- readaim.com
- 0
উত্তর।।উপস্থাপনা: শ্রীলঙ্কা এক বৈচিত্র্যময় দ্বীপরাষ্ট্র, যেখানে সিংহলী ও তামিলসহ বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর সহাবস্থান। তবে স্বাধীনতার পর থেকেই দেশটির জাতিগঠন প্রক্রিয়া বারবার হোঁচট খেয়েছে। ঐতিহাসিক বিদ্বেষ, ভাষাভিত্তিক বিভাজন, এবং রাজনৈতিক বিভেদ এই প্রক্রিয়াকে জটিল করে তুলেছে, যার ফলস্বরূপ আজও সেখানে জাতীয় ঐক্যের ভিত্তি সুদৃঢ় হয়নি।
ঐতিহাসিক বিভাজন: শ্রীলঙ্কার জাতিগত সংঘাতের মূল নিহিত রয়েছে ঔপনিবেশিক শাসনকালে এবং তারও আগে সৃষ্ট সিংহলী ও তামিল জনগোষ্ঠীর মধ্যে ঐতিহাসিক বিদ্বেষে। ব্রিটিশ শাসনের সময় তামিলদের প্রতি কিছু সুবিধা দেওয়া হয়েছিল বলে সিংহলী জনগোষ্ঠী মনে করে, যা স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে তাদের মধ্যে গভীর হতাশা ও অধিকার হারানোর জন্ম দেয়। এই ঐতিহাসিক ক্ষোভ ও ভুল ধারণাগুলি জাতিগঠনের পথে সবচেয়ে বড় বাধা হিসেবে কাজ করে চলেছে, কারণ উভয় পক্ষই অতীতের স্মৃতিকে ব্যবহার করে বর্তমানের রাজনৈতিক বিভাজনকে উস্কে দেয়, ফলে জাতীয় সংহতি তৈরি হওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। (১)
ভাষা বিতর্ক: সিংহলী ও তামিল এই দুই ভাষার গুরুত্বকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হওয়া বিতর্ক জাতিগঠন প্রক্রিয়ার অন্যতম প্রধান বাধা। ১৯৫৬ সালের ‘সিংহলী ওনলি অ্যাক্ট’ সিংহলী ভাষাকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে, যা তামিলভাষীদের মধ্যে গভীর বিচ্ছিন্নতা ও বঞ্চনার অনুভূতি তৈরি করে। এই আইনটি কার্যকরভাবে তামিলদের রাষ্ট্রীয় প্রশাসন, শিক্ষা এবং কর্মসংস্থান থেকে দূরে সরিয়ে দেয়, যার ফলে জাতিগত ঐক্য বিনষ্ট হয় এবং সংঘাত আরও তীব্র হয়। ভাষাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট এই বৈষম্য আজও উভয় সম্প্রদায়ের মধ্যে পারস্পরিক সন্দেহ ও অবিশ্বাস বজায় রেখেছে। (২)
রাজনৈতিক মেরুকরণ: শ্রীলঙ্কার রাজনীতি প্রধানত সিংহলী জাতীয়তাবাদ ও তামিল স্বাধিকারের দাবির ভিত্তিতে গভীরভাবে মেরুকৃত। প্রধান রাজনৈতিক দলগুলি প্রায়শই সংকীর্ণ জাতিগত স্বার্থকে প্রাধান্য দেয় এবং ভোট লাভের জন্য উগ্র জাতীয়তাবাদী অনুভূতিকে ব্যবহার করে। এই রাজনৈতিক মেরুকরণ একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয় গঠনে বাধা সৃষ্টি করে, যেখানে সকল নাগরিক নিজেদের সমান অংশীদার মনে করতে পারে। ফলস্বরূপ, জাতীয় সমস্যার সমাধানে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠা করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে, কারণ রাজনীতিবিদরা বিভাজনকে পুঁজি করেই নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করেন। (৩)
উগ্র জাতীয়তাবাদ: উভয় পক্ষের উগ্র জাতীয়তাবাদী গোষ্ঠীগুলোর উত্থান জাতিগঠন প্রক্রিয়ার পথে একটি মারাত্মক প্রতিবন্ধক। সিংহলী বৌদ্ধ জাতীয়তাবাদীরা শ্রীলঙ্কাকে শুধুমাত্র সিংহলী বৌদ্ধদের রাষ্ট্র হিসেবে দেখতে চায়, অন্যদিকে তামিল জাতীয়তাবাদীরা বিচ্ছিন্নতাবাদী মনোভাব পোষণ করে। এই চরমপন্থী মনোভাবগুলি ভিন্ন ভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মধ্যেকার দূরত্ব আরও বাড়িয়ে তোলে এবং সহনশীলতা ও সমঝোতার পথ রুদ্ধ করে। এই ধরনের উগ্র মতাদর্শ শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান এবং একটি সমন্বিত জাতি গঠনের জন্য অপরিহার্য ভিত্তিটিকে দুর্বল করে দেয়। (৪)
