- readaim.com
- 0
উত্তর।। মুখবন্ধ: সপ্তদশ শতাব্দীর ইংরেজ দার্শনিক টমাস হবস রাজনৈতিক দর্শনের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় নাম। ইংরেজ গৃহযুদ্ধের ভয়াবহতা ও রাজনৈতিক অস্থিরতা তাঁর চিন্তাধারাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছিল। তাঁর সবচেয়ে বিখ্যাত গ্রন্থ ‘লেভিয়াথান’-এ তিনি মানব প্রকৃতি এবং প্রকৃতির রাজ্য সম্পর্কে এক নৈরাশ্যবাদী অথচ যুক্তিযুক্ত ধারণা উপস্থাপন করেন। এই ধারণার মাধ্যমে তিনি রাষ্ট্রের উৎপত্তি এবং সার্বভৌম ক্ষমতার প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করেছেন, যা আজও রাষ্ট্রবিজ্ঞানের আলোচনায় অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক।
১। মানুষের স্বভাব: টমাস হবসের মতে, মানব প্রকৃতি মৌলিকভাবে স্বার্থপর ও আত্মকেন্দ্রিক। তিনি মনে করতেন, মানুষ সামাজিক জীব হিসেবে জন্মায় না, বরং নিজের নিরাপত্তা ও ব্যক্তিগত লাভ নিশ্চিত করার জন্যই তারা একত্রিত হয়। মানুষের প্রতিটি কর্মের পেছনেই কোনো না কোনোভাবে তার স্বার্থ জড়িত থাকে। এই স্বার্থপর মানসিকতাই মানুষের সকল কার্যকলাপকে নিয়ন্ত্রণ করে এবং তাকে অন্যের সাথে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হতে বাধ্য করে।
২। স্বার্থপর জীব: হবস মানুষকে একটি স্বার্থসর্বস্ব জীব হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তাঁর মতে, অন্যের মঙ্গল বা সমাজের কল্যাণের চেয়ে মানুষ নিজের ভালো থাকাকেই বেশি গুরুত্ব দেয়। এই স্বার্থপরতা থেকেই জন্মায় লোভ, হিংসা এবং ক্ষমতার আকাঙ্ক্ষা। মানুষ সব সময় চায় নিজের প্রাপ্তিকে সর্বাধিক করতে, এমনকি যদি তার জন্য অন্যের ক্ষতিও করতে হয়। এই দর্শন অনুযায়ী, পরোপকার বা দয়ার মতো মানবিক গুণগুলোও কোনো না কোনো প্রচ্ছন্ন স্বার্থের বহিঃপ্রকাশ মাত্র।
৩। ক্ষমতার লোভ: হবসের বিশ্লেষণে, মানুষের মধ্যে ক্ষমতার লোভ একটি সহজাত প্রবৃত্তি। মানুষ কেবল বর্তমান তৃপ্তির জন্য ক্ষমতা চায় না, বরং ভবিষ্যৎ নিরাপত্তাহীনতার ভয় থেকেও সে ক্রমাগত ক্ষমতা অর্জনের চেষ্টা করে। ক্ষমতা মানুষকে অন্যের উপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে এবং নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে সাহায্য করে। এই ক্ষমতার আকাঙ্ক্ষা মানুষের মৃত্যুর আগে পর্যন্ত শেষ হয় না, যা তাকে এক অন্তহীন প্রতিযোগিতার দিকে ঠেলে দেয়।
