• Digital Tools
      •  PDF to Excel
      •  Word to PDF
      • Add and remove PDF watermark
      • Add Page Numbers
      • Copyable PDF maker
      • Merge PDF files
      • Organize PDF
      • PDF to image
      • PDF to PowerPoint
      • PDF to Word
      • PowerPoint to PDF
      • Remove PDF Pages
      • Rotate PDF
      • Separate PDF | Split
      • Image to PDF
    • MASTERS
      • 📚 রাষ্ট্রবিজ্ঞান
        • ১। সাম্প্রতিক রাষ্ট্রচিন্তা
        • ২। সামাজিক পরিবর্তন ও রাজনৈতিক উন্নয়ন
        • ৩। বাংলাদেশের রাজনীতি ইসু ও প্রবণতাসমূহ
        • ৪। শাসনের সমস্যাবলি
        • ৫। নিরাপত্তা অধ্যয়ন
        • ৬। বাংলাদেশের দলীয় রাজনীতি
        • ৭। ভূ-রাজনীতি ও বাংলাদেশ
      • 📚 সমাজবিজ্ঞান
        • ১। সমসাময়িক সমাজবিজ্ঞানের তত্ত্ব
        • ২। মার্কসীয় সমাজবিজ্ঞান
        • ৩। উন্নয়ন ও অনুন্নয়নের সমাজবিজ্ঞান
        • ৪। সংখ্যালঘুর সমাজবিজ্ঞান
        • ৫। জনসংখ্যা, রাজনীতি ও উন্নয়ন
        • ৬। দারিদ্র্যের সমাজবিজ্ঞান
        • ৭। তুলনামূলক সমাজকাঠামো
      • 📚 সমাজকর্ম
        • ১। সামাজিক প্রশাসন
        • ২। উচ্চতর সামাজিক গবেষণা ও পরিসংখ্যান
        • ৩। শিল্প সম্পর্ক ও শ্রম আইন
        • ৪। সংশোধন ও সংশোধনমূলক সেবা
        • ৫। নারী ও পরিবার কল্যাণ
        • ৬। শিশু, যুব ও প্রবীণ কল্যাণ
        • ৭। সমাজকর্মের নির্দেশনা ও কাউন্সেলিং
      • 📚 ইতিহাস
        • ১। ইতিহাস তত্ত্ব ও গবেষণা পদ্ধতি
        • ২। ইউরোপ ও আমেরিকার ইতিহাস (১৯১৯খ্রিস্টাব্দ থেকে)
        • ৩। দক্ষিণ এশিয়ার জাতীয়তাবাদ ও জাতীয়তাবাদী আন্দোলন (উনিশ ও বিশ শতক)
        • ৪। বাংলার সাংস্কৃতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক দিকসমূহ (নির্বাচিত বিষয়সমূহ)
        • ৫। বাংলাদেশের ইতিহাস (১৯৭২ খ্রিস্টাব্দ থেকে বর্তমান)
        • ৬। দক্ষিণ এশিয়ার ইতিহাস ১৯৪৭ থেকে (বাংলাদেশ ব্যতীত)
        • ৭। আন্তর্জাতিক আইন
      • 📚 ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি
        • ১। ইসলামের সামাজিক ও অর্থনৈতিক ইতিহাস
        • ২। বাংলার সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থতিক ইতিহাস (১২০০-১৭৬৫ খ্রি:)
        • ৩। মুসলিম ভারতের সামাজিক এবং অর্থনৈতিক ইতিহাস (৭১২-১৭৬৫)
        • ৪। তুরস্ক, ইরান ও আফগানিস্তানের ইতিহাস
        • ৫। আধুনিক মিশর ও উত্তর আফ্রিকার আরব রাষ্ট্রসমূহ
        • ৬। পশ্চিম এশিয়ার আরব রাষ্ট্রসমূহের ইতিহাস
        • ৭। দক্ষিণ এশিয়ার মুসলমানদের ইতিহাস (১৭৬৫-১৯৭১)
      • 📚বাংলা
        • ১। বাংলা কবিতা
        • ২। বাংলা উপন্যাস
        • ৩। বাংলা ছোটগল্প
        • ৪। বাংলা নাটক
        • ৫। বাংলা প্রবন্ধ
        • ৬। বাংলাদেশের সাহিত্য: কবিতা, গল্প, উপন্যাস এবং প্রবন্ধ
        • ৭। ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের সাহিত্য
      • 📚 দর্শন
        • ১। ভাষা দর্শন
        • ২। রূপতত্ত্ব ও অস্তিত্ববাদ
        • ৩। জি.ই. ম্যুর এবং রাসেলের দর্শন
