• Digital Tools
      •  PDF to Excel
      •  Word to PDF
      • Merge PDF files
      • PDF to image
      • PDF to PowerPoint
      • PDF to Word
      • PowerPoint to PDF
      • Remove PDF Pages
      • Separate PDF | Split
      • Image to PDF
    • MASTERS
      • 📚 রাষ্ট্রবিজ্ঞান
        • ১। সাম্প্রতিক রাষ্ট্রচিন্তা
        • ২। সামাজিক পরিবর্তন ও রাজনৈতিক উন্নয়ন
        • ৩। বাংলাদেশের রাজনীতি ইসু ও প্রবণতাসমূহ
        • ৪। শাসনের সমস্যাবলি
        • ৫। নিরাপত্তা অধ্যয়ন
        • ৬। বাংলাদেশের দলীয় রাজনীতি
        • ৭। ভূ-রাজনীতি ও বাংলাদেশ
      • 📚 সমাজবিজ্ঞান
        • ১। সমসাময়িক সমাজবিজ্ঞানের তত্ত্ব
        • ২। মার্কসীয় সমাজবিজ্ঞান
        • ৩। উন্নয়ন ও অনুন্নয়নের সমাজবিজ্ঞান
        • ৪। সংখ্যালঘুর সমাজবিজ্ঞান
        • ৫। জনসংখ্যা, রাজনীতি ও উন্নয়ন
        • ৬। দারিদ্র্যের সমাজবিজ্ঞান
        • ৭। তুলনামূলক সমাজকাঠামো
      • 📚 সমাজকর্ম
        • ১। সামাজিক প্রশাসন
        • ২। উচ্চতর সামাজিক গবেষণা ও পরিসংখ্যান
        • ৩। শিল্প সম্পর্ক ও শ্রম আইন
        • ৪। সংশোধন ও সংশোধনমূলক সেবা
        • ৫। নারী ও পরিবার কল্যাণ
        • ৬। শিশু, যুব ও প্রবীণ কল্যাণ
        • ৭। সমাজকর্মের নির্দেশনা ও কাউন্সেলিং
      • 📚 ইতিহাস
        • ১। ইতিহাস তত্ত্ব ও গবেষণা পদ্ধতি
        • ২। ইউরোপ ও আমেরিকার ইতিহাস (১৯১৯খ্রিস্টাব্দ থেকে)
        • ৩। দক্ষিণ এশিয়ার জাতীয়তাবাদ ও জাতীয়তাবাদী আন্দোলন (উনিশ ও বিশ শতক)
        • ৪। বাংলার সাংস্কৃতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক দিকসমূহ (নির্বাচিত বিষয়সমূহ)
        • ৫। বাংলাদেশের ইতিহাস (১৯৭২ খ্রিস্টাব্দ থেকে বর্তমান)
        • ৬। দক্ষিণ এশিয়ার ইতিহাস ১৯৪৭ থেকে (বাংলাদেশ ব্যতীত)
        • ৭। আন্তর্জাতিক আইন
      • 📚 ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি
        • ১। ইসলামের সামাজিক ও অর্থনৈতিক ইতিহাস
        • ২। বাংলার সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থতিক ইতিহাস (১২০০-১৭৬৫ খ্রি:)
        • ৩। মুসলিম ভারতের সামাজিক এবং অর্থনৈতিক ইতিহাস (৭১২-১৭৬৫)
        • ৪। তুরস্ক, ইরান ও আফগানিস্তানের ইতিহাস
        • ৫। আধুনিক মিশর ও উত্তর আফ্রিকার আরব রাষ্ট্রসমূহ
        • ৬। পশ্চিম এশিয়ার আরব রাষ্ট্রসমূহের ইতিহাস
        • ৭। দক্ষিণ এশিয়ার মুসলমানদের ইতিহাস (১৭৬৫-১৯৭১)
      • 📚বাংলা
        • ১। বাংলা কবিতা
        • ২। বাংলা উপন্যাস
        • ৩। বাংলা ছোটগল্প
        • ৪। বাংলা নাটক
        • ৫। বাংলা প্রবন্ধ
        • ৬। বাংলাদেশের সাহিত্য: কবিতা, গল্প, উপন্যাস এবং প্রবন্ধ
        • ৭। ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের সাহিত্য
      • 📚 দর্শন
        • ১। ভাষা দর্শন
        • ২। রূপতত্ত্ব ও অস্তিত্ববাদ
        • ৩। জি.ই. ম্যুর এবং রাসেলের দর্শন
        • ৪। প্রয়োগবাদ ও মানবতাবাদ
        • ৫। জ্ঞানবিদ্যা ও অধিবিদ্যা
