- readaim.com
- 0
উত্তর::ভূমিকা: সমাজকর্ম হলো একটি পেশাদার অনুশীলন, যা ব্যক্তি, দল এবং সমাজকে তাদের সমস্যা সমাধানে এবং পরিবর্তন সাধনে সহায়তা করে। এই কাজে সমাজকর্মীরা বিভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহার করেন। এই পদ্ধতিগুলো একে অপরের থেকে বিচ্ছিন্ন নয়, বরং একটি সুসংগত কাঠামোর মধ্যে একে অপরের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত। এই পদ্ধতিগুলোর সমন্বিত ব্যবহার সমাজকর্মের লক্ষ্য অর্জনে অপরিহার্য।
১। ব্যক্তি সমাজকর্মের ভূমিকা: সমাজকর্মের সবচেয়ে মৌলিক পদ্ধতি হলো ব্যক্তি সমাজকর্ম। এটি এমন একটি প্রক্রিয়া যেখানে একজন সমাজকর্মী ব্যক্তিগত সমস্যায় আক্রান্ত একজন ব্যক্তিকে বা একটি পরিবারকে তার সমস্যা সমাধানে সরাসরি সহায়তা প্রদান করেন। এই পদ্ধতিটি ব্যক্তি বা পরিবারকে তাদের নিজস্ব সক্ষমতা ও সম্পদ সম্পর্কে সচেতন করে তোলে, যাতে তারা নিজেদের সমস্যা নিজেরাই মোকাবিলা করতে পারে। এই প্রক্রিয়ায় ব্যক্তির মানসিক, সামাজিক এবং অর্থনৈতিক অবস্থা বিবেচনা করা হয়। এটি দল ও সমষ্টি সমাজকর্মের ভিত্তি স্থাপন করে, কারণ অনেক সময় একটি বৃহত্তর সমস্যার মূল কারণ একজন ব্যক্তির জীবনেই নিহিত থাকে।
২। দল সমাজকর্মের প্রয়োজনীয়তা: যখন কোনো সমস্যা একাধিক ব্যক্তির মধ্যে সাধারণ থাকে, তখন দল সমাজকর্ম পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। এটি এমন একটি প্রক্রিয়া যেখানে সম-সমস্যার সম্মুখীন কিছু ব্যক্তিকে একটি দল হিসেবে একত্রিত করা হয়। এই দলীয় পরিবেশে সদস্যরা একে অপরের অভিজ্ঞতা থেকে শেখে এবং পারস্পরিক সহায়তার মাধ্যমে তাদের সমস্যা সমাধানের পথ খুঁজে বের করে। উদাহরণস্বরূপ, মাদকাসক্তদের একটি দল তাদের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়ার মাধ্যমে একে অপরের প্রতি সহানুভূতিশীল হয় এবং সুস্থ হওয়ার প্রেরণা পায়। দল সমাজকর্ম ব্যক্তি সমাজকর্মের পরিপূরক হিসেবে কাজ করে, কারণ একজন ব্যক্তি দলের সদস্য হয়ে তার সমস্যা আরও কার্যকরভাবে সমাধান করতে পারে।
৩। সমষ্টি সমাজকর্মের গুরুত্ব: কোনো একটি নির্দিষ্ট এলাকার বা কমিউনিটির সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য সমষ্টি সমাজকর্ম অপরিহার্য। এই পদ্ধতিতে একজন সমাজকর্মী ওই এলাকার মানুষের সাথে কাজ করে, তাদের চাহিদা ও সমস্যা চিহ্নিত করে এবং সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে সেই সমস্যা সমাধানের জন্য পরিকল্পনা করে। যেমন, কোনো দরিদ্র এলাকায় শিক্ষার হার বাড়ানোর জন্য একটি স্থানীয় স্কুল প্রতিষ্ঠা বা স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নের জন্য কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপন করা। সমষ্টি সমাজকর্ম ব্যক্তি ও দল সমাজকর্মের লক্ষ্যকে আরও বিস্তৃত করে। কারণ ব্যক্তি ও দলের সমস্যাগুলো প্রায়শই বৃহত্তর সামাজিক সমস্যার অংশ, যা সমষ্টিগতভাবে সমাধান করা সম্ভব।