        • ৪। প্রয়োগবাদ ও মানবতাবাদ
        • ৫। জ্ঞানবিদ্যা ও অধিবিদ্যা
        • ৬। আল-গাজালি ও ইবনে রুশদের দর্শন
        • ৭। সুফিবাদ
        • ৮। বৌদ্ধ দর্শন
        • ৯। বাঙালির দর্শন (আধুনিক ও সমকালীন)
        • ১০। সমকালীন রাষ্ট্রদর্শন
      • 📚 ব্যবস্থাপনা
        • ১। ব্যবস্থাপনা চিন্তাধারা
        • ২। আন্তর্জাতিক ব্যবসায়
        • ৩। ব্যবসায় গবেষণা
        • ৪। কৌশলগত ব্যবস্থাপনা
        • ৫। ব্যবস্থাপনা তথ্য পদ্ধতি
        • ৬। প্রশিক্ষণ ও উন্নয়ন
        • ৭। ক্ষতিপূরণ ব্যবস্থাপনা
      • 📚 হিসাববিজ্ঞান
        • ১। প্রায়োগিক হিসাববিজ্ঞান তত্ত্ব
        • ২। উচ্চতর উৎপাদন ব্যয় হিসাববিজ্ঞান
        • ৩। কৌশলগত ব্যবস্থাপনা হিসাববিজ্ঞান
        • ৪। কৌশলগত ব্যবস্থাপনা
        • ৫। কর্পোরেট গভর্ন্য্যান্স
        • ৬। কর্পোরেট আর্থিক প্রর্তিবেদন
        • ৭। কর্পোরেট কর পরিকল্পনা
    • Member Account
    • Member Login
    • Member Logout
    • Member Profile
    • Member Registration
    • Members
    • MS Word
    • Reset Password
    • SYLLABUS 0-12 NCTB BD
    • DEGREE
      • স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাস (আবশ্যিক)
      • ডিগ্রী রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ
        • ১ম বর্ষ ডিগ্রী রাষ্ট্রবিজ্ঞান
          • রাজনৈতিক তত্ত্ব
    • HONOURS
      • 📚 অনার্স রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ
        • 📗 ১ম বর্ষ অনার্স রাষ্ট্রবিজ্ঞান (নতুন সিলেবাস)
        • 📗 ১ম বর্ষ অনার্স রাষ্ট্রবিজ্ঞান (পুরাতন সিলেবাস)
          • 🔴 স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাস
          • 🔴 রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান ও সংগঠন
          • 🔴 পাশ্চাত্যের রাষ্ট্রচিন্তা
          • 🔴 প্রধান প্রধান বৈদেশিক সরকার (UK, USA & France) ২১১৯০৫
          • 🔴 লোক প্রশাসন পরিচিতি
          • 🔴 সমাজবিজ্ঞান পরিচিতি
          • 🔴 সমাজকর্ম পরিচিতি
          • 🔴 অর্থনীতির মৌলনীতি
        • 📗 ২য় বর্ষ অনার্স রাষ্ট্রবিজ্ঞান
          • 🔴 ব্রিটিশ ভারতের রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক উন্নয়ন (১৭৫৭-১৯৪৭)
          • 🔴 বাংলাদেশের রাজনৈতিক অর্থনীতি
          • 🔴 রাজনীতি ও উন্নয়নে নারী
          • 🔴 প্রাচ্যের রাষ্ট্রচিন্তা
          • 🔴 বাংলাদেশের সমাজবিজ্ঞান
          • 🔴 বাংলাদেশের সমাজ ও সংস্কৃতি
          • 🔴 বাংলাদেশের অর্থনীতি
        • 📗৩য় বর্ষ অনার্স রাষ্ট্রবিজ্ঞান
          • 🔴 বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক উন্নয়ন ১৯৭১ থেকে বর্তমান
          • 🔴 আন্তর্জাতিক রাজনীতির মূলনীতি
          • 🔴 দক্ষিণ এশিয়ার সরকার ও রাজনীতি ( ভারত, পাকিস্তান, নেপাল ও শ্রীলংকা )
          • 🔴 রাজনীতি অধ্যয়নের পদ্ধতি
          • 🔴 শান্তি এবং সংঘাত অধ্যায়ন পরিচিতি
          • 🔴 বাংলাদেশের লোক প্রশাসন
          • 🔴 গবেষণা পদ্ধতি ও পরিসংখ্যান
          • 🔴 রাজনৈতিক সমাজবিজ্ঞান
