- readaim.com
- 0
উত্তর::ভূমিকা: কিশোর অপরাধ বর্তমান সমাজে একটি গুরুতর এবং উদ্বেগের বিষয়। যখন কোনো অপ্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি, অর্থাৎ কিশোর-কিশোরী, প্রচলিত আইন ও সমাজের রীতিনীতির পরিপন্থী কোনো কাজ করে, তখন তাকে কিশোর অপরাধ বলা হয়। এটি শুধু আইনশৃঙ্খলার সমস্যা নয়, বরং এটি একটি সামাজিক ব্যাধি যা সমাজের সুস্থ বিকাশের পথে বাধা সৃষ্টি করে।
শাব্দিক অর্থ: কিশোর শব্দের অর্থ হলো অপ্রাপ্তবয়স্ক বা বয়ঃসন্ধিকালে উপনীত ছেলেমেয়ে। আর অপরাধ বলতে বোঝায় প্রচলিত আইন বা সামাজিক নিয়ম ভঙ্গ করা। এই দুটি শব্দের সমন্বয়ে গঠিত কিশোর অপরাধ বলতে বোঝায় অপ্রাপ্তবয়স্কদের দ্বারা সংঘটিত বিভিন্ন ধরনের আইনবিরোধী কাজ।
কিশোর অপরাধ মূলত বয়সের ভিত্তিতে সংজ্ঞায়িত একটি আচরণ। কোনো প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি যে কাজ করলে অপরাধী হিসেবে বিবেচিত হয়, একই কাজ যখন একজন কিশোর করে, তখন তাকে কিশোর অপরাধী বলা হয়। সমাজ, রাষ্ট্র এবং আইন এই কিশোরদের প্রতি প্রাপ্তবয়স্ক অপরাধীদের মতো কঠোর মনোভাব পোষণ করে না, বরং তাদের সংশোধনের সুযোগ দেওয়ার চেষ্টা করে। এটি মূলত একটি সামাজিক সমস্যা যা পারিবারিক, শিক্ষাগত, অর্থনৈতিক এবং মনস্তাত্ত্বিক বিভিন্ন কারণের ওপর নির্ভর করে।
উল্লেখিত গবেষকদের মধ্যে যারা কিশোর অপরাধের সংজ্ঞা প্রদান করেছেন, তাদের কয়েকটি সংজ্ঞা নিচে দেওয়া হলো:
১। অগবার্ন (Ogburn) এবং নিমকফ (Nimkoff) এর মতে, সমাজে প্রচলিত আইন ও রীতিনীতি ভঙ্গকারী অপ্রাপ্তবয়স্কদের কর্মকাণ্ডই হলো কিশোর অপরাধ।
২। এল.ডি. হোয়াইট (L.D. White) এর মতে, অপ্রাপ্তবয়স্কদের দ্বারা সংঘটিত এমন কোনো কাজ, যা প্রাপ্তবয়স্কদের দ্বারা ঘটলে দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতো, তাকে কিশোর অপরাধ বলে। (Juvenile delinquency is any act by a minor that would be a punishable offense if committed by an adult.)
৩। অধ্যাপক ফিফনার ও প্রেসথাস (P. Fiffner and Presthus) এর মতে, প্রচলিত আইন ভঙ্গকারী অপ্রাপ্তবয়স্কদের কর্মকাণ্ডকেই কিশোর অপরাধ বলা হয়। (Juvenile delinquency is the violation of law by a minor.)
৪। উড্রো উইলসন (Woodrow Wilson) এর মতে, নির্দিষ্ট বয়সের নিচে যারা সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রচলিত আইন ভেঙে কোনো অপরাধ করে, তারাই কিশোর অপরাধী। (A juvenile delinquent is a person below a specified age who commits an offense against the state or society.)
৫। সাইমন, স্মিথবার্গ ও থাম্পসন (Simon, Smithburg and Thompson) এর মতে, কিশোর অপরাধ হলো একটি সামাজিক সমস্যা, যা সমাজের রীতিনীতি, মূল্যবোধ এবং আইনের লঙ্ঘন। (Juvenile delinquency is a social problem that violates social norms, values, and laws.)
