• Home
  • Class 0-12
  • Masters
  • Honours
  • Degree
  • Grammar
    • Bangla Grammar
    • English Grammar
    • Arabic Grammar
  • Computer
    • MS Word
  • Jobs Study
    • BCS
    • Bank
    • Primary
    • Govt. job
    • Nibandhon
    • Medical Admission
    • University Admission
    • Army/Police/BDR/Anchar
  • Jobs
  • News
  • Tools
    • আনা গন্ডা ক্যালকুলেটর
    • Copyable PDF maker
    •  PDF to Excel
    •  Word to PDF
    • Add and remove PDF watermark
    • Add Page Numbers
    • Merge PDF files
    • Organize PDF
    • PDF to image
    • PDF to PowerPoint
    • PDF to Word
    • PowerPoint to PDF
    • Remove PDF Pages
    • Rotate PDF
    • Separate PDF | Split
    • Image to PDF
    • Home
    • Class 0-12
    • Masters
    • Honours
    • Degree
    • Grammar
      • Bangla Grammar
      • English Grammar
      • Arabic Grammar
    • Computer
      • MS Word
    • Jobs Study
      • BCS
      • Bank
      • Primary
      • Govt. job
      • Nibandhon
      • Medical Admission
      • University Admission
      • Army/Police/BDR/Anchar
    • Jobs
    • News
    • Tools
      • আনা গন্ডা ক্যালকুলেটর
      • Copyable PDF maker
      •  PDF to Excel
      •  Word to PDF
      • Add and remove PDF watermark
      • Add Page Numbers
      • Merge PDF files
      • Organize PDF
      • PDF to image
      • PDF to PowerPoint
      • PDF to Word
      • PowerPoint to PDF
      • Remove PDF Pages
      • Rotate PDF
      • Separate PDF | Split
      • Image to PDF
  • mdreadaim@gmail.com
  • Bangladesh
Login
Read Aim

Read Aim

  • Home
  • Class 0-12
  • Masters
  • Honours
  • Degree
  • Grammar
    • Bangla Grammar
    • English Grammar
    • Arabic Grammar
  • Computer
    • MS Word
  • Jobs Study
    • BCS
    • Bank
    • Primary
    • Govt. job
    • Nibandhon
    • Medical Admission
    • University Admission
    • Army/Police/BDR/Anchar
  • Jobs
  • News
  • Tools
    • আনা গন্ডা ক্যালকুলেটর
    • Copyable PDF maker
    •  PDF to Excel
    •  Word to PDF
    • Add and remove PDF watermark
    • Add Page Numbers
    • Merge PDF files
    • Organize PDF
    • PDF to image
    • PDF to PowerPoint
    • PDF to Word
    • PowerPoint to PDF
    • Remove PDF Pages
    • Rotate PDF
    • Separate PDF | Split
    • Image to PDF
  • readaim.com
  • 0

প্রশ্ন:- লাহোর প্রস্তাবের পটভূমি আলোচনা কর। ইহার মূল প্রতিপাদ্য বিষয় কী ছিল?

উত্তর।।উপস্থাপনা: ১৯৪০ সালের ২৩শে মার্চ নিখিল ভারত মুসলিম লীগের লাহোর অধিবেশনে যে ঐতিহাসিক প্রস্তাব গৃহীত হয়েছিল, তা ভারতীয় উপমহাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে। লাহোর প্রস্তাব নামে পরিচিত এই দলিলটি ছিল মুসলিম জনগোষ্ঠীর আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকারের আকাঙ্ক্ষার এক মূর্ত প্রতীক। ব্রিটিশ ভারতের জটিল রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে, মুসলিমদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগ এবং হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠতার সম্ভাব্য প্রভাব থেকে মুক্তি লাভের তাগিদই এই প্রস্তাবের জন্ম দেয়। এটি শুধু একটি রাজনৈতিক দাবি ছিল না, বরং মুসলিম জাতিসত্তার বিকাশে এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ ছিল।

