রূপ ধারণ করতে বাধ্য। তাই স্থানীয় সরকার এবং বিভিন্ন স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার হাতে ক্ষমতা ছেড়ে দেওয়ার কথা বলেন। ক্ষমতার এই বণ্টন নাগরিকের অধিকার রক্ষা এবং শাসনকাজ পরিচালনায় গতিশীলতা আনে।

৯। শিক্ষা সংস্কার: রাসেলের রাষ্ট্রচিন্তার একটি বড় অংশ জুড়ে ছিল প্রগতিশীল শিক্ষা ব্যবস্থা। তিনি মনে করতেন, রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থা মানুষকে অন্ধ অনুগত নাগরিক বানায়। এর পরিবর্তে তিনি এমন শিক্ষার কথা বলেছেন যা মানুষের মধ্যে মুক্তচিন্তা ও প্রশ্ন করার মানসিকতা তৈরি করবে। রাষ্ট্রকে একটি কুসংস্কারমুক্ত ও বিজ্ঞানমনস্ক জাতি গঠনে ভূমিকা নিতে হবে।

১০। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা: একটি আদর্শ রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব হলো সমাজে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা। রাসেলের মতে, আইনের চোখে ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে সকল নাগরিকের সমান অধিকার থাকা আবশ্যক। রাষ্ট্র যদি দুর্বলকে সবলের অত্যাচার থেকে রক্ষা করতে না পারে, তবে সেই রাষ্ট্রের কোনো নৈতিক ভিত্তি থাকে না। সামাজিক ও অর্থনৈতিক ন্যায়বিচারই রাষ্ট্রের স্থায়িত্ব বাড়ায়।

১১। শিল্পায়ন ও মানুষ: আধুনিক শিল্পায়নের ফলে মানুষের যান্ত্রিক হয়ে পড়ার বিষয়টি রাসেলকে গভীরভাবে ভাবিয়েছিল। তিনি লক্ষ্য করেন যে, আধুনিক রাষ্ট্রগুলো যান্ত্রিক উৎপাদনে যতটা মনোযোগী, মানুষের মানসিক বিকাশে ততটা নয়। অতিরিক্ত কাজের চাপে মানুষের ভেতরের সৃজনশীল সত্তা যেন মরে না যায়, সেদিকে নজর দেওয়া রাষ্ট্রের দায়িত্ব। তিনি কাজের সময় কমিয়ে বিনোদনের সুযোগ বাড়ানোর দাবি জানান।

১২। বিজ্ঞান ও রাজনীতি: বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতিকে মানবকল্যাণে ব্যবহারের ওপর রাসেল জোর দিয়েছেন। তবে বিজ্ঞানের অপব্যবহার করে রাষ্ট্রগুলো যেভাবে ধ্বংসাত্মক অস্ত্র তৈরি করছে, তার বিরুদ্ধে তিনি ছিলেন সোচ্চার। রাজনীতিবিদেরা যেন বিজ্ঞানকে যুদ্ধের হাতিয়ার না বানিয়ে মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে ব্যবহার করেন, সেটাই ছিল তাঁর মূল দর্শন। বিজ্ঞানের নৈতিক ব্যবহারই মানবজাতিকে বাঁচাতে পারে।

১৩। আইনের শাসন: রাসেল বিশ্বাস করতেন যে, সমাজে শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য আইনের শাসন অপরিহার্য। তবে সেই আইনকে অবশ্যই মানবিক, যৌক্তিক এবং জনগণের কল্যাণমুখী হতে হবে। কোনো স্বৈরাচারী আইন যা মানুষের মৌলিক অধিকার কেড়ে নেয়, তা মানতে তিনি রাজি ছিলেন না। আইন হবে নাগরিকের স্বাধীনতার রক্ষাকবচ, কোনো শোষণের হাতিয়ার নয়।

১৪। নৈতিকতার গুরুত্ব: রাজনীতি ও রাষ্ট্র পরিচালনায় নৈতিক মূল্যবোধের অনুপস্থিতি রাসেলকে ব্যথিত করেছিল। তিনি মনে করতেন, কেবল ক্ষমতার লোভ বা স্বার্থসিদ্ধির জন্য রাজনীতি করা উচিত নয়। বিশ্বনেতাদের কর্মকাণ্ডে যদি সততা, পরোপকার এবং দয়া না থাকে, তবে পৃথিবী কখনো নিরাপদ হবে না। রাজনীতিকে অবশ্যই মানবপ্রেম ও নৈতিকতার আদর্শে চালিত হতে হবে।

১৫। শ্রমিক অধিকার: সমাজ গঠনে শ্রমিক ও মেহনতি মানুষের অবদানকে রাসেল অত্যন্ত শ্রদ্ধার সাথে দেখতেন। পুঁজিবাদী ব্যবস্থায় শ্রমিকদের যে নির্মম শোষণ করা হতো, তার বিরুদ্ধে তিনি কলম ধরেছিলেন। রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি, উপযুক্ত কর্মপরিবেশ এবং সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। শ্রমের সঠিক মূল্যায়ন ছাড়া কোনো রাষ্ট্র প্রকৃত উন্নত হতে পারে না।