৪। আবেগ ও বিচারবুদ্ধি: হবস মনে করতেন, মানুষ মূলত দুটি জিনিস দ্বারা চালিত হয়: আবেগ (passion) এবং বিচারবুদ্ধি (reason)। আবেগ মানুষকে ভয়, আকাঙ্ক্ষা এবং গৌরবের দিকে চালিত করে, যা প্রায়শই সংঘাতের জন্ম দেয়। অন্যদিকে, বিচারবুদ্ধি মানুষকে তার কর্মের ফলাফল সম্পর্কে ভাবতে শেখায় এবং তাকে আত্মরক্ষার সর্বোত্তম উপায় খুঁজে বের করতে সাহায্য করে। এই বিচারবুদ্ধিই মানুষকে প্রকৃতির রাজ্যের ভয়াবহতা থেকে মুক্তির পথ দেখায়।
৫। সমতার ধারণা: হবস এক অদ্ভুত ধরনের সমতার কথা বলেছেন। তাঁর মতে, প্রকৃতির রাজ্যে সকল মানুষ দৈহিক ও মানসিক শক্তির দিক থেকে প্রায় সমান। হয়তো কেউ শারীরিকভাবে বেশি শক্তিশালী, আবার কেউ মানসিকভাবে বেশি কৌশলী। কিন্তু শেষ পর্যন্ত, দুর্বলতম ব্যক্তিটিও চক্রান্ত বা অন্যের সাথে জোটবদ্ধ হয়ে সবলতম ব্যক্তিকে হত্যা করার ক্ষমতা রাখে। এই সমতাই একে অপরের প্রতি ভয় ও অবিশ্বাসের জন্ম দেয়।
৬। প্রকৃতির রাজ্য: মানব প্রকৃতির উপর ভিত্তি করে হবস প্রকৃতির রাজ্যের (State of Nature) একটি ভয়াবহ চিত্র এঁকেছেন। এটি এমন একটি কাল্পনিক অবস্থা যেখানে কোনো রাষ্ট্র, সরকার বা আইন নেই। এই অবস্থায় প্রত্যেকেই নিজের ইচ্ছামত চলার স্বাধীনতা রাখে এবং নিজের বিচারক নিজেই হয়। এটি একটি চরম বিশৃঙ্খল ও নিরাপত্তাহীন পরিস্থিতি, যেখানে কোনো কিছুই নিশ্চিত নয়।
৭। নিরন্তর যুদ্ধাবস্থা: প্রকৃতির রাজ্যে কোনো কেন্দ্রীয় শাসন না থাকায় সেখানে ‘সকলের বিরুদ্ধে সকলের যুদ্ধ’ (war of all against all) পরিস্থিতি বিরাজ করে। এটি কোনো সংগঠিত যুদ্ধ নয়, বরং এটি হলো একে অপরের প্রতি অবিশ্বাস, ভয় এবং প্রতিযোগিতার একটি স্থায়ী অবস্থা। প্রত্যেকেই নিজের নিরাপত্তার জন্য অন্যের উপর আক্রমণ করতে প্রস্তুত থাকে, ফলে একটি সার্বক্ষণিক যুদ্ধময় পরিবেশ তৈরি হয় যা থেকে মুক্তি পাওয়া প্রায় অসম্ভব।
৮। জীবনের অনিশ্চয়তা: প্রকৃতির রাজ্যে মানুষের জীবন অত্যন্ত অনিশ্চিত ও ক্ষণস্থায়ী। হবস এটিকে বিখ্যাতভাবে বর্ণনা করেছেন, “একাকী, দরিদ্র, নোংরা, পাশবিক এবং ক্ষণস্থায়ী” (solitary, poor, nasty, brutish, and short) বলে। এখানে কোনো শিল্প, সাহিত্য, বা বাণিজ্যের বিকাশ ঘটে না, কারণ মানুষ যেকোনো মুহূর্তে তার শ্রমের ফল হারানোর ভয়ে থাকে। মানুষের একমাত্র চিন্তা থাকে আত্মরক্ষা করা।
৯। নৈতিকতার অনুপস্থিতি: হবস মনে করেন, প্রকৃতির রাজ্যে ভালো-মন্দ বা ন্যায়-অন্যায়ের কোনো সর্বজনীন ধারণা থাকতে পারে না। যেহেতু কোনো সাধারণ আইন বা শাসক নেই, তাই কোনো কিছুই অন্যায় হিসেবে বিবেচিত হয় না। প্রত্যেকেই তার আত্মরক্ষার জন্য যা কিছু করা প্রয়োজন, তা করার অধিকার রাখে। নৈতিকতার ধারণা কেবল সমাজ বা রাষ্ট্র গঠনের পরেই উদ্ভূত হতে পারে।