১। ব্রিটিশ শাসন ও মুসলিম সমাজের পশ্চাদপদতা: ভারতে ব্রিটিশ শাসনের শুরু থেকে মুসলিম সমাজে এক ধরনের পশ্চাদপদতা দেখা যায়। ১৮৫৭ সালের সিপাহী বিদ্রোহের পর ব্রিটিশরা মুসলিমদের প্রতি নেতিবাচক মনোভাব পোষণ করত, যার ফলে সরকারি চাকরি ও শিক্ষাক্ষেত্রে মুসলিমরা পিছিয়ে পড়ে। হিন্দুরা যেখানে আধুনিক শিক্ষা গ্রহণ করে ব্রিটিশদের সাথে সহযোগিতামূলক সম্পর্ক গড়ে তোলে, মুসলিমরা সেখানে সনাতনপন্থী জীবনযাত্রায় আবদ্ধ থাকে। এই আর্থ-সামাজিক ও শিক্ষাগত পশ্চাদপদতা মুসলিমদের মধ্যে এক ধরনের হতাশা সৃষ্টি করে, যা তাদের রাজনৈতিক অধিকার আদায়ের জন্য সচেষ্ট হতে উদ্বুদ্ধ করে।

২। দ্বিজাতি তত্ত্বের উন্মেষ: স্যার সৈয়দ আহমদ খান ১৮৬৭ সালে প্রথম দ্বিজাতি তত্ত্বের ধারণা দেন। তিনি বলেন যে, হিন্দু ও মুসলিম দুটি ভিন্ন জাতিসত্তা, যাদের সংস্কৃতি, ধর্ম, ভাষা ও জীবনযাপন সম্পূর্ণ আলাদা। এই তত্ত্বের মূল উদ্দেশ্য ছিল মুসলিমদের স্বতন্ত্র পরিচয় তুলে ধরা এবং তাদের জন্য পৃথক রাজনৈতিক অধিকারের দাবি জানানো। সময়ের সাথে সাথে এই তত্ত্ব মুসলিমদের মধ্যে আরও জনপ্রিয় হয়ে ওঠে এবং ১৯৪০ সালের লাহোর প্রস্তাবের মূল ভিত্তি তৈরি করে, যা ভারতের বিভাজনের পথ খুলে দেয়।

৩। কংগ্রেসের একচ্ছত্র আধিপত্য: ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস নিজেদেরকে সমগ্র ভারতের মানুষের প্রতিনিধিত্বকারী একমাত্র রাজনৈতিক দল হিসেবে দাবি করত। কিন্তু মুসলিম লীগ মনে করত যে, কংগ্রেস মূলত হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের স্বার্থ রক্ষা করে এবং মুসলিমদের অধিকারের প্রতি উদাসীন। কংগ্রেসের এই একচ্ছত্র আধিপত্য এবং মুসলিমদের প্রতি তাদের কথিত উপেক্ষা মুসলিমদের মধ্যে অনাস্থা তৈরি করে এবং তাদের নিজস্ব রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করায়। মুসলিম লীগ তাই মুসলিমদের জন্য একটি স্বতন্ত্র রাজনৈতিক পরিচয়ের দাবি জানাতে শুরু করে।

৪। ১৯৩৭ সালের প্রাদেশিক নির্বাচন: ১৯৩৭ সালের প্রাদেশিক নির্বাচন মুসলিমদের মধ্যে গভীর হতাশা সৃষ্টি করে। এই নির্বাচনে মুসলিম লীগ কংগ্রেসের তুলনায় অনেক কম আসনে জয়লাভ করে এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম প্রদেশেও তারা সরকার গঠন করতে পারেনি। কংগ্রেস যেখানে আটটি প্রদেশে সরকার গঠন করে, সেখানে তারা মুসলিম লীগকে ক্ষমতা ভাগাভাগির সুযোগ দেয়নি। এই ঘটনা মুসলিমদের মধ্যে আশঙ্কা তৈরি করে যে, স্বাধীন ভারতে কংগ্রেসের অধীনে তারা সংখ্যালঘু হিসেবে শোষিত হতে পারে। এটি মুসলিমদের জন্য একটি পৃথক রাষ্ট্র গঠনের দাবিকে আরও জোরদার করে।