        • 📗 ৪র্থ বর্ষ অনার্স রাষ্ট্রবিজ্ঞান
          • 🔴 রাজনৈতিক তত্ত্ব পরিবর্তন ও ধারাবাহিকতা
          • 🔴 বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন
          • 🔴 সরকারি নীতি পরিচিতি
          • 🔴 পূর্ব এশিয়ার সরকার ও রাজনীতি চীন, জাপান ও দিক্ষণ কোরিয়া
          • 🔴 পরিবেশ ও উন্নয়ন
          • 🔴 বাংলাদেশের বৈদেশিক সম্পর্ক
          • 🔴 বাংলাদেশের আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়া
          • 🔴 বিশ্বায়ন, আঞ্চলিকতাবাদ ও আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান
      • 📚 অনার্স সমাজবিজ্ঞান বিভাগ
        • ১ম বর্ষ অনার্স সমাজবিজ্ঞান
          • ১। প্রারম্ভিক সমাজবিজ্ঞান ২১২০০১
          • সামাজিক ইতিহাস ও বিশ্ব সভ্যতা ২১২০০৩
          • রাজনৈতিক সমাজবিজ্ঞান ২১২০০৫
          • সামাজিক সমস্যা ২১২০০৭
          • স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাস ২১১৫০১
          • রাজনৈতিক তত্ত্ব পরিচিতি ২১১৯০৯
          • অর্থনীতির মূলনীতি ২১১৯০৯
        • ২য় বর্ষ অনার্স সমাজবিজ্ঞান
          • 💞 প্ররম্ভিক নৃ-বিজ্ঞান
          • 💞 ধ্রুপদী সমাজচিন্তা
          • 💞 সামাজিক পরিসংখ্যান
          • 💞 গবেষণা পদ্ধতি
          • 💞 রাজনৈতিক সংগঠন এবং যুক্তরাজ্য ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ব্যবস্থা
          • 💞 বাংলাদেশের অর্থনীতি
        • ৩য় বর্ষ অনার্স সমাজবিজ্ঞান
          • 🌳ধ্রুপদী সমাজতাত্ত্বিক তত্ত্ব
          • 🌳গ্রামীণ সমাজবিজ্ঞান
          • 🌳ধর্মের সমাজবিজ্ঞান ২৩২০০৫
          • 🌳সামাজিক অসমতা
          • 🌳 সমাজ ও সম্প্রদায়
          • 🌳বাংলাদেশের সমাজ কাঠামো
          • 🌳নগর সমাজবিজ্ঞান
          • 🌳সমাজ মনোবিজ্ঞান
        • ৪র্থ বর্ষ অনার্স সমাজবিজ্ঞান
          • 📢 জেন্ডার, সমাজ ও উন্নয়ন
          • 📢 উন্নয়নের সমাজবিজ্ঞান
          • 📢 সামাজিক জনবিজ্ঞান
          • 📢 পরিবেশ সমাজবিজ্ঞান
          • 📢 বাংলাদেশের সমাজবিজ্ঞান
          • 📢 সামাজিক পরিবর্তন
          • 📢 বিচ্যুতি ও অপরাধ
          • 📢 শিল্প সমাজবিজ্ঞান
          • কৃষক সমাজ ২৪২০১৭
    • HOME
      • About
      • Blog
      • Contact
      • News
      • Privacy
    • GRAMMAR
      • Arabic Grammar
      • Bangla Grammar
      • English Grammar
    • JOB STUDY
      • Army/Police/BDR/Anchar
      • Bank
      • BCS
      • Govt. job
      • Medical Admission
      • Nibandhon
      • Primary
      • University Admission
      • Bangla
      • English
      • Math
      • General Knowledge Bangladesh
      • General Knowledge International
      • Computer & IT
      • Biology
      • Chemistry
      • Physics
      • Ethics, Values ​​and Good Governance
      • Geography/Environment/Disaster Management
    • JOBS
      • BRAC NGO Job Circular New All Jobs Notice 2023
      • Jobs CANADA
      • Jobs INDIA
      • Jobs USA
Read Aim
Read Aim Read Aim
  • readaim.com
  • 0