১০। ন্যায়-অন্যায়ের ঊর্ধ্বে: প্রকৃতির রাজ্যে ন্যায়বিচার বা অন্যায়ের কোনো স্থান নেই, কারণ সেখানে কোনো আইন নেই যা ন্যায়কে সংজ্ঞায়িত করতে পারে। শক্তিই এখানে একমাত্র অধিকারের উৎস। যার ক্ষমতা আছে, সে যা খুশি তাই করতে পারে এবং তা কেড়ে নেওয়ারও অধিকার অন্যের থাকে। ন্যায়বিচারের ধারণাটি একটি সামাজিক চুক্তি এবং আইন দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হয়, যা প্রকৃতির রাজ্যে অনুপস্থিত।
১১। ব্যক্তিগত সম্পত্তিহীনতা: প্রকৃতির রাজ্যে ব্যক্তিগত সম্পত্তির কোনো অস্তিত্ব নেই। যেকোনো বস্তু ততক্ষণ পর্যন্ত একজনের অধিকারে থাকে, যতক্ষণ সে তা বলপ্রয়োগ করে নিজের কাছে রাখতে পারে। যেহেতু কোনো আইন বা শাসক নেই যা মালিকানা নিশ্চিত করতে পারে, তাই সম্পদ অর্জন ও রক্ষার কোনো নিশ্চয়তাও নেই। এই নিরাপত্তাহীনতা অর্থনৈতিক বা সামাজিক অগ্রগতির পথে সবচেয়ে বড় বাধা।
১২। ভয়ের ভূমিকা: হবসের দর্শনে ভয় একটি কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করে। প্রকৃতির রাজ্যের ভয়াবহ জীবন, বিশেষ করে সহিংস মৃত্যুর ভয়ই মানুষকে এই অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে অনুপ্রাণিত করে। এই সাধারণ ভয়ই স্বার্থপর মানুষদের একত্রিত করে এবং একটি সামাজিক চুক্তি স্থাপনের দিকে নিয়ে যায়। ভয় এখানে ধ্বংসাত্মক শক্তি নয়, বরং একটি গঠনমূলক শক্তি হিসেবে কাজ করে।
১৩। প্রাকৃতিক আইন: হবস ‘প্রাকৃতিক আইন’ (Law of Nature) এর কথা বলেছেন, যা প্রকৃতির রাজ্যের বিশৃঙ্খলা থেকে মুক্তির পথ দেখায়। এটি কোনো ঐশ্বরিক বা নৈতিক আইন নয়, বরং বিচারবুদ্ধি দ্বারা আবিষ্কৃত একগুচ্ছ নিয়ম। এই আইনের মূল কথা হলো, শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং আত্মরক্ষার জন্য প্রত্যেকেরই চেষ্টা করা উচিত। মানুষ বুঝতে পারে যে, শান্তির জন্য তাকে তার কিছু প্রাকৃতিক অধিকার ত্যাগ করতে হবে।
১৪। সামাজিক চুক্তি: প্রকৃতির রাজ্যের অসহনীয় পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে মানুষ নিজেদের মধ্যে একটি ‘সামাজিক চুক্তি’ (Social Contract) সম্পাদন করে। এই চুক্তির মাধ্যমে প্রত্যেকে তাদের অবাধ স্বাধীনতা এবং প্রাকৃতিক অধিকার একটি কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষ বা সার্বভৌমের হাতে অর্পণ করে। এর বিনিময়ে সার্বভৌম শাসক তাদের জীবন ও সম্পত্তি রক্ষা করার প্রতিশ্রুতি দেন। এভাবেই রাষ্ট্রের উৎপত্তি হয়।