৫। কংগ্রেস শাসিত প্রদেশের অভিজ্ঞতা: ১৯৩৭ সালের নির্বাচনের পর কংগ্রেস শাসিত প্রদেশগুলোতে মুসলিমদের প্রতি কথিত বৈষম্যমূলক আচরণ মুসলিমদের মধ্যে অসন্তোষের জন্ম দেয়। মুসলিম লীগ অভিযোগ করে যে, কংগ্রেস সরকার মুসলিমদের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের প্রতি অসম্মান দেখাচ্ছে, তাদের অর্থনৈতিক স্বার্থ উপেক্ষা করছে এবং জোরপূর্বক ‘বন্দে মাতরম’ গান গাইতে ও হিন্দি ভাষা চাপিয়ে দিচ্ছে। এই ধরনের ঘটনা মুসলিমদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা বৃদ্ধি করে এবং একটি পৃথক আবাসভূমির প্রয়োজনীয়তা তাদের কাছে আরও স্পষ্ট করে তোলে।

৬। মুসলিম লীগের লক্ষ্য পরিবর্তন: ১৯৩০-এর দশকে মুসলিম লীগের মূল লক্ষ্য ছিল ব্রিটিশ ভারতের অধীনে মুসলিমদের অধিকার রক্ষা করা এবং তাদের জন্য সাংবিধানিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা। কিন্তু ১৯৩৭ সালের নির্বাচনের অভিজ্ঞতা এবং কংগ্রেসের অনমনীয় মনোভাবের কারণে মুসলিম লীগ তাদের লক্ষ্য পরিবর্তন করে। তারা উপলব্ধি করে যে, ব্রিটিশ ভারত থেকে স্বাধীনতা লাভের পর একটি একক ভারতীয় ফেডারেশনের অধীনে মুসলিমদের স্বার্থ সুরক্ষিত হবে না। তাই তারা একটি সম্পূর্ণ পৃথক রাষ্ট্রের দাবি উত্থাপন করার সিদ্ধান্ত নেয়।

৭। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের প্রভাব ও স্বশাসনের আকাঙ্ক্ষা: প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর ব্রিটিশ সরকার ভারতে স্বশাসনের কিছু প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, যা ভারতীয়দের মধ্যে স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা বৃদ্ধি করে। মুসলিমরাও এই স্বশাসনের ধারণায় প্রভাবিত হয়, তবে তারা নিজেদের জন্য পৃথক স্বশাসনের কথা ভাবতে শুরু করে। মুসলিম নেতারা মনে করেন যে, তাদের নিজস্ব সংস্কৃতি ও ধর্ম অনুযায়ী জীবনযাপনের জন্য একটি স্বতন্ত্র রাজনৈতিক সত্তা অপরিহার্য।

৮। আলাহাবাদের মুসলিম লীগের অধিবেশন (১৯৩০): ১৯৩০ সালে মুসলিম লীগের এলাহাবাদ অধিবেশনে স্যার মুহাম্মদ ইকবাল একটি স্বাধীন মুসলিম রাষ্ট্রের ধারণা দেন। তিনি ভারতের উত্তর-পশ্চিমের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ প্রদেশগুলোকে নিয়ে একটি স্বাধীন মুসলিম রাষ্ট্র গঠনের প্রস্তাব করেন। যদিও এই প্রস্তাবটি তখন সরাসরি লাহোর প্রস্তাবের মতো বাস্তব রূপ নেয়নি, এটি মুসলিমদের জন্য একটি পৃথক আবাসভূমির ধারণাকে জনপ্রিয় করে তোলে এবং ভবিষ্যতের জন্য একটি রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা প্রদান করে।

৯। চৌধুরী রহমত আলীর ‘পাকিস্তান’ ধারণা: ১৯৩৩ সালে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র চৌধুরী রহমত আলী প্রথম “পাকিস্তান” নামটি প্রস্তাব করেন। তিনি ভারতের উত্তর-পশ্চিমের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ প্রদেশগুলো (P-পাঞ্জাব, A-আফগানিয়া, K-কাশ্মীর, S-সিন্ধু, TAN-বেলুচিস্তান) এবং বালুচিস্তানকে নিয়ে একটি স্বাধীন মুসলিম রাষ্ট্রের কথা ভাবেন। এই নামটি পরবর্তীতে মুসলিম জনগোষ্ঠীর মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে এবং তাদের আত্মপরিচয়ের প্রতীক হয়ে ওঠে।

