- readaim.com
- 0
উত্তর::উপস্থাপনা: সতেরো শতকের ইংরেজ দার্শনিক টমাস হবসের সবচেয়ে বিখ্যাত এবং বিতর্কিত উক্তিগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো “জীবন বিশ্রী, পাশবিক ও সাময়িক”। এই উক্তিটি তার ১৬৫১ সালে প্রকাশিত কালজয়ী গ্রন্থ ‘লেভিয়াথান’-এ পাওয়া যায়। এখানে তিনি মূলত রাষ্ট্রের অনুপস্থিতিতে প্রাকৃতিক রাজ্যে মানুষের দুর্বিষহ অবস্থাকেই চিত্রায়িত করেছেন। এই উক্তিটি মানব প্রকৃতি এবং সমাজের অপরিহার্যতা সম্পর্কে এক গভীর অন্তর্দৃষ্টি প্রদান করে, যা নিয়ে আজও দার্শনিক মহলে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্ক প্রচলিত।
১। প্রাকৃতিক অবস্থা: টমাস হবসের মতে, রাষ্ট্র গঠনের পূর্বে মানুষ এক প্রাকৃতিক রাজ্যে বাস করত। এই অবস্থায় কোনো আইন, বিচার বা শাসন ব্যবস্থা ছিল না। প্রত্যেকেই নিজের বিচারক এবং নিজের ইচ্ছামত চলার অধিকারী ছিল। ফলস্বরূপ, মানুষের জীবন ছিল নিরাপত্তাহীন এবং ভয়াবহ, যা তিনি এই উক্তির মাধ্যমে প্রকাশ করেছেন। এই অবস্থা থেকে পরিত্রাণের জন্যই মানুষ সামাজিক চুক্তির মাধ্যমে রাষ্ট্র গঠন করে।
২। মানব প্রকৃতি: হবস মানব প্রকৃতিকে অত্যন্ত নেতিবাচক দৃষ্টিতে দেখেছেন। তিনি মনে করতেন, মানুষ স্বভাবতই আত্মকেন্দ্রিক, স্বার্থপর এবং ক্ষমতালোভী। মানুষ নিজের স্বার্থ হাসিলের জন্য যেকোনো কিছু করতে পারে, এমনকি অন্যের ক্ষতি করতেও দ্বিধা করে না। এই অন্তর্নিহিত পাশবিক প্রবৃত্তিই প্রাকৃতিক রাজ্যের জীবনকে অসহনীয় করে তোলে এবং পারস্পরিক সংঘাতের জন্ম দেয়।
৩। ক্ষমতার দ্বন্দ্ব: প্রাকৃতিক রাজ্যে সম্পদের সীমাবদ্ধতা এবং মানুষের সীমাহীন আকাঙ্ক্ষার কারণে এক চিরস্থায়ী ক্ষমতার দ্বন্দ্ব বিরাজ করত। প্রত্যেকেই নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য এবং সম্পদ দখলের জন্য অন্যের সাথে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত থাকত। এই অবিরাম সংঘাতের ফলে মানুষের জীবন সর্বদা ঝুঁকিপূর্ণ এবং অনিশ্চিত ছিল। হবসের মতে, এই ক্ষমতার লড়াই মানুষকে একে অপরের শত্রুতে পরিণত করেছিল।
৪। নিরাপত্তার অভাব: কোনো কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষ বা শাসক না থাকায় প্রাকৃতিক রাজ্যে মানুষের জীবনের কোনো নিরাপত্তা ছিল না। যে কেউ যেকোনো সময় অন্যের দ্বারা আক্রান্ত বা নিহত হতে পারত। শক্তিশালীরা দুর্বলদের উপর অত্যাচার করত এবং কোনো প্রতিকারের ব্যবস্থা ছিল না। এই নিরাপত্তাহীনতাই মানুষের জীবনকে বিশ্রী এবং ভয়াবহ করে তুলেছিল, যেখানে বেঁচে থাকাটাই ছিল একমাত্র চ্যালেঞ্জ।
৫। একাকীত্ব ও বিচ্ছিন্নতা: হবসের প্রাকৃতিক রাজ্যে কোনো সমাজ বা সম্প্রদায় ছিল না। মানুষ একে অপরকে বিশ্বাস করত না এবং সর্বদা সন্দেহের চোখে দেখত। এই পারস্পরিক অবিশ্বাসের কারণে মানুষের জীবন ছিল নিঃসঙ্গ এবং একাকী। সামাজিক বন্ধনের অভাবে মানুষ একে অপরের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ত, যা তাদের জীবনকে আরও দুর্বিষহ এবং অর্থহীন করে তুলত।