প্রশ্ন:- সাম্প্রতিক ঘটনাবলির পরিপ্রেক্ষিতে নেপালের রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণসমূহ আলোচনা কর।

উত্তর::ভূমিকা: সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নেপালের রাজনীতিতে বারবার যে টালমাটাল পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে, তা কেবল আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্যই নয়, দেশটির অভ্যন্তরীণ উন্নয়নের পথেও বড় বাধা। দীর্ঘ সময় ধরে চলমান রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ক্ষমতার লড়াই, দুর্বল প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো, এবং বহিরাগত প্রভাব নেপালের এই অস্থিতিশীলতার প্রধান কারণ। এই নিবন্ধে নেপালের রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার নেপথ্যের মূল কারণগুলো সহজ ও আকর্ষণীয় ভাষায় আলোচনা করা হলো।

সাম্প্রতিক ঘটনাবলির পরিপ্রেক্ষিতে নেপালের রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণসমূহ:

দীর্ঘস্থায়ী অন্তর্দলীয় কোন্দল: নেপালের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরে ক্ষমতার ভাগাভাগি নিয়ে তীব্র কোন্দল চলে আসছে। বিশেষ করে, কমিউনিস্ট পার্টি অফ নেপাল (ইউনিফাইড মার্কসিস্ট-লেনিনিস্ট) বা CPN (UML) এবং নেপালি কংগ্রেসের মতো বড় দলগুলোতে শীর্ষ নেতাদের মধ্যে পারস্পরিক অবিশ্বাস ও শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই এতটাই প্রকট যে তা সামগ্রিক রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় অস্থিরতা সৃষ্টি করে। এই দলীয় কোন্দলের জেরে বারবার সরকার পরিবর্তিত হয়, যার ফলে নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে ধারাবাহিকতা বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। এর ফলে জনকল্যাণমূলক কাজগুলোও প্রায়শই পিছিয়ে যায়। (১)

সংবিধানের দুর্বলতা ও অস্পষ্টতা: ২০১৫ সালে প্রণীত নেপালের সংবিধানকে অনেকে একটি আপোষমূলক দলিল হিসেবে দেখেন, যেখানে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে অস্পষ্টতা রয়ে গেছে। উদাহরণস্বরূপ, প্রধানমন্ত্রী বা মুখ্যমন্ত্রীর মতো নির্বাহী প্রধানদের ক্ষমতা ও অপসারণ প্রক্রিয়া নিয়ে কিছু বিধান এতই শিথিল যে, সামান্য অজুহাতেই সরকার ভেঙে দেওয়া বা অনাস্থা আনা সহজ হয়ে যায়। এই সাংবিধানিক দুর্বলতা ঘন ঘন রাজনৈতিক অস্থিরতার পথ প্রশস্ত করে, কারণ রাজনৈতিক দলগুলো তাদের স্বার্থ অনুযায়ী সংবিধানের ব্যাখ্যা করার সুযোগ পেয়ে যায়। ফলে একটি শক্তিশালী ও স্থিতিশীল গণতান্ত্রিক কাঠামো তৈরি হতে পারছে না। (২)