৪। ব্যক্তিগত এবং সামাজিক পরিবর্তন: ব্যক্তিগত এবং সামাজিক পরিবর্তন সমাজকর্মের মূল লক্ষ্য। ব্যক্তি সমাজকর্ম একজন ব্যক্তির জীবনকে উন্নত করে, যা ধীরে ধীরে তার পরিবার ও সমাজের উপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। একইভাবে, দল সমাজকর্মের মাধ্যমে দলীয় সদস্যরা তাদের সমস্যা সমাধানে সক্ষম হয়, যা তাদের সামাজিক জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনে। সমষ্টি সমাজকর্মের মাধ্যমে একটি পুরো কমিউনিটির জীবনমানের উন্নয়ন ঘটে, যা সামগ্রিকভাবে বৃহত্তর সামাজিক পরিবর্তনকে ত্বরান্বিত করে। এই তিনটি পদ্ধতি একে অপরের উপর নির্ভরশীল এবং একটির সাফল্য অন্যটির উপর প্রভাব ফেলে।
৫। প্রশাসনিক ভূমিকা: সমাজকর্ম প্রশাসন হলো সমাজকর্মের একটি গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক পদ্ধতি। এটি এমন একটি প্রক্রিয়া যা সমাজকর্মের বিভিন্ন নীতি ও কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাপনা ও নির্দেশনা প্রদান করে। এটি একটি প্রতিষ্ঠান বা সংস্থার মধ্যে সমাজকর্মীদের কাজকে সুসংগঠিত করে। এটি নিশ্চিত করে যে সমাজকর্মের লক্ষ্যগুলো কার্যকরভাবে এবং দক্ষতার সাথে পূরণ হচ্ছে। এটি ব্যক্তি, দল এবং সমষ্টি সমাজকর্ম পদ্ধতির সফল বাস্তবায়নের জন্য একটি সুষ্ঠু কাঠামো তৈরি করে। প্রশাসনের সঠিক ব্যবহার ছাড়া কোনো সমাজকর্ম কর্মসূচিই সফলভাবে পরিচালিত হতে পারে না।
৬। গবেষণার গুরুত্ব: সমাজকর্ম গবেষণা সমাজকর্ম পদ্ধতির একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। এটি নতুন জ্ঞান সৃষ্টি এবং বিদ্যমান জ্ঞানকে যাচাই করার একটি প্রক্রিয়া। এর মাধ্যমে সমাজকর্মীরা বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা, তাদের কারণ এবং সমাধানের কার্যকারিতা সম্পর্কে গভীরভাবে জানতে পারে। গবেষণার ফলাফল ব্যক্তি, দল এবং সমষ্টি সমাজকর্মের কৌশল ও পদ্ধতিকে আরও উন্নত করতে সাহায্য করে। উদাহরণস্বরূপ, গবেষণার মাধ্যমে যদি দেখা যায় যে কোনো নির্দিষ্ট ধরনের কাউন্সিলিং পদ্ধতি কার্যকর নয়, তাহলে সমাজকর্মীরা বিকল্প পদ্ধতি খুঁজতে উৎসাহিত হয়। এটি সমাজকর্ম অনুশীলনকে আরও বিজ্ঞানসম্মত ও প্রমাণ-ভিত্তিক করে তোলে।