        • ৬। আল-গাজালি ও ইবনে রুশদের দর্শন
        • ৭। সুফিবাদ
        • ৮। বৌদ্ধ দর্শন
        • ৯। বাঙালির দর্শন (আধুনিক ও সমকালীন)
        • ১০। সমকালীন রাষ্ট্রদর্শন
      • 📚 ব্যবস্থাপনা
        • ১। ব্যবস্থাপনা চিন্তাধারা
        • ২। আন্তর্জাতিক ব্যবসায়
        • ৩। ব্যবসায় গবেষণা
        • ৪। কৌশলগত ব্যবস্থাপনা
        • ৫। ব্যবস্থাপনা তথ্য পদ্ধতি
        • ৬। প্রশিক্ষণ ও উন্নয়ন
        • ৭। ক্ষতিপূরণ ব্যবস্থাপনা
      • 📚 হিসাববিজ্ঞান
        • ১। প্রায়োগিক হিসাববিজ্ঞান তত্ত্ব
        • ২। উচ্চতর উৎপাদন ব্যয় হিসাববিজ্ঞান
        • ৩। কৌশলগত ব্যবস্থাপনা হিসাববিজ্ঞান
        • ৪। কৌশলগত ব্যবস্থাপনা
        • ৫। কর্পোরেট গভর্ন্য্যান্স
        • ৬। কর্পোরেট আর্থিক প্রর্তিবেদন
        • ৭। কর্পোরেট কর পরিকল্পনা
    • Member Account
    • Member Login
    • Member Logout
    • Member Profile
    • Member Registration
    • Members
    • MS Word
    • Reset Password
    • SYLLABUS 0-12 NCTB BD
    • DEGREE
      • স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাস (আবশ্যিক)
      • ডিগ্রী রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ
        • ১ম বর্ষ ডিগ্রী রাষ্ট্রবিজ্ঞান
          • রাজনৈতিক তত্ত্ব
    • HONOURS
      • 📚 অনার্স রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ
        • 📗 ১ম বর্ষ অনার্স রাষ্ট্রবিজ্ঞান (নতুন সিলেবাস)
        • 📗 ১ম বর্ষ অনার্স রাষ্ট্রবিজ্ঞান (পুরাতন সিলেবাস)
          • 🔴 স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাস
          • 🔴 রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান ও সংগঠন
          • 🔴 পাশ্চাত্যের রাষ্ট্রচিন্তা
          • 🔴 প্রধান প্রধান বৈদেশিক সরকার (UK, USA & France) ২১১৯০৫
          • 🔴 লোক প্রশাসন পরিচিতি
          • 🔴 সমাজবিজ্ঞান পরিচিতি
          • 🔴 সমাজকর্ম পরিচিতি
          • 🔴 অর্থনীতির মৌলনীতি
        • 📗 ২য় বর্ষ অনার্স রাষ্ট্রবিজ্ঞান
          • 🔴 ব্রিটিশ ভারতের রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক উন্নয়ন (১৭৫৭-১৯৪৭)
          • 🔴 বাংলাদেশের রাজনৈতিক অর্থনীতি
          • 🔴 রাজনীতি ও উন্নয়নে নারী
          • 🔴 প্রাচ্যের রাষ্ট্রচিন্তা
          • 🔴 বাংলাদেশের সমাজবিজ্ঞান
          • 🔴 বাংলাদেশের সমাজ ও সংস্কৃতি
          • 🔴 বাংলাদেশের অর্থনীতি
        • 📗৩য় বর্ষ অনার্স রাষ্ট্রবিজ্ঞান
          • 🔴 বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক উন্নয়ন ১৯৭১ থেকে বর্তমান
          • 🔴 আন্তর্জাতিক রাজনীতির মূলনীতি
          • 🔴 দক্ষিণ এশিয়ার সরকার ও রাজনীতি ( ভারত, পাকিস্তান, নেপাল ও শ্রীলংকা )
          • 🔴 রাজনীতি অধ্যয়নের পদ্ধতি
          • 🔴 শান্তি এবং সংঘাত অধ্যায়ন পরিচিতি
          • 🔴 বাংলাদেশের লোক প্রশাসন
          • 🔴 গবেষণা পদ্ধতি ও পরিসংখ্যান
          • 🔴 রাজনৈতিক সমাজবিজ্ঞান
        • 📗 ৪র্থ বর্ষ অনার্স রাষ্ট্রবিজ্ঞান