৬। ডিমক ও ডিমক (Dimok and Dimok) এর মতে, কিশোর অপরাধ হলো বয়সের কারণে একটি নির্দিষ্ট মাত্রার নিচে থাকা ব্যক্তির দ্বারা করা এমন কাজ, যা সমাজ ও আইনবিরোধী। (Juvenile delinquency is any act committed by an individual below a certain age that is contrary to the laws of society.)
৭। ডোয়াইট ওয়াল্ডো (Dwight Waldo) এর মতে, যে কোনো ধরনের অস্বাভাবিক বা আইনবহির্ভূত আচরণ যা একজন অপ্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি দ্বারা প্রদর্শিত হয়, তাকেই কিশোর অপরাধ বলা হয়। (Juvenile delinquency is any kind of deviant or illegal behavior shown by a minor.)
উপরিউক্ত সংজ্ঞাগুলির আলোকে আমরা কিশোর অপরাধকে এভাবে সংজ্ঞায়িত করতে পারি যে, কিশোর অপরাধ হলো একটি সামাজিক বিচ্যুতি, যেখানে নির্দিষ্ট বয়সের কম বয়সী কোনো ব্যক্তি এমন কাজ করে যা দেশের প্রচলিত আইন ও সামাজিক রীতিনীতির পরিপন্থী এবং যার জন্য সে সমাজের কাছে দায়ী থাকে।
১। পারিবারিক অস্থিরতা: যখন কোনো পরিবারের সদস্যদের মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েন থাকে বা বাবা-মায়ের মধ্যে প্রায়শই ঝগড়া-বিবাদ হয়, তখন কিশোর-কিশোরীরা মানসিক শান্তি খুঁজে পায় না। এমন পরিবেশে বেড়ে ওঠা শিশুরা সাধারণত নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে এবং তাদের মধ্যে হতাশা জন্ম নেয়। বাবা-মায়ের স্নেহ ও সঠিক তত্ত্বাবধানের অভাবে তারা নিজেদেরকে বিচ্ছিন্ন মনে করে এবং বাইরে খারাপ সঙ্গের প্রতি আকৃষ্ট হয়। এই মানসিক অস্থিরতা তাদের অপরাধের পথে ঠেলে দেয়।
২। দারিদ্র্য ও বঞ্চনা: অর্থনৈতিক অসচ্ছলতা অনেক পরিবারে কিশোর অপরাধের মূল কারণ। যখন একটি শিশু তার মৌলিক চাহিদা যেমন খাবার, পোশাক, এবং শিক্ষার অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়, তখন তার মধ্যে হতাশা এবং ক্ষোভ জন্ম নেয়। এই বঞ্চনা অনেক সময় তাকে চুরি, ছিনতাই, এবং মাদক ব্যবসার মতো অপরাধে জড়িয়ে পড়তে বাধ্য করে। পেটের ক্ষুধা নিবারণের জন্য বা সামান্য কিছু অর্থের জন্য তারা সহজেই অপরাধের ফাঁদে পা দেয়।
৩। শিক্ষার অভাব: শিক্ষা একটি মানুষকে সঠিক ও ভুলের মধ্যে পার্থক্য করতে শেখায়। যখন কোনো কিশোর বা কিশোরী শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়, তখন তাদের মধ্যে মূল্যবোধ এবং নৈতিকতার অভাব দেখা দেয়। তারা সহজে অন্যদের দ্বারা প্রভাবিত হয় এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে। যথাযথ শিক্ষার অভাবে তারা ভালো-মন্দের বিচার করতে পারে না এবং সমাজে সুস্থভাবে জীবনযাপনের উপায় খুঁজে পায় না।
৪। খারাপ সঙ্গ: মানুষের জীবনে সঙ্গ বা বন্ধুত্বের প্রভাব অনেক বেশি। যখন কোনো কিশোর খারাপ বন্ধুদের সাথে মিশে, তখন সে ধীরে ধীরে তাদের অভ্যাস ও আচরণে প্রভাবিত হয়। এই সঙ্গ তাকে ধূমপান, মাদক সেবন, এবং বিভিন্ন অপরাধমূলক কার্যকলাপে উৎসাহ দেয়। অনেক সময় দেখা যায়, ভালো পরিবারের সন্তানও খারাপ সঙ্গের কারণে ধীরে ধীরে অপরাধী হয়ে ওঠে এবং সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে।
