ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ঘিরে মৃত্যুর গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। বিশেষ করে গত সোমবার (৯ মার্চ) ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সি এক প্রতিবেদনে ইরানের হামলায় নেতানিয়াহু নিহত হয়েছেন বলে দাবি করার পর থেকেই বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে।
তবে এসব গুঞ্জনের মধ্যে নেতানিয়াহুর দফতর একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছে। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত ওই বিবৃতিতে জানানো হয়, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ‘অপারেশন রোরিং লায়ন’-এর অংশ হিসেবে জাতীয় স্বাস্থ্য কমান্ড সেন্টার পরিদর্শন করেছেন।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সফরের সময় তার সঙ্গে ছিলেন ইসরাইলের স্বাস্থ্যমন্ত্রী হাইম কাৎজ। সেখানে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক মোশে বার সিমান তোভ চলমান সামরিক অভিযানের সময় স্বাস্থ্য ব্যবস্থার কার্যক্রম সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন।
নেতানিয়াহুর দফতরের বরাতে বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে নেতানিয়াহু বলেছেন, ইসরাইলের সামরিক অভিযান ‘তাদের হাড় ভেঙে দিচ্ছে’। তিনি আরও বলেন, ইসরাইলের লক্ষ্য হলো ইরানের জনগণকে বর্তমান শাসনের ‘স্বৈরাচার’ থেকে মুক্ত করা। তবে শেষ পর্যন্ত সেই পরিবর্তন ইরানের জনগণের হাতেই নির্ভর করবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, নেতানিয়াহু দাবি করেছেন যে এখন পর্যন্ত নেওয়া পদক্ষেপে ইরানের ওপর বড় চাপ সৃষ্টি হয়েছে এবং ইসরাইলের অভিযান এখনও চলমান। তিনি ইঙ্গিত দেন, ভবিষ্যতেও সামরিক হামলা অব্যাহত থাকতে পারে।
মৃত্যুর গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ার পর এই প্রথম নেতানিয়াহুকে নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য সামনে এলো। তবে সেটিও তার কার্যালয়ের ভেরিফায়েড এক্স অ্যাকাউন্ট থেকেই প্রকাশ করা হয়েছে। পোস্টের সঙ্গে একটি ছবিও যুক্ত করা হয়েছে, যেখানে কয়েকজন কর্মকর্তার সঙ্গে বসা অবস্থায় নেতানিয়াহুকে দেখা যায়। যদিও তিনি এখনও সরাসরি জনসম্মুখে উপস্থিত হননি।
এদিকে ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম জেরুজালেম পোস্ট জানিয়েছে, নেতানিয়াহু নিহত বা আহত হয়েছেন—এমন গুজব অনলাইনে দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। যুদ্ধকালীন সময়ের নানা গুজবের মতোই এ ঘটনাও সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যৌথ সামরিক আগ্রাসন শুরু করে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র। হামলার প্রথম দিনেই দেশটির সর্বোচ্চ নেতা খামেনিসহ অনেকেই নিহত হন বলে দাবি করা হয়। এরপর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন ঘাঁটি ও ইসরাইলি স্থাপনাকে লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা শুরু করে তেহরান।
এদিকে সোমবার তাসনিম নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়, নেতানিয়াহুর কার্যালয় লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে এবং এতে তিনি নিহত বা আহত হতে পারেন বলে ইঙ্গিত দেওয়া হয়। তবে ওই প্রতিবেদনে হামলার কোনো নির্দিষ্ট প্রমাণ বা নিশ্চিত ক্ষয়ক্ষতির তথ্য দেওয়া হয়নি।