ভূমির অধিকার সমস্যা: জমি এবং সম্পদের অধিকার নিয়ে দীর্ঘস্থায়ী বিরোধ জাতিগত বিভেদকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চল ও পূর্বাঞ্চলে, যেখানে তামিলরা সংখ্যাগরিষ্ঠ, সেখানে রাষ্ট্রের ভূমি বরাদ্দ নীতি নিয়ে তামিলদের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ রয়েছে। তারা মনে করে, রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় সিংহলীদের বসতি স্থাপন করা হচ্ছে, যা তাদের ঐতিহ্যবাহী জন্মভূমি থেকে উচ্ছেদ করার একটি চক্রান্ত। এই ভূমির অধিকার সংক্রান্ত বিতর্কগুলি কেবল আইনি বিরোধ নয়, বরং তা উভয় সম্প্রদায়ের মধ্যে অবিশ্বাস ও শত্রুতার জন্ম দেয়, যা জাতীয় ঐক্যের পথে বড় বাধা। (৫)
সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তাহীনতা: শ্রীলঙ্কার জাতিগঠন প্রক্রিয়ায় একটি বড় বাধা হলো তামিল এবং মুসলিমসহ অন্যান্য সংখ্যালঘু জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা ও প্রান্তিকতার অনুভূতি। তাদের ভাষা, ধর্ম এবং সংস্কৃতি সংরক্ষণের অধিকার প্রায়শই রাষ্ট্রীয় নীতি এবং সিংহলী সংখ্যাগরিষ্ঠতার চাপে উপেক্ষিত হয়। এই নিরাপত্তাহীনতার কারণে তারা মূল জাতীয় স্রোত থেকে নিজেদের বিচ্ছিন্ন মনে করে, যা একটি একক ও সমন্বিত জাতি গঠনে বাধা সৃষ্টি করে। রাষ্ট্রের উচিত সকল সংখ্যালঘুর প্রতি সমতা ও ন্যায়বিচারের নিশ্চয়তা দেওয়া, কিন্তু এই আশ্বাস প্রায়শই অনুপস্থিত থাকে। (৬)
অতীতের সংঘাতের ক্ষত: প্রায় তিন দশক ধরে চলা গৃহযুদ্ধের ভয়াবহ ক্ষত এবং স্মৃতি শ্রীলঙ্কার জাতিগঠন প্রক্রিয়ায় গভীর প্রভাব ফেলেছে। যুদ্ধাপরাধ এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য দায়বদ্ধতা ও ন্যায়বিচারের অভাব, বিশেষ করে তামিলদের মধ্যে, আজও তিক্ততা বজায় রেখেছে। এই ক্ষতগুলি নিরাময় না হওয়া পর্যন্ত উভয় সম্প্রদায়ের মধ্যে বিশ্বাস পুনরুদ্ধার করা অসম্ভব। অতীতের সংঘাতের সঠিক মোকাবিলা এবং ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি ন্যায়বিচার নিশ্চিত না হলে, একটি সত্যিকারের জাতীয় পুনর্মিলন এবং ঐক্যবদ্ধ জাতি গঠন সম্ভব হবে না। (৭)
সাংবিধানিক কাঠামো: শ্রীলঙ্কার বর্তমান সাংবিধানিক কাঠামো জাতিগত বিভেদ মেটাতে এবং ক্ষমতা ভাগাভাগির ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত অন্তর্ভুক্তিমূলক নয়। তামিলদের দীর্ঘদিনের দাবি হলো আরও বেশি ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণ এবং প্রাদেশিক পরিষদকে শক্তিশালী করা, কিন্তু সিংহলী সংখ্যাগরিষ্ঠ রাজনীতিবিদরা প্রায়শই এই ধরনের সংস্কারের বিরোধিতা করেন। একটি এমন সাংবিধানিক কাঠামোর অভাব, যা সমস্ত জাতিগোষ্ঠীর ন্যায্য দাবিগুলিকে পূরণ করে, জাতিগঠনের প্রক্রিয়াকে দুর্বল করে দিয়েছে। ফলস্বরূপ, জাতীয় রাজনীতিতে সংখ্যালঘুদের আস্থা হ্রাস পেয়েছে। (৮)
আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপের প্রভাব: শ্রীলঙ্কার জাতিগত সংঘাতের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপ এবং তার প্রতিক্রিয়াও জাতিগঠনের প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করেছে। ভারত ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক শক্তির হস্তক্ষেপকে প্রায়শই অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অবাঞ্ছিত হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখা হয়, যা সিংহলী জাতীয়তাবাদকে আরও শক্তিশালী করেছে। আবার, আন্তর্জাতিক চাপ সত্ত্বেও সংঘাত-পরবর্তী ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিতার অভাব তামিলদের মধ্যে হতাশা বাড়িয়েছে। বাইরের প্রভাবের এই দ্বিমুখী প্রতিক্রিয়া একটি অভ্যন্তরীণ ঐক্যমত্যে পৌঁছানোকে কঠিন করে তোলে। (৯)
শিক্ষা ব্যবস্থার বিভেদ: শিক্ষা ব্যবস্থা জাতিগঠনের জন্য একটি শক্তিশালী মাধ্যম হতে পারত, কিন্তু শ্রীলঙ্কায় তা প্রায়শই জাতিগত বিভেদকে আরও জোরদার করেছে। পৃথক সিংহলী ও তামিল মাধ্যম স্কুল এবং পাঠ্যক্রমের বিষয়বস্তু প্রায়শই একপেশে হয়, যা শিশুদের মধ্যে জাতিগত ভিন্নতা ও বিভাজনমূলক ধারণা সৃষ্টি করে। একটি একক, অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষাব্যবস্থার অনুপস্থিতি ভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর শিশুদের একসঙ্গে বেড়ে উঠতে এবং একে অপরের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে বাধা দেয়, ফলে ভবিষ্যতের নাগরিকদের মধ্যে জাতীয় ঐক্যের বীজ রোপণ করা সম্ভব হয় না। (১০)
অর্থনৈতিক বৈষম্য: জাতিগত ভিত্তিতে অর্থনৈতিক বৈষম্যও জাতিগঠন প্রক্রিয়ায় একটি বড় বাধা। উত্তরাঞ্চল ও পূর্বাঞ্চলের তামিল অধ্যুষিত অঞ্চলগুলি দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের কারণে অবকাঠামো এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নে পিছিয়ে রয়েছে। এই আঞ্চলিক ও জাতিগত অর্থনৈতিক বৈষম্য বেকারত্ব ও দারিদ্র্য বাড়িয়েছে, যা অসন্তোষ ও বিচ্ছিন্নতার অনুভূতিকে তীব্র করে। যখন একটি গোষ্ঠী মনে করে যে তারা রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, তখন জাতীয় ঐক্যের প্রতি তাদের অঙ্গীকার দুর্বল হয়ে পড়ে। (১১)
গণমাধ্যমের ভূমিকা: শ্রীলঙ্কার গণমাধ্যম প্রায়শই সংবেদনশীল জাতিগত সমস্যাগুলিকে নিরপেক্ষভাবে তুলে ধরতে ব্যর্থ হয় এবং অনেক সময় তা বিভাজনমূলক বক্তব্যকে উস্কে দেয়। জাতিগত পক্ষপাতিত্বমূলক সংবাদ প্রচার এবং ভুল তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া উভয় সম্প্রদায়ের মধ্যেকার ভুল বোঝাবুঝি ও সন্দেহকে আরও বাড়িয়ে তোলে। একটি দায়িত্বশীল এবং নিরপেক্ষ গণমাধ্যমের অভাব, যা ভিন্ন ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গিকে সম্মান করে, জাতীয় সংলাপ এবং সমঝোতার পরিবেশ তৈরি করতে বাধা সৃষ্টি করে। (১২)
আমলাতান্ত্রিক বৈষম্য: সরকারি আমলাতন্ত্রে সিংহলী আধিপত্য এবং তামিলদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ জাতিগঠনের পথে একটি উল্লেখযোগ্য বাধা। রাষ্ট্রীয় চাকরির ক্ষেত্রে তামিলদের অংশগ্রহণ কম এবং সরকারি পরিষেবা পেতে তাদের প্রায়শই ভাষাগত ও জাতিগত বাধার সম্মুখীন হতে হয়। এই আমলাতান্ত্রিক বৈষম্য সংখ্যালঘুদের মধ্যে এই ধারণা বদ্ধমূল করে যে রাষ্ট্র তাদের প্রতি ন্যায্য আচরণ করছে না, যা রাষ্ট্রের প্রতি তাদের আনুগত্য এবং জাতীয় পরিচয়ের প্রতি আস্থা দুর্বল করে দেয়। (১৩)