          • 🔴 রাজনৈতিক তত্ত্ব পরিবর্তন ও ধারাবাহিকতা
          • 🔴 বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন
          • 🔴 সরকারি নীতি পরিচিতি
          • 🔴 পূর্ব এশিয়ার সরকার ও রাজনীতি চীন, জাপান ও দিক্ষণ কোরিয়া
          • 🔴 পরিবেশ ও উন্নয়ন
          • 🔴 বাংলাদেশের বৈদেশিক সম্পর্ক
          • 🔴 বাংলাদেশের আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়া
          • 🔴 বিশ্বায়ন, আঞ্চলিকতাবাদ ও আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান
      • 📚 অনার্স সমাজবিজ্ঞান বিভাগ
        • ১ম বর্ষ অনার্স সমাজবিজ্ঞান
          • ১। প্রারম্ভিক সমাজবিজ্ঞান ২১২০০১
          • সামাজিক ইতিহাস ও বিশ্ব সভ্যতা ২১২০০৩
          • রাজনৈতিক সমাজবিজ্ঞান ২১২০০৫
          • সামাজিক সমস্যা ২১২০০৭
          • স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাস ২১১৫০১
          • রাজনৈতিক তত্ত্ব পরিচিতি ২১১৯০৯
          • অর্থনীতির মূলনীতি ২১১৯০৯
        • ২য় বর্ষ অনার্স সমাজবিজ্ঞান
          • 💞 প্ররম্ভিক নৃ-বিজ্ঞান
          • 💞 ধ্রুপদী সমাজচিন্তা
          • 💞 সামাজিক পরিসংখ্যান
          • 💞 গবেষণা পদ্ধতি
          • 💞 রাজনৈতিক সংগঠন এবং যুক্তরাজ্য ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ব্যবস্থা
          • 💞 বাংলাদেশের অর্থনীতি
        • ৩য় বর্ষ অনার্স সমাজবিজ্ঞান
          • 🌳ধ্রুপদী সমাজতাত্ত্বিক তত্ত্ব
          • 🌳গ্রামীণ সমাজবিজ্ঞান
          • 🌳ধর্মের সমাজবিজ্ঞান ২৩২০০৫
          • 🌳সামাজিক অসমতা
          • 🌳 সমাজ ও সম্প্রদায়
          • 🌳বাংলাদেশের সমাজ কাঠামো
          • 🌳নগর সমাজবিজ্ঞান
          • 🌳সমাজ মনোবিজ্ঞান
        • ৪র্থ বর্ষ অনার্স সমাজবিজ্ঞান
          • 📢 জেন্ডার, সমাজ ও উন্নয়ন
          • 📢 উন্নয়নের সমাজবিজ্ঞান
          • 📢 সামাজিক জনবিজ্ঞান
          • 📢 পরিবেশ সমাজবিজ্ঞান
          • 📢 বাংলাদেশের সমাজবিজ্ঞান
          • 📢 সামাজিক পরিবর্তন
          • 📢 বিচ্যুতি ও অপরাধ
          • 📢 শিল্প সমাজবিজ্ঞান
          • কৃষক সমাজ ২৪২০১৭
    • HOME
      • About
      • Blog
      • Contact
      • News
      • Privacy
    • GRAMMAR
      • Arabic Grammar
      • Bangla Grammar
      • English Grammar
    • JOB STUDY
      • Army/Police/BDR/Anchar
      • Bank
      • BCS
      • Govt. job
      • Medical Admission
      • Nibandhon
      • Primary
      • University Admission
      • Bangla
      • English
      • Math
      • General Knowledge Bangladesh
      • General Knowledge International
      • Computer & IT
      • Biology
      • Chemistry
      • Physics
      • Ethics, Values ​​and Good Governance
      • Geography/Environment/Disaster Management
    • JOBS
      • BRAC NGO Job Circular New All Jobs Notice 2023
      • Jobs CANADA
      • Jobs INDIA
      • Jobs USA
Read Aim
Read Aim Read Aim
  • readaim.com
  • 0