৫। মাদকাসক্তি: মাদকাসক্তি কিশোর অপরাধের একটি অন্যতম প্রধান কারণ। একবার মাদক সেবনের অভ্যাস গড়ে উঠলে তা মেটানোর জন্য প্রচুর অর্থের প্রয়োজন হয়। এই অর্থ জোগাড় করার জন্য কিশোররা প্রথমে চুরি, ছিনতাই বা মাদক পাচারের মতো অপরাধে জড়িয়ে পড়ে। মাদক তাদের বিচার-বুদ্ধি নষ্ট করে দেয় এবং তারা কোনো ধরনের অপরাধ করতে দ্বিধা করে না। এটি একটি চক্রের মতো কাজ করে যা থেকে বের হওয়া খুবই কঠিন।
৬। পারিবারিক অবহেলা: কিছু পরিবারে বাবা-মা তাদের সন্তানদের পর্যাপ্ত সময় দেন না বা তাদের প্রতি উদাসীন থাকেন। এই অবহেলা কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে একাকীত্ব এবং মানসিক শূন্যতা তৈরি করে। তারা নিজেদেরকে অপ্রয়োজনীয় মনে করে এবং মনোযোগ আকর্ষণের জন্য এমন কাজ করতে শুরু করে যা সমাজের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। এই অবহেলা তাদের অপরাধের দিকে ঠেলে দেয় এবং তাদের মধ্যে অপরাধপ্রবণতা বাড়ায়।
৭। বেকারত্ব: পড়াশোনা শেষ করেও যখন কোনো কিশোর বা তরুণ চাকরি খুঁজে পায় না, তখন তার মধ্যে হতাশা জন্ম নেয়। এই বেকারত্ব তাকে অর্থ উপার্জনের জন্য অবৈধ পথের দিকে ঠেলে দেয়। সহজে অর্থ উপার্জনের লোভে তারা চুরি, ডাকাতি, এবং অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে। বেকারত্ব তাদের আত্মবিশ্বাস কমিয়ে দেয় এবং তারা সমাজে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে ব্যর্থ হয়।
৮। সামাজিক বৈষম্য: সমাজে যখন ধনী ও দরিদ্রের মধ্যে বড় ধরনের বৈষম্য দেখা যায়, তখন দরিদ্র পরিবারের কিশোরদের মধ্যে ক্ষোভ এবং হিংসা জন্ম নেয়। তারা মনে করে যে তারা তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এই ক্ষোভ থেকে তারা অনেক সময় ধনীদের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে। এই বৈষম্য সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে এবং অপরাধের প্রবণতা বাড়ায়।
৯। যৌন হয়রানি: অনেক সময় কিশোরীরা যৌন হয়রানির শিকার হয়, যা তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলে। এই ট্রমা বা মানসিক আঘাত তাদের মধ্যে অপরাধপ্রবণতা তৈরি করতে পারে। তারা নিজেদের অসহায় মনে করে এবং প্রতিশোধের জন্য অপরাধের পথে পা বাড়ায়। এই ধরনের ঘটনা সমাজে নারীদের প্রতি অপরাধ বাড়ায়।
১০। মিডিয়ার নেতিবাচক প্রভাব: আজকাল মিডিয়া, বিশেষ করে চলচ্চিত্র এবং ভিডিও গেম, অপরাধকে আকর্ষণীয়ভাবে উপস্থাপন করে। কিশোর-কিশোরীরা প্রায়শই এসব দেখে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের প্রতি আকৃষ্ট হয়। তারা নায়ক-নায়িকাদের মতো হতে চায় এবং সহিংসতাকে সাধারণ বিষয় হিসেবে গ্রহণ করে। এই নেতিবাচক প্রভাব তাদের মধ্যে অপরাধের বীজ বপন করে এবং তাদের বাস্তব জীবনের বিচার-বুদ্ধি নষ্ট করে দেয়।