ক্ষমতা ভাগাভাগির অভাব: স্থানীয়, আঞ্চলিক এবং জাতীয় পর্যায়ে ক্ষমতা ভাগাভাগির একটি কার্যকর ব্যবস্থার অভাব জাতিগঠন প্রক্রিয়াকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। তামিল এবং অন্যান্য সংখ্যালঘুরা মনে করে যে তাদের রাজনৈতিক কণ্ঠস্বর কেন্দ্রীয় সরকারে অপ্রতুল। কার্যকর বিকেন্দ্রীকরণ এবং ক্ষমতা ভাগাভাগির ব্যবস্থা, যা সংখ্যালঘুদের স্থানীয় স্বশাসন নিশ্চিত করবে, তা জাতীয় ঐক্যের জন্য অপরিহার্য। কিন্তু এই ব্যবস্থার বাস্তবায়নে অনীহা কেন্দ্রীয় কর্তৃত্বের প্রতি সংখ্যালঘুদের অবিশ্বাস আরও বাড়িয়ে তোলে। (১৪)
সাংস্কৃতিক সংঘাত: ভিন্ন ভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় সংঘাতের ঘটনা জাতিগঠন প্রক্রিয়ায় বিরূপ প্রভাব ফেলে। সিংহলী বৌদ্ধ সংস্কৃতি এবং তামিল হিন্দু সংস্কৃতির মধ্যেকার পার্থক্যগুলিকে প্রায়শই রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়। ধর্মীয় স্থান এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য নিয়ে বিবাদ উভয় পক্ষের মধ্যেকার সংঘাতের উৎস হয়ে দাঁড়ায়। সহনশীলতা এবং পারস্পরিক সম্মানের মাধ্যমে এই সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে জাতীয় ঐক্যের শক্তি হিসেবে না দেখে, বিভেদের কারণ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। (১৫)
মানবাধিকারের লঙ্ঘন: সংঘাত-পরবর্তী সময়েও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ এবং তার বিচারহীনতা জাতিগঠনের পথে বড় বাধা। বিশেষ করে যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলের মানুষেরা ন্যায়বিচার ও মানবিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছে বলে মনে করে। এই ধরনের পরিস্থিতিতে, যখন নাগরিকরা রাষ্ট্রের কাছ থেকে সুরক্ষা ও ন্যায়বিচার পায় না, তখন তারা জাতীয় কাঠামোর প্রতি আস্থা হারিয়ে ফেলে। একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতি গঠনের জন্য সকল নাগরিকের মানবাধিকার নিশ্চিত করা এবং লঙ্ঘনের জন্য জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা করা অপরিহার্য। (১৬)
ঐক্যমত্যের অভাব: একটি অভিন্ন জাতীয় দৃষ্টিভঙ্গি এবং মূল্যবোধের উপর ঐক্যমত্যের অভাব শ্রীলঙ্কার জাতিগঠন প্রক্রিয়ার একটি মৌলিক সমস্যা। সিংহলী ও তামিল উভয় পক্ষই তাদের নিজস্ব ঐতিহাসিক আখ্যান ও অগ্রাধিকার নিয়ে অনড়, ফলে একটি সমন্বিত জাতীয় আখ্যান তৈরি করা কঠিন হয়ে পড়ে। এই অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির অনুপস্থিতি জাতীয় পরিকল্পনা এবং সংস্কারের ক্ষেত্রে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠায় বাধা দেয়, যার ফলস্বরূপ জাতিগোষ্ঠীগুলির মধ্যেকার দূরত্ব থেকেই যায়। (১৭)
উপসংহার: শ্রীলঙ্কার জাতিগঠন প্রক্রিয়ায় বিদ্যমান ঐতিহাসিক বিদ্বেষ, ভাষাভিত্তিক বিভেদ, রাজনৈতিক মেরুকরণ এবং অর্থনৈতিক বৈষম্যগুলি গভীর শিকড় গেড়ে আছে। একটি স্থিতিশীল ও ঐক্যবদ্ধ শ্রীলঙ্কা গঠনের জন্য প্রয়োজন অতীতের ক্ষত নিরাময়, সকল জাতিগোষ্ঠীর জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এবং একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সাংবিধানিক কাঠামোর প্রতিষ্ঠা। জাতীয় স্বার্থকে সংকীর্ণ রাজনৈতিক স্বার্থের ঊর্ধ্বে স্থান দিলেই কেবল এই দ্বীপরাষ্ট্র দীর্ঘমেয়াদী শান্তি ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যেতে পারে।