রাজনৈতিক নেতৃত্বের ব্যর্থতা: নেপালের রাজনৈতিক নেতারা প্রায়শই জাতীয় স্বার্থের চেয়ে ব্যক্তিগত বা দলীয় স্বার্থকে বেশি গুরুত্ব দেন। দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং দুর্নীতি দমনে তাদের সদিচ্ছার অভাব স্পষ্ট। ঐতিহ্যগতভাবে প্রভাবশালী ও একই পরিবারের সদস্যদের দ্বারা পরিচালিত হওয়ার কারণে নতুন এবং দক্ষ নেতৃত্বের উত্থানও বাধাগ্রস্ত হয়। এই নেতৃত্ব জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে রাজনীতি ও রাজনীতিবিদদের প্রতি ব্যাপক অনাস্থা সৃষ্টি হয়েছে, যা সামগ্রিক স্থিতিশীলতার জন্য ক্ষতিকর। (৩)

দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনা: নেপালের সরকার ব্যবস্থা ও আমলাতন্ত্রে দুর্নীতি একটি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নিয়েছে। সরকারি তহবিল আত্মসাৎ, ঘুষ লেনদেন এবং ক্ষমতার অপব্যবহার নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা। এই ব্যাপক দুর্নীতি কেবল অর্থনৈতিক উন্নয়নকেই বাধাগ্রস্ত করছে না, বরং রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে নৈতিকতার মান কমিয়ে দিয়েছে। যখন জনগণের ট্যাক্সের টাকা অন্যায়ভাবে লোপাট হয়, তখন তারা রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার উপর আস্থা হারায়, যা সরকারের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে এবং অস্থিরতার জন্ম দেয়। জবাবদিহিতার অভাবে এই সমস্যা আরও বাড়ছে। (৪)

আঞ্চলিক ও জাতিগত বিভেদ: নেপালে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী, ভাষাভাষী এবং আঞ্চলিক সম্প্রদায়ের মধ্যে ঐতিহাসিক ও সামাজিক কারণে বিভেদ বিদ্যমান। বিশেষত, মদেশি এবং অন্যান্য প্রান্তিক গোষ্ঠীগুলোর রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব এবং অধিকারের দাবিতে আন্দোলন প্রায়শই সহিংস রূপ নেয়। এই জাতিগত ও আঞ্চলিক দাবিগুলো সংবিধান সংশোধন এবং ক্ষমতার কাঠামো নিয়ে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি করে। রাজনৈতিক দলগুলো এই বিভেদকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করে ভোট ব্যাংক তৈরি করে, যা জাতীয় সংহতিকে দুর্বল করে এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা বজায় রাখে। (৫)

বিশাল প্রতিবেশী প্রভাব: নেপালের দুটি বৃহৎ প্রতিবেশী দেশ, ভারত ও চীনের ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থ দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে গভীর প্রভাব ফেলে। এই দুই দেশের মধ্যে নেপালের উপর প্রভাব বিস্তারের প্রতিযোগিতা প্রায়শই নেপালী রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে প্রক্সি লড়াইয়ের জন্ম দেয়। কিছু দল ভারতের প্রতি এবং অন্যরা চীনের প্রতি বেশি ঝুঁকে থাকার কারণে সরকার গঠনে এবং নীতি নির্ধারণে বহিরাগত চাপ একটি বড় কারণ হিসেবে কাজ করে। এই বিদেশী হস্তক্ষেপ নেপালের স্বাধীন রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণকে কঠিন করে তোলে এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়ায়। (৬)