৬। নৈতিকতার অনুপস্থিতি: হবস মনে করতেন যে, প্রাকৃতিক রাজ্যে ন্যায়-অন্যায় বা ভালো-মন্দের কোনো সর্বজনীন ধারণা ছিল না। যেহেতু কোনো আইন ছিল না, তাই কোনো কাজের নৈতিক বিচারও সম্ভব ছিল না। প্রত্যেকে নিজের সুবিধা অনুযায়ী কাজ করত। এই নৈতিক শূন্যতার কারণেই মানুষের আচরণ পাশবিক স্তরে নেমে গিয়েছিল এবং জীবনযাত্রা বিশৃঙ্খল হয়ে পড়েছিল।
৭. মৃত্যু ভয়: প্রাকৃতিক রাজ্যের জীবন ছিল constante mortis metus বা constante ভয় দ্বারা পরিবেষ্টিত। মানুষ সবসময় মৃত্যু ভয়ে আতঙ্কিত থাকত, কারণ যে কোনো মুহূর্তে প্রতিপক্ষের আক্রমণে তার জীবন বিপন্ন হতে পারত। এই ভয়াবহ পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্যই মানুষ নিজেদের মধ্যে চুক্তিবদ্ধ হয়ে একজন সার্বভৌম শাসকের হাতে ক্ষমতা তুলে দেয়, যাতে নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়।
৮. সামাজিক চুক্তির প্রয়োজনীয়তা: হবসের মতে, এই অসহনীয়, পাশবিক অবস্থা থেকে মুক্তি পাওয়ার আকাঙ্ক্ষাই মানুষকে সামাজিক চুক্তি স্থাপনে উদ্বুদ্ধ করে। মানুষ নিজেদের কিছু স্বাধীনতা ও অধিকার এক সার্বভৌম শক্তির হাতে অর্পণ করে, যার বিনিময়ে সেই শক্তি তাদের জীবন ও সম্পত্তি রক্ষা করবে। এভাবেই বিশৃঙ্খল প্রাকৃতিক অবস্থা থেকে সুশৃঙ্খল রাষ্ট্রীয় জীবনের উত্তরণ ঘটে।
৯. সভ্যতার ভিত্তি: হবসের এই উক্তিটি সভ্যতার অপরিহার্যতার দিকে ইঙ্গিত করে। রাষ্ট্র, আইন এবং সামাজিক নিয়মকানুন ছাড়া মানব জীবন কতটা ভয়ঙ্কর হতে পারে, তা তিনি তুলে ধরেছেন। সভ্যতা মানুষের পাশবিক প্রকৃতিকে নিয়ন্ত্রণ করে এবং একটি সুশৃঙ্খল ও নিরাপদ সমাজ ব্যবস্থা গড়ে তোলে, যেখানে মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করতে পারে।
১০. লেভিয়াথান বা সার্বভৌমত্ব: হবস একটি শক্তিশালী ও নিরঙ্কুশ সার্বভৌম ক্ষমতার পক্ষে ছিলেন, যাকে তিনি ‘লেভিয়াথান’ নামে অভিহিত করেছেন। তার মতে, একমাত্র একচ্ছত্র ক্ষমতার অধিকারী শাসকই মানুষের স্বার্থপরতাকে দমন করে সমাজে শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পারে। এই শাসকের আদেশই আইন এবং তা অমান্য করার কোনো অধিকার জনগণের নেই।
১১. সমালোচনা ও বিতর্ক: হবসের এই মানব প্রকৃতি সম্পর্কিত হতাশাবাদী দৃষ্টিভঙ্গি বহু দার্শনিকের দ্বারা সমালোচিত হয়েছে। জন লকের মতো চিন্তাবিদরা মনে করেন, মানুষ প্রকৃতিগতভাবে এতটা স্বার্থপর নয় এবং প্রাকৃতিক রাজ্যেও তাদের কিছু স্বাভাবিক অধিকার ও নৈতিক জ্ঞান ছিল। রুশোর মতে, প্রাকৃতিক রাজ্যের মানুষ ছিল সরল ও সুখী, কিন্তু সভ্যতার বিকাশই তাদের দুর্নীতিগ্রস্ত করেছে।
১২. ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: হবসের এই চিন্তাধারা তার সমসাময়িক ইংল্যান্ডের গৃহযুদ্ধের (১৬৪২-১৬৫১) ভয়াবহ অভিজ্ঞতা দ্বারা গভীরভাবে প্রভাবিত হয়েছিল। রাজার এবং সংসদের মধ্যে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব দেশকে এক অরাজকতার দিকে ঠেলে দিয়েছিল। এই রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং violencia হবসের মনে এক শক্তিশালী কেন্দ্রীয় শাসনের প্রয়োজনীয়তা বোধকে জাগ্রত করেছিল, যা তার দর্শনে প্রতিফলিত হয়েছে।