১১। অপর্যাপ্ত বিনোদন ব্যবস্থা: সুস্থ বিনোদন ও খেলাধুলার সুযোগের অভাবে কিশোর-কিশোরীরা অলস হয়ে পড়ে এবং নেতিবাচক কাজে জড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। যখন কোনো সুস্থ বিনোদনের সুযোগ থাকে না, তখন তারা সময় কাটানোর জন্য বাজে সঙ্গ বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের দিকে ঝুঁকে পড়ে। খেলার মাঠ এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের অভাব তাদের মানসিক বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করে।
১২। আইনের শিথিলতা: আইনের সঠিক প্রয়োগ না হলে বা অপরাধীরা সহজেই শাস্তি থেকে রেহাই পেলে কিশোরদের মধ্যে অপরাধের ভয় কমে যায়। তারা মনে করে যে অপরাধ করলেও তাদের কোনো শাস্তি হবে না। এই আইনের শিথিলতা তাদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে আরও বেশি উৎসাহ দেয় এবং সমাজে অপরাধের হার বাড়িয়ে দেয়।
১৩। নৈতিক অবক্ষয়: সমাজের নৈতিক মূল্যবোধের পতন কিশোর অপরাধের একটি বড় কারণ। যখন পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, এবং সমাজে নৈতিকতার ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ে, তখন কিশোররা সঠিক-ভুল বুঝতে পারে না। তারা সহজে অন্যায় ও অবৈধ কাজে জড়িয়ে পড়ে। নৈতিক অবক্ষয় তাদের মধ্যে লোভ, হিংসা, এবং স্বার্থপরতা বাড়িয়ে দেয়।
১৪। পরিবেশের প্রভাব: বসবাসকারী পরিবেশের প্রভাব কিশোরদের ওপর ব্যাপকভাবে পড়ে। যখন কোনো কিশোর অপরাধপ্রবণ এলাকায় বসবাস করে, তখন তার চারপাশে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড দেখা যায়। এই পরিবেশে বেড়ে ওঠা শিশুরা খুব সহজেই অপরাধের সঙ্গে পরিচিত হয় এবং তাদের মধ্যে অপরাধের প্রতি স্বাভাবিকতা চলে আসে।
১৫। শহরায়ন: দ্রুত নগরায়নের ফলে শহরে মানুষের ভিড় বাড়ছে। এর ফলে অনেক পরিবার শহরে এসে বস্তিতে বসবাস করে। বস্তিগুলোতে শিক্ষার অভাব, দারিদ্র্য, এবং অপরাধের প্রবণতা বেশি থাকে। শহুরে জীবনের দ্রুত গতি এবং ব্যক্তিগত বিচ্ছিন্নতা কিশোরদের মধ্যে হতাশা তৈরি করে, যা তাদের অপরাধের দিকে ঠেলে দেয়।
১৬। অনলাইনে হয়রানি: বর্তমানে ইন্টারনেট ও সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যাপক ব্যবহার কিশোর অপরাধের নতুন ক্ষেত্র তৈরি করেছে। অনলাইনে ব্ল্যাকমেইলিং, সাইবার বুলিং, এবং বিভিন্ন ধরনের হয়রানির শিকার হয়ে অনেক কিশোর-কিশোরী মানসিক চাপে থাকে। এই চাপ থেকে মুক্তি পেতে তারা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে বা নিজেরা অপরাধী হয়ে ওঠে।
১৭। যৌন প্রলোভন: বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও অন্যান্য অনলাইন প্ল্যাটফর্মে কিশোর-কিশোরীরা অনেক সময় যৌন প্রলোভনের শিকার হয়। অপরিচিতদের কাছ থেকে আসা এই ধরনের প্রলোভন তাদের ব্ল্যাকমেইল ও হয়রানির শিকার হতে বাধ্য করে। এর ফলে তারা মানসিক চাপ এবং হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়ে, যা তাদের অপরাধের দিকে চালিত করে।