৭। শিক্ষার ভূমিকা: সমাজকর্ম শিক্ষা সমাজকর্মের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক পদ্ধতি। এটি ভবিষ্যৎ সমাজকর্মীদের তাত্ত্বিক জ্ঞান এবং ব্যবহারিক দক্ষতা প্রদান করে। এই শিক্ষার মাধ্যমেই পেশাদার সমাজকর্মীরা তৈরি হয়, যারা ব্যক্তি, দল এবং সমষ্টি সমাজকর্মের পদ্ধতিগুলো সফলভাবে প্রয়োগ করতে পারে। সমাজকর্ম শিক্ষা গবেষণার ফলাফলকে শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছে দেয় এবং নতুন কৌশল ও পদ্ধতি সম্পর্কে তাদের প্রশিক্ষণ দেয়। এটি নিশ্চিত করে যে সমাজকর্মের পেশাদার মান বজায় থাকে এবং পেশাটি সময়ের সাথে সাথে পরিবর্তিত সামাজিক চাহিদা পূরণে সক্ষম হয়।
৮। সামাজিক উন্নয়ন প্রক্রিয়া: সামাজিক উন্নয়ন প্রক্রিয়া সমাজকর্মের একটি প্রধান লক্ষ্য। এটি এমন একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে একটি সমাজের মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত করা হয়। এটি ব্যক্তি, দল এবং সমষ্টি সমাজকর্মের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। যখন একজন ব্যক্তি তার সমস্যা থেকে মুক্তি পায়, একটি দল তাদের লক্ষ্য অর্জন করে, এবং একটি সমষ্টি তাদের সামগ্রিক উন্নয়নে সফল হয়, তখন তা সামগ্রিকভাবে সামাজিক উন্নয়নে অবদান রাখে। এই প্রক্রিয়াটি পারস্পরিকভাবে সম্পর্কিত, কারণ প্রতিটি ছোট ছোট পরিবর্তন সম্মিলিতভাবে একটি বড় সামাজিক উন্নয়নের দিকে পরিচালিত করে।
৯। বিভিন্ন পদ্ধতির সমন্বিত ব্যবহার: বিভিন্ন পদ্ধতির সমন্বিত ব্যবহার সমাজকর্মের সাফল্যের মূল চাবিকাঠি। একজন সমাজকর্মী কেবল একটি পদ্ধতি ব্যবহার করে একটি জটিল সামাজিক সমস্যার সমাধান করতে পারেন না। উদাহরণস্বরূপ, একজন মাদকাসক্ত ব্যক্তির সমস্যা সমাধানের জন্য প্রথমে ব্যক্তি সমাজকর্মের মাধ্যমে তাকে কাউন্সিলিং করা হয়, এরপর তাকে একটি সহায়তা দলের সদস্য করা হয় এবং সবশেষে মাদকাসক্তির বিরুদ্ধে সামাজিক সচেতনতা বাড়ানোর জন্য সমষ্টি পর্যায়ে কাজ করা হয়। এই পদ্ধতিগুলোর মধ্যে সমন্বয় সমস্যা সমাধানের প্রক্রিয়াকে আরও কার্যকর ও টেকসই করে তোলে।
১০। নীতি প্রণয়নে প্রভাব: নীতি প্রণয়নে প্রভাব সমাজকর্মের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। সমাজকর্মীরা যখন ব্যক্তি, দল এবং সমষ্টি পর্যায়ে কাজ করেন, তখন তারা বিভিন্ন সামাজিক সমস্যার গভীরে প্রবেশ করতে পারেন। তাদের এই অভিজ্ঞতা ও জ্ঞান সরকারি নীতি প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। উদাহরণস্বরূপ, যদি একজন সমাজকর্মী দেখেন যে একটি নির্দিষ্ট আইন দরিদ্র মানুষের জীবনকে কঠিন করে তুলছে, তিনি সেই বিষয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে রিপোর্ট করতে পারেন, যা ভবিষ্যতে নীতি পরিবর্তনের কারণ হতে পারে। এই প্রক্রিয়াটি সমাজকর্মের অনুশীলনকে আরও বৃহত্তর সামাজিক পরিবর্তনে যুক্ত করে।