১৬। মুক্তচিন্তার বিকাশ: আধুনিক রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হওয়া উচিত নাগরিকদের মুক্তচিন্তার সুযোগ দেওয়া। রাসেল মনে করতেন, কোনো রাষ্ট্র যদি নতুন আইডিয়া বা ভিন্নমতের পথ রুদ্ধ করে, তবে তার পতন অবশ্যম্ভাবী। প্রগতির জন্য রাষ্ট্রকে অবশ্যই সমালোচকদের প্রতি সহনশীল হতে হবে। ভিন্নমত প্রকাশের স্বাধীনতা সমাজকে অন্ধত্ব ও স্থবিরতা থেকে মুক্ত রাখে।

১৭। মানবতাবাদের জয়গান: রাসেলের সমগ্র রাষ্ট্রদর্শনের মূল সুর ছিল খাঁটি ও আপসহীন মানবতাবাদ। জাতি, ধর্ম, বর্ণ বা ভৌগোলিক সীমানার ঊর্ধ্বে উঠে তিনি সমগ্র মানবজাতিকে এক করে দেখতেন। রাষ্ট্রের নীতিগুলো যেন কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর স্বার্থে না হয়ে সমগ্র মানবতার কল্যাণে উৎসর্গীকৃত হয়, এটাই ছিল তাঁর চাওয়া। মানুষের প্রতি গভীর ভালোবাসাই তাঁর রাজনৈতিক দর্শনকে অমর করে রেখেছে।

শেষকথা: পরিশেষে বলা যায়, বার্ট্রান্ড রাসেলের রাষ্ট্রদর্শন কেবল তাত্ত্বিক আলোচনার বিষয় নয়, বরং তা মানবমুক্তির এক বাস্তব রূপরেখা। বিশ্বযুদ্ধ, পরমাণু অস্ত্রের হুমকি এবং একনায়কতন্ত্রের অন্ধকার সময়ে তিনি মানবজাতিকে আশার আলো দেখিয়েছেন। ব্যক্তি স্বাধীনতা, বিশ্বশান্তি এবং মুক্তচিন্তার পক্ষে তাঁর দেওয়া নীতিগুলো আজকেও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। আধুনিক গণতান্ত্রিক ও কল্যাণকামী রাষ্ট্রের পথচলায় রাসেলের অবদান চিরকাল শ্রদ্ধার সাথে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

Tags: আধুনিক রাষ্ট্রচিন্তাবার্ট্রান্ড রাসেলমানবতাবাদরাষ্ট্রদর্শনশান্তিবাদ
  • Previous গণতন্ত্র সম্পর্কে বার্ট্রান্ড রাসেলের ধারণা আলোচনা কর।
  • Next জ্যাঁ পল সাত্রের অস্তিত্ববাদী চিন্তাধারা আলোচনা কর।
Read Aim

SUBSCRIBE

    JOB CIRCULAR

    • Media/Ads/Event Mngnt (145)
    • Medical/Pharmaceutical (123)
    • NGO/Organization (323)
    • Production/Operation (142)
    • Research/Consultancy (85)
    • Secretary/Receptionist (188)
    • Security/Support Service (99)
    • Others (59)

    LEARNING & EARNING

    • English Article
    • Bearded Dragon
    • Cats
    • Dogs
    • Guinea Pigs
    • Insurance
    • Lawyer
    • Rabbits
    • Earn Money Online
    • Others

    CATEGORIES

    • Computer (12)
    • DEGREE (4)
    • English Article (27)
    • GRAMMAR (138)
    • Health Tips (2)
    • Honours (1083)
    • Jobs (16)
    • Jobs Study (33)
    • News (1336)
    • PDF BOOK (78)

    RECENT POST

    উত্তর আধুনিকতাবাদের উদ্ভব ও ক্রমবিকাশ আলোচনা কর।
    উত্তর আধুনিকতাবাদের বৈশিষ্ট্যসমূহ আলোচনা কর।
    সেন্ট সাইমন ও রবার্ট ওয়েনের কাল্পনিক সমাজতন্ত্রের রূপরেখা বিশ্লেষণ কর।
    কাল্পনিক ও বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রের মধ্যে একটি তুলনামূলক আলোচনা কর।

    2025 All Rights Reserved readaim.com

    • Contact
    • About
    • Privacy
    • Blog
    • READ AIM
    Have any question? 01745112569 md@readaim.com Free
    • Login
    • Registration
    • Home
    • Class 0-12
    • Masters
    • Honours
    • Degree
    • Grammar
      • Bangla Grammar
      • English Grammar
      • Arabic Grammar
    • Computer
      • MS Word
    • Jobs Study
      • BCS
      • Bank
      • Primary
      • Govt. job
      • Nibandhon
      • Medical Admission
      • University Admission
      • Army/Police/BDR/Anchar
    • Jobs
    • News
    • Tools