১০। লন্ডন গোলটেবিল বৈঠকসমূহের ব্যর্থতা: ১৯৩০-এর দশকে ব্রিটিশ সরকার ভারতে সাংবিধানিক সংস্কারের জন্য কয়েকটি গোলটেবিল বৈঠক আয়োজন করে। কিন্তু এই বৈঠকগুলো হিন্দু ও মুসলিম নেতাদের মধ্যে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠায় ব্যর্থ হয়। কংগ্রেস ও মুসলিম লীগের মধ্যে মৌলিক মতপার্থক্যগুলো দূর করা যায়নি। এই ব্যর্থতা মুসলিমদের মধ্যে ধারণা জন্মায় যে, একটি একক ভারতের অধীনে তাদের সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়।

১১। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপট: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হলে ব্রিটিশ সরকার ভারতের রাজনৈতিক দলগুলোর সমর্থন কামনা করে। মুসলিম লীগ এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে তাদের দাবি আরও জোরদার করে। যখন কংগ্রেস ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে ‘ভারত ছাড়ো’ আন্দোলনের ডাক দেয় এবং ক্ষমতা হস্তান্তরের দাবি জানায়, তখন মুসলিম লীগ ব্রিটিশদের প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয় এবং বিনিময়ে তাদের জন্য পৃথক রাষ্ট্র গঠনের দাবি জানায়। এটি ব্রিটিশদের কাছে মুসলিম লীগের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করে।

১২। মুসলিম লীগের সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি: ১৯৩০-এর দশকের শেষ দিকে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর নেতৃত্বে মুসলিম লীগের সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি পায়। জিন্নাহ মুসলিমদের একত্রিত করতে সক্ষম হন এবং তাদের মধ্যে একটি স্বতন্ত্র রাজনৈতিক পরিচয় ও লক্ষ্য প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর বলিষ্ঠ নেতৃত্ব মুসলিম লীগকে একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক দলে পরিণত করে, যা লাহোর প্রস্তাবের মতো একটি সাহসী পদক্ষেপ নিতে সাহস যোগায়।

১৩। মুসলিম লীগের অভ্যন্তরীণ ঐক্য: লাহোর প্রস্তাব উত্থাপনের সময় মুসলিম লীগের অভ্যন্তরীণ ঐক্য ছিল অত্যন্ত দৃঢ়। দলের সকল স্তরের নেতারা একটি পৃথক মুসলিম রাষ্ট্রের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করেন এবং এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার অঙ্গীকার করেন। এই অভ্যন্তরীণ ঐক্যই লাহোর প্রস্তাবকে একটি সর্বজনীন দাবিতে পরিণত করতে সাহায্য করে।

১৪। উপনিবেশবাদ বিরোধী আন্দোলন: লাহোর প্রস্তাব ছিল বৃহত্তর উপনিবেশবাদ বিরোধী আন্দোলনের একটি অংশ। ভারতীয়রা ব্রিটিশ শাসন থেকে মুক্তি চেয়েছিল, এবং মুসলিম লীগও এই মুক্তির আন্দোলনে শরীক ছিল। তবে, তারা মনে করত যে, ঔপনিবেশিক শাসন অবসানের পর একটি নতুন ধরনের হিন্দু-সংখ্যাগরিষ্ঠ শাসনের অধীনে যাওয়া তাদের জন্য স্বাধীনতা হবে না। তাই তারা নিজেদের জন্য পৃথক মুক্তির পথ বেছে নেয়।

১৫। কৃষক ও শ্রমিক অসন্তোষ: অবিভক্ত বাংলার কৃষক ও শ্রমিকদের মধ্যে এক ধরনের অসন্তোষ ছিল, যা মুসলিম লীগের উত্থানে পরোক্ষভাবে ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে মুসলিম কৃষকরা জমিদার ও মহাজনদের (যারা অধিকাংশই হিন্দু ছিল) শোষণ থেকে মুক্তি চেয়েছিল। মুসলিম লীগ এই অসন্তোষকে কাজে লাগিয়ে গ্রামীণ মুসলিম জনগোষ্ঠীর সমর্থন অর্জন করতে সক্ষম হয়, যা লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তি মজবুত করে।