১১। সম্পদ ও ক্ষমতার ব্যবহার: সম্পদ ও ক্ষমতার ব্যবহার সমাজকর্মের একটি মৌলিক অংশ। সমাজকর্মীরা শুধু সমস্যা সমাধানেই সীমাবদ্ধ থাকেন না, বরং তারা ব্যক্তি, দল এবং সমষ্টিকে তাদের নিজস্ব সম্পদ ও ক্ষমতা চিহ্নিত করতে এবং তা ব্যবহার করতে সহায়তা করেন। ব্যক্তি সমাজকর্মের মাধ্যমে একজন ব্যক্তি তার মানসিক শক্তিকে কাজে লাগাতে পারে, দল সমাজকর্মের মাধ্যমে দলীয় সদস্যরা তাদের সম্মিলিত শক্তি ব্যবহার করতে পারে এবং সমষ্টি সমাজকর্মের মাধ্যমে একটি কমিউনিটি তাদের স্থানীয় সম্পদকে কাজে লাগিয়ে উন্নয়ন ঘটাতে পারে। এই প্রক্রিয়াগুলো একে অপরের পরিপূরক এবং মানুষকে আত্মনির্ভরশীল হতে সাহায্য করে।
১২। প্রতিরোধমূলক সমাজকর্ম: প্রতিরোধমূলক সমাজকর্ম একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশল, যা কোনো সমস্যা বড় হওয়ার আগেই তা প্রতিরোধ করার জন্য কাজ করে। এটি ব্যক্তি, দল এবং সমষ্টি সমাজকর্মের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হয়। উদাহরণস্বরূপ, তরুণদের মধ্যে মাদকাসক্তি প্রতিরোধ করার জন্য স্কুলে সচেতনতামূলক কর্মসূচি চালানো হয়, যা সমষ্টি সমাজকর্মের একটি অংশ। এই কর্মসূচিগুলো ব্যক্তিগত পর্যায়ে মাদকাসক্তির ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে। এটি চিকিৎসা পদ্ধতির চেয়ে বেশি কার্যকর ও সাশ্রয়ী হতে পারে এবং এটি সমাজকর্মের অন্যান্য পদ্ধতির সাথে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত।
১৩। পুনর্বাসন ও পুনরুদ্ধার: পুনর্বাসন ও পুনরুদ্ধার সমাজকর্মের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। এই পদ্ধতিটি এমন ব্যক্তিদের জন্য ব্যবহৃত হয়, যারা কোনো সমস্যা বা সংকট থেকে বেরিয়ে এসেছেন এবং স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার চেষ্টা করছেন। এটি ব্যক্তি সমাজকর্ম, দল সমাজকর্ম এবং সমষ্টি সমাজকর্মের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। উদাহরণস্বরূপ, একজন কারাবন্দীকে মুক্তির পর সমাজে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হতে সাহায্য করা। এই প্রক্রিয়াটি ব্যক্তির মানসিক এবং সামাজিক পুনর্গঠনে সহায়তা করে এবং তাকে সমাজের একজন সক্রিয় সদস্য হিসেবে পুনরায় প্রতিষ্ঠিত হতে সাহায্য করে।
১৪। যোগাযোগ ও সহযোগিতা: যোগাযোগ ও সহযোগিতা সমাজকর্মের সকল পদ্ধতির মধ্যে একটি সাধারণ উপাদান। ব্যক্তি সমাজকর্মে সমাজকর্মী এবং ব্যক্তির মধ্যে কার্যকর যোগাযোগ অপরিহার্য। দল সমাজকর্মে দলীয় সদস্যদের মধ্যে সহযোগিতা ও যোগাযোগ সফলতার মূল চাবিকাঠি। সমষ্টি সমাজকর্মে একটি কমিউনিটির সকল সদস্যের মধ্যে কার্যকর যোগাযোগ ও সহযোগিতা ছাড়া কোনো উন্নয়ন সম্ভব নয়। এই উপাদানগুলো একে অপরের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত এবং সমাজকর্মের প্রতিটি স্তরে এর প্রয়োজনীয়তা অপরিহার্য।