দুর্বল প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো: নেপালের বিচার বিভাগ, নির্বাচন কমিশন, এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলো প্রায়শই রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের শিকার হয়। রাজনৈতিক দলগুলো এই প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাধীনতাকে খর্ব করে নিজেদের স্বার্থ চরিতার্থ করার চেষ্টা করে। আইনের শাসন দুর্বল হওয়ায় এবং প্রতিষ্ঠানগুলো স্বাধীনভাবে কাজ করতে না পারায়, গণতন্ত্রের ভিত্তি নড়বড়ে হয়ে যায়। একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য প্রয়োজনীয় জবাবদিহিতা এবং স্বচ্ছতা এই দুর্বল প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর কারণে নিশ্চিত করা সম্ভব হয় না। (৭)

পরিবর্তিত সংসদীয় সমীকরণ: নেপালের সংসদীয় রাজনীতিতে বারবার জোট সরকার গঠিত হয়, যেখানে কোনো একক দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারে না। এই জোটগুলো প্রায়শই দুর্বল হয় এবং ক্ষমতার ভাগাভাগি নিয়ে মতবিরোধের কারণে দ্রুত ভেঙে যায়। নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পরও দলগুলোর মধ্যে স্থিতিশীল ঐকমত্যের অভাব দেখা যায়। এই ঘন ঘন জোট পরিবর্তন দেশের নীতি ও কর্মসূচির বাস্তবায়নে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করে এবং রাজনৈতিক অস্থিরতার জন্ম দেয়। (৮)

ক্ষমতা-কেন্দ্রিক রাজনীতি: নেপালের রাজনীতিতে আদর্শ বা নীতিভিত্তিক রাজনীতির চেয়ে ক্ষমতা দখল এবং ক্ষমতায় টিকে থাকার প্রবণতা অত্যন্ত বেশি। রাজনৈতিক দলগুলো আদর্শগত বিভেদ ভুলে কেবলমাত্র ক্ষমতা ও সুযোগ-সুবিধা লাভের জন্য জোট গঠন ও ভাঙা করে। এই সুবিধাবাদী রাজনীতি জনগণের মৌলিক সমস্যাগুলো সমাধানে মনোযোগ দিতে ব্যর্থ হয়, যার ফলে জনগণের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ বাড়ে। এই ক্ষমতা-কেন্দ্রিক মনোভাবই রাজনৈতিক অস্থিরতার একটি প্রধান উৎস। (৯)

মাওবাদী অতীত ও প্রভাব: নেপালের রাজনীতিতে একসময়কার বিদ্রোহী মাওবাদী আন্দোলন একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে। যদিও মাওবাদীরা এখন মূলধারার রাজনীতিতে যোগ দিয়েছে, তাদের সশস্ত্র সংগ্রামের অতীত এবং বিপ্লবী মনোভাব এখনো অনেক রাজনৈতিক নেতার মধ্যে বিদ্যমান। পুরোনো বিপ্লবী আদর্শ এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মধ্যেকার দ্বৈততা অনেক সময় রাজনৈতিক সংঘাতের জন্ম দেয়। মাওবাদীদের মূলধারায় আসার প্রক্রিয়া পুরোপুরি মসৃণ না হওয়ায় এটিও মাঝে মাঝে অস্থিরতা সৃষ্টি করে। (১০)

যুব সমাজের হতাশা ও অনাস্থা: নেপালের তরুণ প্রজন্ম রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার উপর ক্রমশ আস্থা হারাচ্ছে। কর্মসংস্থানের অভাব, শিক্ষা ব্যবস্থার দুর্বলতা, এবং রাজনীতির স্থিতিশীলতার অভাবের কারণে তারা হতাশ। এই হতাশা প্রায়শই রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় নেতিবাচকভাবে প্রতিফলিত হয়, হয় তারা ভোটদানে অনাগ্রহী হয় অথবা বিক্ষোভ ও আন্দোলনে অংশ নেয়। রাজনৈতিক দলগুলো যুব সমাজের এই হতাশা দূর করতে ব্যর্থ হওয়ায় এটি রাজনৈতিক অস্থিরতার একটি সামাজিক কারণ হয়ে উঠেছে। (১১)