১৩. আত্ম-সংরক্ষণ: হবসের মতে, মানুষের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রবৃত্তি হলো আত্ম-সংরক্ষণ বা বেঁচে থাকার ইচ্ছা। প্রাকৃতিক রাজ্যের ভয়াবহ পরিবেশে এই বেঁচে থাকার আকুতিই মানুষকে একত্রিত হয়ে রাষ্ট্র গঠন করতে বাধ্য করে। তারা বুঝতে পারে যে, ব্যক্তিগত স্বাধীনতা কিছুটা বিসর্জন দিয়ে একটি সম্মিলিত ব্যবস্থার অধীনে আসাই তাদের অস্তিত্ব রক্ষার জন্য সর্বোত্তম উপায়।
১৪. শিল্প ও সংস্কৃতির অনুপস্থিতি: প্রাকৃতিক রাজ্যে যেহেতু মানুষের জীবন শুধুমাত্র টিকে থাকার সংগ্রামে সীমাবদ্ধ ছিল, তাই সেখানে শিল্প, সাহিত্য, বিজ্ঞান বা সংস্কৃতির কোনো বিকাশ সম্ভব ছিল না। একটি স্থিতিশীল এবং নিরাপদ সমাজ ব্যবস্থাই জ্ঞান-বিজ্ঞান এবং সৃজনশীলতার বিকাশের জন্য অপরিহার্য। হবসের বর্ণনা অনুযায়ী, সেই রাজ্যে কোনো উন্নত জীবনের সম্ভাবনা ছিল না।
১৫. শ্রমের মূল্যহীনতা: প্রাকৃতিক রাজ্যে কোনো ব্যক্তিগত সম্পত্তি বা তার সুরক্ষার ব্যবস্থা ছিল না। ফলে, মানুষ যা কিছু উৎপাদন বা সংগ্রহ করত, তা যেকোনো সময় অন্যের দ্বারা ছিনিয়ে নেওয়ার ভয় থাকত। এই কারণে কোনো দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা বা কঠোর পরিশ্রমের কোনো মূল্য ছিল না। জীবনের এই অনিশ্চয়তা অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে সম্পূর্ণরূপে ব্যাহত করত।
১৬. বিশ্রী বা ‘Nasty’: উক্তিটিতে ‘বিশ্রী’ শব্দটি দ্বারা জীবনের নিকৃষ্ট গুণমানকে বোঝানো হয়েছে। যেখানে কোনো আনন্দ, স্বাচ্ছন্দ্য বা মানসিক প্রশান্তি নেই, কেবলই কষ্ট এবং সংগ্রাম। constante ভয় এবং অবিশ্বাসের মধ্যে বসবাস করার ফলে মানুষের অভিজ্ঞতা অত্যন্ত নেতিবাচক এবং পীড়াদায়ক ছিল, যা জীবনকে অসুন্দর ও কদর্য করে তুলেছিল।
১৭. পাশবিক বা ‘Brutish’: ‘পাশবিক’ শব্দটি মানুষের আচরণকে নির্দেশ করে। আইনের অনুপস্থিতিতে মানুষ পশুর মতো আচরণ করত, যেখানে কেবল ‘জোর যার মুলুক তার’ নীতিই কার্যকর ছিল। সহানুভূতি, দয়া বা সহযোগিতার কোনো স্থান ছিল না। মানুষ নিজের টিকে থাকার জন্য হিংস্র এবং নিষ্ঠুর আচরণ করতে বাধ্য হতো, যা মানবিক গুণাবলীর সম্পূর্ণ পরিপন্থী।
১৮. সাময়িক বা ‘Short’: ‘সাময়িক’ বা সংক্ষিপ্ত শব্দটি জীবনের ক্ষণস্থায়ীতাকে নির্দেশ করে। প্রাকৃতিক রাজ্যে রোগ, অপুষ্টি এবং সর্বোপরি constante সংঘাতের কারণে মানুষের আয়ু ছিল অত্যন্ত কম। যে কোনো মুহূর্তে জীবন শেষ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকায়, জীবন ছিল অত্যন্ত অনিশ্চিত এবং সংক্ষিপ্ত। একটি নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল সমাজই মানুষের দীর্ঘ ও সুস্থ জীবন নিশ্চিত করতে পারে।