প্রশ্ন:- এডওয়ার্ড বার্নস্টাইনের রাজনৈতিক চিন্তাধারা আলোচনা কর।

উত্তর।।উপস্থাপনা: ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষভাগে মার্ক্সবাদের কট্টরপন্থী ও বিপ্লবী ধারার বাইরে এসে সমাজতন্ত্র অর্জনের একটি শান্তিপূর্ণ, গণতান্ত্রিক ও সংস্কারবাদী বিকল্প পথ প্রদর্শন করেন এডওয়ার্ড বার্নস্টাইন। তিনি বৈপ্লবিক উপায়ে পুঁজিবাদের উচ্ছেদ না করে প্রচলিত গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার মাধ্যমেই সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখেছিলেন। তাঁর এই তাত্ত্বিক রূপান্তরই রাষ্ট্রবিজ্ঞানে ‘সংশোধনবাদ’ বা ‘গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্র’ নামে পরিচিত।

এডওয়ার্ড বার্নস্টাইনের রাজনৈতিক চিন্তাধারার আলোচনা:

১। সংশোধনবাদের প্রবর্তন: এডওয়ার্ড বার্নস্টাইনকে সমাজতান্ত্রিক চিন্তাধারার ইতিহাসে সংশোধনবাদের জনক বা প্রধান প্রবক্তা হিসেবে গণ্য করা হয়। তিনি কার্ল মার্ক্সের সমকালীন অর্থনৈতিক ও সামাজিক তত্ত্বগুলোকে অন্ধভাবে বিশ্বাস না করে যুগের প্রয়োজনে পুনর্বিবেচনা করার আহ্বান জানান। বার্নস্টাইন দেখান যে সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে মার্ক্সীয় ধারণার কিছু পরিবর্তন অনিবার্য হয়ে পড়েছে। তাঁর এই সাহসী দৃষ্টিভঙ্গি সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনে এক নতুন তাত্ত্বিক দিগন্তের উন্মোচন করেছিল।

২। বিপ্লবের বিরোধিতা: মার্ক্সীয় দর্শনে সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার একমাত্র পথ হিসেবে যেখানে সশস্ত্র বিপ্লবকে অবধারিত মনে করা হতো, বার্নস্টাইন সেখানে সম্পূর্ণ ভিন্ন পথ বেছে নেন। তিনি রক্তক্ষয়ী ও সহিংস বিপ্লবের ধারণাকে কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করেন এবং শান্তিপূর্ণ উপায়ের ওপর জোর দেন। তাঁর মতে, সহিংসতা সমাজে বিশৃঙ্খলা ও দীর্ঘমেয়াদী ক্ষত সৃষ্টি করে, যা প্রগতির পথকে রুদ্ধ করে দেয়। তাই তিনি বিপ্লবের পরিবর্তে নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে পরিবর্তনের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন।

৩৩। গণতান্ত্রিক রূপান্তর: বার্নস্টাইনের রাজনৈতিক দর্শনের অন্যতম মূল স্তম্ভ ছিল প্রচলিত গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার সর্বোচ্চ ব্যবহার করা। তিনি বিশ্বাস করতেন যে বুর্জোয়া গণতন্ত্রকে ধ্বংস না করে বরং এর ভেতরে প্রবেশ করে সমাজতান্ত্রিক লক্ষ্য অর্জন সম্ভব। ব্যালট বা ভোটাধিকারকে তিনি শ্রমিক শ্রেণীর সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে বিবেচনা করতেন। তাঁর মতে, সার্বজনীন ভোটাধিকারের মাধ্যমে শ্রমিক শ্রেণী সহজেই নিজেদের অধিকার আদায় ও আইন প্রণয়ন করতে পারে।