দুর্যোগ মোকাবিলায় দুর্বলতা: নেপাল একটি ভূমিকম্প-প্রবণ দেশ এবং বন্যা, ভূমিধসের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের শিকার হয়। এই দুর্যোগগুলো মোকাবিলায় সরকারের দুর্বল প্রস্তুতি, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনা প্রায়শই তীব্র জনরোষ সৃষ্টি করে। যখন সরকার জনগণের মৌলিক নিরাপত্তা ও ত্রাণ প্রদানে ব্যর্থ হয়, তখন এটি রাজনৈতিক নেতৃত্বের বিরুদ্ধে তীব্র অসন্তোষ জন্ম দেয়। এই জনরোষ রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যেকার অস্থিরতা আরও বাড়িয়ে দেয়। (১২)

রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে অসহিষ্ণুতা: নেপালের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে বিরোধীদের প্রতি শ্রদ্ধাবোধের অভাব এবং অসহিষ্ণুতা লক্ষ্য করা যায়। দলগুলোর মধ্যে গঠনমূলক আলোচনা ও ঐকমত্যের পরিবর্তে একে অপরের প্রতি দোষারোপ এবং ব্যক্তিগত আক্রমণ সাধারণ ঘটনা। এই অসহিষ্ণু রাজনৈতিক পরিবেশ গণতন্ত্রের সুস্থ চর্চাকে বাধাগ্রস্ত করে এবং যেকোনো সংকটের সময় দলগুলোকে এক টেবিলে আনা কঠিন করে তোলে। এই অসুস্থ সংস্কৃতি রাজনৈতিক অস্থিরতাকেই উসকে দেয়। (১৩)

ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণের সমস্যা: সংবিধান অনুযায়ী, কেন্দ্রীয়, প্রাদেশিক ও স্থানীয় পর্যায়ে ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণ করা হয়েছে। তবে, এই তিন স্তরের সরকারের মধ্যে ক্ষমতা ও সম্পদের বন্টন নিয়ে প্রায়শই জটিলতা ও দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়। কেন্দ্রীয় সরকার অনেক সময় প্রদেশের ক্ষমতাকে খর্ব করার চেষ্টা করে, যা প্রাদেশিক সরকারগুলোর মধ্যে অসন্তোষ ও বিরোধ সৃষ্টি করে। এই আন্তঃ-সরকার দ্বন্দ্ব জাতীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকে প্রভাবিত করে। (১৪)

সামরিক হস্তক্ষেপের ভয়: যদিও নেপালে এখন একটি নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকার রয়েছে, অতীতে রাজকীয় সরকারের সময় সামরিক বাহিনীর প্রভাব একটি বড় বিষয় ছিল। যদিও সামরিক অভ্যুত্থানের আশঙ্কা কম, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে তীব্র সংঘাতের সময় কখনও কখনও এই ঐতিহাসিক ভয় একটি উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। রাজনৈতিক দলগুলো যখন নিজেদের মধ্যে মীমাংসা করতে ব্যর্থ হয়, তখন অসাংবিধানিক শক্তির উত্থানের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। (১৫)

অর্থনৈতিক বৈষম্য ও দারিদ্র্য: নেপালের অর্থনীতি মূলত কৃষি ও রেমিটেন্সের উপর নির্ভরশীল, এবং দেশটিতে অর্থনৈতিক বৈষম্য প্রকট। ধনী ও দরিদ্রের মধ্যে ব্যবধান বাড়ছে, যা সামাজিক অসন্তোষ ও শ্রেণিসংঘাতের জন্ম দেয়। রাজনৈতিক দলগুলো এই অর্থনৈতিক সমস্যাগুলো সমাধানে ব্যর্থ হওয়ায় সাধারণ মানুষ সরকারের উপর আস্থা হারায়। এই ব্যাপক দারিদ্র্য ও বৈষম্য রাজনৈতিক অস্থিরতার জন্য একটি উর্বর ক্ষেত্র তৈরি করে। (১৬)