১৫। মূল্যায়ন ও প্রতিক্রিয়া: মূল্যায়ন ও প্রতিক্রিয়া সমাজকর্মের একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। কোনো সমাজকর্ম কর্মসূচি বা পদ্ধতি সফলভাবে প্রয়োগ হচ্ছে কি না, তা নিয়মিত মূল্যায়ন করা হয়। এই মূল্যায়ন থেকে প্রাপ্ত প্রতিক্রিয়া ভবিষ্যতের কর্মপরিকল্পনা তৈরিতে সাহায্য করে। উদাহরণস্বরূপ, যদি দেখা যায় যে একটি দল সমাজকর্ম কর্মসূচি কার্যকর হচ্ছে না, তাহলে সেই কর্মসূচির কৌশল পরিবর্তন করা হয়। এই প্রক্রিয়াটি সমাজকর্মের বিভিন্ন পদ্ধতির মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক স্থাপন করে এবং অনুশীলনকে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর করে তোলে।
১৬। পেশাদার নীতি ও মূল্যবোধ: পেশাদার নীতি ও মূল্যবোধ সমাজকর্মের সকল পদ্ধতির ভিত্তি। পেশাদার সমাজকর্মীরা কিছু নির্দিষ্ট নীতি ও মূল্যবোধ অনুসরণ করে কাজ করেন, যেমন মানবিক মর্যাদা ও অধিকারের প্রতি সম্মান, সামাজিক ন্যায়বিচার, এবং সেবা। এই নীতিগুলো সমাজকর্মের প্রতিটি পদ্ধতিকে প্রভাবিত করে। ব্যক্তি সমাজকর্মে একজন সমাজকর্মী ব্যক্তির অধিকারকে সম্মান করেন, দল সমাজকর্মে তিনি দলীয় সদস্যদের মধ্যে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করেন এবং সমষ্টি সমাজকর্মে তিনি একটি কমিউনিটির উন্নয়নে সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করেন।
১৭। জনসচেতনতা বৃদ্ধি: জনসচেতনতা বৃদ্ধি সমাজকর্মের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য। ব্যক্তি, দল এবং সমষ্টি সমাজকর্মের মাধ্যমে সমাজকর্মীরা বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা, যেমন দারিদ্র্য, বেকারত্ব, মাদকাসক্তি ইত্যাদি সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়াতে কাজ করেন। এই সচেতনতা বৃদ্ধি সমাজের মানুষদের মধ্যে একটি সম্মিলিত দায়িত্ববোধ তৈরি করে এবং তাদের নিজেদের সমস্যা সমাধানে উৎসাহিত করে। এটি সমাজকর্মের সকল পদ্ধতির মধ্যে একটি সাধারণ লক্ষ্য এবং এটি সামাজিক পরিবর্তনকে ত্বরান্বিত করে।
১৮। নেটওয়ার্কিং ও রেফারেল: নেটওয়ার্কিং ও রেফারেল সমাজকর্মের একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশল। যখন একজন সমাজকর্মী দেখেন যে কোনো ব্যক্তি বা দলের সমস্যা তার একার পক্ষে সমাধান করা সম্ভব নয়, তখন তিনি সেই ব্যক্তিকে বা দলকে অন্য কোনো পেশাদার বা সংস্থার কাছে রেফার করেন। উদাহরণস্বরূপ, একজন মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিকে একজন মনোবিদের কাছে পাঠানো হয়। এই প্রক্রিয়াটি সমাজকর্মের বিভিন্ন পদ্ধতির মধ্যে একটি সংযোগ তৈরি করে এবং সমস্যার কার্যকর সমাধানে সহায়তা করে।