৪। পুঁজিবাদের টিকে থাকা: কার্ল মার্ক্স ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন যে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কারণে পুঁজিবাদ খুব দ্রুতই ভেঙে পড়বে এবং এর অবসান ঘটবে। কিন্তু বার্নস্টাইন বাস্তব পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে দেখান যে পুঁজিবাদ এত সহজে ধ্বংস হওয়ার নয়, বরং এর অভিযোজন ক্ষমতা প্রচুর। পুঁজিবাদী অর্থনীতি দিন দিন আরও শক্তিশালী এবং নমনীয় হয়ে উঠছে বলে তিনি মনে করতেন। ফলে পুঁজিবাদ নিজে নিজেই ধ্বংস হয়ে যাবে—এমন তত্ত্বের ওপর নির্ভর করাকে তিনি ভুল মনে করতেন।

৫। মধ্যবিত্তের বিকাশ: মার্ক্সীয় তত্ত্বে বলা হয়েছিল যে সমাজে কেবল দুটি প্রধান শ্রেণী থাকবে এবং মধ্যবিত্ত শ্রেণী ক্রমান্বয়ে বিলুপ্ত হয়ে সর্বহারায় পরিণত হবে। বার্নস্টাইন এই ধারণাকে সম্পূর্ণ ভুল প্রমাণ করেন এবং দেখান যে মধ্যবিত্ত শ্রেণী বিলুপ্ত তো হচ্ছেই না, বরং এর আকার ও প্রভাব দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। নতুন নতুন পেশাজীবী ও কারিগরি কর্মীর আবির্ভাবে সমাজ কাঠামো আরও জটিল রূপ ধারণ করছে। এই ক্রমবর্ধমান মধ্যবিত্ত শ্রেণীকে অবহেলা করে কোনো টেকসই রাজনৈতিক পরিবর্তন সম্ভব নয় বলে তিনি মনে করতেন।

৬। শ্রমিকদের সমৃদ্ধি: বার্নস্টাইন লক্ষ্য করেন যে পুঁজিবাদের বিকাশের সাথে সাথে শ্রমিকদের অবস্থা আরও শোচনীয় হওয়ার মার্ক্সীয় তত্ত্বটি বাস্তবে মিলছে না। বরং বিভিন্ন ট্রেড ইউনিয়ন আন্দোলন এবং কারখানা আইনের ফলে শ্রমিকদের জীবনযাত্রার মান এবং মজুরি ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছিল। শ্রমিকরা কেবল শোষিত হচ্ছে না, বরং তারা সমাজের অর্থনৈতিক লভ্যাংশের একটি অংশ পেতে শুরু করেছে। তাই চরম দারিদ্র্য ও হতাশা থেকে শ্রমিকরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে বিপ্লব করবে, এমন ভাবনাকে তিনি অবাস্তব মনে করতেন।

৭। ধীরে সংস্কারনীতি: তিনি সমাজতন্ত্রকে একটি রাতারাতি ঘটে যাওয়া অলৌকিক ঘটনা মনে না করে একটি দীর্ঘমেয়াদী ও ধীর প্রক্রিয়া হিসেবে দেখতেন। তাঁর মতে, সমাজতন্ত্র হলো একটি ধারাবাহিক সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংস্কারের সমষ্টি, যা ধাপে ধাপে অর্জিত হয়। কোনো আকস্মিক ধাক্কায় সমাজকে পুরোপুরি বদলে ফেলা যায় না, বরং ছোট ছোট সংস্কারের মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনা সম্ভব। এই ধীর ও ক্রমান্বয়ী রূপান্তরই সমাজকে দীর্ঘস্থায়ী স্থিতিশীলতা প্রদান করে।