সুশীল সমাজের দুর্বল ভূমিকা: নেপালে সুশীল সমাজ (সিভিল সোসাইটি) অতীতে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও, বর্তমানে তাদের ভূমিকা কিছুটা দুর্বল ও বিভক্ত। রাজনৈতিক দলগুলোর উপর সঠিক চাপ সৃষ্টি এবং জনগণের পক্ষে আওয়াজ তোলার ক্ষেত্রে তাদের দুর্বলতা পরিলক্ষিত হয়। একটি শক্তিশালী ও নিরপেক্ষ সুশীল সমাজের অভাবে রাজনৈতিক দলগুলো প্রায়শই জবাবদিহিতার বাইরে থেকে যায়, যা রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা নিরসনে সহায়ক নয়। (১৭)

উপসংহার: নেপালের রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা কোনো একক কারণে সৃষ্ট নয়, বরং এটি দীর্ঘস্থায়ী দলীয় কোন্দল, সাংবিধানিক দুর্বলতা, ব্যাপক দুর্নীতি এবং বহিরাগত প্রভাবের সম্মিলিত ফল। এই সমস্যাগুলো কাটিয়ে উঠতে হলে নেপালী রাজনৈতিক নেতৃত্বকে ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে জাতীয় ঐকমত্য প্রতিষ্ঠা করতে হবে, সংবিধানের দুর্বলতা দূর করতে হবে, এবং দুর্নীতি দমনে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। নেপালের স্থিতিশীলতা কেবল দেশের উন্নয়নের জন্যই নয়, বরং বৃহত্তর দক্ষিণ এশিয়ার শান্তির জন্যও অপরিহার্য।

Tags: অস্থিতিশীলতানেপালনেপালের রাজনীতি
  • Previous ভারতে সংসদীয় গণতন্ত্রের সফলতার কারণগুলো ব্যাখ্যা কর।
  • Next পাকিস্তানের রাজনীতিতে সামরিক-বেসামরিক সম্পর্ক ব্যাখ্যা কর।
Read Aim

SUBSCRIBE

    JOB CIRCULAR

    • Media/Ads/Event Mngnt (145)
    • Medical/Pharmaceutical (123)
    • NGO/Organization (323)
    • Production/Operation (142)
    • Research/Consultancy (85)
    • Secretary/Receptionist (188)
    • Security/Support Service (99)
    • Others (59)

    LEARNING & EARNING

    • English Article
    • Bearded Dragon
    • Cats
    • Dogs
    • Guinea Pigs
    • Insurance
    • Lawyer
    • Rabbits
    • Earn Money Online
    • Others

    CATEGORIES

    • Computer (12)
    • DEGREE (4)
    • English Article (27)
    • GRAMMAR (138)
    • Health Tips (2)
    • Honours (1083)
    • Jobs (16)
    • Jobs Study (33)
    • News (1336)
    • PDF BOOK (78)

    RECENT POST

    উত্তর আধুনিকতাবাদের উদ্ভব ও ক্রমবিকাশ আলোচনা কর।
    উত্তর আধুনিকতাবাদের বৈশিষ্ট্যসমূহ আলোচনা কর।
    সেন্ট সাইমন ও রবার্ট ওয়েনের কাল্পনিক সমাজতন্ত্রের রূপরেখা বিশ্লেষণ কর।
    কাল্পনিক ও বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রের মধ্যে একটি তুলনামূলক আলোচনা কর।

    2025 All Rights Reserved readaim.com

    • Contact
    • About
    • Privacy
    • Blog
    • READ AIM
    Have any question? 01745112569 md@readaim.com Free
    • Login
    • Registration
    • Home
    • Class 0-12
    • Masters
    • Honours
    • Degree
    • Grammar
      • Bangla Grammar
      • English Grammar
      • Arabic Grammar
    • Computer
      • MS Word
    • Jobs Study
      • BCS
      • Bank
      • Primary
      • Govt. job
      • Nibandhon
      • Medical Admission
      • University Admission
      • Army/Police/BDR/Anchar
    • Jobs
    • News
    • Tools