১৫। অধিকার হস্তান্তর: সামাজিক চুক্তির মূল ভিত্তি হলো অধিকার হস্তান্তর করা। প্রকৃতির রাজ্যে মানুষের সবকিছু করার অধিকার ছিল, যা সংঘাতের মূল কারণ। চুক্তির মাধ্যমে মানুষ তাদের আত্মরক্ষার অধিকার ছাড়া বাকি সব অধিকার, বিশেষ করে আইন প্রয়োগ ও শাস্তি দেওয়ার অধিকার, সার্বভৌমের হাতে তুলে দেয়। এই অধিকার হস্তান্তরের ফলেই একটি শক্তিশালী কেন্দ্রীয় শাসন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়।
১৬। সার্বভৌম ক্ষমতা: চুক্তির মাধ্যমে যে শাসক বা কর্তৃপক্ষ তৈরি হয়, হবস তাকে ‘সার্বভৌম’ (Sovereign) বলে অভিহিত করেছেন। এই সার্বভৌমের ক্ষমতা চূড়ান্ত, অসীম এবং অবিভাজ্য। জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য তার হাতে সমস্ত ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত থাকে। জনগণ তাকে কোনো প্রশ্ন করতে পারে না বা তার বিরোধিতা করতে পারে না, কারণ সার্বভৌমের বিরোধিতা করার অর্থ হলো পুনরায় প্রকৃতির রাজ্যে ফিরে যাওয়া।
১৭। লেভিয়াথান: হবস তার আদর্শ সার্বভৌম শাসকের নাম দিয়েছেন ‘লেভিয়াথান’, যা একটি পৌরাণিক সামুদ্রিক দৈত্যের নাম। এই নামটি দ্বারা তিনি রাষ্ট্রের অসীম এবং অপ্রতিরোধ্য ক্ষমতাকে বুঝিয়েছেন। লেভিয়াথান বা সার্বভৌম শাসক হলেন সমস্ত ক্ষমতার উৎস এবং তিনি আইনের ঊর্ধ্বে অবস্থান করেন। জনগণের একমাত্র দায়িত্ব হলো তার আদেশ নিঃশর্তভাবে মেনে চলা, কারণ তার ক্ষমতার মধ্যেই সকলের নিরাপত্তা নিহিত রয়েছে।
১৮। শান্তির নিশ্চয়তা: হবসের মতে, একমাত্র চরম বা পরম ক্ষমতাধর সার্বভৌমই সমাজে শান্তি ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে পারে। যখন একজন শাসকের হাতে সমস্ত ক্ষমতা থাকে, তখন অভ্যন্তরীণ সংঘাত বা বিদ্রোহের কোনো সুযোগ থাকে না। আইনের ভয় মানুষকে নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং একটি স্থিতিশীল সমাজ গঠনে সহায়তা করে। হবসের কাছে, বিশৃঙ্খলার চেয়ে স্বৈরাচারী শাসনও শ্রেয়।
১৯। চুক্তির অপরিবর্তনীয়তা: হবস মনে করতেন যে, একবার সামাজিক চুক্তি স্থাপিত হয়ে গেলে তা আর ভাঙা যায় না। জনগণ সার্বভৌমকে ক্ষমতাচ্যুত করতে পারে না, কারণ তারা চুক্তির মাধ্যমে তাদের এই অধিকার ত্যাগ করেছে। যদি জনগণ বিদ্রোহ করে, তবে সমাজ আবার প্রকৃতির রাজ্যে ফিরে যাবে, যা সকলের জন্যই আরও ভয়াবহ। তাই স্থিতিশীলতা রক্ষার জন্য চুক্তিকে অবশ্যই মেনে চলতে হবে।