১৮। অপরাধী চক্রের প্রলোভন: কিছু শক্তিশালী অপরাধী চক্র আছে যারা কিশোর-কিশোরীদের অর্থ ও ক্ষমতার লোভ দেখিয়ে তাদের দলে টানে। এই চক্রগুলো তাদের মাদক পাচার, ছিনতাই, এবং অন্যান্য গুরুতর অপরাধে ব্যবহার করে। একবার এই চক্রের ফাঁদে পড়লে তাদের জন্য স্বাভাবিক জীবনে ফেরা খুবই কঠিন হয়ে পড়ে।
১৯। বিচার ব্যবস্থার দুর্বলতা: কিশোর অপরাধের ক্ষেত্রে বিচার ব্যবস্থার দীর্ঘসূত্রিতা ও দুর্বলতা অনেক সময় অপরাধীদের আরও উৎসাহিত করে। সময় মতো বিচার না হলে এবং সঠিক শাস্তি না পেলে কিশোররা মনে করে তারা যা করেছে তা ভুল নয়। এই দুর্বলতা সমাজে অপরাধের চক্রকে আরও শক্তিশালী করে।
উপসংহার: কিশোর অপরাধ একটি গুরুতর সামাজিক সমস্যা, যা সমাধান করা না গেলে দেশের ভবিষ্যৎ অন্ধকারাচ্ছন্ন হতে পারে। এই সমস্যা মোকাবিলায় পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, এবং সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষের সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন। সুস্থ পারিবারিক পরিবেশ, মানসম্মত শিক্ষা, এবং সচেতনতার মাধ্যমে আমরা আমাদের কিশোরদের সঠিক পথে পরিচালিত করতে পারি।
নির্দিষ্ট বয়সের কোনো অপ্রাপ্তবয়স্কের দ্বারা সংঘটিত আইনবিরোধী কাজই হলো কিশোর অপরাধ।
১। 👨👩👧👦 পারিবারিক অস্থিরতা
২। 💰 দারিদ্র্য ও বঞ্চনা
৩। 📚 শিক্ষার অভাব
৪। 🤝 খারাপ সঙ্গ
৫। 🚬 মাদকাসক্তি
৬। 🏠 পারিবারিক অবহেলা
৭। 👔 বেকারত্ব
৮। ⚖️ সামাজিক বৈষম্য
৯। 🚫 যৌন হয়রানি
১০। 📺 মিডিয়ার নেতিবাচক প্রভাব
১১। ⚽ অপর্যাপ্ত বিনোদন ব্যবস্থা
১২। 🚓 আইনের শিথিলতা
১৩। 🧐 নৈতিক অবক্ষয়
১৪। 🌳 পরিবেশের প্রভাব
১৫। 🏙️ শহরায়ন
১৬। 💻 অনলাইনে হয়রানি
১৭। ❤️ যৌন প্রলোভন
১৮। ⛓️ অপরাধী চক্রের প্রলোভন
১৯। 👨⚖️ বিচার ব্যবস্থার দুর্বলতা।
বাংলাদেশে কিশোর অপরাধের প্রবণতা দিন দিন বাড়ছে। ১৯৭০ সালের দিকে অপরাধের প্রকৃতি ছিল মূলত চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাই। কিন্তু বর্তমানে সাইবার বুলিং, মাদক পাচার, এবং হত্যাকাণ্ডের মতো গুরুতর অপরাধের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। ইউনিসেফের এক জরিপ অনুসারে, দেশের মোট অপরাধের প্রায় ২০ শতাংশ কিশোররা সংঘটিত করে। ২০০৪ সালে বাংলাদেশ সরকার ‘শিশু আইন’ প্রণয়ন করে কিশোর অপরাধীদের পুনর্বাসনের চেষ্টা করে, তবে এর পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন এখনো অনেক চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ইউল্যাবসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জরিপে দেখা গেছে, পারিবারিক ভাঙন ও ইন্টারনেটের অপব্যবহার কিশোর অপরাধ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। এই সমস্যা সমাধানে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা এবং নৈতিক শিক্ষার বিস্তার অপরিহার্য।