১৯. যৌক্তিকতার প্রয়োগ: হবস মনে করেন, মানুষ যুক্তিবাদী জীব। যদিও তাদের আবেগ এবং প্রবৃত্তি তাদের সংঘাতের দিকে চালিত করে, তাদের যুক্তিই তাদের এই ভয়াবহ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার পথ দেখায়। মানুষ তাদের যুক্তির মাধ্যমে বুঝতে পারে যে, শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য একটি সামাজিক চুক্তি এবং সার্বভৌম ক্ষমতা অপরিহার্য। এই উপলব্ধিই রাষ্ট্র গঠনের মূল ভিত্তি।
২০. আধুনিক প্রাসঙ্গিকতা: হবসের এই উক্তি আজও প্রাসঙ্গিক। বিশ্বের বিভিন্ন অকার্যকর রাষ্ট্র বা যুদ্ধ-বিধ্বস্ত অঞ্চলগুলোর দিকে তাকালে আমরা হবসের প্রাকৃতিক রাজ্যের একটি বাস্তব চিত্র দেখতে পাই। যেখানে আইন-শৃঙ্খলার পতন ঘটে, সেখানে মানুষের জীবন সত্যিই বিশ্রী, পাশবিক এবং অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। এটি শক্তিশালী ও কার্যকর রাষ্ট্র ব্যবস্থার গুরুত্বকে তুলে ধরে।
উপসংহার: টমাস হবসের “জীবন বিশ্রী, পাশবিক ও সাময়িক” উক্তিটি কেবল একটি হতাশাবাদী মন্তব্য নয়, বরং এটি একটি গভীর রাজনৈতিক দর্শন। তিনি এর মাধ্যমে প্রাকৃতিক রাজ্যের ভয়াবহতা তুলে ধরে একটি শক্তিশালী, স্থিতিশীল এবং সার্বভৌম রাষ্ট্রের অপরিহার্যতা প্রমাণ করতে চেয়েছেন। যদিও তার মানব প্রকৃতি সম্পর্কিত ধারণা বিতর্কিত, তবে শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য যে একটি কার্যকর শাসন ব্যবস্থা প্রয়োজন, এই সত্যটি আজও বিশ্বজুড়ে স্বীকৃত।
🎨 ১। প্রাকৃতিক অবস্থা
🧠 ২। মানব প্রকৃতি
⚔️ ৩। ক্ষমতার দ্বন্দ্ব
🛡️ ৪। নিরাপত্তার অভাব
👤 ৫। একাকীত্ব ও বিচ্ছিন্নতা
⚖️ ৬। নৈতিকতার অনুপস্থিতি
👻 ৭। মৃত্যু ভয়
📜 ৮। সামাজিক চুক্তির প্রয়োজনীয়তা
🏛️ ৯। সভ্যতার ভিত্তি
👑 ১০। লেভিয়াথান বা সার্বভৌমত্ব
🗣️ ১১। সমালোচনা ও বিতর্ক
🏰 ১২। ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট
❤️ ১৩। আত্ম-সংরক্ষণ
🎭 ১৪। শিল্প ও সংস্কৃতির অনুপস্থিতি
💰 ১৫। শ্রমের মূল্যহীনতা
🤢 ১৬। বিশ্রী বা ‘Nasty’
🐾 ১৭। পাশবিক বা ‘Brutish’
⏳ ১৮। সাময়িক বা ‘Short’
💡 ১৯। যৌক্তিকতার প্রয়োগ
🌍 ২০। আধুনিক প্রাসঙ্গিকতা
টমাস হবসের রাজনৈতিক দর্শন ইংল্যান্ডের গৃহযুদ্ধের (১৬৪২-১৬৫১) প্রেক্ষাপটে রূপ লাভ করে। এই যুদ্ধের ভয়াবহতা, রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা এবং সামাজিক ভাঙ্গন দেখে তিনি এক শক্তিশালী কেন্দ্রীয় শাসনের প্রয়োজনীয়তা গভীরভাবে উপলব্ধি করেন। তার বিখ্যাত গ্রন্থ ‘লেভিয়াথান’ ১৬৫১ সালে প্রকাশিত হয়, যখন ইংল্যান্ড এক চরম রাজনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল। হবস বিশ্বাস করতেন যে, মানুষের প্রকৃতির স্বার্থপর এবং হিংস্র প্রবণতা নিয়ন্ত্রণ করার জন্য একটি নিরঙ্কুশ সার্বভৌম ক্ষমতা অপরিহার্য। তার এই ধারণা সে সময়কার ইউরোপীয় রাজনৈতিক চিন্তাধারায় এক নতুন বিতর্কের জন্ম দেয় এবং আধুনিক রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ভিত্তি স্থাপনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