৮। ট্রেড ইউনিয়নের ভূমিকা: শ্রমিক আন্দোলনের ক্ষেত্রে ট্রেড ইউনিয়ন বা শ্রমিক সংগঠনগুলোর ভূমিকাকে বার্নস্টাইন অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে মূল্যায়ন করেছেন। তিনি মনে করতেন, ট্রেড ইউনিয়নগুলো কেবল মজুরি বাড়ানোর লড়াই করে না, বরং এগুলো হলো গণতন্ত্রের প্রাথমিক পাঠশালা। ইউনিয়নগুলোর মাধ্যমে শ্রমিকরা নিজেদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হয় এবং দরকষাকষির মাধ্যমে পুঁজিবাদের একচ্ছত্র আধিপত্যকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। এটি অর্থনৈতিক গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার একটি কার্যকর মাধ্যম।

৯। শ্রেণী সংগ্রামের পুনঃব্যাখ্যা: মার্ক্সীয় দর্শনে শ্রেণী সংগ্রামকে ইতিহাসের একমাত্র চালিকাশক্তি এবং চরম সংঘাতময় হিসেবে চিত্রায়িত করা হয়েছিল। বার্নস্টাইন এই ধারণার আংশিক সংশোধন করে বলেন যে শ্রেণী সংগ্রাম সমাজ পরিবর্তনের একমাত্র উপাদান নয়, এবং এটি সবসময় সহিংস রূপ নেয় না। সমাজ গঠনে বিভিন্ন শ্রেণীর মধ্যে কেবল দ্বন্দ্বই থাকে না, বরং অনেক ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতাও পরিলক্ষিত হয়। তাই শ্রেণী স্বার্থের উগ্র সংঘাতের চেয়ে সমঝোতার রাজনীতিই বেশি কল্যাণকর।

১০। লিপজিগের প্রভাব: বার্নস্টাইনের রাজনৈতিক চিন্তার বিবর্তনে জার্মানির সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিবেশ, বিশেষ করে লিপজিগ ও অন্যান্য অঞ্চলের শ্রমিক আন্দোলনের বাস্তব অভিজ্ঞতা গভীর প্রভাব ফেলেছিল। তিনি জার্মান সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টির (SPD) ভেতরের তাত্ত্বিক দ্বিমত ও বাস্তব সাফল্যগুলোকে খুব কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করেছিলেন। বাস্তব রাজনীতিতে সংসদীয় ব্যবস্থার কার্যকারিতা দেখে তিনি বুঝতে পারেন যে পুঁজিবাদের কাঠামোর মধ্যেই শ্রমিকদের কল্যাণ নিশ্চিত করা সম্ভব। এই বাস্তবতাই তাঁকে তত্ত্বের চেয়ে কর্মপদ্ধতিকে বেশি প্রাধান্য দিতে উদ্বুদ্ধ করে।

১১। সর্বহারার একনায়কত্ব বর্জন: মার্ক্সীয় সমাজতন্ত্রের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হলো বিপ্লবোত্তর কালে ‘সর্বহারার একনায়কত্ব’ প্রতিষ্ঠা করা। বার্নস্টাইন এই একনায়কত্বের ধারণাকে স্বৈরতান্ত্রিক এবং স্বাধীনতার পরিপন্থী বলে তীব্র সমালোচনা করেন। তাঁর মতে, একনায়কত্ব যেকোনো রূপেই আসুক না কেন, তা জনগণের মৌলিক অধিকার ও স্বাধীনতাকে খর্ব করে। সমাজতন্ত্রের মূল লক্ষ্যই যেখানে মুক্তি, সেখানে কোনো ধরনের একনায়কত্ব বা দমনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

১২। রাষ্ট্রের ইতিবাচক ভূমিকা: প্রচলিত মার্ক্সবাদী চিন্তায় রাষ্ট্রকে কেবল শোষক শ্রেণীর একটি নিপীড়নমূলক যন্ত্র হিসেবে গণ্য করা হতো। কিন্তু বার্নস্টাইন রাষ্ট্রকে সম্পূর্ণ ভিন্ন চোখে দেখেন এবং এর একটি ইতিবাচক রূপরেখা প্রস্তুত করেন। তিনি মনে করতেন, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে জনগণের প্রতিনিধিদের মাধ্যমে রাষ্ট্রকে জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যবহার করা সম্ভব। রাষ্ট্র কেবল ধনীদের স্বার্থ রক্ষা করবে না, বরং আইন প্রণয়নের মাধ্যমে সম্পদের সুষম বণ্টন এবং সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে।