২০। হবসের প্রাসঙ্গিকতা: যদিও হবসের মানব প্রকৃতি সম্পর্কিত ধারণা অত্যন্ত নৈরাশ্যবাদী এবং তার চরম সার্বভৌমত্বের ধারণা আধুনিক গণতন্ত্রের সাথে সাংঘর্ষিক, তবুও তার তত্ত্বের প্রাসঙ্গিকতা অনস্বীকার্য। রাষ্ট্র কেন প্রয়োজন, আইনের শাসন কেন জরুরি এবং নিরাপত্তার জন্য স্বাধীনতার কতটা অংশ ত্যাগ করা যেতে পারে—এই মৌলিক প্রশ্নগুলো তিনি তুলে ধরেছেন। আজও বিশ্বের অনেক অস্থিতিশীল অঞ্চলে হবসের প্রকৃতির রাজ্যের বাস্তব চিত্র খুঁজে পাওয়া যায়।
উপসংহার: পরিশেষে বলা যায়, টমাস হবসের মানব প্রকৃতি ও প্রকৃতির রাজ্যের ধারণা রাজনৈতিক দর্শনে এক আলোড়ন সৃষ্টিকারী তত্ত্ব। তাঁর বিশ্লেষণ হয়তো মানব প্রকৃতির একটি অন্ধকার দিককে তুলে ধরে, কিন্তু এটি রাষ্ট্রের অপরিহার্যতাকে এক অকাট্য যুক্তির উপর দাঁড় করিয়েছে। তাঁর চরম সার্বভৌমত্বের ধারণা বিতর্কিত হলেও, শান্তি ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার জন্য একটি শক্তিশালী কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয়তাকে তিনি সফলভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। হবসের চিন্তাধারা আধুনিক রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ভিত্তি নির্মাণে এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
👤 ১। মানুষের স্বভাব
🧠 ২। স্বার্থপর জীব
👑 ৩। ক্ষমতার লোভ
🎭 ৪। আবেগ ও বিচারবুদ্ধি
⚖️ ৫। সমতার ধারণা
🌳 ৬। প্রকৃতির রাজ্য
⚔️ ৭। নিরন্তর যুদ্ধাবস্থা
⏳ ৮। জীবনের অনিশ্চয়তা
🚫 ৯। নৈতিকতার অনুপস্থিতি
⚖️ ১০। ন্যায়-অন্যায়ের ঊর্ধ্বে
💨 ১১। ব্যক্তিগত সম্পত্তিহীনতা
😨 ১২। ভয়ের ভূমিকা
📜 ১৩। প্রাকৃতিক আইন
✍️ ১৪। সামাজিক চুক্তি
🤝 ১৫। অধিকার হস্তান্তর
🛡️ ১৬। সার্বভৌম ক্ষমতা
🐲 ১৭। লেভিয়াথান
🕊️ ১৮। শান্তির নিশ্চয়তা
⛓️ ১৯। চুক্তির অপরিবর্তনীয়তা
🏛️ ২০। হবসের প্রাসঙ্গিকতা
টমাস হবস (১৫৮৮-১৬৭৯) তাঁর যুগান্তকারী গ্রন্থ ‘লেভিয়াথান’ (Leviathan) ১৬৫১ সালে প্রকাশ করেন। এই সময়কালটি ছিল ইংল্যান্ডের জন্য অত্যন্ত সংকটময়, কারণ দেশটি তখন ইংরেজ গৃহযুদ্ধের (১৬৪২-১৬৫১) ভয়াবহতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল। রাজা প্রথম চার্লসের শিরশ্ছেদ এবং অলিভার ক্রমওয়েলের উত্থানের মতো ঐতিহাসিক ঘটনাগুলো হবসকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে। তিনি দেখেছিলেন কীভাবে একটি শক্তিশালী কেন্দ্রীয় শাসনের অভাবে একটি দেশ বিশৃঙ্খলা ও রক্তপাতের দিকে এগিয়ে যায়। তাঁর দর্শন ছিল মূলত সেই নৈরাজ্য থেকে মুক্তির একটি বুদ্ধিবৃত্তিক প্রচেষ্টা, যা রাজার ঐশ্বরিক অধিকারের ঐতিহ্যর ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করে একটি ধর্মনিরপেক্ষ ও যুক্তিনির্ভর সার্বভৌমত্বের তত্ত্ব প্রদান করে।