১৯। আন্তঃপেশাগত সহযোগিতা: আন্তঃপেশাগত সহযোগিতা সমাজকর্মের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। সমাজকর্মীরা প্রায়শই চিকিৎসক, শিক্ষক, আইনজীবী, এবং অন্যান্য পেশাদারদের সাথে কাজ করেন। এই সহযোগিতা ব্যক্তি, দল এবং সমষ্টির সমস্যার সমাধানে সহায়তা করে। উদাহরণস্বরূপ, একজন প্রতিবন্ধী ব্যক্তির পুনর্বাসনের জন্য একজন সমাজকর্মী একজন ফিজিওথেরাপিস্ট, একজন মনোবিদ এবং একজন বিশেষ শিক্ষকের সাথে সমন্বয় করে কাজ করতে পারেন। এই আন্তঃপেশাগত সহযোগিতা সমাজকর্মের বিভিন্ন পদ্ধতির মধ্যে একটি কার্যকরী নেটওয়ার্ক তৈরি করে।
উপসংহার:- সমাজকর্মের বিভিন্ন পদ্ধতি একে অপরের থেকে বিচ্ছিন্ন নয়, বরং একটি সুসংহত ব্যবস্থার অংশ। ব্যক্তি, দল এবং সমষ্টি সমাজকর্মের মতো প্রত্যক্ষ পদ্ধতিগুলো সমাজকর্ম প্রশাসন, গবেষণা ও শিক্ষার মতো সহায়ক পদ্ধতিগুলোর দ্বারা পরিচালিত হয়। এই পদ্ধতিগুলোর মধ্যে নিবিড় পারস্পরিক সম্পর্কই সমাজকর্মকে একটি কার্যকর পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। এদের সমন্বিত ব্যবহার সামাজিক সমস্যার গভীর ও স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করে।
✨ ১। ব্যক্তি সমাজকর্মের ভূমিকা 🤝 ২। দল সমাজকর্মের প্রয়োজনীয়তা 🏘️ ৩। সমষ্টি সমাজকর্মের গুরুত্ব 🔄 ৪। ব্যক্তিগত এবং সামাজিক পরিবর্তন 🏢 ৫। প্রশাসনিক ভূমিকা 🔍 ৬। গবেষণার গুরুত্ব 📚 ৭। শিক্ষার ভূমিকা 📈 ৮। সামাজিক উন্নয়ন প্রক্রিয়া 🧩 ৯। বিভিন্ন পদ্ধতির সমন্বিত ব্যবহার 🏛️ ১০। নীতি প্রণয়নে প্রভাব 💡 ১১। সম্পদ ও ক্ষমতার ব্যবহার 🛡️ ১২। প্রতিরোধমূলক সমাজকর্ম 🩹 ১৩। পুনর্বাসন ও পুনরুদ্ধার 🗣️ ১৪। যোগাযোগ ও সহযোগিতা 📊 ১৫। মূল্যায়ন ও প্রতিক্রিয়া ⚖️ ১৬। পেশাদার নীতি ও মূল্যবোধ 📣 ১৭। জনসচেতনতা বৃদ্ধি 🔗 ১৮। নেটওয়ার্কিং ও রেফারেল 👨👩👧👦 ১৯। আন্তঃপেশাগত সহযোগিতা।
সমাজকর্মের আধুনিক ধারণার উৎপত্তি ১৯ শতকের শেষ দিকে এবং ২০ শতকের শুরুতে, যখন শিল্পায়ন ও নগরায়নের ফলে সামাজিক সমস্যা বৃদ্ধি পায়। ১৮৬৯ সালে লন্ডনে চ্যারিটি অর্গানাইজেশন সোসাইটি (COS) প্রতিষ্ঠিত হয়, যা ব্যক্তি সমাজকর্মের ধারণা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অন্যদিকে, ১৮৮৪ সালে টয়েনবি হল প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সমষ্টি সমাজকর্মের সূচনা হয়। ১৯১৭ সালে মেরি রিচমন্ডের রচিত “Social Diagnosis” বইটি সমাজকর্ম গবেষণার পথ খুলে দেয়, যা সমাজকর্মকে একটি বিজ্ঞানসম্মত পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সাহায্য করে। এই ঐতিহাসিক ঘটনাগুলো প্রমাণ করে যে সমাজকর্মের বিভিন্ন পদ্ধতি শুরু থেকেই একে অপরের সাথে সম্পর্কিত ছিল।