১৩। নৈতিকতার গুরুত্ব: বার্নস্টাইন সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনকে কেবল শুষ্ক অর্থনৈতিক হিসেব-নিকেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে চাননি, বরং এর পেছনে একটি সুদৃঢ় নৈতিক ভিত্তির প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেছিলেন। তিনি ইমানুয়েল কান্টের নীতিশাস্ত্র দ্বারা প্রভাবিত হয়ে সমাজতন্ত্রকে একটি মানবিক ও নৈতিক আদর্শ হিসেবে তুলে ধরেন। তাঁর মতে, সমাজতন্ত্রের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত মানুষের মর্যাদা, সাম্য এবং পারস্পরিক সৌহার্দ্য প্রতিষ্ঠা করা। কেবল বস্তুগত উন্নয়ন নয়, আত্মিক ও নৈতিক প্রগতিই সমাজতন্ত্রের প্রকৃত পরিচয়।

১৪। অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণ: তিনি সম্পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মালিকানার পরিবর্তে মিশ্র অর্থনীতি এবং রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণের ওপর বেশি জোর দিয়েছিলেন। সব ব্যক্তিগত সম্পত্তি বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান একযোগে বাজেয়াপ্ত করার ধারণাকে তিনি ক্ষতিকর ও অবাস্তব বলে মনে করতেন। তাঁর মতে, বাজার অর্থনীতিকে পুরোপুরি ধ্বংস না করে ট্যাক্স ব্যবস্থা ও শ্রম আইনের মাধ্যমে এর ওপর সামাজিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করাই যুক্তিযুক্ত। এর ফলে একদিকে যেমন উৎপাদনশীলতা বজায় থাকে, অন্যদিকে অর্থনৈতিক বৈষম্যও হ্রাস পায়।

১৫। আন্তর্জাতিকতাবাদ ও জাতীয়তাবাদ: বার্নস্টাইন আন্তর্জাতিক সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের সমর্থক হলেও উগ্র বা অবাস্তব আন্তর্জাতিকতাবাদের জোয়ারে ভেসে যাননি। তিনি মনে করতেন, প্রতিটি দেশের সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের ধরণ সেই দেশের নিজস্ব সংস্কৃতি, ইতিহাস ও জাতীয় পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে নির্ধারিত হওয়া উচিত। আন্তর্জাতিক সংহতি বজায় রাখার পাশাপাশি নিজের দেশের বাস্তব রাজনীতি ও জাতীয় স্বার্থকে উপক্ষো করা অনুচিত। এই বাস্তবমুখী দৃষ্টিভঙ্গি তাঁকে অন্যান্য গোঁড়া সমাজতন্ত্রীদের থেকে পৃথক করেছিল।

১৬। লক্ষ্য বনাম আন্দোলন: বার্নস্টাইনের একটি অত্যন্ত বিখ্যাত উক্তি ছিল, “চূড়ান্ত লক্ষ্য বলতে কিছুই নেই, আন্দোলনই সবকিছু।” এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি বোঝাতে চেয়েছিলেন যে সমাজতন্ত্র কোনো স্থির বা শেষ গন্তব্য নয়, যেখানে পৌঁছালেই সব শেষ হয়ে যায়। সমাজতন্ত্র হলো মানুষের মুক্তির জন্য একটি চলমান ও গতিশীল প্রক্রিয়া বা আন্দোলন যা প্রতিনিয়ত চলতে থাকে। মানুষের চাহিদার পরিবর্তনের সাথে সাথে এই আন্দোলনের রূপ ও সংস্কারের ধরণও পরিবর্তিত হয়।