১৬। ব্রিটিশ নীতির প্রভাব: ব্রিটিশ ‘ভাগ করো ও শাসন করো’ নীতি ভারতীয় রাজনীতিতে হিন্দু-মুসলিম বিভাজনকে আরও গভীর করে তোলে। ব্রিটিশরা বিভিন্ন সময় সাম্প্রদায়িক বিভাজনকে উস্কে দিয়েছে, যা মুসলিমদের মধ্যে নিজস্ব জাতিসত্তা এবং পৃথক রাজনৈতিক অবস্থানের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করায়। এই নীতির ফলস্বরূপ মুসলিমরা একটি পৃথক রাষ্ট্রের ধারণার দিকে ঝুঁকে পড়ে।

১৭। মুসলিম বুদ্ধিজীবীদের ভূমিকা: মুসলিম বুদ্ধিজীবীরাও লাহোর প্রস্তাবের পটভূমি তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তারা মুসলিমদের স্বতন্ত্র সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং ঐতিহাসিক উত্তরাধিকারের উপর জোর দেন। তাদের লেখা ও বক্তব্যে মুসলিমদের জন্য পৃথক রাষ্ট্রের যৌক্তিকতা তুলে ধরা হয়, যা মুসলিম জনমত তৈরিতে সহায়ক হয়।

১৮। জনসংখ্যার বিন্যাস: মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ প্রদেশগুলোর জনসংখ্যার বিন্যাসও লাহোর প্রস্তাবের একটি গুরুত্বপূর্ণ পটভূমি ছিল। উত্তর-পশ্চিম এবং পূর্বাঞ্চলের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে এই অঞ্চলগুলোকে নিয়ে একটি পৃথক রাষ্ট্র গঠনের দাবি বাস্তবসম্মত মনে হয়েছিল। এই জনসংখ্যার বিন্যাসই প্রস্তাবটিকে একটি শক্তিশালী ভিত্তি প্রদান করে।

লাহোর প্রস্তাবের মূল প্রতিপাদ্য বিষয়:

লাহোর প্রস্তাবের মূল প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল ভারতের উত্তর-পশ্চিম ও পূর্বাঞ্চলের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকাগুলোকে নিয়ে স্বাধীন রাষ্ট্রসমূহ (Independent States) গঠন করা। এই রাষ্ট্রগুলো হবে ভৌগোলিকভাবে সংলগ্ন এবং সেখানে মুসলিমরা সংখ্যাগরিষ্ঠ হবে। এই প্রস্তাব অনুযায়ী, এই স্বাধীন রাষ্ট্রগুলোর নিজস্ব ও স্বতন্ত্র সাংবিধানিক কাঠামো থাকবে এবং তারা পূর্ণ স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব ভোগ করবে। এছাড়াও, এই প্রস্তাবিত রাষ্ট্রগুলোতে সংখ্যালঘুদের অধিকার ও স্বার্থ সুরক্ষিত থাকবে বলে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। সংক্ষেপে, এটি ছিল মুসলিমদের জন্য একটি পৃথক আবাসভূমি এবং আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকারের দাবি।

উপসংহার: লাহোর প্রস্তাবের পটভূমি ছিল জটিল ও বহুমাত্রিক, যা ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসন, হিন্দু-মুসলিম রাজনৈতিক বিভেদ, মুসলিম সমাজের পশ্চাদপদতা এবং মুসলিম লীগের পরিবর্তিত লক্ষ্যের সমন্বয়ে গঠিত হয়েছিল। এই প্রস্তাবের মূল প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চলগুলোকে নিয়ে একাধিক স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র গঠন করা। এটি কেবল একটি রাজনৈতিক দাবি ছিল না, বরং মুসলিম জাতিসত্তার বিকাশ এবং তাদের আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকারের আকাঙ্ক্ষার এক মূর্ত প্রকাশ ছিল, যা পরবর্তীতে ভারতীয় উপমহাদেশের ভূ-রাজনৈতিক চিত্রকে চিরতরে বদলে দেয়।