১৭। উদারতাবাদের সাথে সমন্বয়: বার্নস্টাইন সমাজতন্ত্রের সাথে উদারতাবাদী মূল্যবোধের, বিশেষ করে ব্যক্তিগত স্বাধীনতা এবং নাগরিক অধিকারের একটি চমৎকার সমন্বয় সাধন করেন। তিনি মনে করতেন, উদারতাবাদ যে স্বাধীনতার কথা বলে, সমাজতন্ত্র তাকে পূর্ণতা দান করে অর্থনৈতিক নিরাপত্তার মাধ্যমে। নাগরিকের বাকস্বাধীনতা, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও চিন্তার স্বাধীনতাকে খর্ব করে যে সমাজতন্ত্র আসে, তা প্রকৃত সমাজতন্ত্র হতে পারে না। তাই তিনি সমাজতন্ত্রকে উদারতাবাদেরই একটি উন্নত ও পরিমার্জিত রূপ বলে গণ্য করতেন।

শেষকথা: এডওয়ার্ড বার্নস্টাইনের রাজনৈতিক চিন্তাধারা সমাজতান্ত্রিক ভাবধারায় এক যুগান্তকারী পরিবর্তন এনেছিল। তিনি তত্ত্বের বেড়াজাল থেকে সমাজতন্ত্রকে মুক্ত করে বাস্তবমুখী ও মানবতাবাদী রূপে প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর এই সংস্কারবাদী ও গণতান্ত্রিক চিন্তার ওপর ভিত্তি করেই আধুনিক ইউরোপের কল্যাণকামী রাষ্ট্রসমূহ এবং সোশ্যাল ডেমোক্রেসির বিকাশ ঘটেছে। সমকালীন বিশ্বে সহিংসতাহীন প্রগতিশীল রাজনীতি চর্চায় তাঁর দর্শন আজও অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক ও অনুকরণীয়।

Tags: এডওয়ার্ড বার্নস্টাইনের রাজনৈতিক চিন্তাধারাগণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্র ও মার্ক্সবাদের সমালোচনা পরীক্ষার উপযোগী করে জানুন।সংশোধনবাদ
  • Previous অস্তিত্ববাদের বৈশিষ্ট্যসমূহ আলোচনা কর।
  • Next সংশোধনবাদের উদ্ভব ও বিকাশ আলোচনা কর।
Read Aim

SUBSCRIBE

    JOB CIRCULAR

    • Media/Ads/Event Mngnt (145)
    • Medical/Pharmaceutical (123)
    • NGO/Organization (323)
    • Production/Operation (142)
    • Research/Consultancy (85)
    • Secretary/Receptionist (188)
    • Security/Support Service (99)
    • Others (59)

    LEARNING & EARNING

    • English Article
    • Bearded Dragon
    • Cats
    • Dogs
    • Guinea Pigs
    • Insurance
    • Lawyer
    • Rabbits
    • Earn Money Online
    • Others

    CATEGORIES

    • Computer (12)
    • DEGREE (4)
    • English Article (27)
    • GRAMMAR (138)
    • Health Tips (2)
    • Honours (1083)
    • Jobs (16)
    • Jobs Study (33)
    • News (1336)
    • PDF BOOK (78)

    RECENT POST

    উত্তর আধুনিকতাবাদের উদ্ভব ও ক্রমবিকাশ আলোচনা কর।
    উত্তর আধুনিকতাবাদের বৈশিষ্ট্যসমূহ আলোচনা কর।
    সেন্ট সাইমন ও রবার্ট ওয়েনের কাল্পনিক সমাজতন্ত্রের রূপরেখা বিশ্লেষণ কর।
    কাল্পনিক ও বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রের মধ্যে একটি তুলনামূলক আলোচনা কর।

    2025 All Rights Reserved readaim.com

    • Contact
    • About
    • Privacy
    • Blog
    • READ AIM
    Have any question? 01745112569 md@readaim.com Free
    • Login
    • Registration
    • Home
    • Class 0-12
    • Masters
    • Honours
    • Degree
    • Grammar
      • Bangla Grammar
      • English Grammar
      • Arabic Grammar
    • Computer
      • MS Word
    • Jobs Study
      • BCS
      • Bank
      • Primary
      • Govt. job
      • Nibandhon
      • Medical Admission
      • University Admission
      • Army/Police/BDR/Anchar
    • Jobs
    • News
    • Tools