একনজরে উত্তর দেখুন

📉 ১। ব্রিটিশ শাসন ও মুসলিম সমাজের পশ্চাদপদতা
👥 ২। দ্বিজাতি তত্ত্বের উন্মেষ
🏛️ ৩। কংগ্রেসের একচ্ছত্র আধিপত্য
🗳️ ৪। ১৯৩৭ সালের প্রাদেশিক নির্বাচন
📉 ৫। কংগ্রেস শাসিত প্রদেশের অভিজ্ঞতা
🎯 ৬। মুসলিম লীগের লক্ষ্য পরিবর্তন
🌍 ৭। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের প্রভাব ও স্বশাসনের আকাঙ্ক্ষা
🗣️ ৮। আলাহাবাদের মুসলিম লীগের অধিবেশন (১৯৩০)
🗳️ ৯। চৌধুরী রহমত আলীর ‘পাকিস্তান’ ধারণা
❌ ১০। লন্ডন গোলটেবিল বৈঠকসমূহের ব্যর্থতা
⚔️ ১১। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপট
💪 ১২। মুসলিম লীগের সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি
🤝 ১৩। মুসলিম লীগের অভ্যন্তরীণ ঐক্য
🚫 ১৪। উপনিবেশবাদ বিরোধী আন্দোলন
🌾 ১৫। কৃষক ও শ্রমিক অসন্তোষ
🗳️ ১৬। ব্রিটিশ নীতির প্রভাব
📚 ১৭। মুসলিম বুদ্ধিজীবীদের ভূমিকা
📊 ১৮। জনসংখ্যার বিন্যাস

প্রশ্নটির গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

লাহোর প্রস্তাব ১৯৪০ সালের ২৩শে মার্চ নিখিল ভারত মুসলিম লীগের লাহোর অধিবেশনে এ.কে. ফজলুল হক কর্তৃক উত্থাপিত হয়। এর মূল প্রতিপাদ্য ছিল মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ উত্তর-পশ্চিম ও পূর্বাঞ্চলের অঞ্চলগুলোকে নিয়ে ‘স্বাধীন রাষ্ট্রসমূহ’ গঠন করা। স্যার সৈয়দ আহমদ খান ১৮৬৭ সালে দ্বিজাতি তত্ত্বের ধারণা দেন, যা এই প্রস্তাবের ভিত্তি। ১৯৩৩ সালে চৌধুরী রহমত আলী ‘পাকিস্তান’ নামটি প্রস্তাব করেন। ১৯৩৭ সালের প্রাদেশিক নির্বাচন এবং কংগ্রেসের একচ্ছত্র আধিপত্য মুসলিমদের মধ্যে বিচ্ছিন্নতার বীজ বপন করে। ১৯৪৬ সালের এপ্রিল মাসে দিল্লির সম্মেলনে ‘স্বাধীন রাষ্ট্রসমূহ’ থেকে ‘একক রাষ্ট্র’ ধারণায় পরিবর্তন আনা হয়, যা ১৯৪৭ সালের ভারত বিভাজনের মাধ্যমে পাকিস্তান সৃষ্টির পথ খুলে দেয়।

Tags: লাহোর প্রস্তাবলাহোর প্রস্তাবের পটভূমিলাহোর প্রস্তাবের পটভূমি আলোচনা করলাহোর প্রস্তাবের মূল প্রতিপাদ্য বিষয়
  • Previous বসু-সোহরাওয়ার্দী চুক্তি  ধারণাগুলি আলোচনা কর।
  • Next ১৯৪০ সালের লাহোর প্রস্তাব ব্যখ্যা কর।
Read Aim

SUBSCRIBE

    JOB CIRCULAR

    • Media/Ads/Event Mngnt (145)
    • Medical/Pharmaceutical (123)
    • NGO/Organization (323)
    • Production/Operation (142)
    • Research/Consultancy (85)
    • Secretary/Receptionist (188)
    • Security/Support Service (99)
    • Others (59)

    LEARNING & EARNING

    • English Article
    • Bearded Dragon
    • Cats
    • Dogs
    • Guinea Pigs
    • Insurance
    • Lawyer
    • Rabbits
    • Earn Money Online
    • Others

    CATEGORIES

    • Computer (12)
    • DEGREE (4)
    • English Article (27)
    • GRAMMAR (138)
    • Health Tips (2)
    • Honours (1083)
    • Jobs (16)
    • Jobs Study (33)
    • News (1914)
    • PDF BOOK (78)

    RECENT POST

    নবায়নযোগ্য শক্তি বলতে কী বোঝায়?
    করিডোর কী?
    বিচ্ছিন্নতাবাদ কী?
    ‘সমুদ্র নিরাপত্তা’ কী?

    2025 All Rights Reserved readaim.com

    • Contact
    • About
    • Privacy
    • Blog
    • READ AIM